|
Showing posts with label hypocrisy. Show all posts
Showing posts with label hypocrisy. Show all posts
Wednesday, November 26, 2014
Intellectuals of Kolkata organised a rally to Save the Saradha thieves, by Mamta's order!
এবার মমতার অর্থমন্ত্রী নিয়ম ভেঙে বরাত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন! কত কাটমানি?
নিয়ম ভাঙতে বললেন অমিত,নির্দেশ উড়িয়ে বিদ্রোহী আমলা
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪
অমিত মিত্র এবং কৃষ্ণ গুপ্ত।
পছন্দের সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দিতে হবে। তাই অর্থবিধির ব্যাপারে ‘নমনীয়’ হওয়ার জন্য অধীনস্থ এক আমলাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। কিন্তু সেই আমলা দৃঢ় ভাবে আপত্তি করায় মুখ পুড়েছে অমিতবাবুর। নবান্ন সূত্রের খবর, নিজের অফিসারেরই কাছে ধাক্কা খেয়ে শেষে নিয়ম মেনে ফের দরপত্র চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তিনি কৃষ্ণ গুপ্ত। শিল্পোন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের কোন অনিয়ম আটকালেন কৃষ্ণবাবু?
সরকারি উদ্যোগে আগামী ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি কলকাতায় বসছে ‘গ্লোবাল বেঙ্গল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’, বেঙ্গল লিডস-এর আসর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বিশ্ব বাংলা সম্মেলন’। আগে তিন বার নিষ্ফলা চেষ্টার পরে এটি মমতার চতুর্থ শিল্প সম্মেলন। এ বারের সম্মেলনস্থল রাজারহাটের প্রকৃতি তীর্থ, সল্টলেকের হেলিপ্যাড ময়দান ও বাইপাসের এক পাঁচতারা হোটেল।
এই সম্মেলনের জন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা বাছাই করতে গত মাসের মাঝামাঝি বিজ্ঞাপন দিয়ে দরপত্র চায় রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম। নিগম সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে তিনটি সংস্থাকে বাছাই করা হয়। তিন দিনের সম্মেলন আয়োজন এবং প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি-অতিথির থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ৮০ লক্ষ টাকা দর দেয় কলকাতার একটি সংস্থা। এটাই সর্বনিম্ন দরপত্র। বাকি দু’টি সংস্থা এর তিন এবং চার গুণ দর দিয়েছিল।
নিগমের খবর, অর্থবিধি অনুযায়ী সর্বনিম্ন দর দেওয়া সংস্থাকেই বরাত দেওয়ার কথা। ফলে কলকাতার ওই সংস্থার নামই চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এই বাছাইয়ে সায় ছিল না নবান্নের শীর্ষ মহলের। তারা ওই সংস্থার উপরে চাপ দিতে শুরু করে। নিগমের এক কর্তার কথায়, “পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, বরাত পেয়েও কাজ করবে না বলে জানায় সংস্থাটি।” ওই সংস্থার কোনও কর্তা অবশ্য এ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
বরাত পাওয়া সংস্থাটি সরে দাঁড়ানোর পরে প্রাথমিক ভাবে বাছাই হওয়া দু’টি সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা সর্বনিম্ন দরে কাজ করতে রাজি কি না। কিন্তু কোনও সংস্থাই সাড়া দেয়নি।
তখন আসরে নামেন অমিতবাবু। নিগমের কর্তাদের ডেকে পাঠিয়ে তিনি নির্দেশের সুরে অনুরোধ করেন, ‘আপনারা নিয়মে আটকে না-থেকে একটু নমনীয় হোন।’ যে সংস্থাটি তিন কোটি টাকা, অর্থাৎ সর্বোচ্চ দর দিয়েছে, তাদেরই কাজটা দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।
অমিতবাবুর পরামর্শের পিছনে যে সম্ভবত খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে, তা বুঝতে বাকি ছিল না নিগমের কর্তাদের। কেননা, মুম্বইয়ের শিল্প সম্মেলনে মুকেশ অম্বানীকে হাজির করতে পারার পরে মমতার খাতায় অমিতবাবুর নম্বর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তাঁকে শিল্প দফতরেরও ভার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় পার্থবাবু বা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো দুঁদে রাজনৈতিক নেতারা থাকলেও কাজকর্মের জন্য এই ‘কর্পোরেট’ মন্ত্রীর উপরেই বেশি নির্ভর করেন তিনি। আর বিশ্ব বাংলা সম্মেলন তো একান্ত ভাবে মমতারই মস্তিষ্কপ্রসূত।
এত কিছু জেনেও অমিতবাবুর পরামর্শ সপাটে ফিরিয়ে দেন কৃষ্ণ গুপ্ত। তিনি অর্থমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন, নিয়ম মোতাবেক কোনও কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সে কাজ অন্তত তিনি করতে পারবেন না। বরাত পাওয়া সংস্থা যখন কাজ করতে চাইছে না এবং বাছাই করা দু’টি সংস্থার কেউই ওই দরে কাজ করতে রাজি নয়, তখন নতুন করে দরপত্র চাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
নিগমের খবর, কৃষ্ণ গুপ্তর কাছ থেকে মুখের উপর জবাব পেয়ে আর কথা বাড়াননি অর্থমন্ত্রী। দরপত্রের ফাইলটা তিনি নিজের কাছেই রেখে দেন। এবং শেষমেশ নিয়ম মেনে টেন্ডারটাই বাতিল করে দিতে বাধ্য হন অমিতবাবু। নবান্নের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “গাল বাড়িয়ে থাপ্পড় খাওয়া বোধহয় একেই বলে।” এ বার নতুন করে দরপত্র চেয়ে ফের সংস্থা বাছাইয়ের কাজ শুরু হবে বলে নবান্নের খবর।
এই নিয়ে অর্থমন্ত্রী যথারীতি ফোন ধরেননি। এসএমএসের জবাব দেননি। কৃষ্ণ গুপ্তও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী কাজ করলে নিগম কর্তাদের চাকরি যেত। জবাবদিহি করতে হতো সিএজি-র কাছেও।
অভিযোগ, অর্থমন্ত্রী যে সংস্থাকে শিল্পোন্নয়ন নিগমের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সওয়াল করেছিলেন, সেই একই সংস্থাকে নিয়ম ভেঙে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের কাজ পাইয়ে দিতে চেয়েছিল নবান্নের শীর্ষ মহল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই দফতরের দায়িত্বে। আর এ ক্ষেত্রেও বাধা আর এক আমলা। তথ্য-সংস্কৃতি সচিব অত্রি ভট্টাচার্য।
সরকারি কাজের প্রচার চালানোর পরিকল্পনা তৈরির জন্য লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী, গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে মাথায় রেখে একটি কমিটি গড়েছেন মমতা। তাতে রাখা হয়েছে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকেও। যাঁর হাতে থাকা লেক মলকে নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে কর ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কলকাতা পুরসভা। যাঁর সংস্থায় কর ফাঁকি ধরার জন্য অভিযান চালিয়েও নবান্নের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মাঝ পথে ফিরে আসতে হয়েছিল অর্থ দফতরের আধিকারিকদের। প্রচার-সংস্থাবাছাইয়ের জন্য যে টেন্ডার কমিটি গড়েছেন মমতা, তাতেও আছেন ইন্দ্রনীল এবং শ্রীকান্ত। নজিরবিহীন ভাবে এই দুই কমিটিতেই তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের কর্তারা রয়েছেন এঁদের অধীনে।
দফতর সূত্রে খবর, প্রচার-সংস্থা বাছাইয়ের জন্য টেন্ডার কমিটি দরপত্র খোলার আগেই ওই বিশেষ সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দিতে নবান্নের শীর্ষ মহল থেকে চাপ দেওয়া শুরু হয়। এটা জানতে পেরে বেঁকে বসেন অত্রিবাবু। দরপত্রে প্রচার কাজের বিবরণ এবং লক্ষ্য ঠিক ভাবে বলা নেই এই কারণ দেখিয়ে গত ১৬ নভেম্বর দরপত্র বাতিল করে দেন তিনি। এ জন্য অত্রিবাবুর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অনেকে নালিশ করেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। অত্রিবাবু কিন্তু অনড়। তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, পুরনো দরপত্র তো বাতিল করা হয়েছেই, নির্দিষ্ট ভাবে নিয়ম-নীতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে দরপত্র চেয়ে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হবে না।
টেন্ডার কমিটির চেয়ারম্যান ইন্দ্রনীল সেনের অবশ্য দাবি, “আমি কমিটির বৈঠকে যাইনি, কোথাও সই-ও করিনি। ফলে কী হয়েছে বলতে পারব না।” কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যান হয়েও তিনি কিছু জানেন না কেন? ইন্দ্রনীলের জবাব, “কী ভাবে প্রচার-সংস্থা বাছাই হবে, তার মধ্যে আমি থাকতে চাই না। কমিটির বাকি সদস্যরাই এই কাজ করবেন।”
অনেকের মতে, বাকি সদস্য বলতে শ্রীকান্তকে বোঝাতে চেয়েছেন ইন্দ্রনীল। শ্রীকান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসের জবাব দেননি।
আর যাঁকে ঘিরে এই চাঞ্চল্য, সেই অত্রিবাবুর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “সব ঠিকই চলছে।” অত্রিবাবুর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন বিচারপতি, বাবা ডেপুটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল। এ হেন পারিবারিক ঐতিহ্যের মানুষকে চাপ দিয়ে নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করানো যাবে না। সে জন্য যদি তাঁকে স্টেট গেজেটিয়ারের সম্পাদক পদে বদলি করা হয় তাতেও তাঁর আপত্তি নেই।
তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের এক অফিসার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর মর্জি মেনে কাজ করতে আপত্তি করায় বছর দেড়েক আগে তৎকালীন তথ্য-সংস্কৃতি সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে স্টেট গেজেটিয়ারের সম্পাদক পদে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় গোড়ার দিকে তাঁকে সরকারি গাড়ি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এখন তিনি সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের সচিব। নবান্নের শীর্ষ মহলের ইচ্ছার বিরোধিতা করার জের হিসেবে অত্রিবাবুকেও তথ্যসচিবের পদ থেকে সরানো হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন।
নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অত্রিবাবুর সঙ্গে সরকারের শীর্ষ মহলের খিটিমিটি চলছিল। যেমন, এখন সরকারি বিজ্ঞাপন বানায় একটি বেসরকারি সংস্থা। কোন সংবাদমাধ্যমে কী ভাবে বিজ্ঞাপন যাবে তাও ঠিক করে ওই সংস্থাই। অথচ এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশনামা নেই। এ নিয়েই অত্রিবাবু নানা ভাবে সরকারকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। বরং উষ্মা বেড়েছে শীর্ষ মহলের।
মমতা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে রাজস্ব ক্ষতি করে বেআইনি ভাবে লেক মলের বরাত পাইয়ে দেওয়া হল
মমতা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে রাজস্ব ক্ষতি করে বেআইনি ভাবে লেক মলের বরাত পাইয়ে দেওয়া হল
জালিয়াত চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন সারদার বিশাল অঙ্কের টাকা গায়েব করার পর কার নির্দেশে ঢাকা দিল ?
বেপাত্তা শুভার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ভাবনা
নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪
সিবিআই অফিসে হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
শৌভিক দে-র তোলা ছবি।
সারদা তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে তলব করেছিল সোমবার। কিন্তু বুধবারও সারাদিন কেটে গেল, পাত্তা নেই শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্যের। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই শিল্পী মঙ্গলবার থেকে যে ভাবে গা ঢাকা দিয়েছেন, তাতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ইডি। শুভাপ্রসন্ন শেষ পর্যন্ত হাজির না হলে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু হবে বলে ইডি-র তদন্তকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেফতারও করা হবে। বস্তুত, বুধবার রাত থেকেই শুভাপ্রসন্নর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।
সিবিআই ও ইডি-র বক্তব্য, গ্রেফতার হওয়ার আগে তৃণমূল সাংসদ সৃঞ্জয় বসু বারবার তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়েছেন। প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। কিন্তু শুভাপ্রসন্নর মতো ‘বিশিষ্ট’ শিল্পী যে ভাবে গা-ঢাকা দিয়েছেন, তাতে তাঁরা যারপরনাই অবাক। বুধবার রাত পর্যন্ত শুভাপ্রসন্নর হদিস মেলেনি। কিছু বলতে চাননি তাঁর পরিবারের লোকেরাও।
ইডি সূত্রের খবর, ‘দেবকৃপা ব্যাপার’ নামে একটি সংস্থা ছিল শুভাপ্রসন্নর। সেই সংস্থার অধীনেই ‘এখন সময়’ নামে একটি খবরের চ্যানেল তৈরি করেছিলেন তিনি। কোনও দিন শুরু না হওয়া সেই চ্যানেলটিই শুভাপ্রসন্ন বেচে দেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনকে। ওই লেনদেন নিয়ে শুভাপ্রসন্নকে আগেও একাধিক বার জেরা করেছে ইডি ও সিবিআই। শুভাপ্রসন্ন কিছু তথ্যও জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হননি তদন্তকারীরা। তার জেরেই ফের তলব করা হয়েছিল তাঁকে। ইডি-র তদন্তকারীরা জানান, তাঁরা এ দিন পর্যন্ত শুভাপ্রসন্নর হাজিরার অপেক্ষায় ছিলেন। এ বার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও গ্রেফতার নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হবে। তবে কি ইডি শুভাপ্রসন্নর গোপন ডেরার খোঁজ পেয়েছে? উত্তরে শুধুই মুচকি হেসেছেন একাধিক ইডি কর্তা।
সারদা তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে অনেকেই বলছেন, রাজ্যের প্রভাবশালীদের ক্রমশই ঘিরে ফেলছে সিবিআই ও ইডি। এঁদের অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তথ্য দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সৃঞ্জয়কে এ দিন আলিপুর আদালতে হাজির করানো হয়। ক্লান্ত চোখমুখ, গলায় কলার বেল্ট পরা সৃঞ্জয়ের সঙ্গে দেখা করতে এ দিন আদালতে এসেছিলেন মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার ব্যারেটো। সৃঞ্জয় আদালতে জানান, তাঁর উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। সুগার ওঠানামা করছে। একটু দাঁড়ালেই মাথা ঘুরছে। অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। সৃঞ্জয় বলেন, “মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের দিনেও সিবিআই অফিসে হাজিরা দিয়েছি। আমায় জামিন দেওয়া হোক। প্রয়োজনে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আমি সিবিআই অফিসে থাকতে রাজি।” বিচারক হারাধন মুখোপাধ্যায় অবশ্য সৃঞ্জয়কে ফের তিন দিনের জন্য সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
এ দিকে, অসমের প্রভাবশালীদেরও জেরা অব্যাহত। সে রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী অঞ্জন দত্তকে ইতিমধ্যেই জেরা করেছে সিবিআই। এ দিন জেরা করা হয় অসমের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। সকাল পৌনে ১০টায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে পৌঁছে যান হিমন্ত। তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বেলা ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত।
সিবিআই সূত্রের বক্তব্য, তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে হিমন্তের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। তার জেরেই এই তলব। এর আগে হিমন্তের স্ত্রীর একটি খবরের চ্যানেলের অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। হিমন্ত অবশ্য বেরিয়ে দাবি করেন যে, ওই চিঠি সুদীপ্ত নন, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির লেখা। সেই ব্যক্তি কংগ্রেসের (হিমন্তের দল) বিরোধী বলেই সন্দেহ তাঁর। “সুদীপ্তর ওই চিঠি নিয়ে আমি ২০১৩ সালেই গুয়াহাটি হাইকোর্টে মামলা করেছি। সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত শেষ না হলে নির্বাচনে দাঁড়াব না,” বলেছেন হিমন্ত।
পাশাপাশি, এ দিন হিমন্ত দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে সুদীপ্তর তেমন যোগাযোগ ছিল না। ২০০৯ সালে অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ধুবুরিতে একটি জেলা হাসপাতাল উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। সেই সময়েই তিনি ওই এলাকায় একটি বিস্কুট কারখানার উদ্বোধনের কথা শোনেন। হিমন্তের বক্তব্য, “সেখানে পশ্চিমবঙ্গের এক বিধায়ক এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই সুদীপ্তকে দেখি।”
সারদা কেলেঙ্কারিতে এ দিন রাজ্যের এক প্রবীণ সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। তদন্তকারীরা জানান, ওই সাংবাদিক একাধিক খবরের কাগজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মধ্যে একটির সঙ্গে সারদার চুক্তি হয়েছিল। তার অন্যতম শীর্ষ পদে ছিলেন ওই সাংবাদিকের স্ত্রীও। সেই কারণেই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।
চুরির অধিকার দাবিতে তৃণমূলী বুদ্ধিজীবিদের মিছিল ! বাংলার সম্মান ভূলুন্ঠিত!
এ কোন মিছিল? চক্রান্তের প্রতিবাদ, নাকি চুরির দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪
সপ্তাহ শুরু হয়েছিল এক অভিনব মিছিল দিয়ে। যার স্লোগান ছিল, ‘আমরা সবাই চোর’। সেই মিছিলের মঞ্চ থেকেই আর এক মিছিলের ফতোয়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কাল, শুক্রবার শিল্প-সংস্কৃতি জগতের মানুষদের সেই মিছিলে হাঁটার কথা। কার্যত যাকে চুরির অধিকার চাওয়ার মিছিল বলেই কটাক্ষ করছেন অনেকে।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ বলে কথা! অমান্য করার উপায় নেই। ফলে মিছিল ‘ম্যানেজমেন্টে’ কন্যা-কর্তার ভূমিকায় নেমেছেন মূলত তিন জন। সদ্য শিবির বদলানো এক অভিনেতা-পরিচালক। দল পাল্টানো এক কবি। আর বাংলা ছবির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে উঠতে চাওয়া এক প্রযোজক। কর ফাঁকি থেকে শুরু করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর বরাভয় হস্ত সর্বদাই যাঁর মাথার উপরে। অরিন্দম শীল, শ্রীকান্ত মোহতা ও সুবোধ সরকারের হাতে মিছিল ডাকার গুরু দায়িত্ব সঁপে দিয়েছেন মমতা নিজেই।
নেত্রীর ইচ্ছায় কর্ম। অরিন্দম তাই গণ-এসএমএস পাঠাচ্ছেন। তাতে লেখা, “আগামী ২৮ নভেম্বর, শুক্রবার, দুপুর একটায় নন্দনে জমায়েত। সেখান থেকে অ্যাকাডেমি অবধি প্রতীকী মিছিল। কোনও রাজনৈতিক ব্যানারে নয়। বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতির উপরে আঘাত ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে... পথে এ বার নামো সাথী। প্লিজ এসো।” শ্রীকান্তের সঙ্গে এ দিন কথা বলতে চেয়ে ফোন ও এসএমএস করা হলেও সাড়া মেলেনি। সুবোধবাবু এ দিন দুর্গাপুরে এক আলোচনাসভায় জানিয়েছেন, ২৮ নভেম্বর পথে নামবেন। তিনি বলেন, “বিচারের আগেই বিচারের দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে সংবাদমাধ্যমের একাংশ। সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে।”
কীসের চক্রান্ত? মুখ্যমন্ত্রীর সোমবারের বক্তৃতা থেকে স্পষ্ট, তাঁর রাগ সারদা তদন্তে সিবিআইয়ের ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে। সেই জন্যই সে দিন প্ল্যাকার্ড বলছিল, “আমরা সবাই চোর! আমাদের গ্রেফতার করো!” সেই কর্মসূচিরই পরের ধাপ শুক্রবারের মিছিল। এ বার কি তবে চুরির অধিকারের দাবিতে পথে নামা? নাট্যপরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, বিষয়টা হরেদরে সে রকমই তো দাঁড়াচ্ছে প্রায়। তাঁর কথায়, “উদ্ভট ব্যাপার। সিবিআইয়ের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে পথে নামা মানে তো চুরির অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাই হল।” সুমন অবশ্য এসএমএস-আমন্ত্রণ পাননি। তবে অন্য এক ‘আমন্ত্রিত’ অভিনেতা বলে ফেললেন, “চুরির অধিকারের দাবিতে মিছিল নন্দনে কেন? আলিপুর জেলখানার সামনে করলেই পারত!”
এই অস্বস্তিটা যে সংস্কৃতি জগতের মধ্যেও নেই, তা নয়। সেটা বুঝেই অরিন্দমরা সরাসরি সারদা-সিবিআই ইত্যাদি না বলে সংস্কৃতির উপরে আঘাতের কথা তুলছেন। কী রকম আঘাত? প্রশ্ন করলে অপর্ণা সেনকে জেরার উদাহরণ টানছেন অরিন্দম। কিন্তু সে তো বেশ কিছু দিন আগের কথা! এখন তার প্রতিবাদ কেন? অপর্ণা নিজে তো কোনও প্রতিবাদের ডাক দেননি? স্পষ্ট কোনও উত্তর নেই আয়োজকদের কাছে।
মমতা-ঘনিষ্ঠ অভিনেতা রুদ্রনীলের কাছেও বিষয়টা পরিষ্কার নয়। তাঁরও খটকা, সংস্কৃতিতে আঘাতটা হঠাৎ কীসে লাগল? রুদ্রর প্রশ্ন: “অরিন্দম পরিবর্তনের আগে টিভি চ্যানেলে বামফ্রন্টের হয়ে সওয়াল করতেন। ওঁর এসএমএসে আমি কেন বিশ্বাস করব? তা-ও যদি প্রসেনজিতের মতো সিনিয়র কেউ ডাকতেন।” প্রসেনজিৎ মিছিল ডাকেননি, মিছিল নিয়ে কিছু বলতেও রাজি নন। গায়ক ইন্দ্রনীল সেন বরং খোলা গলায় হাঁকছেন, “শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া যে-দিকে দেখছি, শুধু বঞ্চনা! চক্রান্ত! যে যেখান থেকে পারেন সকলে আসুন।” চিত্রপরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় গোয়ার ফিল্মোৎসবে রয়েছেন। শুক্রবার শহরে থাকছেন না। কিন্তু মানসিক ভাবে ইন্ডাস্ট্রির পাশে দাঁড়াবেন বলে জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবাই গেলে আমি পাশে দাঁড়াব। ঠিক-ভুল পরে ভাবব।”
এখানেই প্রশ্ন জাগছে অনেকের মনে। যে প্রতিবাদী স্বরকে বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করা হতো এত কাল, তার সঙ্গে এই নব্য প্রতিবাদীরা খাপ খাচ্ছেন কি? প্রবীণেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে পথে নামা রবীন্দ্রনাথ, খাদ্য আন্দোলনের জমানায় মিছিলে হাঁটা সত্যজিৎ রায় বা হাল আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়েও রাজপথে কবি-সাহিত্যিক-বিশিষ্টদের মহামিছিল যে প্রতিবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে, শুক্রবারের মিছিলের সঙ্গে তার কোনও সম্পকর্র্ নেই। সুভাষ বসু থেকে তরুণী মমতা পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিবাদের যে ঘরানা বাংলা দেখেছে, তার সঙ্গেও একে কোনও ভাবেই মেলানো যায় না।
বাম জমানাতেও বিনোদন জগৎ বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের একাংশ শাসক দলের তাঁবেদারি করেছেন বলে অভিযোগ। কিন্তু চুরির পক্ষে সওয়াল করে প্রতিবাদ সেই পরম্পরাতেও নয়া সংযোজন। সুমন হেসে বলছেন, “এ এক বীভৎস মজা। বাংলা কেন, জানি না এমন প্রতিবাদ, ভূভারতে কোথায় কবে হয়েছে।”
গায়ে পুরোদস্তুর তৃণমূলের তকমা যাঁদের রয়েছে, তাঁরাও অনেকেই মিছিল নিয়ে মন্তব্যে নারাজ। না-গেলে উপায় নেই, তাই যাবেন বলে ঠিক করেছেন কেউ। কেউ কেউ আবার অন্য কাজ আছে বা শহরে থাকছেন না বলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচছেন। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু মিছিলে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বলেন, “২৮ তারিখের পরই এ নিয়ে কথা বলব।” তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী দিল্লিতে সংসদের কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। মমতা-মনোনীত রাজ্য মহিলা কমিশনের সদস্য জুন মালিয়া আবার মিছিলে হাঁটতে গররাজি। তিনি এক আত্মীয়ের বিয়ে আছে বলে যেতে পারবেন না বলছেন। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর শ্যুটিং চলছে দার্জিলিংয়ে। তাই রাজ-মিমি চক্রবর্তী প্রমুখের থাকার সম্ভাবনা কম। মমতার দলের বিধায়ক চিরঞ্জিতও সম্ভবত থাকবেন না। তাঁর কথায়, “পার্টি যখন করি, তখন বললে যাব। তবে শুক্রবার আমার শ্যুটিং আছে।” অভিনতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও মিছিলের দিন কলকাতায় থাকা হবে না বলে জানিয়েছেন।
আর মিছিলে যাঁরা থাকবেন, তাঁরাই বা কী করবেন, তা-ও এখনও পরিষ্কার নয়। ইন্দ্রনীল যেমন বলছেন, “হাঁটতে হাঁটতে সলিল চৌধুরীর ‘পথে এ বার নামো সাথী’টা গাইব।” অরিন্দম শীলের দাবি, “মুখ বন্ধ। হাতে পোস্টার। মৌন মিছিল হবে।” মিছিলের ‘রুট’ নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। গন্তব্য, নন্দন থেকে অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস। শুনে আমন্ত্রিত শিল্পীরাই হাসছেন, এ তো রেকর্ড! কলকাতার সংক্ষিপ্ততম মিছিল। সংগঠকরা বোঝাচ্ছেন, ঘুরিয়ে নাক ধরার মতো নন্দনের ফটক ছেড়ে মিছিল যাবে জওহর শিশু মিউজিয়ামের দিকে। সেখান থেকে বাঁ দিকে ঘুরে তারামণ্ডল হয়ে অ্যাকাডেমির সামনে থামবে। তবু মুখ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া দিনক্ষণ অনুযায়ী, মিছিল শুরু করা যায়নি বলে একটা খচখচানি থাকছেই। মমতা চেয়েছিলেন, মিছিল হবে বুধবার। তবু শুক্রবারের আগে কিছু করা গেল না! এমনিতে মমতা ডাকলেই হাজির হন বিনোদন জগতের কেউকেটারা। যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে টিভি-ফিল্মের চেনা মুখগুলি মমতাকে ঘিরে থাকেন। তারকা-সমাবেশে উচ্ছ্বসিত মমতা সগর্বে ঘোষণা করেন, “দেব আমাদের, শুভশ্রী-ও!” এই মধুচন্দ্রিমার মেজাজ এ বার যেন খানিকটা বেসুরে বাজছে।
ইন্দ্রনীল-অরিন্দমেরা অবশ্য ভরসা দিচ্ছেন, চিন্তার কিছু নেই! মিছিল জমে যাবে। শুধু প্রশ্ন একটাই, মমতা জমানায় সংস্কৃতি আর গণবিনোদনের ফারাক আগেই গুলিয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, প্রতিবাদ আর পদলেহনটাও কি এ বার মিলেমিশে যাবে?
সারদা তদন্তে জালিয়াত তৃণমূলী 'চিত্রকর' শুভাপ্রসন্নর মিথ্যে তথ্য!
সারদা তদন্তে জালিয়াত তৃণমূলী 'চিত্রকর' শুভাপ্রসন্নর মিথ্যে তথ্য!
Saturday, November 22, 2014
তৃণমূল দূস্কৃতিদের তান্ডবে টেবিলের তলায় লুকোল পুলিশ
ধৃত তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ যুবক, চাঁইরা কবে, প্রশ্ন পুলিশেই
নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
২১ নভেম্বর, ২০১৪
এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই ধরা হয় অভিযুক্ত
যোগেশ বোরাকে (ডান দিকে)। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।
পুলিশের ‘সাজানো ঘটনা’ ফাঁস হয়ে গিয়েছিল আগেই। আলিপুর-কাণ্ডে আসলে কী ঘটেছিল, ধামাচাপা দিতে ভুল লোককে গ্রেফতার করে আদালতে ভর্ৎসিত হয়েছিল পুলিশ। এ বার বাহিনীর নিচুতলার চাপে পড়ে মুখরক্ষার চেষ্টা শুরু হয়ে গেল।
আলিপুর থানায় হামলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে যোগেশ বোরা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে সরকারি গাড়ি চালায়। পুলিশ জানাচ্ছে, হামলার সময়ে ঘুষি মেরে যোগেশ আলিপুর থানার জানলার কাচ ভাঙছে বলে থানার সিসি টিভি-র ফুটেজে দেখা গিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে যেখানে গোলমালের সূত্রপাত, আলিপুরের সেই বিধানচন্দ্র কলোনিরই বাসিন্দা যোগেশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল নেতা তথা বিধানচন্দ্র কলোনির সভাপতি প্রতাপ সাহার ‘কাছের লোক’ এই যোগেশ।
প্রতাপ সাহা কিংবা তাঁর ডান হাত মনোজকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। ধরতে পারেনি থানায় হামলা চালানো আইনজীবীর পোশাক পরা তৃণমূলের এক নেত্রীকেও। তবে আলিপুর থানার নিচুতলা বলছে, যোগেশকে গ্রেফতার করায় হামলার ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ পরিষ্কার হয়ে গেল। কিন্তু প্রতাপ সাহা এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? পুলিশের দাবি, হামলার সময়ে প্রতাপ থানায় ছিলেন না। সিসি টিভি ফুটেজে তাঁকে দেখা যায়নি। অন্য কেউই নিজেদের বাড়িতে থাকছেন না। সিসি টিভি-র ফুটেজে উপস্থিত আইনজীবীর পোশাক পরা এক মহিলা ও দশাসই যুবকের ফোন কিন্তু এখনও খোলা রয়েছে। আজ, শুক্রবার ধৃত যোগেশকে আদালতে পেশ করার কথা। পুলিশ জানাচ্ছে, সেই সঙ্গে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ১৪-১৫ জনের কথা আদালতে জানানো হবে। সিসি টিভি-র ফুটেজ ঘেঁটে চিহ্নিত আরও পাঁচ জনের ছবিও বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হবে। (আরও....)
আলিপুর কাণ্ড
ববি-ঘনিষ্ঠকেই কেন থানা হামলার তদন্তভার
নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
১৮ নভেম্বর, ২০১৪
দু’জনে ‘গুরু-ভাই’। এক গুরু-ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত অন্য গুরু-ভাই কী ভাবে করবেন, তা নিয়ে তোলপাড় কলকাতা পুলিশের নিচুতলা।
এক জন আলিপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা প্রতাপ সাহা। অন্য জন আলিপুর থানার ওসি বুদ্ধদেব কুণ্ডু। প্রথম জন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। আর দ্বিতীয় জন পুলিশ মহলে। ১৪ নভেম্বর আলিপুর থানায় তাণ্ডব চালান স্থানীয় বিধানচন্দ্র রায় কলোনির বাসিন্দারা। সেই কলোনি কমিটির সভাপতি প্রতাপ। তাঁর বিরুদ্ধে সে দিন অভিযোগ লেখা না হলেও ওই দিন থানায় উপস্থিতি পুলিশের নিচুতলা জানাচ্ছে, ঘটনার পিছনে প্রতাপেরই উস্কানি রয়েছে। তা হলে এমন গুরু-ভাইয়ের বিরুদ্ধে কী ভাবে তদন্ত করবেন বুদ্ধদেববাবু?
আলিপুর কাণ্ডের পর পুলিশমহলে কয়েকটি ঘটনা পরম্পরায় এই প্রশ্ন আরও উঠছে। হামলা হয় গত শুক্রবার। পরদিনই লালবাজারে পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ করপুরকায়স্থ পদস্থ অফিসারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকে জানতে চান, কী করণীয়। লালবাজার সূত্রের খবর, এক আইপিএস অফিসার স্পষ্ট বলেন, “ওসি-র অপদার্থতার জন্যই এত বড় কাণ্ড ঘটে গিয়েছে। তিনি পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি।” বেশ কয়েক জন আইপিএস-ও তাঁকে সমর্থন করেন।
সোমবার পর্যন্ত ওসি-র কাছে কোনও ব্যাখ্যা তো তলব করেইনি লালবাজার, উল্টে তাঁকেই এই ঘটনা তদন্ত সামলাতে বলা হয়েছে! (আরও....)
আজব (নৈ)রাজ্য
২০ নভেম্বর, ২০১৪, ০০:০৫:০২
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গকে রাজ্য না বলিয়া মূর্তিমান নৈরাজ্য বলাই যুক্তিযুক্ত। আজব নৈরাজ্য। এখানে ধর্ষণকে ‘সাজানো ঘটনা’ আখ্যা দিয়া ধর্ষিতাকে দিব্য অপমান করা হয়। অথচ যাঁহারা সেই অপকর্মটি করেন, তাঁহাদের আচরণ দেখিয়া মনে হয়, তাঁহারা নিয়মিত ঘটনা সাজাইবার কাজেই লিপ্ত। আলিপুরের পুলিশি কুনাট্যকে তেমনই এক সাজানো ঘটনা বলিয়া মনে করিবার প্রভূত কারণ এবং যুক্তি রহিয়াছে। অভিযোগ, থানায় হামলাকারী শাসক-আশ্রিত সমাজবিরোধীদের আড়াল করিতে দশ-পনেরো কিলোমিটার দূর হইতে কিছু গোবেচারা নিরীহ মানুষকে ধরিয়া আনিয়া আদালতে পেশ করা হইয়াছে, তাহার আগে আদালতে মুখ খুলিলে আরও গুরুতর অভিযোগে ফাঁসাইয়া দিবার হুমকি দেওয়া হইয়াছে। বিচারপতিরা ধৃতদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তাহাদের পত্রপাঠ ছাড়িয়া দিলে এই অভিযোগের গুরুত্ব অনুমান করিতে অসুবিধা হয় না। অভিযোগ, থানায় হামলাকারী দলীয় দুষ্কৃৃতীরা থানায় বসিয়াই দারোগার সহিত শলা করিয়া এই কুনাট্যের মহড়া সাজাইয়াছেন, তাঁহারা ক্ষমতাবান ও স্নেহধন্য মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁহাদের কেশাগ্র স্পর্শ করা যায় নাই। থানার ভিতরে ফাইলকে ঢাল করিয়া টেবিলের তলায় আত্মরক্ষা করিতে পুলিশের তত্পরতা ও অতঃপর এই বিচিত্র ‘তদন্ত’ ও ধরপাকড়ের কাহিনির জন্য পুলিশমন্ত্রী স্বর্ণপদক দাবি করিতে পারেন।
এত কাল রাজ্যের জেলায় জেলায় ‘আমরা’র পালন এবং ‘ওরা’র দমন চলিয়া আসিতেছে। দলীয় দুর্বৃত্তদের যথেচ্ছাচার জনসাধারণকে অতিষ্ঠ করিতেছে। খুনি হউক বা ধর্ষক, অভিযুক্ত শাসক দলের হইলে পুলিশ তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগই লইবে না, প্রশাসনের উচ্চ স্তর হইতে ফাঁড়ি অবধি দুষ্কৃতীদের না-ধরার, বরং অভিযোগকারীদেরই ভুয়া মামলায় জড়াইয়া হেনস্থাকরার, কখনও সালিশি সভার আয়োজন করিয়া মিটমাট করিয়া লওয়ার নিদান আসিতেছে। বিরোধী দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাসক দলের মাস্কেট বাহিনীর অভিযান পুলিশি প্রহরা ও ১৪৪ ধারার মধ্যেই সংঘটিত হইতেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের নামে বিরোধী-অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে হানা দিয়া ধরপাকড় ও নির্যাতনও শুরু হইয়াছে, শাসক দলের সমর্থকদের ঘাঁটিগুলিকে নিশ্চিন্তে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার সুযোগ দিয়া। আবার জেহাদি সন্ত্রাসবাদীদের মৌলবাদ ও সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঘাঁটিগুলিও পুলিশের উদাসীন প্রশ্রয়েই রাজ্যের নানা জেলায় শিকড় বিস্তার করিয়াছে। সমগ্র পরিস্থিতি শীর্ষ শাসক রাজনীতিকদের গোচরেই হইতেছে। আইনের শাসন বলিয়া কিছু আর অবশিষ্ট নাই। কারণ যাঁহারা আইনরক্ষক, শাসকাশ্রিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা আক্রান্ত এমনকী নিহত হইলেও তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের স্বাধীনতা তাঁহাদের নাই। সুশাসনের শর্ত পদে পদে লঙ্ঘিত হইতেছে। আদালতের ক্রমাগত তিরস্কার জানাইয়া দেয়, পশ্চিমবঙ্গ কার্যত গোল্লায় গিয়াছে।
আলিপুরের মতো রাজধানী শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভয়াবহ কুনাট্য বলিয়া দিতেছে, এখানে অন্যায়ের প্রতিবিধানের কোনও সম্ভাবনা নাই। নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক আধিপত্য সত্ত্বেও একটি শাসক দল যে এ ভাবে স্বেচ্ছাচারী হইতে পারে, ভাবা কঠিন। ইহাকে বর্গির রাজত্ব বলিলে ভুল হয়। মরাঠা বর্গিরা সুদূর ভিনরাজ্য হইতে লুণ্ঠনের জন্য আসিয়া বাংলায় যে অরাজকতা সৃষ্টি করিয়াছিল, স্বভূমিতেই দুর্বৃত্তদের রাজনীতিতে অভিষিক্ত করিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সেই অনাচার ও মাত্স্যন্যায়, সেই ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করিয়া ফেলিয়াছে। হার্মাদরা এখন আর নেতাদের আজ্ঞাবহ যন্ত্র নয়, এখন হার্মাদরাই যন্ত্রীর ভূমিকায়। তাই দুর্বৃত্তরা পশ্চিমবঙ্গে আর পুলিশকে ভয় পায় না, বরং উচ্চাসনের বরাভয়পুষ্ট দুষ্কৃতীদেরই পুলিশ ভয় করিয়া, সমীহ করিয়া চলে। সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষের অবস্থা অনুমেয়।
আলিপুর মামলা
থানা থেকে আদালত, সর্বত্র পুলিশের লেজে-গোবরে দশা অব্যাহত! তদন্তের নামে আলিপুরের ‘সাজানো ঘটনা’ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আদালতের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। এ বার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ভাবমূর্তির ক্ষত মেরামতিতে নেমেও পুরনো পাপের জন্য বিচারকের কাছে পুলিশকে ফের ভর্ৎসিত হতে হল। তিরস্কারের তোড়ের মুখে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, পুলিশের ভুল হয়েছিল।
আলিপুর থানায় ঠিক এক সপ্তাহ আগেকার তাণ্ডবের ঘটনায় ধৃত যোগেশ বোরাকে শুক্রবার চার দিনের জন্য পুলিশি হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আলিপুর আদালতের মুখ্য বিচারক সঞ্জীব দারুকা। তবে তার আগে কৃতকর্মের জন্য ফের পুলিশের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। গত মঙ্গলবার পাঁচ জনকে ধরে আনলেও আলিপুরের ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কোনও তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেনি পুলিশ। পাঁচ জনকেই জামিনে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। পুলিশের কাছে না ছিল ধৃতদের বিবৃতির কোনও নথি, না ছিল সিসিটিভি-র ফুটেজ। তদন্তের এই দৈন্যদশার জন্য বিচারক এ দিনও পুলিশকে তিরস্কার করেন। (আরও....)
Tuesday, November 4, 2014
Extortion and Violence are TMC identities
সৌজন্যে আনন্দবাজার পত্রিকা
Tuesday, 04 November 2014
মন্ত্রী কড়া বার্তা দিচ্ছেন বারংবার। নেতৃত্ব বদল হচ্ছে। তবু
রোগ সারার লক্ষণ নেই। সোমবার আরও এক বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য তৈরি করে
দিয়ে গেল শাসক দলের ছাত্র সংগঠন।
ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্র নেতারা সব রকম নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল
দেখিয়ে শোরগোল করলেন। স্লোগান দিলেন, বিক্ষোভ দেখালেন। এক সময় হুড়মুড় করে ঢুকে
পড়লেন উপাচার্যের ঘরেও।
অথচ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা ছিল, যখন
তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা ঢুকতে পারবেন না। ছাত্রছাত্রীদের
দাবি-দাওয়া থাকলে কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং শুধুমাত্র পাঁচ সদস্যের
প্রতিনিধিদলই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর কথার
তোয়াক্কা যে অন্তত তাঁর দলের ছাত্র সংগঠন করে না, এ দিন সেটাই আরও এক বার প্রমাণ
হয়ে গেল। পার্থবাবু এ দিন সরাসরিই বলেন, কাজটা ভাল হয়নি।
গত জুলাই মাসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি
শঙ্কুদেব পন্ডার নেতৃত্বে সংগঠনের একটি মিছিল সটান উঠে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের
সিন্ডিকেট রুমের বাইরে। তখন সিন্ডিকেটের বৈঠক চলছিল। সিন্ডিকেটের সদস্যদের ভিতরে
আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দিয়েছিলেন ছাত্র নেতারা। এর পরপরই রাজাবাজার বিজ্ঞান
কলেজে শারীরবিদ্যা বিভাগে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের
বিরুদ্ধে। তখনও ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন
শিক্ষামন্ত্রী। শঙ্কুদেব পন্ডা তখন দাবি করেছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী যা বলেছেন তা
অন্য দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সেই নেতৃত্বে বদল এসেছে। শঙ্কুদেবের
পরিবর্তে এখন সভাপতি হয়েছেন অশোক রুদ্র। কিন্তু সোমবারের ঘটনা দেখাল সংগঠনের
নেতা-কর্মীদের চালচলনে কোনও পরিবর্তন হয়নি। যদিও নতুন সভাপতি নিজে এ দিনের
আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন না।
এ দিন দুপুরের পর থেকে ক্লাস চলাকালীনই কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে জড়ো হচ্ছিলেন আটটি ক্যাম্পাসের ছাত্রনেতা
এবং কয়েকটি হস্টেলের আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন টিএমসিপি নেতা সুজিত
শাম, সৌরভ অধিকারী। ছাত্র নেতাদের সঙ্গেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন ক্রিক রো অঞ্চলের
তৃণমূল নেতা চিনু হাজরা। তবে কিছুক্ষণ পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পুরো দলটি
প্রথমে কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে ঢুকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মিছিল করেন। তার পর
সওয়া তিনটে নাগাদ স্লোগান দিতে দিতে দ্বারভাঙা ভবনের ভিতরে ঢুকে সেনেট হলের বাইরে
বসে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি ক্যাম্পাসেই বিভিন্ন
সমস্যা রয়েছে। গত এক বছর ধরে বারবার বলা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন
না। তাই এ দিন তাঁরা নিজেদের দাবি জানাতে এসেছেন। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে
সাংবাদিক বিভাগের প্রধান পদে এবং অন্যান্য বিভাগের শূন্য পদগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ
করতে হবে। ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন, নিয়মিত বাথরুম সাফাই, কমন রুম সারানো,
হস্টেলে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বিক্ষোভ এবং স্লোগান চলার পর আচমকা
কয়েক জন ছাত্রনেতা উপাচার্যের সেক্রেটারির ঘরে ঢুকে পড়েন এবং পরে উপাচার্যের ঘরেও
চলে যান। সংখ্যায় তাঁরা ছিলেন ১৫ জনেরও বেশি। প্রায় ঘণ্টাখানেক কথাবার্তার পর সাড়ে
৫টা নাগাদ বিক্ষোভকারী দলটি উপাচার্যের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তাঁদের এ হেন আচরণে
শিক্ষামন্ত্রী যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরেও ছাত্র
সংগঠনের এই উচ্ছ্ৃঙ্খল আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। পার্থবাবুর কথায়, “এ দিনের কাজটি
ছাত্রছাত্রীরা ভাল করেনি। এ বার আমি উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ব্যবস্থা নিতে বলব।”
সুরঞ্জনবাবু বরাবর ছাত্রবৎসল বলেই পরিচিত। যাদবপুর
বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী যেমন পুলিশ ডেকে ছাত্রদের মার
খাইয়েছিলেন, সুরঞ্জনবাবু তা কোনও দিনই করেননি। রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে টিএমসিপির
তাণ্ডবের সময় ভীত ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ঘিরে ধরে বলেছিলেন, এমন চলতে থাকলে
অভিভাবকরা আর কলেজে আসতে দেবেন না। উপাচার্য নিজে পরিচয়পত্র দেখে দেখে বহিরাগতদের
আটকে পড়ুয়াদের নিরাপদে কলেজে ঢোকার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সুরঞ্জনবাবু এ দিনও
বলেন, ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে দাবি জানানোর। তাঁদের বেশ কিছু
দাবি ন্যায়সঙ্গতও বটে। তিনি নিজে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবেন। “কিন্তু আগে থেকে
কিছু না জানিয়ে আচমকা এসে যে ভাবে হইচই করে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হলো, সেটা
বাঞ্ছনীয় ছিল না।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন এই অশান্তি চলছে, তখনই বিধানসভায়
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
শান্তিরক্ষার আবেদন নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা। রাজাবাজার
বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষিকা রোশেনারা মিশ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা বর্ধমানের
বিবেকানন্দ কলেজে শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনার কথা জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার
কথাই শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন ওয়েবকুটা নেতৃত্ব। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক
শ্রুতিনাথ প্রহরাজ বলেন, “আমরা লিখিত ভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি, ক্যাম্পাসে
ক্যাম্পাসে যে রকম হিংসা-হানাহানি চলছে, তাতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরাপত্তাহীনতায়
ভুগছেন।” কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই আবহের কথা শিক্ষামন্ত্রী খুব ভালই জানেন। এর
আগে তিনি নিজেই উপাচার্য-অধ্যক্ষদের কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরামর্শ
দিয়েছিলেন। কিন্তু যেখানে শাসক দলের ছাত্রনেতারাই যখন তখন সদলবলে চোখ রাঙিয়ে
যাচ্ছেন, তখন কোনও অধ্যক্ষ বা উপাচার্য একা কী করবেন, সে প্রশ্ন তখনই উঠেছিল। এ
দিনও পার্থবাবু বলেন, “আমি ওঁদের পেশাগত এবং প্রশাসনিক সমস্যার কথা শুনেছি। সমস্যা
সমাধানে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব।”
এবিপি আনন্দ ওয়েব ডেস্ক Tuesday, 04 November 2014
তোলা তুলছেন দলীয় নেতাদের একাংশ। চাঞ্চল্যকর খোলসা তৃণমূলের
পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের। বললেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে
জেলা নেতৃত্ব সবাইকে এবিষয়ে জানানো হয়েছে। যদিও, তৃণমূলের জেলা সভাপতির সাফাই,
তোলাবাজির কোনও অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি।
শিশির অধিকারীর বক্তব্যের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এবার
দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে সরব পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক
তপন চট্টোপাধ্যায়। ১৯ অক্টোবর মন্তেশ্বরে তৃণমূলের কর্মিসভায়, তিনি বলেন, দলের
কিছু নেতা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায় করছে।
দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ থেকে যে তিনি একচুলও
সরেননি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। উল্টে সুর আরও চড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন,
জোর করে চাঁদা আদায়ের নামে কেউ যদি টাকা তোলেন, তাহলে সেটাকে কী বলব?
তৃণমূল বিধায়ক যে মঞ্চ থেকে দলের একাংশ তোলাবাজি করছে বলে
সরব, তখন মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ধমান জেলা গ্রামীণ তৃণমূলের সভাপতি
স্বপন দেবনাথও। মঞ্চে বসে দলীয় বিধায়কের এই চাঞ্চল্যকর খোলসার কথা শুনলেও
এখন তাঁর সাফাই, তোলাবাজির কোনও অভিযোগ এখনও তিনি পাননি।
দলীয় নেতাদের একাংশ তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত বলে দিন কয়েক আগেই
সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীও। কিন্তু, সাংসদ দলের একাংশের
বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে সরব হোন কিংবা বিধায়ক...এখনও পর্যন্ত তৃণমূল শীর্ষ
নেতৃত্ব কোনও কড়া পদক্ষেপ করছে বা কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, এমনটা শোনা
যায়নি। উল্টে, সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেই কাজ সেরেছে দল। যা
বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে হাতিয়ার। তাদের কটাক্ষ, যাঁরাই তোলাবাজির বিরুদ্ধে মুখ
খুলছেন, তাঁদের সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে নিষেধ করে আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা
করছে তৃণমূল।
ক্ষমতার স্বার্থে মমতা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে খেলছে
Saturday, November 1, 2014
Ruling Party Leaders of West Bengal
প্রবন্ধ ২ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
এ আমার জগের মুলুক
কী জগ-টা ছুড়েছিলাম সেই টিচারটার দিকে! ওঃ, অন্য দেশ হলে আমায় অলিম্পিকে নিয়ে যেত! ইভেন্টের নাম ‘জগিং’!
২ নভেম্বর, ২০১৪, ০০:০০:০০
আরে, জনগণের কথায় পার্টি চলে না কি? জনগণ তো গাধা, না না, গাধা নয়, ভেড়ার পাল, মিডিয়ার ছপ্টির ঘায়ে এক বার এ দিক ঝুঁকছে, এক বার ও দিক। খবরকাগজগুলো হেডলাইন করল, তৃণমূল ভাল, সবাই বলবে হ্যঁা হ্যঁা ভাল। আবার শয়তানগুলো চ্যানেলে বলল তৃণমূল খারাপ, পাবলিক মুড়ি খেতে খেতে সিদ্ধান্ত নিল, সত্যিই খুব খারাপ। এদের আবার কেউ ভয় পায়? ভয় পাওয়ায়। ভোটের দিনকতক আগে থেকে র্যান্ডম চড় মারো লাথি ঝাড়ো বন্দুক নিয়ে টেররাইজ করে রাখো, যারা বিরোধী-মাইন্ডেড তাদের ভোট দিতেই দিয়ো না, মারতে মারতে বুথের দশ মাইল দূরে ফেলে এসো, আর এক্সট্রা ত্যান্ডাইম্যান্ডাই দেখলে, গুড়ুম। মিটে গেল। পার্টির সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক হবে চাবুকের সঙ্গে পাছার সম্পর্ক। কথায় কথায় থ্রেট থাকবে, এক দিন চড়াও হব, ব্যস, কাগজে ডেডবডির কালার-ছবি বেরবে। তা না, সেই জনগণের কাছে কী ইমেজ হচ্ছে, এই ভয়ে আমায় ছ’বচ্ছর সাসপেন্ড করে দিল!
কী জগ-টা ছুড়েছিলাম সেই টিচারটার দিকে! ওঃ, অন্য দেশ হলে আমায় অলিম্পিকে নিয়ে যেত! ইভেন্টের নাম ‘জগিং’! তা ছাড়া, বোম না ছুড়ে জাস্ট জগ ছুড়েছি, সেই জন্যে আমার সংযমের বাহাদুরি দে! জগ খুলে জলও তো ছুড়তে পারতাম! তা হলে মেয়েটার কাপড় ভিজে যেত। কী ইজ্জত-লস হত! তা কিন্তু করিনি। মাথা আমার একদম সাফ। আরে, তাজা ছেলে আমি। আমার মধ্যে একটা তেজ সব সময় রাগী ভাতের হাঁড়ির মতো ফুটছে। এরাই তো পৃথিবীকে চেঞ্জ করে! চ্যালেঞ্জ দেখলে লাফিয়ে পড়ে, পাহাড় দেখলে লং জাম্প দেয়, সমুদ্র দেখলে তার মধ্যে চান করতে করতেই বাথরুম সেরে নেয়। এরা কিচ্ছুকে পরোয়া করে না। পাঙ্গা নিতে এলেই হাতের কাছে যা দেখে স্ট্রেট ছুড়ে মারে। পেপারওয়েট থাকলে ছুড়ব, জগ তো তা-ই সই, কিছু না পেলে একটা টিচারকেই তুলে আর একটা টিচারের দিকে ছুড়ে মারব। এরা ভীম ভাসমান মাইন। ছোটা ভীম নয় কিন্তু।
আগুন নিয়ে খেলা করা এই সব পাবলিকই পার্টিকে জেতায় আর ক্ষমতায় রাখে। সমস্ত পার্টির গুন্ডা থাকে। যে পার্টির গুন্ডা যত নিপুণ নিষ্ঠুর নিরক্ষর, সে পার্টির জোর তত বেশি। কত ন্যাকা লোক খবরকাগজে কী সব হাবিজাবি অ্যনালিসিস করে, কোন দল কেন জিতল। আরে ভাই, কংগ্রেসের আগে ভাল ভাল গুন্ডা ছিল, তার চেয়ে সিপিএমের গুন্ডা বেটার হয়ে গেল, তো ওরা জিতে গেল। তার পর তৃণমূলের গুন্ডা আরও ভাল হল, আমরা জিতে গেলাম। এই তো ব্যাপার। এতে ভাবার কী আছে? অ্যাকচুয়ালি, ভাবাভাবি যত বেশি হবে, জীবনে তত বখেড়া। আরে, পুলিশকে পেটাবার সময়ও আমি আগুপাছু কিচ্ছু ভাবিনি। পড়াশোনা করিনি তো, তাই আমার মাথায় কোনও বাড়তি বস্তা নেই। ফাঁকা খুলিতে চড়াত্ চড়াত্ ইলেকট্রিক খেলছে। যারা আমার মতো হতে চায়, আমাকে পুজো করে, তাদের প্রতি আমার উপদেশ: বেশি ভেবে সময় নষ্ট কোরো না। কাজ করো। মানে, যার ওপর খার উঠবে, সটান মেরে দাও। থানায় ঢুকে আমি তাণ্ডব করেছি। আবার শত্রু-দলের একটা লোক, গলায় গামছা দিয়ে হাঁটে, তাকেও বেধড়ক্কা মেরেছি। ইশকুলে ঢুকে অর্ডার দিয়েছি, পরীক্ষা দিচ্ছে যে ফুলের মতো ছেলেমেয়েগুলো, তাদের টুকলি করতে দিন। তবে তো ওরা আমার মতো হয়ে উঠবে। শেষে কি পড়ায় মন দিয়ে আসল কাজগুলো নেগলেক্ট হবে? আসল কাজ কী? শের হওয়া। শের। গিধ্ধড় নয়। তুমি যেখান দিয়ে হাঁটবে, লোকে সেলাম ঠুকে রাস্তা ছেড়ে পাঁইপাঁই সরে যাবে, থরথরিয়ে কাঁপবে। সে অন্য দলের হোক, আর নিজের দলের। মারামারির সময় কোনও আমরা-ওরা ভেদাভেদ রেখো না। ছিঃ। ভেদ করতে নেই। নিজের দলের লোক ঝামেলি করলে, তাকেও জানে মেরে দেবে। আমার হাতেপায়ে আপনিই এ সব ডিপ থট এসে যায়, তাই তো আমি দামাল। ইংরিজিতে বলে the মাল!
জানি, এই সাহস দেখে বহুত লোকের চোখ টাটায়। হবেই, এটা তো বাঙালি জাতের ল্যান্ড। আর এই জাতটা ম্যাদামারা। সারা দিন শুধু ভয় খায় আর মেয়েছেলের মতো গান গায়। সেখানে এই রকম একটা দাপুটে সিংহম্ হাঁটছে দেখলে, তার পায়ের স্টেপে হুগলি ব্রিজ অবধি কেঁপে ওঠে, কিউবিক্লের ভেতর ক্যাবলাদের হাঁটু লড়বড় করে। আর আছে কয়েকটা শেয়াল পণ্ডিত, সারা দিন পিনপিন প্যানপ্যান করে আঁতেল বক্তিমে মারে, শালাদের কব্জিগুলো সরু আর চেহারা সিড়িঙ্গে, মদমাংস দেখলে পালায় আর বাড়ি থেকে টিপিনকারি খুলে ঢ্যঁাড়সের ঝোল খায়, আর হাত নেড়ে নেড়ে শক্ত বাংলা ওয়ার্ড বলে। এই গরমকালে মাফলার জড়ানো ব্যাটারাই যত আলফাল আইডিয়া ঢোকাচ্ছে পার্টির মগজে। আরে, একটা মারমুখো থাবা-রেডি মেম্বার থাকলে লোকে সেই দলকে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করে রে! বিজেপি এখন সারা বাংলায় কন্ট্রোল নিতে চাইছে, আমি আছি জানলে ওরা কোথাও ঢোকার আগে দশ বার ভাববে। আমাকে সাসপেন্ড করে কার পিঠ-চাপড়ানি পাবি? বড়জোর বিরোধী দলগুলোর, যারা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে, সচিন তেন্ডুলকরকে ড্রেসিং রুমে রেখে এই বোকা দলটা খেলতে নামছে বলে।
আবার ছ’বছর! রাম তবু চোদ্দো বছর বনবাসে ছিল, তার একটা ওয়েট আছে, ডবল ফিগার। ছ’বছরটা কোত্থেকে এল? আমি থোড়াই অদ্দিন বসে থাকব! অন্য পার্টি জয়েন, বা ফ্রিল্যান্সও করতে পারি। মোটা ফি নিয়ে এমন ভাঙচুর, বৈদিক যুগের রুইন! আবার কে বলতে পারে, আমার কাঁদোকাঁদো ক্ষমাচিঠি (ট্যাকটিক্স, বস) দেখে লিডাররা অ্যায়সা ফোঁপাল, ফের বহাল হয়ে গেলাম। সেই ঘোটালায় কেউ সাহস করে আসলি কোশ্চেনও বাগিয়ে ফেলতে পারে: আমাকে বাদ দিলে, পার্টি ছ’বচ্ছর টিকবে তো?
লেখাটির সঙ্গে বাস্তব চরিত্র বা ঘটনার মিল থাকলে তা নিতান্ত অনিচ্ছাকৃত, কাকতালীয়
**************
সম্পাদকীয় ২ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
দেখিয়া যেমন মনে হয়, অনেক কিছুই আসলে তেমন নহে। যুগযুগান্তর ধরিয়া মানুষ এই সতর্কবাণী শুনিয়াছে এবং ভুলিয়াছে। অথচ বাহিরের চাকচিক্য অথবা আস্ফালনে বিভ্রান্ত না হইয়া মন দিয়া দেখিলে এবং বিচার করিলেই মলাট খুলিয়া সত্য প্রকাশ হয়। যেমন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁহার চালচলন দর্শন করিলে এবং কথাবার্তা শ্রবণ করিলে এই বিশ্বাস জন্মাইতে বাধ্য যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুল্য প্রবল নেতা নরেন্দ্র মোদীর ভারতেও খুব বেশি নাই। অধুনা নানাবিধ কারণে দীপ্তিরাশিতে কিঞ্চিৎ ছায়া ঘনাইতেছে বটে, তবু শাহরুখ-সম্ভাষণ হইতে কপিলমুনি-বন্দনা— কী দাপট! কিন্তু দাপট দেখাইলেই নেত্রী হওয়া যায় না। নেতা বা নেত্রীর কাজ কী, নেতৃ শব্দেই তাহার স্পষ্ট নির্দেশ আছে। শব্দটি ‘নী’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন। নী অর্থ নয়ন করা অর্থাৎ লইয়া যাওয়া। নেতৃ তিনিই, যিনি অন্যদের পথ দেখাইয়া লইয়া যান।
কাজটি বড় সহজ নহে। বহুজন যে পথে চলিতে চাহে, সচরাচর তাহা আলস্যের পথ, হঠকারিতার পথ, সস্তায় বাজিমাত করিবার পথ, আপন কর্তব্য পালন না করিয়া যাবতীয় অধিকার ভোগ করিবার পথ। যিনি যথার্থ নেতা, তাঁহার কাজ এই কুপথ হইতে মানুষকে নিরস্ত করা এবং তাহাদের পরিশ্রমের পথে, নীতির পথে, কর্তব্যপালনের পথে (আ)নয়ন করা। কাজটি কঠিন। প্রথমত, এ কাজ করিতে চাহিলে সর্বাগ্রে নিজেকে প্রস্তুত করিতে হয়। দ্বিতীয়ত, বহু মানুষকে এই পথে আনিবার জন্য ধৈর্য এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়, অনেক সময়েই জনমনোরঞ্জনের বিপরীতে হাঁটিতে হয়, এমনকী বহু মানুষের— আপন অনুগামীদেরও— অসন্তোষ উৎপাদন করিতে হয়। নেতৃত্বের সরণি কুসুমাস্তীর্ণ নহে, মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী বা নেলসন ম্যান্ডেলারা তাহা বিলক্ষণ জানিতেন। মানুষ কী চাহিতেছে, সেই অনুসারে আপন পথ স্থির করা নেতা বা নেত্রীর কাজ নহে, মানুষের কী চাওয়া উচিত, তাহা দেখাইয়া দেওয়াই তাঁহার কাজ।
নেতৃত্বের এই প্রাথমিক শর্ত পূরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ। তিনি জনসাধারণকে পথ দেখান না, জনসাধারণ যে পথে চলিতে চাহেন তিনি সেই পথে চলেন। তাঁহার জনপ্রিয়তা অবিরত জনমনোরঞ্জনের ফসল। সিঙ্গুরের আন্দোলন হইতে শুরু করিয়া টলিউড-বলিউড-টেলিউড ভজনা, বিষাক্ত চোলাই মদে মৃতদের জন্য ক্ষতিপূরণ হইতে ‘বাসভাড়া বাড়ানো চলিবে না’, সর্বক্ষেত্রেই তিনি জনতার মন ভুলাইয়া জনসমর্থন সংগ্রহ করেন। বস্তুত, তাঁহার নীতি কী, ‘এজেন্ডা’ কী, কখনওই জানা যায় নাই, কারণ তাঁহার ওই সব বস্তুর কিছুমাত্র প্রয়োজন নাই, আমজনতা যাহা চাহে বলিয়া তিনি মনে করেন, উহাই তাঁহার নীতি, তাঁহার এজেন্ডা। জনপ্রিয়তার এই নিরন্তর সন্ধানেই মুখ্যমন্ত্রী ক্রমাগত রাজ্য সরকারের ছুটির তালিকা বাড়াইয়া চলিয়াছেন। ২০১১ হইতে ২০১৫, চার বছরে সরকারি ছুটির সংখ্যা বছরে ২৭ হইতে বাড়িয়া ৩২ হইতেছে, আগামী বছর দুর্গাপূজায় টানা এগারো দিন, কালীপূজা-দেওয়ালিতে টানা ছয় দিন সরকারি কাজ বন্ধ থাকিবে। ছুটিপ্রিয় বঙ্গবাসী তাঁহার উপর পরম প্রীত হইবেন। প্রীতি হইতে ভোট আসে, ভোট আসিলে রাজ্যপাট দীর্ঘায়িত হয়। আরও কিছু সময় হাতে পাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই ক্যালেন্ডারের বাকি তারিখগুলিকেও লাল কালিতে রাঙাইয়া দিতে সক্ষম হইবেন। নেতৃত্বের রক্তিমা সম্পূর্ণ হইবে।
আরও -
নৈতিকতার দায়
West Bengal Police - became partisan and inept under Mamta Administration!
সন্তোষপুর
আক্রান্ত পুলিশ, অভিযুক্ত শাসক দলের কাউন্সিলর
নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
২৯ অক্টোবর, ২০১৪,
সেই সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি।
এ বার খাস কলকাতাতেই আক্রান্ত হল পুলিশ। এক দিনের ব্যবধানে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহরে দু’বার আক্রমণের মুখে পড়তে হল তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে যাদবপুরের সন্তোষপুরে এবং রবিবার রাতে লেক এলাকার গোবিন্দপুর কলোনিতে এই দু’টি ঘটনায় মোট চার জন পুলিশকর্মী জখম হন। সন্তোষপুরের ঘটনায় পুলিশের উপরে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কর্তব্যরত এক সার্জেন্টের সঙ্গে বচসার জেরে তাঁর উপর চড়াও হন তিনি।
সন্তোষপুরের লেকপল্লিতে ঘটনার সূত্রপাত এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুর একটা নাগাদ এক ট্যাক্সিচালক সন্তোষপুরের রাস্তায় নো-পার্কিং জোনে ট্যাক্সি দাঁড় করালে কর্তব্যরত সার্জেন্ট মানবেন্দ্র বিশ্বাস তাঁকে ‘কেস’ দিতে যান। ট্যাক্সিচালক তখন ওই সার্জেন্টকে কোনও ‘কেস’ না দিয়ে ‘স্পট ফাইন’ করার অনুরোধ করেন। অনুরোধ মেনে তাঁকে জরিমানা করেন সার্জেন্ট।
পুলিশের একাংশের অভিযোগ, ওই সময়ে ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। ট্যাক্সিচালককে কেস দেওয়া নিয়ে মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গে বচসা বাধে তাঁর। মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গী আর এক সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি সেই সময়ে মোবাইলে ওই বচসার ছবি তুলতে গেলে সঞ্জয়বাবু ও তাঁর সহযোগীরা মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁর উপরে চড়াও হন বলে অভিযোগ। তখনই ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান সুকান্তবাবু। পুলিশ সূত্রে খবর, সুকান্তবাবুকে বাঘা যতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বুকে এবং মাথায় চোট লেগেছে বলে চিকিৎসকেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওই দুই সার্জেন্টের কেউই সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে সার্ভে পার্ক থানায় ওই কাউন্সিলর এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মানবেন্দ্রবাবু। তার ভিত্তিতে সরকারি কর্মীর কাজে বাধাদান, তাঁর উপরে হামলা চালানো, হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রাতে লালবাজারের এক কর্তা বলেন, “ওই সার্জেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।” তবে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কথা প্রথমে চেপে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার ছ’ঘণ্টারও বেশি সময় পরে এ নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর সঞ্জয়বাবুর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বেজে যায়। এসএমএসেরও জবাব মেলেনি।
অন্য দিকে, রবিবার রাতে কালীপ্রতিমা বিসর্জনের সময়ে বাজি ফাটানো নিয়ে দুই ক্লাবের সংঘর্ষ হয়। তা আটকাতে গিয়ে মার খায় পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, তাদের লক্ষ করে ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। এতে জখম হন তিন পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে লেক থানার গোবিন্দপুর লেনে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই রাতে বিসর্জন সেরে এলাকায় ফিরছিলেন স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যেরা। মাঝরাস্তায় যোধপুর পার্কের একটি ক্লাবের শোভাযাত্রার মুখোমুখি হন তাঁরা। পুলিশ জানায়, যোধপুর পার্কের ওই ক্লাবটির সদস্যেরা অন্য ক্লাবটির সদস্যদের লক্ষ করে বাজি ছোড়ে। এর জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লেক থানার চার পুলিশকর্মীর একটি দল। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করেও ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী জখম হন। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ নিগ্রহ: কেউ সাজা পায় কেউ পায় না
নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
৩০ অক্টোবর, ২০১৪,
একই আইন এবং একই অভিযোগ। অথচ, দুই ক্ষেত্রে আইনের পৃথক ফল।
মঙ্গলবার সকালে সার্ভে পার্কে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আক্রান্ত হয়েছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট। সার্ভে পার্কের ঘটনায় রাতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আইনের ভিন্নতা দেখা গেল এই ঘটনার ১১ ঘণ্টা পরে। পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দুই পুলিশকর্মীকে মারধর করেন এক ব্যক্তি। আর এই ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ধৃতের নাম নিরঞ্জন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে মত্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি।
কিন্তু একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন আইন কেন? এই নিয়ে বুধবার যুগ্ম কমিশনার (সদর) রাজীব মিশ্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ফৌজদারি আইনে সব সময়ে গ্রেফতার বাধ্যতামূলক নয়। ঘটনার পরিস্থিতি বিচার করে গ্রেফতার করা হয়। এই ক্ষেত্রে তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ নিয়ম ভাঙার অভিযোগে এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন পূর্ব যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট। সন্তোষপুর এলাকার লেকপল্লিতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের উপরে আক্রমণের সময়ে ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি জখম হন। তাঁর বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবেন্দ্র বিশ্বাস নামে আর এক সার্জেন্টের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহলে কেউ কিছু বলতে না চাইলেও পরে রাতের দিকে তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অথচ সেই ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়নি।
কী ঘটেছে হরিদেবপুরে? পুলিশ জানায়, ওই রাতে নিরঞ্জনবাবু হরিদেবপুর থানার এক কনস্টেবলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে আসেন আরএফএসের কয়েক জন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী। মত্ত অবস্থার নিরঞ্জনবাবুর সঙ্গে তাঁরাও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর পরেই মত্ত ওই ব্যক্তি আচমকা তাঁদের মারধর করতে শুরু করেন। ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই পুলিশকে মারধরের অভিযোগে নিরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি ঘটনাতেই কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উপরে হামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে হুমকি (৫০৬), ৫০ টাকা মূল্যের বেশি সম্পত্তি ধ্বংস (৪২৭) এবং সমবেত হামলার (৩৪) ধারাগুলি। পুলিশ জানিয়েছে, আইনের অন্য ধারাগুলি জামিনযোগ্য অপরাধ হলেও ৩৫৩ ধারাটি জামিন-অযোগ্য। এই ধারায় অভিযুক্তের দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দু’টো সাজাই হতে পারে। অথচ অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার তো দূর অস্ত্, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। দুই ক্ষেত্রে দু’রকমের ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত এক জন তৃণমূল কাউন্সিলর হওয়ার কারণেই এমন ঘটেছে। তাঁকে গ্রেফতার করতে হলে উপরমহল থেকে অনুমতির প্রয়োজন।
Subscribe to:
Posts (Atom)

