Showing posts with label health care. Show all posts
Showing posts with label health care. Show all posts

Saturday, September 27, 2014

Commerce Graduate appointed as Pharmacy Council Registrar by Mamta Govt. in Bengal

ফার্মেসি কাউন্সিল রেজিস্ট্রার বাণিজ্যে স্নাতক, নয়া বিতর্ক

রোশনী মুখোপাধ্যায় (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪


নিয়ম ভেঙে রেজিস্ট্রার নিয়োগের অভিযোগ উঠল রাজ্যের ফার্মেসি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে। এবং এ বারও বিতর্কে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিষদীয় সচিব এবং তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি। যিনি ফার্মেসি কাউন্সিলেরও প্রেসিডেন্ট। যিনি সরকারি চিকিৎসকদের একাংশের ‘জ্যান্ত পুতুল’ পোড়ানোর কথা বলে সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।
কেন্দ্রের ফার্মেসি কাউন্সিলের নির্দেশিকায় বলা আছে, রাজ্যগুলির ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত হতে গেলে ফার্মেসিতে স্নাতক অথবা ডিপ্লোমাধারী হতে হবে। আর ওই দুই ধরনের প্রার্থীর মধ্যে অগ্রাধিকার পাবেন স্নাতক প্রার্থীই। কিন্তু এ রাজ্যের ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে যাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁর ফার্মেসিতে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা নেই। তিনি বাণিজ্যে স্নাতক!
কোন ওষুধের কী কাজ, কত মাত্রায় তা প্রয়োগ করা উচিত ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দেন ফার্মাসিস্টরা। অর্থাৎ তাঁদের পেশার সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যু জড়িয়ে আছে। এই স্বাস্থ্য কর্মীদের সামান্য ভুলও রোগীর পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। এ হেন গুরুত্বপূর্ণ পেশার লাইসেন্স দেয় রাজ্য ফার্মেসি কাউন্সিল। সেখানেই এমন অনিয়মে প্রমাদ গুণছেন কাউন্সিলের সদস্যদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, ফার্মেসির জ্ঞান না থাকা এক জনকে কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার করায় ওষুধ সংক্রান্ত পরিষেবায় বিপজ্জনক প্রভাব পড়বে না কি? মেডিক্যাল অ্যান্ড সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুমহান চক্রবর্তীর কথায়, “ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ফার্মাসিস্ট নন। এ বার তিনি যদি অযোগ্য কাউকে ফার্মাসিস্ট হওয়ার লাইসেন্স দিয়ে বসেন, তা হলে রোগীদের সাঙ্ঘাতিক বিপদ হবে!” নিমর্লবাবুরা অবশ্য এমন আশঙ্কা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, বরং ফার্মাসিস্ট রেজিস্ট্রার হলে তিনি নিজের মতো ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলতে পারতেন!
রাজ্যের ফার্মেসি কাউন্সিল সূত্রের খবর, সংস্থার রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের জন্য জুলাই মাসে একটিমাত্র সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, যে কোনও শাখার স্নাতকেরাই ওই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই অবশ্য ছিলেন ফার্মেসিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। কিন্তু তাঁদের কাউকেই ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়নি। অগস্ট মাসের শেষে ইন্টারভিউ হয়। তাতে ডাক পান ফার্মেসি ব্যতীত অন্য শাখার পাঁচ জন স্নাতক। শেষ পর্যন্ত রেজিস্ট্রার পদে যাঁকে নিয়োগ করা সায়ক হালদারকে। তিনি বাণিজ্যে স্নাতক। কী ভাবে ফার্মেসিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের ডিঙিয়ে তিনি ওই পদে যোগ্য বিবেচিত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কাউন্সিলেই।
এ নিয়ে কথা বলার জন্য সায়কবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফল মেলেনি। তাঁকে ফোন এবং মেসেজ করেও সাড়া মেলেনি। তবে কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্মলবাবু বলেন, “বাম জমানাতেও রাজ্য ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে চাকরি পেতে যে কোনও শাখার স্নাতক হলেই চলত। আমরা সেই নিয়ম বদলাইনি।”
উপরন্তু, রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টকে কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ করা হলে ‘সিন্ডিকেট’ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্মলবাবু। তাঁর বক্তব্য, “ফার্মাসিস্ট রেজিস্ট্রার হলে নিজের ছাত্রজীবনের সূত্রে ফার্মেসির ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থাকে। সেই সুবাদে সিন্ডিকেট করে নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন ফার্মেসির ছাত্ররা। সেটা ঠিক নয়!”
কিন্তু কেন্দ্রের ফার্মেসি কাউন্সিলের নির্দেশিকায় তো স্পষ্ট বলা আছে, রাজ্য ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারকে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট হতে হবে! পাশাপাশি, তাঁর তিন বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও থাকা বাঞ্ছনীয়। নির্মলবাবুর জবাব, “আমরা তো রাজ্যের নিয়মে চলি! দিল্লি যদি কিছু বলে, তখন সেই অনুযায়ী সংশোধন করা হবে। এখনই তার দরকার নেই।” তাঁর আরও বক্তব্য, “রাজ্য ফার্মেসি কাউন্সিলের প্রাক্তন রেজিস্ট্রারের মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু তিনি আর দায়িত্ব নিতে চাইছিলেন না। তাই নিয়মমাফিক ইন্টারভিউ করে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হয়েছে।”

শিশুদের অপুষ্টির মোকাবিলায় লাড্ডু খাওয়াবে রাজ্য সরকার

শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এ বার মমতার লাড্ডু

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪


ছেলের হাতে মোয়া নয়। এ বার ছেলের হাতে লাড্ডু। দিল্লির ফর্মুলায় তৈরি। তবে দিল্লি কা লাড্ডু নয় মোটেই। মমতার লাড্ডু। খেলে পস্তাতে হবে না। বরং পুষ্টি হবে। কারণ, এ লাড্ডু পুষ্টিকর। তাই শিশুদের অপুষ্টির মোকাবিলায় এই লাড্ডু খাওয়াবে রাজ্য সরকার।
পোশাকি নাম ‘পৌষ্টিক লাড্ডু’। তবে এ লাড্ডু দালদা-মিষ্টির মিশ্রণে তৈরি নয়। চাল-গম-বাদাম, মুসুর ডালের গুঁড়ো, তেল, ভিটামিন এবং সামান্য চিনি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই পুষ্টিকর লাড্ডু। ফর্মুলা বার করেছে দিল্লির জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি পর্ষদ।
ছ’বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য এই লাড্ডু প্রকল্প বাংলারই। খাদ্য ভবন সূত্রের খবর, সারা রাজ্যে এই মুহূর্তে নবজাতক থেকে শুরু করে ছ’বছর বয়সের ৫৮ হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। শিশু-স্বাস্থ্যের এই হাল দেখে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। অপুষ্টির সঙ্গে লড়তে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে লাড্ডু প্রকল্প দ্রুত চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনিই।
রাজ্যের সমাজকল্যাণ দফতরের সচিব রোশনী সেন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। জেলার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাধ্যমে লাড্ডু তৈরি ও বিতরণের কথা ভাবা হয়েছে।” প্রথম পর্যায়ে নভেম্বরের মধ্যে রাজ্যের আটটি জেলায় ওই লাড্ডু খাওয়ানো হবে প্রায় ৩০ হাজার শিশুকে। এই খাতে বছরে খরচ হবে তিন কোটি টাকা। এর পরে কয়েকটি ধাপে সারা রাজ্যে অপুষ্টিতে আক্রান্ত ৫৮ হাজার শিশুই প্রকল্পের আওতায় আসবে।
কিন্তু ওইটুকু শিশুরা পৌষ্টিক লাড্ডু খাবে কী করে?
জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, খুব ছোটদের লাড্ডু গুঁড়ো করে জল বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে চামচ বা ঝিনুকে করে খাওয়ানো যাবে। পর্ষদের এক কর্তা জানান, প্রতিটি শিশুর জন্য রোজ বরাদ্দ চারটি লাড্ডু। মাসে ২৫ দিন। অপুষ্টির মাত্রা অনুযায়ী লাড্ডুতে উপাদানের পরিমাণও কম-বেশি হবে।
তবে শিশুদের শুধু লাড্ডু খাওয়ালেই অপুষ্টি-সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে না স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যসচিব মলয় দে জানান, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ ও খাদ্য দফতর মিলিত ভাবে অক্টোবরের শেষ থেকে আরও একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। গত এক বছরে (২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুন) স্বাস্থ্য দফতরের ২৯টি ‘নিউট্রিশন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার’ বা পুষ্টি কেন্দ্রে আসা গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা সাড়ে চার হাজার শিশুর পরিবারকে নিখরচায় রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শীঘ্র মধ্যেই কুপন বিলি শুরু হবে। সাধারণ রেশন দোকানেই মাসে এক বার ওই রেশন মিলবে। পরিবার-পিছু দেওয়া হবে পাঁচ কিলোগ্রাম চাল, আড়াই কিলোগ্রাম গম, এক কিলোগ্রাম মুসুরির ডাল এবং এক কিলোগ্রাম ছোলা।
এই রেশনে শিশুর অপুষ্টির মোকাবিলা করা যাবে কী ভাবে?
রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা মনে করেন, মা এবং পরিবারের অন্যেরা দু’বেলা ভাত-ডাল খেতে পেলে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুও প্রয়োজনীয় খাবার পাবে এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। স্বাস্থ্যসচিব মলয়বাবু জানান, সমাজকল্যাণ দফতরের অধীন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিহ্নিত করে পাঠানো হয় পুষ্টি কেন্দ্রে। সেখানে শিশু ও মাকে ১৪ থেকে ২১ দিন রেখে পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে অনেকটা সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হয়।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশের ক্ষেত্রে বাড়ি যাওয়ার পরে দু’বেলা ঠিকমতো খাবার না-পেয়ে ফের অপুষ্টির শিকার হয়ে পড়ছে শিশু। তাদের দীর্ঘমেয়াদি ‘নিউট্রিশন সাপোর্ট’ জোগাতেই রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত ছ’মাস রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব এই প্রকল্পও অনুমোদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যকর্তারা জানান, রাজ্যে ছ’বছর পর্যন্ত বয়সের শিশুর সংখ্যা সাত লক্ষ। তার মধ্যে ৫৮ হাজার অর্থাৎ প্রায় ১০% শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ৫৮ হাজার শিশুর পরিবারকেই রেশন প্রকল্পের আওতায় আনতে বলেছেন। সাড়ে চার হাজার শিশুর পরিবারকে ছ’মাস রেশন দিতে ৬৬ লক্ষ টাকা খরচ হবে। অন্যদেরও এর আওতায় আনা হবে। তবে তাতে কিছুটা সময় লাগবে। তত দিন ওই শিশুদের পুষ্টিকর লাড্ডু দেওয়া হবে।

Wednesday, August 27, 2014

Mamata party students demand copying in exam, abused and heckled Principal

ইস্তফা দিয়েও চাপে পড়ে প্রত্যাহার অধ্যক্ষের

নিজস্ব সংবাদদাতা

চাপড়া, ২৭ অগস্ট, ২০১৪, ০৩:১৫:০৯
(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
তৃণমূল নেতা গৌরী দত্ত (ডান দিকে) ও টিএমসিপি নেতা অয়ন দত্তের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে অধ্যক্ষ কৃষ্ণগোপাল রায় (মাঝখানে)। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য
আন্দোলনের নামে বিভিন্ন কলেজে ‘তাণ্ডব’ কিংবা অধ্যক্ষ ঘেরাওয়ের নিয়মিত কর্মসূচি নিয়ে ক্রমান্বয়ে দলের অস্বস্তিই যে বাড়িয়ে চলেছে টিএমসিপি, দিন কয়েক আগে পরোক্ষে তারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া বিবেকানন্দ কলেজে টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের চাপেই অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলেজের টিচার ইন-চার্জ। সেই তালিকায় শেষ সংযোজন নদিয়ার চাপড়ার বাঙালঝি কলেজ। তবে, মঙ্গলবার রাতে ওই কলেজের অধ্যক্ষ কষ্ণগোপাল রায় জানান, পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে অনুরোধ করেছেন। সেই ‘অনুরোধ’ তিনি ভেবে দেখারও আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার ওই কলেজে ঢুকে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের ‘আবদার’ ছিল ছাত্রছাত্রীদের নকলে বাধা দিলে চলবে না। অধ্যক্ষ কৃষ্ণগোপাল রায় অবশ্য এই ‘অন্যায় আবদার’ মানতে চাননি। টিএমসিপি পরিচালিত কলেজের ছাত্র সংসদের দাবি না মেনে তিনি ছাত্র-নেতাদের কলেজ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় পুলিশ ডেকেছিলেন তিনি।
আর তারই ‘শাস্তিস্বরূপ’ দীর্ঘক্ষণ কলেজের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় স্থানীয় টিএমসিপি নেতা কর্মীরা। শুধু তাই নয়, সোমবার ফের ওই কলেজে ঢুকে জোর করে ফের নকল করার দাবি তোলে ছাত্র সংসদের নেতারা। অভিযোগ, বাধা দিলে ওই অধ্যক্ষকে ‘অকথ্য’ ভাষায় গালিগালাজও করা হয়। কৃষ্ণগোপালবাবু জানান, ওই ‘অপমানের’ পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন রাতেই পদত্যাগপত্র লিখে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
তবে তা জানাজানি হতেই শাসকদলের স্থানীয় নেতারা তাঁর উপরে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য ‘চাপ’ দিতে থাকেন। মঙ্গলবার, তিনি কৃষ্ণনগর এলে প্রায় জোর করেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দলের তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের বাড়িতে। সেখানে টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা হয় শিক্ষমন্ত্রী পার্থ চট্ট্যোপাধ্যায়ের। গৌরীবাবু ফোনে তাঁকে ধরিয়ে দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মকুল রায়কেও।
দলীয় নেতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি যে ‘চাপে’ রয়েছেন তা আড়াল করেননি কৃষ্ণগোপালবাবু।
যথেচ্ছ নকল হওয়া শুক্রবারের ওই পরীক্ষাটি ইতিমধ্যেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে  বাতিল করার আবেদন করেছিলেন ওই অধ্যক্ষ। এ দিন তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন ওই পরীক্ষাটি কী করে বাতিল করা যায় তা তিনি দেখবেন। তিনি আমার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মুকুলবাবুও সব কথা শুনেছেন।” তাঁদের আশ্বাসেই এ দিন সন্ধ্যায় তিনি জানান, পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের কথা ‘ভেবে’ দেখবেন তিনি। কলেজ সুত্রে জানা গিয়েছে, আজ বুধবার ওই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার কথা তাঁর।
শিক্ষায়তনে রাজনীতির ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ন্ত্রণে নিজেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দলের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি’কে অবশ্য সে নিষেধাজ্ঞায় ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। টিএমসিপি-র ছাত্র আন্দোলনে রাশ টানতে দিন কয়েক আগে বাধ্য হয়েই দলের শীর্ষ নেতারা তলব করেছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শঙ্কুদেব পণ্ডাকে। ছাত্র আন্দোলনের নামে তাঁদের ‘অযাচিত’ তাণ্ডবকে যে দল অনুমোদন করছে না, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই ছাত্র নেতাকে। বিরোধীরা মনে করছেন, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের সেই অনুশাসনেও যে ‘কাজ’ হয়নি বাঙালঝি কলেজের ঘটনায়তা স্পষ্ট।
শুধু টিএমসিপি নয়, মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর কলেজেও অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তির দাবিতে বহিরাগতদের নিয়ে এসে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় এসএফআইয়ের কর্মী-সমর্থকরা। ঘণ্টাখানেক পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অধ্যক্ষের সঙ্গে অবশ্য আলোচনায় বসেন সংগঠনের নেতারা। সিদ্ধান্ত হয় আসন বাড়িয়ে গত বছরের মতো এবারেও বাড়তি ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করার অনুমতি চেয়ে কলেজ কর্তপক্ষ ফের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন করবেন।

Mamta appointed SIT in Saradah scam tried to destroy many evidence to hide whom?

সারদা-তথ্য দিচ্ছেন না নিতু, কোর্টে নালিশ সিবিআইয়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ২৭ অগস্ট, ২০১৪, ০৩:১১:৪১
(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

(বাঁ দিকে) সিবিআই অফিসে দেবব্রত সরকার। (ডান দিকে) আলিপুর আদালত চত্বরে সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়। 

সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর কুশীলবদের সম্পর্কে যে সব তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল, প্রাথমিক ভাবে তা পেয়েছে সিবিআই। তাই তাঁকে মঙ্গলবার আর নিজেদের হেফাজতে চাইল না তারা। এ দিন ফের জেল হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল সুদীপ্তকে।  জেরায় সুদীপ্ত যতটা সহযোগিতা করেছেন, ঠিক ততটাই অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল-কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতুর বিরুদ্ধে। তিনি তথ্য গোপন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ইস্টবেঙ্গল-কর্তাকে ফের নিজেদের হেফাজতে চাইল সিবিআই। এবং আদালত সেই আর্জি মেনে তাঁকে ২৯ অগস্ট পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির অভিযোগ, গত ২০ অগস্ট গ্রেফতার হওয়া ইস্তক নিতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তে অসহযোগিতা করছেন। গত কয়েক দিন তাঁকে সুদীপ্তর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেছে সিবিআই। দু’জনের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে গোয়েন্দাদের দাবি,
অনেক ক্ষেত্রেই নিতু তাঁদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন।  
একই সঙ্গে এ দিন আদালতে একটি নতুন তথ্য পেশ করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির আইনজীবী আদালতে জানান, আমরিন আরা নামে সারদার এক হিসাবরক্ষক জেরায় বলেছেন, তিনি কয়েকটি পেনড্রাইভ ও সিডি তুলে দিয়েছেন বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশের হাতে। সিবিআইয়ের বক্তব্য, সারদার আর্থিক কেলেঙ্কারির উৎস সন্ধানে ওই সব পেনড্রাইভ ও সিডি-তে মজুত থাকা নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে এবং সে জন্য ওইগুলি হাতে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। সিবিআই সূত্রের খবর, আমরিন আরার ওই জবানবন্দির বিষয়টি এর আগে সামনে এলেও আদালতে কখনও ওই তথ্য এই ভাবে পেশ করা হয়নি। তদন্তকারীদের একাংশ জানান, প্রয়োজনে এই ব্যাপারে বিধাননগর কমিশনারেটের তৎকালীন দু’-এক জন কর্তাকে তলবও করা হতে পারে।
সিবিআই অধিকর্তা রঞ্জিত সিন্হা এ দিন রাতে বলেন, “সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে আমরা যা তথ্য চেয়েছিলাম, পেয়েছি। আপাতত তাঁকে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। পরে দরকার হলে সারদা-কর্তাকে ফের হেফাজতে নেব।” সিবিআই সূত্রের খবর, সুদীপ্তকে জেরায় তৃণমূলের প্রথম সারির বেশ কয়েক জন মন্ত্রী, সাংসদের নাম উঠেছে। এর মধ্যে রাজ্যের এক মন্ত্রী, বর্তমান লোকসভার জনা চারেক সাংসদ এবং জনা দুয়েক রাজ্যসভা সদস্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তা ছাড়া সল্টলেক কমিশনারেটের একাধিক অফিসারের বিরুদ্ধে তথ্য লোপাটের অভিযোগও উঠেছে।
ওই সব নেতা, সাংসদ এবং পুলিশ-কর্তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন, তা জানতে চাওয়া হলে সিবিআই অধিকর্তা বলেন, “অপেক্ষা করুন। ধৈর্য হারাবেন না। রাজনীতিবিদ বা পুলিশ, যাঁরাই এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে আমরা প্রাথমিক ভাবে কোনও প্রমাণ পাব, তাঁদেরই আমরা আমাদের জালে নিয়ে আসব।”
সারদা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি বিধাননগর কমিশনারেট নষ্ট করছে বলে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার হওয়া রাজ্যসভা সাংসদ কুণাল ঘোষ এই অভিযোগ আগেও তুলেছেন। সিবিআই সূত্রের খবর, গত বছর এপ্রিলে সুদীপ্ত যখন ফেরার হন, তখন তিনি ভিন্ রাজ্য থেকে আমরিন আরাকে ফোন করে সমস্ত গোপন নথি সরিয়ে দিতে বলেন। আমরিন এতে ভয় পেয়ে যান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ তদন্তে নেমে আমরিন আরার নাম জানতে পারে। পরে সারদার মিডল্যান্ড পার্কের অফিসে আমরিনকে নিয়ে তল্লাশি চালানোর সময়ে ওই সমস্ত পেনড্রাইভ ও সিডি-সহ বিভিন্ন নথির হদিস মেলে। আমরিনই সেগুলি বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে সিবিআই জেনেছে। বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা অবশ্য এ দিন বলেন, “আমরা যা বাজেয়াপ্ত করেছি, সেগুলি সবই সিজার লিস্টে রয়েছে।” ঘটনা হল, ওই সমস্ত পেন ড্রাইভ ও সিডি-র উল্লেখ কিন্তু সিজার লিস্টে নেই বলে সিবিআই জেনেছে।
সারদা তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও তদন্তের জাল ক্রমশ গুটিয়ে আনছে সিবিআই। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, কলকাতা ময়দানের একটি ক্লাবের প্রয়াত এক কর্মকর্তার মেয়ে-জামাই থাকেন মুম্বইয়ে। নিতুর সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তো বটেই, এক রকম পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে বলা চলে। প্রয়াত ক্লাবকর্তার জামাইয়ের ব্যবসার জন্য নিতু তাঁর কাছ থেকে ‘ধমকে-চমকে’ সাত-আট কোটি টাকা আদায় করেছিলেন বলে সিবিআই-কে লেখা চিঠিতে দাবি করেছিলেন সুদীপ্ত। তদন্তে নেমে এই ব্যাপারে কিছু তথ্য সিবিআইয়ের হাতে এসেছে। অথচ নিতুকে বার বার জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
সিবিআই সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের একটি দল প্রয়াত ক্লাবকর্তার জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মুম্বইয়ে পৌঁছেছে। এই প্রসঙ্গে সুদীপ্ত তাঁর চিঠিতে যশ নামে এক অবাঙালি ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। প্রয়াত ক্লাবকর্তার জামাইয়ের নাম যশ নয়, তবে তার কাছাকাছি। এবং তিনিও অবাঙালি। তদন্তকারীদের একাংশের আশা, নিতু ও প্রয়াত ক্লাবকর্তার জামাইকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহস্যের জট অনেকটাই খুলবে।
সিবিআইয়ের বক্তব্য, সুদীপ্তর থেকে নেওয়া কোটি কোটি টাকার একটি অংশ নিতু চেকে নিয়েছেন এবং একটি সংস্থার নামেই ওই সমস্ত চেক কাটা হয়েছে। ওই সংস্থাটি কী, তার কাজ কী ধরনের, সারদার টাকা নিয়ে সংস্থাটি কী করেছিল, এই নিয়ে নিতু এখনও কার্যত নীরব বলেই গোয়েন্দাদের দাবি। সুদীপ্তর চিঠির সূত্র ধরে এগিয়ে এ ব্যাপারে কিছু তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীরা হাতে পেয়েছেন। সন্ধির অগ্রবাল নামে নিতু-ঘনিষ্ঠ যে ব্যবসায়ীকে ২৩ অগস্ট সিবিআই গ্রেফতার করেছে, তাঁকে জেরা করেও সুদীপ্তর কাছ থেকে নিতুর জবরদস্তি টাকা আদায়ের ব্যাপারে বহু তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে সিবিআইয়ের দাবি। 
সারদা মামলায় এ দিন সুদীপ্ত ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়-সহ ছ’জনকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হয়। কুণাল ঘোষ অসুস্থ থাকায় হাজির করা যায়নি বলে পুলিশ সূত্রের খবর। নিতু ছাড়া বাকিদের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট হারাধন মুখোপাধ্যায়।
এ দিন বিধাননগরের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রাক্তন সাংবাদিক, বর্তমানে ব্যবসায়ী, গৌতম বিশ্বাসকে ডেকে জেরা করে সিবিআই। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই ব্যক্তিই সুদীপ্ত সেনকে মিডিয়া ব্যবসায় আনেন এবং তাঁর মাধ্যমেই একটি চ্যানেলে মোটা টাকা লগ্নি করেন সারদা-কর্তা। সেটা ২০১০ সালের গোড়ার দিক। তখনও সারদার দু’টি দৈনিক বেরোয়নি। তবে সিবিআইয়ের বক্তব্য, গৌতমকে এ দিন ডাকা হয়েছিল অন্য কারণে।
কী সেটা?
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মোহনবাগান ক্লাবের শতবর্ষ উপলক্ষে তৈরি একটি ছবির মিডিয়া পার্টনার ছিল একটি বাংলা দৈনিক। তবে আসলে সুদীপ্ত সেন-ই টাকা ঢেলেছিলেন। গৌতমবাবু ছিলেন ওই ছবির তিন জন প্রযোজকের অন্যতম। এ দিন ঘণ্টাতিনেক জেরার পরে বাইরে এসে গৌতমবাবু দাবি করেন, ওই ছবির চুক্তি ও আয়ব্যয় সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়। একটি ইংরেজি নিউজ চ্যানেলের এক প্রাক্তন সাংবাদিককেও ডেকে পাঠানো হবে বলে এ দিন সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। সুদীপ্ত তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির চাপে তিনি এক কোটিরও বেশি টাকা একটি নতুন চ্যানেল করার জন্য ঢেলেছিলেন।
সারদা-তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “যদি সিবিআইকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে দেওয়া হয়, তা হলে তৃণমূলের পলিটব্যুরোকে আগামী দিনে জেলে রাজনীতি করতে হবে!” তাঁর বক্তব্য, এমন অনেককে সিবিআই ডাকছে বা জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যাঁদের শ্যামল সেন কমিশন ডাকেনি। রাজ্য প্রশাসনের সিটও প্রতি পদে অসহযোগিতা করেছিল। এর পরেও সিবিআই যে ভাবে এগোচ্ছে, তাতে আশা হারানোর কিছু নেই বলে অধীর মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত বলেন, “সিটের সঙ্গে সিবিআই তদন্তের গুণগত তফাৎ দেখা যাচ্ছে। তদন্তের গতি এবং ব্যাপকতা আগের চেয়ে বেশি। আমরা চাই, দ্রুত তদন্ত শেষ হোক। টাকা সরানোর সুযোগ কেউ যাতে বেশি না পায়।”

Lies of Mamata, youth dies without treatment in West Bengal state hospital

স্বাস্থ্য-পরিষেবা কেন মমতাহীন, পুত্রহারার চিঠিতে তোলপাড়

সোমা মুখোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৭ অগস্ট, ২০১৪, ০২:৩১:১৯


1

সুদীপ রাহা

স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে রাজ্য যথেষ্ট গর্বিত। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী থেকে আমলা পর্যন্ত সকলেই বিভিন্ন সময়ে এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি যে কতটা ঘুণ ধরা, শহরের এক নামী হাসপাতালে সাম্প্রতিক একটি মৃত্যুর ঘটনা তা আরও এক বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। মৃতের পরিবারের অভিযোগপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন নড়েচড়ে বসেছে ঠিকই, তবে তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। প্রাণের বিনিময়ে ১৭ বছরের এক কিশোর জানিয়ে গিয়েছে, রাজ্যের স্বাস্থ্য-পরিস্থিতি নিয়ে গর্বের ভিত কত নড়বড়ে।
গত ১৫ অগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় দমদমের বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দা, ১৭ বছরের সুদীপ রাহা। ইমার্জেন্সির চিকিৎসকেরা আর একটু সহৃদয় হলে ছেলের এই পরিণতি হত না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সুদীপের বাবা প্রদীপবাবু। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার মাধ্যমে সেই চিঠি যায় স্বাস্থ্য ভবনে। চিঠির উপরে সেই শীর্ষ কর্তা লিখে দেন, প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের চিঠিটি পড়ে তাঁর মনে হয়েছে হাসপাতালের গাফিলতি রয়েছে।
এতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। গোড়ায় যে হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষ তাঁদের অভিযোগকে আমলই দিতে চাইছিলেন না, তাঁরাই নড়েচড়ে বসেন। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য ভবনও। একই মৃত্যুর তদন্তে নজিরবিহীন ভাবে দু’টি তদন্ত কমিটি গড়া হয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট পেশ করেছেন তাঁরা। রিপোর্টে ধরা পড়েছে, সময় মতো ওই কিশোরের চিকিৎসাই শুরু হয়নি। এক বিভাগ থেকে আর এক বিভাগে ঘুরেছে তার পরিবার। যার জেরেই ওই মৃত্যু। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের তরফে আরও সহানুভূতি প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তদন্তকারীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল সুদীপের ক্ষেত্রে? প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই জ্বর হয়েছিল ছেলের। প্রায় বেহুঁশ অবস্থায় ১৫ অগস্ট রাতে তাকে আর জি করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইমার্জেন্সিতে তখন ডিউটিতে ছিলেন এক হাউসস্টাফ। অভিযোগ, তিনি রোগীকে পরীক্ষা না করে শুরুতেই ইসিজি, এক্স-রে করিয়ে আনতে বলেন। প্রদীপবাবুর কথায়, “ওই মহিলা চিকিৎসক আমাদের কোনও কথায় পাত্তাই দিচ্ছিলেন না। বলছিলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে কোনও চিকিৎসাই শুরু হবে না। আমরা তখন দিশাহারা অবস্থায় ছোটাছুটি করছি। আর দেখছি, ছেলেটা ক্রমশ নেতিয়ে পড়ছে।”
প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, তখন ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। কোনও ট্রলি নেই। এক্স-রে করানোর ঘরটা ইমার্জেন্সি থেকে বেশ কিছুটা দূরে। অন্য কোনও পথ না থাকায় ছেলেকে পাঁজাকোলা করেই তাঁরা এক্স-রের ঘরে নিয়ে যান।
১৭ বছর বয়সী একটি ছেলেকে পাঁজাকোলা করে বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে দৌড়নো খুব সহজ নয়। তা সত্ত্বেও সেখানে পৌঁছনোর পরে হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। কোনও মতে এক্স-রে হয়। আবার ওই অবস্থায় ছুটতে ছুটতে ছেলেকে নিয়ে ইমার্জেন্সিতে ফেরেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “ওই বৃষ্টির মধ্যে রুগ্ণ ছেলেটাকে সামলাব, নাকি এক্স-রে প্লেট সামলাব? বৃষ্টির জলে প্লেটটা সামান্য ভিজে গিয়েছিল। সেটা নিয়ে চিকিৎসকের হাতে দিতেই চেঁচিয়ে উঠলেন তিনি। বললেন, যে ভাবে হোক প্লেট শুকনো করে আনতে হবে। আমি তখন হন্যে হয়ে খুঁজছি কোথায় একটা পাখার তলায় একটু দাঁড়ানোর সুযোগ পাব, প্লেটটা শুকিয়ে আবার ডাক্তারের কাছে যেতে পারব।” এ ভাবেই ঘণ্টা দেড়েক মতো কেটে যায়। ততক্ষণে অবশ্য সুদীপের মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোতে শুরু করেছে। তখন সম্বিত ফেরে ডাক্তারদের। ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু কার্যত চিকিৎসার কোনও সুযোগ না দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরের।
অভিযোগ, ঘটনার পরেই হাসপাতালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সুদীপের পরিজনেরা। কিন্তু তাঁদের কথায় কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলে যায় নবান্ন থেকে স্বাস্থ্য ভবন হয়ে ওই অভিযোগের চিঠি হাসপাতালে এসে পৌঁছনোর পরে। তড়িঘড়ি হাসপাতালের তরফে চার সদস্যের এবং স্বাস্থ্য ভবনের তরফে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
এ দিন ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গে প্রদীপবাবু বলেন, “আমার ছেলেটা তো অসময়ে চলে গেল। কিন্তু প্রতি দিন কত হাসপাতালে এমন কত ছেলে চলে যাচ্ছে, তার খবর অনেকেই রাখেন না। কেন হাসপাতালে একটা ট্রলিও পাওয়া যাবে না, কেন এক জন ডাক্তার রিপোর্ট পাওয়ার আগে রোগীকে ছুঁয়েও দেখবেন না, কেন রোগীর বড়ির লোকজনের সঙ্গে কুকুর-বেড়ালের মতো ব্যবহার করা হবে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো এ বার রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তাদের দেওয়ার সময় এসেছে।”
তদন্তকারী দলের এক সদস্য বলেন, “আমরা যতটুকু বুঝেছি, তাতে ছেলেটির সেপ্টিসেমিয়া হয়েছিল। চিকিৎসা হলেই যে সে বেঁচে যেত, এমন না-ও হতে পারত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাটা সময় মতো শুরুই হয়নি। ওই হাউসস্টাফ সমস্যার গভীরতাটাই বুঝতে পারেননি। তাঁর উচিত ছিল কোনও সিনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে পারমর্শ করে যথাযথ পদক্ষেপ করা। তা না হওয়াতেই ছেলেটির মৃত্যু ত্বরান্বিত হল। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।”
স্বাস্থ্যকর্তারা বিষয়টি নিয়ে এ দিন কোনও মন্তব্য করেননি। জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে যা বলার বলবেন। একই কথা বলেছেন হাসপাতালের সুপার দিব্যেন্দু গৌতমও। সেই ‘সিদ্ধান্ত’ কবে হবে, আপাতত সে দিকেই তাকিয়ে পুত্রহারা এক পরিবার।

Friday, August 22, 2014

Trinamool provokes murder against other Doctors in West Bengal

থানায় অভিযোগ, সরব বিরোধীরা, নির্মল অনড়ই

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্যে - আনন্দবাজার পত্রিকা) 

কলকাতা, ২৩ অগস্ট, ২০১৪, ০৩:৪২:৪৬

প্রকাশ্য সভায় তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিষদীয় সচিব নির্মল মাজির উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে এ বার জল গড়াতে শুরু করল। চিকিৎসকদের ‘জ্যান্ত পুতুল’ পোড়ানোর কথা বলে উস্কানি দেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের হল শাসক দলের চিকিৎসক-নেতা নির্মলবাবুর বিরুদ্ধে। শাসক দলের উপরে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে বিরোধীরাও। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ তৃণমূলকে ‘গুন্ডা তৈরির কারখানা’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, দলীয় বিধায়কের ওই মন্তব্যের জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া।
নির্মলবাবু অবশ্য দুঃখপ্রকাশ দূর স্থান, বরং সরকারি চিকিৎসকদের একাংশকে অশালীন আক্রমণ জারি রেখেছেন! আর সাম্প্রতিক কালের ধারা মেনে পুলিশও বুঝিয়ে দিয়েছে, শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগকে তারা তেমন আমল দিচ্ছে না। এর আগে প্রকাশ্য সভায় উস্কানিমূলক বক্তৃতার জন্য অভিযোগ দায়ের হলেও তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থাই নেয়নি। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। নির্মলবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগকে পুলিশ গুরুত্ব না দিলে তাঁরাও আদালতে যাবেন, জানিয়েছেন সরকারি চিকিৎসকদের একাংশ।
স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিষদীয় সচিবের পদে আছেন নির্মলবাবু। পদমর্যাদায় তা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর সমতুল। চিকিৎসকদের হুমকি দেওয়া এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশের জন্য অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে শুক্রবার মুচিপাড়া ও বিধাননগর থানায় দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দু’টি অভিযোগই দায়ের করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসক যতীন্দ্রচন্দ্র পাল। প্রবীণ ওই চিকিৎসক তাঁর অভিযোগপত্রে লিখেছেন, নির্মলবাবু গত বুধবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক সভায় সাংসদ মুকুল রায় এবং কয়েক জন চিকিৎসকের সামনে উত্তরবঙ্গে সাসপেন্ড হওয়া স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সম্পর্কে বলেছিলেন, “যারা কাজ করে না, তাদের কুশপুতুল পুড়বে নাকি জ্যান্ত পুতুল পুড়বে, তা জানা নেই।” যতীন্দ্রবাবুর বক্তব্য, এটা স্পষ্টই ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি।
বিরোধীদের খুন এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার পরে তৃণমূল সাংসদ তাপসবাবুর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সাংসদ অবশ্য দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে অন্তরালে চলে যান। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি। নির্মলবাবু কিন্তু তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। হাওড়ায় এ দিনই তিনি বলেন, “যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় কথা বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেন, চিকিৎসা করতে গিয়ে ব্যবসা করেন, তাঁদের কি গাঁদা ফুলের মালা দেব? ওঁদের জামা-প্যান্ট খুলে নেওয়া উচিত!” তবে চিকিৎসকদের জ্যান্ত পুতুল পোড়ানোর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একই সঙ্গে এ দিন তিনি বলেন, “মজা করে বলেছি! জ্যান্ত কুশপুত্তলিকা হয় নাকি?” চিকিৎসকদের রাস্তায় জামা-প্যান্ট খুলে নেওয়ার কথা বলাটা কি উস্কানিমূলক নয়? এটা কি কোনও চিকিৎসক অন্য চিকিৎসককে বলতে পারেন? নির্মলবাবুর জবাব, “আমার বক্তব্য থেকে এতটুকুও সরছি না!”
শাসক দলের চিকিৎসক-নেতার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, “বদল চাই বলে ক্ষমতায় এসে এখন বদলার রাজনীতি হচ্ছে। এক জন সাংসদ বলছেন, নলি কেটে দেব। এক জন বিধায়ক বলছেন, জ্যান্ত পুতুল পুড়বে!” বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, “তৃণমূল গুন্ডা তৈরির কারখানা হয়ে গিয়েছে! নির্মল মাজিকে সাসপেন্ড করা উচিত। তাঁর ওই মন্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর উচিত রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া!” পুলিশ তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্মলবাবুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, নির্মলবাবুর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা উচিত। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার সময়ে বিজেপি-র যুব মোর্চার কর্মীরা ছিলেন। পরে বিজেপি থানায় বিক্ষোভও দেখায়।
তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য সিদ্ধার্থনাথের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নির্মল কি সিদ্ধার্থনাথের দলের কর্মী, যে ওঁকে সাসপেন্ড করার কথা উনি বলছেন? ওঁকে জ্ঞান দিতে হবে না! আমাদের দলে কী করণীয়, তা আমাদের নেত্রী ভালই জানেন। সিদ্ধার্থনাথ নিজের চরকায় তেল দিন!”
এ রাজ্যে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন দেয় যে প্রতিষ্ঠান, নির্মলবাবু সেই রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলেরও সভাপতি। এটাও কি তাঁর এমন মন্তব্য করেও রেহাই পাওয়ার অন্যতম কারণ? সে প্রশ্নও তুলেছেন চিকিৎসকদের একটা অংশ। সিপিএম-প্রভাবিত চিকিৎসক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “উনি চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) রাজ্য শাখারও সভাপতি। আমরা তাই আইএমএ-র সর্বভারতীয় শাখা এবং মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াকে চিঠি লিখব। ওঁর আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।” নির্মলবাবু অবশ্য পাল্টা বলেছেন, “কে, কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় দেখা যাবে! যাঁরা প্রকাশ্য সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Monday, August 11, 2014

Epidemic Encephalitis spreads for West Bengal Govt inaction


এনসেফ্যালাইটিসে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত, মোকাবিলায় 

কী ব্যবস্থা, রাজ্যের হলফনামা তলব

সনত্ ঝা ও সৌভিক মজুমদার, এবিপি আনন্দ


Monday, 11 August 2014 09:49 PM


শিলিগুড়ি: এনসেফ্যালাইটিসে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত৷ উত্তরবঙ্গে আরও ২ জনের মৃত্যু৷ 

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন বিপ্লব সিংহ ও বৈকুণ্ঠ 

সরকার৷ প্রথম জন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা এবং অন্যজন দক্ষিণ দিনাজপুরের 

কুশমন্ডির৷

এদিকে এনসেফ্যালাইটিস উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা 

হয়েছে, জানতে চেয়ে ২১ তারিখের মধ্যে রাজ্য সরকারের হলফনামা তলব করেছে হাইকোর্ট৷ 


এর মাঝেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ১৯জন চিকিত্সককে 

বদলি করার প্রতিবাদে সোমবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান জুনিয়র ডাক্তার ও 

ছাত্রদের একাংশ৷ অবিলম্বে বদলি রদ করার দাবিতে অধ্যক্ষের কাছে ডেপুটেশনও দেন তাঁরা৷

বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এনসেফ্যালাইটিসে মৃত ও 

আক্রান্তদের সঠিক তালিকা প্রকাশ করছে না রাজ্য সরকার৷ সম্প্রতি এই অভিযোগ তুলে 

কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷ সেই 

মামলার শুনানিতে এনসেফ্যালাইটিস মোকাবিলায় এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া 

হয়েছে,  তা জানতে চেয়ে ২১ অগাস্টের মধ্যে রাজ্য সরকারের হলফনামা তলব করেছে 

হাইকোর্ট৷


Friday, February 22, 2013

Mamata's vindictive politics over patient care push Bengal people to poor health care


Norway may pull out of SSKM project





KOLKATA: Barely four months after the state health department shunted out Dr Arun Singh, the head of the neonatology department at the Institute of Post Graduate Medical Education and Research (IPGMER) in SSKM Hospital, the state's premier medical institute is set to lose a prestigious project funded by the Norway government.

The funding agency wants to pull out of the project because it has "lost confidence" after Dr Singh's transfer.


Dr Singh, as the head of the department, had been instrumental in developing a state-of-the-art neonatology wing at IPGMER. He was transferred to the College of Medicine and Sagar Dutta Hospital in October 2012, allegedly after a row with an influential health department official.
Dr Singh - for whom the city's medical fraternity vouches for his dedication, hard work and pioneering initiatives -

was transferred to a hospital which does not even have a neonatology department.


former neonatology head at Institute of Post Graduate Medical Education and Research (IPGMER) (SSKM), the state's premier medical institute is about to lose a prestigious project funded by the Norway government.

The neonatologist, who the medical fraternity vouch for his dedication, hard work and pioneering initiatives, was shunted to the North 24 Parganas hospital which does not even have a neonatology department.

The Norway funding would have been crucial for the hospital, as the country boasts one of the best healthcare facilities for the newborn in the world. With an infant mortality rate of 3 (number of deaths per 1,000 births), it ranks sixth amongst countries with the lowest infant mortality rates.

The corresponding figure for Bengal is 35.

Now, the funding agency has expressed a wish to discontinue the project, said sources.

The funding agency reportedly has expressed its desire to discontinue with the ongoing project. If the project is withdrawn it will give a major blow to the neonatology wing that has taken up many pioneering initiatives.

Therefore the collaborative project with Norway government at IPGMER would have served the state.

Some initiatives that would have materialized under the project was a breast milk bank at IPGMER, a training programme for doctors and nurses in Norway and collaborative efforts to reduce neonatal sepsis, nutrition of newborns and improving neurodevelopment.

An exchange programme with the Oslo University Hospital under the project would have meant clinical skill development for medical staff members of IPGMER's neonatology wing.

In fact, the first batch of two doctors and four nurses have been trained so far with full sponsorship from Norway.

The project was to run for five years. Now, a little more than a year into it, the funding agency wants to pull out.

"The project would have gone to AIIMS in Delhi. But Dr Singh had fought hard to win it," said a senior doctor at IPGMER. "This was a matter of pride not only for the state but also for the entire eastern and north-eastern regions."

According to sources the funding agency had confidence in Singh's efficiency and dedication. Therefore it did not want to continue with the project after he was shunted out. A communication on this was sent to IPGMER director Dr Pradip Mitra some weeks back.

"Now I hear that they (the Norwegian funding agency) do not wish to continue with the project. The reason is not clear," said Dr Mitra.


The fate of the Newborn Care Resource Centre at IPGMER, facilitated by the Norway India Partnership Initiative, also hangs in the balance. The resource centre - a first-of-its-kind initiative in India - owed its existence largely to the efforts of Dr Singh.at IPGMER under NIPI was the first of its kind in India. While the other four centres - KEM Mumbai, Institute of Child Health Chennai, Lady Hardinge Medical College Delhi and PGI Chandigarh - that came up much later have been given extension for another five years, IPGMER has not been sanctioned the extension by NIPI. Singh was instrumental in impressing upon NIPI to start the centre.

Incidentally, even though the state has shunted Dr Singh to a hospital where he has very little work, it is yet to release him on a central Health Ministry deputation to work as a senior advisor to the National Child Health Project.

Even as the state shunted out the specialists doctor to a place where there was no work for his expertise, the central health ministry has requested the Mamata Banerjee government to depute him for two years to work as a senior advisor to the national child health project. The state however is yet to release Singh.





Read related news: 

Surprise transfer for SSKM doctor



After surprise transfer, probe shock for doctor




This is not the first time the uneducated and partisan politician Mamata put her egoistic politics over patient care, on 26 May 2011 she suspended an eminent neurosurgeon and The director of the Bangur Institute of Neurosciences Dr. Shyamaprasad Ghorai, without any reason. click on the link below to read details. 

Mamata and her ministers always go abroad for best treatment but Bengal people get deprived of right treatment by expert doctors for her uneducated and insensitive behavior towards best doctors. Some of the city's well known persons say that she drive away best doctors from Govt. run hospitals to give advantages to some of the private clinics of the city in which she has some interest.
Gyanpith award winner writer Mahasweta Devi, who is the closest associate of Mamata, surprisingly silent about this ordeal of Bengal people who has always been vocal about people's cause and despite her poor health take part in many political rallies of Mamata. Then is it true that her intellect only gets vocal where she has some personal interest, and not for all?
However, Gyanpith award winner writer Mahasweta Devi, who is the closest associate of Mamata, surprisingly silent about this ordeal of Bengal people who has always been vocal about people's cause and despite her poor health take part in many political rallies of Mamata. Then is it true that her intellect only gets vocal where she has some personal interest, and not for all?


Tuesday, February 5, 2013

Bengal's healthcare in doldrums



Health spend a sorry figure




KOLKATA: Chief minister Mamata Banerjee, who is also the health minister, has spent barely half of the state's allocation for health.

According to figures compiled by the state health department and submitted to the finance department, the Trinamool Congress-run government has only spent Rs 698 crore of the Rs 1,410 crore allocated by the Planning Commission for 2012-'13.

In 2012, the commission had approved an annual plan of Rs 25,910 crore for Bengal. The allocation, increased by 16% from last year, was projected as a shot in the arm for the government, though Mamata herself was silent on it.

Insiders said the chief minister was aware that the allocation had been okayed on the basis of what the government had submitted before the plan panel. Therefore, it was clear that Mamata had planned to spend Rs 1,410 crore on health projects. The Rs 698 crore spent so far was needed for strengthening hospitals and block primary health care centres, creating newborn care corners, mother and child welfare and on providing modern facilities.

With only a month of the last quarter remaining, officials said they would barely cross the halfway mark.

The chief minister is believed to have expressed her displeasure over the slow progress of projects funded by the centre's backward region grants fund in the health department. Sources said she had pulled up officials for the delay in working on the 33 super-speciality hospitals in the districts. She then set an "impossible deadline of March 2013", the sources added.

"Even if the state government manages to provide its own contribution, the central funds will take time to arrive. It will be impossible to finish projects by March, 2013," said an official.

National Rural Health Mission director Sanghamitra Ghosh had recently written to chief secretary Sanjay Mitra that central funds of Rs 6.73 crore earmarked for rural health upgrade was lying unspent. Add to this is a corpus of Rs 5.86 crore lying unspent with 909 primary health centres across the state. Ghosh wrote that the unspent amount lying in the districts was higher than the annual entitlements and that the administration must take necessary steps to expedite utilization.

At the beginning of the fiscal, the chief minister had talked about upgrading 27 hospitals in 11 backward districts to super-speciality hospitals as the Planning Commission approved the detailed project reports related to 27 sub-divisional and rural hospitals and block primary health centres. The figure was later revised to 33, but the funds management was apparently glossed over. Even as the Centre had released 30% of the amount at the beginning of the fiscal, the backup work was left pending.

That was the first time the Centre had sanctioned funds for a special project in Bengal since Mamata came to power. Officials said the delay caused by the wait for the Bengal government's project reports had come in the way of funds.

But now it appears that even after getting this kind of a fiscal boost, the government - which had tabled a bigger budgetary allocation to the health sector - has cut a sorry figure.

Sunday, December 16, 2012

Mamata's Party up for Baby sale

 Babies for Sale in West Bengal!

 Mamata's partymen hand-in-glove with culprits

On ‘sting’ radar: docs in baby sale near city

Calcutta, Dec. 15: Two doctors and a suspected tout were detained and questioned today after a television sting purportedly showed babies put up on sale at a nursing home on the city’s southern fringes, allegedly in collusion with the local Trinamul-run panchayat.
At Usti, 40km from the heart of Calcutta, two 24 Ghanta reporters posing as a couple apparently struck a deal with a man identified as Ramzan with the help of the two doctors. The channel identified the doctors as Chandrani Roy and Kaushik Roy.
In the purported conversations, the decoys, doctors and the alleged tout bargain and fix the price for a newborn at Rs 1.6 lakh. The baby girl, according to the nursing home manager in the video, was born to an unwed mother.
Starting October 30, 2010, The Telegraph had carried a series of reports on how babies were on sale in Calcutta and how a child could be bought for Rs 2.5 lakh. It was found that unwed mothers were identified, kept hidden and “maintained” in nursing homes and hospitals for months before the delivery.
The manager, identified by the channel as Pintu in today’s video, is shown saying that “written consent” was taken from the girl’s family when the nursing home took custody of the baby.
The doctors, who were allowed to leave Usti police station around 9pm along with Ramzan, apparently told interrogators they were not involved in any baby deals and had no clue whether the nursing home’s staff were putting the baby up for sale.
An officer said: “We are verifying their statements. They may be summoned for interrogation again tomorrow.”
The video shows Ramzan promising that the panchayat would help the couple get a birth certificate from the Calcutta Municipal Corporation, and that the certificate would mention the couple as the baby’s biological parents.
The local Sheerakol panchayat is headed by Hafiza Biwi, wife of junior minority affairs minister Ghiyasuddin Mollah.
Mollah said he went to Samadhan Nursing Home after he learnt about the allegations. “I have told the police to act if anyone is found involved. But none of our party workers has anything to do with the nursing home.”
He suggested the sting could be a CPM conspiracy. “The CPM has been trying to malign me since I became an MLA,” the first-time MLA from Mograhat said.
This is what the video purportedly shows:
The reporters are led to a “small” room at the nursing home and a woman who seems to be an attendant brings the baby, wrapped in white cloth.
Pintu claims it is “a Caesar baby… born on December 2” and quotes a price of Rs 1.7 lakh.
The couple offer Rs 1.5 lakh. They are asked to pay Rs 10,000 more because, according to Pintu, even the nursing home sweeper gets a cut.
The reporters voice their worry about the difficulties of obtaining a birth certificate. One of the doctors is shown assuring them that they know some 2,000 people in the area, including the MLA, and it would not be a problem to show that the lady (reporter) had delivered a baby at a relative’s home in Usti.
The state child welfare department has started a probe. Minister Shyamapada Mukherjee said a team of senior officials, including the department’s secretary, director and a deputy director, had been sent to the nursing home, one of several in the area.
He said the team would collect information about the alleged sale of newborns through a network of doctors and officials. “We will definitely take strong action against all concerned if what has been shown is true,” Mukherjee said.
In the video, the lady doctor is shown saying the couple should pay an advance only if they are interested in the baby, because people usually don’t get the money back if they pull out later. The other doctor is shown certifying the baby’s health.

Friday, November 18, 2011

Worst politics played by Mamata Govt. in West Bengal health care


Nov. 18: The state government has decided to shift the proposed super-speciality hospital on the lines of the AIIMS from North Dinajpur’s Raiganj to Kalyani in Nadia.
“The state government has now decided that the AIIMS-like hospital will come up in Nadia,” Union junior health minister and Trinamul leader Sudip Bandopadhyay toldThe Telegraph in Calcutta.
Earlier in the day, Bandopadhyay who was in Siliguri, said the specialised hospital would come up in a place where it would benefit the maximum number of people.
Writers’ Buildings sources said the Centre, which has approved the project and sanctioned Rs 800 crore for it, had to be informed about the change in the hospital site.
Congress MP Deepa Das Munshi has already launched an agitation in her constituency Raiganj in support of the hospital there.
But sources close to chief minister Mamata Banerjee said Deepa, with whom she does not see eye to eye, would not be given an opportunity to gain popularity in north Bengal.
“The AIIMS-like hospital was mooted for Raiganj at the behest of Priya Ranjan Das Munshi, who was then the information and broadcasting minister. Deepa (his wife) is reaping its full political benefit,” a Trinamul leader said. “She knows that if the hospital is set up in Raiganj she will gain a lot of political mileage in north Bengal. It is hardly fair to expect Mamata to allow that especially since Deepa is forever saying nasty things about her.”
Deepa today said the decision to deprive north Bengal of a specialised healthcare was a deep-rooted political conspiracy of Trinamul. “North Bengal districts are still a Congress bastion and Trinamul wants to weaken us there by not allowing the hospital to come up in Raiganj,” she said.
In August Mamata had said an AIIMS-like hospital would come up in Kalyani in Nadia and that the land for it had been identified. But she had not said anything about shifting it out of Raiganj.
Health department officials said more than 100 acres has been identified in Kalyani. “Kalyani, where more land is available, is a much better location than Raiganj,” said a senior official.
Writers’ sources said the government would have to inform the Centre if the hospital is shifted. “But that will not come in the way of the project,” said a source. “The location of the facility in the state is not the Centre’s concern.”

West Bengal babies death continue due to inefficient Govt.

3 more babies die in Malda, CM sets up task force

TIMES NEWS NETWORK 17.11.11


Malda/Kolkata: Three more babies died in the Malda District Hospital on Wednesday pushing up the death toll to 29 in last eight days. The unabated deaths have prompted the state secretariat to sit up and take note. Chief minister Mamata Banerjee, who is in charge of the health department, has ordered setting up of a high-level task force to suggest ways to revamp the mother and child care system all over the state. 
    The task force under pediatrician Abhijit Banerjee will be collecting information on infrastructure and staff in government hospitals and inspecting them, before it submits time-bound remedial measures to bring down infant and maternal mortality rates. 
    The CM has asked health of
ficials to ensure that no child is left to lie on the hospital floor due to dearth of beds. District magistrate Archana said, “From now, teachers of the Medical College will attend the hospital. Instead of one, the hospital will have three pediatricians at all times.” Principal Dr Debashis Bhattacharya said that stabilization units will be opened in block hospitals.


Related Post : 

Celebration of Children's day in West Bengal - 7 babies die in Govt.Hospital

Regular death of Babies in West Bengal Hospitals due to Mamata Govt.'s negligence

Mamata relishing CM's power, Babies die in Hospitals for negligence

Acid used for delivery at state hospital, baby dies