Showing posts with label corruption. Show all posts
Showing posts with label corruption. Show all posts

Wednesday, November 26, 2014

এবার মমতার অর্থমন্ত্রী নিয়ম ভেঙে বরাত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন! কত কাটমানি?

নিয়ম ভাঙতে বললেন অমিত,নির্দেশ উড়িয়ে বিদ্রোহী আমলা

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪




2

অমিত মিত্র এবং কৃষ্ণ গুপ্ত।

পছন্দের সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দিতে হবে। তাই অর্থবিধির ব্যাপারে ‘নমনীয়’ হওয়ার জন্য অধীনস্থ এক আমলাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। কিন্তু সেই আমলা দৃঢ় ভাবে আপত্তি করায় মুখ পুড়েছে অমিতবাবুর। নবান্ন সূত্রের খবর, নিজের অফিসারেরই কাছে ধাক্কা খেয়ে শেষে নিয়ম মেনে ফের দরপত্র চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তিনি কৃষ্ণ গুপ্ত। শিল্পোন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের কোন অনিয়ম আটকালেন কৃষ্ণবাবু?
সরকারি উদ্যোগে আগামী ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি কলকাতায় বসছে ‘গ্লোবাল বেঙ্গল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’, বেঙ্গল লিডস-এর আসর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বিশ্ব বাংলা সম্মেলন’। আগে তিন বার নিষ্ফলা চেষ্টার পরে এটি মমতার চতুর্থ শিল্প সম্মেলন। এ বারের সম্মেলনস্থল রাজারহাটের প্রকৃতি তীর্থ, সল্টলেকের হেলিপ্যাড ময়দান ও বাইপাসের এক পাঁচতারা হোটেল।
এই সম্মেলনের জন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা বাছাই করতে গত মাসের মাঝামাঝি বিজ্ঞাপন দিয়ে দরপত্র চায় রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম। নিগম সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে তিনটি সংস্থাকে বাছাই করা হয়। তিন দিনের সম্মেলন আয়োজন এবং প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি-অতিথির থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ৮০ লক্ষ টাকা দর দেয় কলকাতার একটি সংস্থা। এটাই সর্বনিম্ন দরপত্র। বাকি দু’টি সংস্থা এর তিন এবং চার গুণ দর দিয়েছিল।
নিগমের খবর, অর্থবিধি অনুযায়ী সর্বনিম্ন দর দেওয়া সংস্থাকেই বরাত দেওয়ার কথা। ফলে কলকাতার ওই সংস্থার নামই চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এই বাছাইয়ে সায় ছিল না নবান্নের শীর্ষ মহলের। তারা ওই সংস্থার উপরে চাপ দিতে শুরু করে। নিগমের এক কর্তার কথায়, “পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, বরাত পেয়েও কাজ করবে না বলে জানায় সংস্থাটি।” ওই সংস্থার কোনও কর্তা অবশ্য এ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
বরাত পাওয়া সংস্থাটি সরে দাঁড়ানোর পরে প্রাথমিক ভাবে বাছাই হওয়া দু’টি সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা সর্বনিম্ন দরে কাজ করতে রাজি কি না। কিন্তু কোনও সংস্থাই সাড়া দেয়নি।
তখন আসরে নামেন অমিতবাবু। নিগমের কর্তাদের ডেকে পাঠিয়ে তিনি নির্দেশের সুরে অনুরোধ করেন, ‘আপনারা নিয়মে আটকে না-থেকে একটু নমনীয় হোন।’ যে সংস্থাটি তিন কোটি টাকা, অর্থাৎ সর্বোচ্চ দর দিয়েছে, তাদেরই কাজটা দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।
অমিতবাবুর পরামর্শের পিছনে যে সম্ভবত খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে, তা বুঝতে বাকি ছিল না নিগমের কর্তাদের। কেননা, মুম্বইয়ের শিল্প সম্মেলনে মুকেশ অম্বানীকে হাজির করতে পারার পরে মমতার খাতায় অমিতবাবুর নম্বর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তাঁকে শিল্প দফতরেরও ভার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় পার্থবাবু বা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো দুঁদে রাজনৈতিক নেতারা থাকলেও কাজকর্মের জন্য এই ‘কর্পোরেট’ মন্ত্রীর উপরেই বেশি নির্ভর করেন তিনি। আর বিশ্ব বাংলা সম্মেলন তো একান্ত ভাবে মমতারই মস্তিষ্কপ্রসূত।
এত কিছু জেনেও অমিতবাবুর পরামর্শ সপাটে ফিরিয়ে দেন কৃষ্ণ গুপ্ত। তিনি অর্থমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন, নিয়ম মোতাবেক কোনও কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সে কাজ অন্তত তিনি করতে পারবেন না। বরাত পাওয়া সংস্থা যখন কাজ করতে চাইছে না এবং বাছাই করা দু’টি সংস্থার কেউই ওই দরে কাজ করতে রাজি নয়, তখন নতুন করে দরপত্র চাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
নিগমের খবর, কৃষ্ণ গুপ্তর কাছ থেকে মুখের উপর জবাব পেয়ে আর কথা বাড়াননি অর্থমন্ত্রী। দরপত্রের ফাইলটা তিনি নিজের কাছেই রেখে দেন। এবং শেষমেশ নিয়ম মেনে টেন্ডারটাই বাতিল করে দিতে বাধ্য হন অমিতবাবু। নবান্নের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “গাল বাড়িয়ে থাপ্পড় খাওয়া বোধহয় একেই বলে।” এ বার নতুন করে দরপত্র চেয়ে ফের সংস্থা বাছাইয়ের কাজ শুরু হবে বলে নবান্নের খবর।
এই নিয়ে অর্থমন্ত্রী যথারীতি ফোন ধরেননি। এসএমএসের জবাব দেননি। কৃষ্ণ গুপ্তও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী কাজ করলে নিগম কর্তাদের চাকরি যেত। জবাবদিহি করতে হতো সিএজি-র কাছেও।
অভিযোগ, অর্থমন্ত্রী যে সংস্থাকে শিল্পোন্নয়ন নিগমের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সওয়াল করেছিলেন, সেই একই সংস্থাকে নিয়ম ভেঙে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের কাজ পাইয়ে দিতে চেয়েছিল নবান্নের শীর্ষ মহল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই দফতরের দায়িত্বে। আর এ ক্ষেত্রেও বাধা আর এক আমলা। তথ্য-সংস্কৃতি সচিব অত্রি ভট্টাচার্য।
সরকারি কাজের প্রচার চালানোর পরিকল্পনা তৈরির জন্য লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী, গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে মাথায় রেখে একটি কমিটি গড়েছেন মমতা। তাতে রাখা হয়েছে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকেও। যাঁর হাতে থাকা লেক মলকে নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে কর ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কলকাতা পুরসভা। যাঁর সংস্থায় কর ফাঁকি ধরার জন্য অভিযান চালিয়েও নবান্নের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মাঝ পথে ফিরে আসতে হয়েছিল অর্থ দফতরের আধিকারিকদের। প্রচার-সংস্থাবাছাইয়ের জন্য যে টেন্ডার কমিটি গড়েছেন মমতা, তাতেও আছেন ইন্দ্রনীল এবং শ্রীকান্ত। নজিরবিহীন ভাবে এই দুই কমিটিতেই তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের কর্তারা রয়েছেন এঁদের অধীনে। 
দফতর সূত্রে খবর, প্রচার-সংস্থা বাছাইয়ের জন্য টেন্ডার কমিটি দরপত্র খোলার আগেই ওই বিশেষ সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দিতে নবান্নের শীর্ষ মহল থেকে চাপ দেওয়া শুরু হয়। এটা জানতে পেরে বেঁকে বসেন অত্রিবাবু। দরপত্রে প্রচার কাজের বিবরণ এবং লক্ষ্য ঠিক ভাবে বলা নেই এই কারণ দেখিয়ে গত ১৬ নভেম্বর দরপত্র বাতিল করে দেন তিনি। এ জন্য অত্রিবাবুর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অনেকে নালিশ করেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। অত্রিবাবু কিন্তু অনড়। তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, পুরনো দরপত্র তো বাতিল করা হয়েছেই, নির্দিষ্ট ভাবে নিয়ম-নীতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে দরপত্র চেয়ে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হবে না।
টেন্ডার কমিটির চেয়ারম্যান ইন্দ্রনীল সেনের অবশ্য দাবি, “আমি কমিটির বৈঠকে যাইনি, কোথাও সই-ও করিনি। ফলে কী হয়েছে বলতে পারব না।” কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যান হয়েও তিনি কিছু জানেন না কেন? ইন্দ্রনীলের জবাব, “কী ভাবে প্রচার-সংস্থা বাছাই হবে, তার মধ্যে আমি থাকতে চাই না। কমিটির বাকি সদস্যরাই এই কাজ করবেন।”
অনেকের মতে, বাকি সদস্য বলতে শ্রীকান্তকে বোঝাতে চেয়েছেন ইন্দ্রনীল। শ্রীকান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসের জবাব দেননি। 
আর যাঁকে ঘিরে এই চাঞ্চল্য, সেই অত্রিবাবুর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “সব ঠিকই চলছে।” অত্রিবাবুর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন বিচারপতি, বাবা ডেপুটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল। এ হেন পারিবারিক ঐতিহ্যের মানুষকে চাপ দিয়ে নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করানো যাবে না। সে জন্য যদি তাঁকে স্টেট গেজেটিয়ারের সম্পাদক পদে বদলি করা হয় তাতেও তাঁর আপত্তি নেই।
তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের এক অফিসার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর মর্জি মেনে কাজ করতে আপত্তি করায় বছর দেড়েক আগে তৎকালীন তথ্য-সংস্কৃতি সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে স্টেট গেজেটিয়ারের সম্পাদক পদে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় গোড়ার দিকে তাঁকে সরকারি গাড়ি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এখন তিনি সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের সচিব। নবান্নের শীর্ষ মহলের ইচ্ছার বিরোধিতা করার জের হিসেবে অত্রিবাবুকেও তথ্যসচিবের পদ থেকে সরানো হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন।
নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অত্রিবাবুর সঙ্গে সরকারের শীর্ষ মহলের খিটিমিটি চলছিল। যেমন, এখন সরকারি বিজ্ঞাপন বানায় একটি বেসরকারি সংস্থা। কোন সংবাদমাধ্যমে কী ভাবে বিজ্ঞাপন যাবে তাও ঠিক করে ওই সংস্থাই। অথচ এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশনামা নেই। এ নিয়েই অত্রিবাবু নানা ভাবে সরকারকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। বরং উষ্মা বেড়েছে শীর্ষ মহলের।

মমতা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে রাজস্ব ক্ষতি করে বেআইনি ভাবে লেক মলের বরাত পাইয়ে দেওয়া হল

Saturday, November 22, 2014

তৃণমূল দূস্কৃতিদের তান্ডবে টেবিলের তলায় লুকোল পুলিশ


ধৃত তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ যুবক, চাঁইরা কবে, প্রশ্ন পুলিশেই

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২১ নভেম্বর, ২০১৪


1

এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই ধরা হয় অভিযুক্ত 

যোগেশ বোরাকে (ডান দিকে)। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

পুলিশের ‘সাজানো ঘটনা’ ফাঁস হয়ে গিয়েছিল আগেই। আলিপুর-কাণ্ডে আসলে কী ঘটেছিল, ধামাচাপা দিতে ভুল লোককে গ্রেফতার করে আদালতে ভর্ৎসিত হয়েছিল পুলিশ। এ বার বাহিনীর নিচুতলার চাপে পড়ে মুখরক্ষার চেষ্টা শুরু হয়ে গেল।
আলিপুর থানায় হামলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে যোগেশ বোরা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে সরকারি গাড়ি চালায়। পুলিশ জানাচ্ছে, হামলার সময়ে ঘুষি মেরে যোগেশ আলিপুর থানার জানলার কাচ ভাঙছে বলে থানার সিসি টিভি-র ফুটেজে দেখা গিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে যেখানে গোলমালের সূত্রপাত, আলিপুরের সেই বিধানচন্দ্র কলোনিরই বাসিন্দা যোগেশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল নেতা তথা বিধানচন্দ্র কলোনির সভাপতি প্রতাপ সাহার ‘কাছের লোক’ এই যোগেশ।
প্রতাপ সাহা কিংবা তাঁর ডান হাত মনোজকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। ধরতে পারেনি থানায় হামলা চালানো আইনজীবীর পোশাক পরা তৃণমূলের এক নেত্রীকেও। তবে আলিপুর থানার নিচুতলা বলছে, যোগেশকে গ্রেফতার করায় হামলার ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ পরিষ্কার হয়ে গেল। কিন্তু প্রতাপ সাহা এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? পুলিশের দাবি, হামলার সময়ে প্রতাপ থানায় ছিলেন না। সিসি টিভি ফুটেজে তাঁকে দেখা যায়নি। অন্য কেউই নিজেদের বাড়িতে থাকছেন না। সিসি টিভি-র ফুটেজে উপস্থিত আইনজীবীর পোশাক পরা এক মহিলা ও দশাসই যুবকের ফোন কিন্তু এখনও খোলা রয়েছে। আজ, শুক্রবার ধৃত যোগেশকে আদালতে পেশ করার কথা। পুলিশ জানাচ্ছে, সেই সঙ্গে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ১৪-১৫ জনের কথা আদালতে জানানো হবে। সিসি টিভি-র ফুটেজ ঘেঁটে চিহ্নিত আরও পাঁচ জনের ছবিও বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হবে। (আরও....)


আলিপুর কাণ্ড

ববি-ঘনিষ্ঠকেই কেন থানা হামলার তদন্তভার

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

১৮ নভেম্বর, ২০১৪

দু’জনে ‘গুরু-ভাই’। এক গুরু-ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত অন্য গুরু-ভাই কী ভাবে করবেন, তা নিয়ে তোলপাড় কলকাতা পুলিশের নিচুতলা।
এক জন আলিপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা প্রতাপ সাহা। অন্য জন আলিপুর থানার ওসি বুদ্ধদেব কুণ্ডু। প্রথম জন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। আর দ্বিতীয় জন পুলিশ মহলে। ১৪ নভেম্বর আলিপুর থানায় তাণ্ডব চালান স্থানীয় বিধানচন্দ্র রায় কলোনির বাসিন্দারা। সেই কলোনি কমিটির সভাপতি প্রতাপ। তাঁর বিরুদ্ধে সে দিন অভিযোগ লেখা না হলেও ওই দিন থানায় উপস্থিতি পুলিশের নিচুতলা জানাচ্ছে, ঘটনার পিছনে প্রতাপেরই উস্কানি রয়েছে। তা হলে এমন গুরু-ভাইয়ের বিরুদ্ধে কী ভাবে তদন্ত করবেন বুদ্ধদেববাবু?
আলিপুর কাণ্ডের পর পুলিশমহলে কয়েকটি ঘটনা পরম্পরায় এই প্রশ্ন আরও উঠছে। হামলা হয় গত শুক্রবার। পরদিনই লালবাজারে পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ করপুরকায়স্থ পদস্থ অফিসারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকে জানতে চান, কী করণীয়। লালবাজার সূত্রের খবর, এক আইপিএস অফিসার স্পষ্ট বলেন, “ওসি-র অপদার্থতার জন্যই এত বড় কাণ্ড ঘটে গিয়েছে। তিনি পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি।” বেশ কয়েক জন আইপিএস-ও তাঁকে সমর্থন করেন।
সোমবার পর্যন্ত ওসি-র কাছে কোনও ব্যাখ্যা তো তলব করেইনি লালবাজার, উল্টে তাঁকেই এই ঘটনা তদন্ত সামলাতে বলা হয়েছে! (আরও....)


সম্পাদকীয় ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
আজব (নৈ)রাজ্য
২০ নভেম্বর, ২০১৪, ০০:০৫:০২

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গকে রাজ্য না বলিয়া মূর্তিমান নৈরাজ্য বলাই যুক্তিযুক্ত। আজব নৈরাজ্য। এখানে ধর্ষণকে ‘সাজানো ঘটনা’ আখ্যা দিয়া ধর্ষিতাকে দিব্য অপমান করা হয়। অথচ যাঁহারা সেই অপকর্মটি করেন, তাঁহাদের আচরণ দেখিয়া মনে হয়, তাঁহারা নিয়মিত ঘটনা সাজাইবার কাজেই লিপ্ত। আলিপুরের পুলিশি কুনাট্যকে তেমনই এক সাজানো ঘটনা বলিয়া মনে করিবার প্রভূত কারণ এবং যুক্তি রহিয়াছে। অভিযোগ, থানায় হামলাকারী শাসক-আশ্রিত সমাজবিরোধীদের আড়াল করিতে দশ-পনেরো কিলোমিটার দূর হইতে কিছু গোবেচারা নিরীহ মানুষকে ধরিয়া আনিয়া আদালতে পেশ করা হইয়াছে, তাহার আগে আদালতে মুখ খুলিলে আরও গুরুতর অভিযোগে ফাঁসাইয়া দিবার হুমকি দেওয়া হইয়াছে। বিচারপতিরা ধৃতদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তাহাদের পত্রপাঠ ছাড়িয়া দিলে এই অভিযোগের গুরুত্ব অনুমান করিতে অসুবিধা হয় না। অভিযোগ, থানায় হামলাকারী দলীয় দুষ্কৃৃতীরা থানায় বসিয়াই দারোগার সহিত শলা করিয়া এই কুনাট্যের মহড়া সাজাইয়াছেন, তাঁহারা ক্ষমতাবান ও স্নেহধন্য মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁহাদের কেশাগ্র স্পর্শ করা যায় নাই। থানার ভিতরে ফাইলকে ঢাল করিয়া টেবিলের তলায় আত্মরক্ষা করিতে পুলিশের তত্‌পরতা ও অতঃপর এই বিচিত্র ‘তদন্ত’ ও ধরপাকড়ের কাহিনির জন্য পুলিশমন্ত্রী স্বর্ণপদক দাবি করিতে পারেন।
এত কাল রাজ্যের জেলায় জেলায় ‘আমরা’র পালন এবং ‘ওরা’র দমন চলিয়া আসিতেছে। দলীয় দুর্বৃত্তদের যথেচ্ছাচার জনসাধারণকে অতিষ্ঠ করিতেছে। খুনি হউক বা ধর্ষক, অভিযুক্ত শাসক দলের হইলে পুলিশ তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগই লইবে না, প্রশাসনের উচ্চ স্তর হইতে ফাঁড়ি অবধি দুষ্কৃতীদের না-ধরার, বরং অভিযোগকারীদেরই ভুয়া মামলায় জড়াইয়া হেনস্থাকরার, কখনও সালিশি সভার আয়োজন করিয়া মিটমাট করিয়া লওয়ার নিদান আসিতেছে। বিরোধী দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাসক দলের মাস্কেট বাহিনীর অভিযান পুলিশি প্রহরা ও ১৪৪ ধারার মধ্যেই সংঘটিত হইতেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের নামে বিরোধী-অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে হানা দিয়া ধরপাকড় ও নির্যাতনও শুরু হইয়াছে, শাসক দলের সমর্থকদের ঘাঁটিগুলিকে নিশ্চিন্তে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার সুযোগ দিয়া। আবার জেহাদি সন্ত্রাসবাদীদের মৌলবাদ ও সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঘাঁটিগুলিও পুলিশের উদাসীন প্রশ্রয়েই রাজ্যের নানা জেলায় শিকড় বিস্তার করিয়াছে। সমগ্র পরিস্থিতি শীর্ষ শাসক রাজনীতিকদের গোচরেই হইতেছে। আইনের শাসন বলিয়া কিছু আর অবশিষ্ট নাই। কারণ যাঁহারা আইনরক্ষক, শাসকাশ্রিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা আক্রান্ত এমনকী নিহত হইলেও তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের স্বাধীনতা তাঁহাদের নাই। সুশাসনের শর্ত পদে পদে লঙ্ঘিত হইতেছে। আদালতের ক্রমাগত তিরস্কার জানাইয়া দেয়, পশ্চিমবঙ্গ কার্যত গোল্লায় গিয়াছে।
আলিপুরের মতো রাজধানী শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভয়াবহ কুনাট্য বলিয়া দিতেছে, এখানে অন্যায়ের প্রতিবিধানের কোনও সম্ভাবনা নাই। নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক আধিপত্য সত্ত্বেও একটি শাসক দল যে এ ভাবে স্বেচ্ছাচারী হইতে পারে, ভাবা কঠিন। ইহাকে বর্গির রাজত্ব বলিলে ভুল হয়। মরাঠা বর্গিরা সুদূর ভিনরাজ্য হইতে লুণ্ঠনের জন্য আসিয়া বাংলায় যে অরাজকতা সৃষ্টি করিয়াছিল, স্বভূমিতেই দুর্বৃত্তদের রাজনীতিতে অভিষিক্ত করিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সেই অনাচার ও মাত্‌স্যন্যায়, সেই ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করিয়া ফেলিয়াছে। হার্মাদরা এখন আর নেতাদের আজ্ঞাবহ যন্ত্র নয়, এখন হার্মাদরাই যন্ত্রীর ভূমিকায়। তাই দুর্বৃত্তরা পশ্চিমবঙ্গে আর পুলিশকে ভয় পায় না, বরং উচ্চাসনের বরাভয়পুষ্ট দুষ্কৃতীদেরই পুলিশ ভয় করিয়া, সমীহ করিয়া চলে। সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষের অবস্থা অনুমেয়।



আলিপুর মামলা

কোর্টে তিরস্কারের তোড়ে ভুল কবুল পুলিশের

নিজস্ব সংবাদদাতা

২২ নভেম্বর, ২০১৪

থানা থেকে আদালত, সর্বত্র পুলিশের লেজে-গোবরে দশা অব্যাহত! তদন্তের নামে আলিপুরের ‘সাজানো ঘটনা’ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আদালতের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। এ বার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ভাবমূর্তির ক্ষত মেরামতিতে নেমেও পুরনো পাপের জন্য বিচারকের কাছে পুলিশকে ফের ভর্ৎসিত হতে হল। তিরস্কারের তোড়ের মুখে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, পুলিশের ভুল হয়েছিল।

আলিপুর থানায় ঠিক এক সপ্তাহ আগেকার তাণ্ডবের ঘটনায় ধৃত যোগেশ বোরাকে শুক্রবার চার দিনের জন্য পুলিশি হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আলিপুর আদালতের মুখ্য বিচারক সঞ্জীব দারুকা। তবে তার আগে কৃতকর্মের জন্য ফের পুলিশের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। গত মঙ্গলবার পাঁচ জনকে ধরে আনলেও আলিপুরের ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কোনও তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেনি পুলিশ। পাঁচ জনকেই জামিনে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। পুলিশের কাছে না ছিল ধৃতদের বিবৃতির কোনও নথি, না ছিল সিসিটিভি-র ফুটেজ। তদন্তের এই দৈন্যদশার জন্য বিচারক এ দিনও পুলিশকে তিরস্কার করেন। (আরও....)

সারদা তদন্ত - ক্রমেই মাথার দিকে এগোচ্ছে সিবিআই


১ কুণাল ২ টুম্পাই ৩...

ক্রমেই মাথার দিকে এগোচ্ছে সিবিআই

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২২ নভেম্বর, ২০১৪



1

চার মুখ...। ব্যারাকপুরে পুলিশ ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএম হাসপাতালে মদন মিত্র। গ্রেফতারের পর সৃঞ্জয় বসু (টুম্পাই)। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে কুণাল ঘোষ। ছবি: সুদীপ আচার্য, শুভাশিস ভট্টাচার্য, শৌভিক দে এবং স্বাতী চক্রবর্তী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে সারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সৃঞ্জয় বসু ওরফে টুম্পাইকে গ্রেফতার করল সিবিআই। সৃঞ্জয় একটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের পাশাপাশি তৃণমূলের মুখপত্রেরও সম্পাদক। শুক্রবার টানা ছ’ঘণ্টা জেরার পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
সৃঞ্জয়ের দু’টি ব্যক্তিগত এবং তাঁর সম্পাদিত বাংলা দৈনিকটির দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও এ দিন সিল করে দেওয়া হয়েছে। দিনভর সিজিও কমপ্লেক্সের দফতরে জেরা করার পরে রাতে সৃঞ্জয়কে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, শনিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে বলে সিবিআই সূত্রে খবর।
সৃঞ্জয় দ্বিতীয় তৃণমূল সাংসদ, যিনি সারদা কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হলেন। এর আগে কুণাল ঘোষকে গ্রেফতার করে রাজ্যের গড়া বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সিবিআই-ও তাঁকে হেফাজতে নিয়েছিল। একটি মামলায় তাঁকে চার্জশিটও দিয়েছে সিবিআই।
এ দিন গ্রেফতার হওয়া সৃঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনকে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। গত বছর এপ্রিলে কলকাতা ছেড়ে উধাও হওয়ার আগে সুদীপ্ত সিবিআই-কে লেখা চিঠিতে অভিযোগ করেছিলেন, সারদার হাতে থাকা বৈদ্যুতিন চ্যানেলকে সাহায্য করার ব্যাপারে সৃঞ্জয়ের সংবাদপত্রের সঙ্গে তাঁর চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৬০ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ কোটি টাকা তিনি সৃঞ্জয়কে দিয়েছিলেন। সুদীপ্তর অভিযোগ ছিল, “আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, এই চুক্তির ফলে আমি নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে পারব। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব। সৃঞ্জয় এ-ও দাবি করেছিলেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ।”
সিবিআইয়ের মুখপাত্র কাঞ্চন প্রসাদ এ দিন দিল্লিতে জানান, সারদা রিয়েলটি মামলায় সৃঞ্জয় বসুর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, টাকা নয়ছয় এবং বেআইনি ভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পরেই সৃঞ্জয়-সহ তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতার দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। সেই তালিকায় ছিলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, মুকুল রায় এমনকী মমতা নিজেও! যার জবাব দিতে গিয়ে ২০১৩ সালের ৩ মে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে দলীয় এক সভায় মমতা বলেছিলেন, “কুণাল চোর! মদন চোর! টুম্পাই (সৃঞ্জয়ের ডাকনাম) চোর! মুকুল চোর! আমি চোর!” এই তালিকার মধ্যে এই নিয়ে দু’জন গ্রেফতার হলেন। সিবিআইয়ের কাছ থেকে ডাক পেয়েছেন আরও এক জন মন্ত্রী মদন মিত্র।
এ দিনের ঘটনার পর বিরোধীরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই-কে যে দায়িত্ব দিয়েছিল, অর্থাৎ সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা, সেই কাজে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে তারা। ‘কান টানতে টানতেই মাথা আসবে’ মন্তব্য রাজ্যের এক বিরোধী নেতার।
মমতা গোড়ায় কুণালের পাশে দাঁড়ালেও পরে তাঁকে ত্যাগ করেন। নেত্রীর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কুণালকেই সারদা-কাণ্ডে অন্যতম দোষী হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করেন তৃণমূল নেতারা। একই ভাবে তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রজত মজুমদারকে সিবিআই গ্রেফতার করার পরে দল তাঁকে এক রকম অস্বীকার করে! সম্প্রতি নিজের বাড়িতে এক দলীয় কর্মিসভায় ফের মদন-মুকুলের পাশে দাঁড়ালেও সৃঞ্জয়ের নাম উচ্চারণ করেননি মমতা।
এ দিন সৃঞ্জয়ের গ্রেফতারের পরেও কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন অবশ্য বলেন, “আগের সরকার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সিবিআই-কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। এখন বিজেপি তারই পুনরাবৃত্তি করছে!” তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য সিবিআইকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দিল্লির এক পরামর্শদাতা সিবিআইয়েরও পরামর্শদাতা হয়েছেন। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূল এর মোকাবিলা করবে।” নেতাজি ইন্ডোরে কলকাতা-সহ তিন জেলার দলীয় কর্মীদের নিয়ে আজ, শনিবারের সম্মেলন থেকে তৃণমূল নেত্রীই সারদা-মোকাবিলার বার্তা দেবেন বলে পার্থবাবু জানান। 
এ দিন কল্যাণীতে দলীয় সভায় তার মুখবন্ধও করেছেন মমতা। সেই সভা যখন হয়, তখনও সৃঞ্জয়ের গ্রেফতারির খবর আসেনি। মমতা বলেন, “সারদার কাছে মানুষ টাকা পাচ্ছে না, তার বিচার সিবিআই করুক।
কিন্তু ইদানীং দেখছি, সারদাকে কে প্রতারিত করেছে, তাদের নিয়ে মামলা চলছে। কে টিভি চ্যানেলে গিয়েছিল, কোন পুজোয় কী হয়েছিল, এটা তোমার এক্তিয়ার?”
স্বাভাবিক ভাবেই এর পাল্টা বলেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ বলেন, “সৃঞ্জয় বসু তৃণমূলের বড় নেতা এবং তিনি সারদা কেলেঙ্কারি সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। অন্যদের পাশাপাশি এ বারে তৃণমূলের দ্বিতীয় সাংসদ গ্রেফতার হলেন। মমতা বলেছিলেন, তিনি ইস্তফা দেবেন। এ বার তো অন্তত তাঁর পদত্যাগপত্র লেখার কাজটি শুরু করা উচিত!” বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ এ দিন ছিলেন দিল্লিতে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এ বারে কী বলবেন? তিনি যে পাঁচ জন ‘চোর’ কি না বলে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তার মধ্যে দু’জন এখন জেলখানায়। আর এক জনও কার্যত জেলখানাতেই, কিন্তু বসে রয়েছেন হাসপাতালে! বাকি রইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায়।”
সুর চড়িয়েছে সিপিএমও। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের কটাক্ষ, “প্রথম ব্যক্তি এখন জেলে। দ্বিতীয় ব্যক্তিও গ্রেফতার হলেন। তৃতীয় ব্যক্তি সিবিআই গ্রেফতার এড়াতে বেলভিউ থেকে সরকারি হাসপাতালের প্রহরায়। বাকি দু’জনের অপেক্ষায় আছি!” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, “রাজনৈতিক সততা থাকলে সারদা তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করা উচিত।” 
শুক্রবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সিবিআই দফতরে ঢোকেন সৃঞ্জয়বাবু। এর আগেও তিন-তিন বার তাঁকে জেরা করেছেন তদন্তকারীরা। এ দিন ঢোকার সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। আমি দেশের নাগরিক হিসেবে এখানে এসেছি।” আপনি কি চিন্তিত? উত্তরে সাংসদ বলেন, “আমি তো কোনও ভুল করিনি। চিন্তা কেন হবে?” আপনার খবরের কাগজ এবং সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতেই কি আপনাকে ডাকা হয়েছে? সৃঞ্জয়বাবু বলেন, “সবই তো সূত্র মারফত জানতে পারছেন বলে লিখে দিচ্ছেন। এটাও লিখে দিন।” রাতে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময়ে অবশ্য আর কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
এ দিন সিবিআই দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন সাংসদ সোমেন মিত্রকে। এখন তিনি কংগ্রেসে। সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “আমি অবাক! ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সদস্য হিসেবে আমি একবার সেবি-কে চিঠি লিখেছিলাম। সে বিষয়েই আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।” সিবিআই সূত্রে খবর, ইস্টবেঙ্গলের এক কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার সুদীপ্ত-র সঙ্গে সেবি অফিসারদের যোগাযোগ রক্ষা করতেন বলে তদন্তে সিবিআই জানতে পেরেছে। দেবব্রতকে গ্রেফতারও করেছে তারা। সেই ক্লাবেরই সদস্য হিসেবে সোমেনবাবু সেবি-কে কেন চিঠি দিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারীরা।
এ দিন সাড়ে দশটায় সিবিআই দফতরে ঢোকেন রাজ্যের বস্ত্রমন্ত্রী শ্যামাপদ মুখোপাধ্যায়। বেরিয়ে যান সাড়ে বারোটা নাগাদ। তিনি বলেন, “কিছু তথ্য দিতে এসেছিলাম। ল্যান্ডমার্ক সিমেন্ট কারখানা ও কিছু জমি সংক্রান্ত যা যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তাও জানিয়েছি। আরও কিছু তথ্য সিবিআই আমার কাছ থেকে চেয়েছে। আমি তা পাঠিয়ে দেব।”

আরও - 
সারদা তদন্তে জালিয়াত তৃণমূলী 'চিত্রকর' শুভাপ্রসন্নর মিথ্যে তথ্য! 

রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে, মমতার মতো, রাজ্যের এত বড় ক্ষতি আর কেহ কখনও করেন নি

Thursday, October 30, 2014

Singur Lies! Mamta minister admits Singur Land can't be given back to farmers!





সিঙ্গুরের অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফেরানো সম্ভব নয়, স্বীকারোক্তি শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের
সিঙ্গুরেও জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল। সেই জমি এখনও ফেরৎ দেওয়া যায়নি। একবার জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলে তা আর ফেরৎ দেওয়া যায় না। অণ্ডালে প্রস্তাবিত বিমাননগরীর জমি জট প্রসঙ্গে স্বীকারক্তি শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের।
ক্ষমতায় এলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক চাষিদের অধিগৃহীত জমি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় এসে ৪০০ একর জমি ফেরত দিতে বিলও এনেছে রাজ্য সরকার৷ বিধানসভায় পাস হয়েছে সেই বিল। কিন্তু, আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের যায় টাটা মোটরস৷  সিঙ্গুর জমি পুনর্বাসন ও উন্নয়ন আইন-২০১১-কে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক বলে রায় দেয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ৷ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে রাজ্য সরকার।
কিন্তু পূরণ করতে পারেননি জমি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি।
জমি একবার অধিগৃহীত হলে যে ফেরানো সম্ভব নয়, তা কার্যত মানছেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য মলয় ঘটকও।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, যত সহজে মুখ্যমন্ত্রী জমি ফেরানোর কথা বলেছেন, তা অত সহজ নয়। সব জেনেও চুপ তৃণমূল, কটাক্ষ আইনজীবীদের।
এদিন, অণ্ডালে প্রস্তাবিত বিমাননগরীর জন্য অধিগৃহীত জমি জট কাটাতে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন নিগম ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মলয় ঘটক। সেখানে প্রস্তাবিত বিমাননগরীর জন্য অধিগৃহীত ১০৯ একর জমি নিয়ে যে জট তৈরি হয়েছে সেই প্রসঙ্গে সিঙ্গুরের উদাহরণ টেনে আনেন তিনি। বলেন, একবার জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলে তা আর ফেরত দেওয়া যায় না।

*********

অধিগৃহীত জমি ফেরত নিয়ে চাপে পড়ে কথা গিললেন মলয়





অধিগৃহীত জমি ফেরতের আইনি উপায় না থাকার কথা স্বীকার করেও, চাপের মুখে কথা ঘোরানোর চেষ্টা করলেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। মন্ত্রীর মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল মহাসচিব দায় চাপানোর চেষ্টা করলেন সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে।
সিঙ্গুরের অধিগৃহীত জমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, তাঁর সেই আশ্বাসকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য মলয় ঘটক। বুধবার অন্ডাল বিমাননগরী নিয়ে বলতে গিয়ে মলয় ঘটক স্বীকার করে নেন, অধিগৃহীত জমি ফেরত দেওয়ার কোনও আইনি উপায় নেই।
ঘটনাচক্রে, সিঙ্গুরের অধিগৃহীত জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার যখন আইন প্রণয়ন করে, তখন এই মলয় ঘটকই ছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী। তাই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। চাপে পড়ে বৃহস্পতিবার কথা ঘোরানোর চেষ্টা করলেন মলয় ঘটক। সাফাই দিয়ে তিনি বলেছেন, অন্ডাল ও সিঙ্গুরের বিষয়টি আলাদা।
মন্ত্রীর মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল মহাসচিব দায় চাপানোর চেষ্টা করলেন সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে। বললেন, মলয় ওই কথা বলেননি। সংবাদমাধ্যম বিকৃত করেছে।

বিরোধীদের বক্তব্য, জমি অধিগ্রহণ তো সিঙ্গুরেও হয়েছিল। অন্ডালেও হয়েছে। জট দু’ক্ষেত্রেই রয়েছে। তাহলে, সমস্যা এক হওয়া সত্বেও, দুই অবস্থানের কথা কেন বলছে শাসক দল? কেন সিঙ্গুর এবং অন্ডালের ক্ষেত্রে তৃণমূলের এই বিপরীত নীতি? তবে কি বিরোধী থেকে শাসক হওয়ায় আন্দোলনের প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে? প্রশ্ন বিরোধীদের।


More -
Another name of CORRUPTION is Mamta - Lake Mall lease contract violated to give aide, financial benefit 

Saturday, October 25, 2014

Bengal Govt winds up Shyamal Sen commission



সেন কমিশনে তালা, অথৈ জলে আমানতকারীরা, সরকারকেই দুষলেন শ্যামল সেন

Last Updated: Friday, October 24, 2014 - 20:51


সেন কমিশনে তালা, অথৈ জলে আমানতকারীরা, সরকারকেই দুষলেন শ্যামল সেন
কলকাতা: সারদার সব আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার আগেই বন্ধ  হয়ে গেল সেন কমিশন। এ জন্য, সরকারের দিকেই আঙুল তুললেন কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেন। রাজ্যকে দেওয়া রিপোর্টে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকার আদালতে গিয়ে ইডি-র বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি
নিজের হেফাজতে নিতে পারত। সেই সম্পত্তি বিক্রি করেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া যেত। কেন শ্যামল সেন কমিশন তৈরি করেছিল রাজ্য সরকার? লক্ষ্য ছিল তিনটি।
সারদার আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেবে কমিশন। কমিশন সারদা-কাণ্ডে দোষীদের চিহ্নিত করবে। সারদার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিক্রির ব্যবস্থাও করবে সেন কমিশন।
গত দেড় বছরে কী করেছে সেন কমিশন?
ক্ষতিপূরণ চেয়ে জমা পড়ে প্রায় আঠারো লক্ষ আবেদন।

পাঁচ লক্ষ আমানতকারীকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
গত দেড় বছরে কমিশনকে দুশো ছিয়াশি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার।
ক্ষতিপূরণ দিতে কমিশনের খরচ হয়েছে ২৫১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা।  
অর্থ দফতর টাকা না দেওয়ায় সেন কমিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সরকারকে চারশো পাতার একটি রিপোর্ট দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেন। রিপোর্টে তিনি বলেছেন ''কমিশনের হাতে অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির কয়েকটি সম্পত্তি রয়েছে। ইডি যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, রাজ্য আদালতে গিয়ে তা নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে। সেই সম্পত্তি বিক্রি করেই টাকা ফেরানো সম্ভব।''
বিচারপতি শ্যামল সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, কোষাগার থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ না করেই আরও অনেক প্রতারিতদের টাকা মেটাতে পারত সরকার।
কমিশন বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও শ্যামল সেনের রিপোর্টে রয়েছে আক্ষেপের সুর। তিনি বলেছেন, ''রাজ্যের উচিত ছিল আগেই আদালতে যাওয়া। তা হলে মাঝপথে কমিশন গোটাতে হতো না। আশা ছিল, ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছ থেকে আরও অর্থ পাওয়া যাবে।''
শ্যামল সেন কমিশন আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অথৈ জলে চিটফান্ডের প্রতারিত আমানতকারীরা। তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব বলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেন তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন।


***********

সম্পাদকীয় ২ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

তবু ভাল

২৫ অক্টোবর, ২০১৪, ০০:০৫:১৩



সদ্য-বিলুপ্ত শ্যামল সেন কমিশন সম্বন্ধে যত কথা বলিবার, তাহার সবটুকু নেতিবাচক নহে। এই কমিশনের অন্তত একটি ইতিবাচক দিক আছে। তাহা হইল, কমিশনটি আর নাই। এমন অপ্রয়োজনীয়, অনৈতিক, অস্বচ্ছ এবং বিপজ্জনক একটি কমিশন যে তৈরি হইয়াছিল, এবং এত দিন টিকিয়া ছিল, তাহা পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে অতি দুর্ভাগ্যের। বহু বিলম্বে হইলেও সরকার কমিশনটির ঝাঁপ ফেলিয়াছে, তাহাই বাঁচোয়া। সারদা বা অন্য কোনও ভুঁইফোড় আর্থিক সংস্থায় যাঁহারা টাকা খোয়াইয়াছেন, তাঁহাদের দুর্ভাগ্যের দায় সরকারের নহে। তাঁহাদের অনেকেই দরিদ্র হইলেও নহে। তাঁহারা তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ ভোটার হইলেও নহে। এমন জালিয়াত আর্থিক সংস্থার বাড়বাড়ন্ত রোধ করা সরকারের কাজ ছিল। সরকার তাহাতে ব্যর্থ। পক্ষান্তরে, এই সন্দেহ ক্রমশই বাড়িতেছে যে, সেই সংস্থাগুলির ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠায় শাসক দলের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। কিন্তু রাজকোষের টাকা খরচ করিয়া সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা চলে না। কোনও বেসরকারি সংস্থা এবং কিছু ব্যক্তির মধ্যে হওয়া চুক্তির ব্যর্থতার দায়ভার সরকারের উপর বর্তায় না। মুখ্যমন্ত্রী অনৈতিক ভাবে করদাতার উপর সেই বোঝা চাপাইয়াছেন। প্রসঙ্গত, তাঁহাকে স্মরণ করাইয়া দেওয়া যাউক, সিবিআই এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করিতেছে। আমানতকারীদের টাকা ফিরাইবার দায় তাহাদের নাই। কাজেই, ‘এই বার সিবিআই টাকা ফেরত দিক’ মর্মে রাজনীতিটি, পশ্চিমবঙ্গের মানেও, বড় কাঁচা।
কমিশনে প্রায় সতেরো লক্ষ আবেদন জমা পড়িয়াছিল। তাহার এক-তৃতীয়াংশেরও কম মানুষ ক্ষতিপূরণ পাইয়াছেন। কমিশনের প্রধানই স্বীকার করিয়াছেন, বহু আবেদনপত্র এখনও বস্তাবন্দি পড়িয়া আছে। তাহা হইলে কীসের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ-প্রাপকদের বাছিয়া লওয়া হইল? জানিবার উপায় নাই। এই অস্বচ্ছতাই সন্দেহের জন্ম দেয়। কেহ অনুমান করিতেই পারেন, ক্ষতিপূরণ পাইবার যোগ্যতা রাজনৈতিক আনুগত্যের অঙ্কে স্থির হইয়াছে। অনুমানটি মিথ্যা, এমন দাবি করিবার কোনও উপায় কমিশনের নাই। তাঁহারাই সেই উপায় রাখেন নাই। এক্ষণে একটি প্রশ্ন উঠিতে পারে। এই কমিশন যে সোজা পথে চলিবে না, তাহা ভূতপূর্ব বিচারপতি শ্যামল সেন মহাশয়ের অনুমানের অতীত ছিল, এ কথা মানিয়া লওয়া মুশকিল। এমন একটি অনৈতিক, অস্বচ্ছ কমিশনের প্রধান হইতে তিনি সম্মত হইয়াছিলেন কেন?
কমিশন যে সকল আবেদনকারীকেই টাকা ফিরাইয়া দিতে পারে নাই, তাহা সুসংবাদ। কেবল রাজকোষের পক্ষে নহে, রাজ্যের ভবিষ্যতের পক্ষেও। সারদা-কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফিরাইয়া দেওয়ার খেলাটির সর্বাপেক্ষা বিপজ্জনক দিক ছিল, তাহা মানুষকে আরও বেপরোয়া করিয়া তুলিত। মানুষ জানিতেন, ঝুঁকির আমানতে টাকা রাখিয়া ঠকিলেও ভয় নাই— রাজ্য সরকার রক্ষাকর্তার ভূমিকা লইবে। ফলে, এই ধরনের ঝুঁকির আকর্ষণ বাড়িত, সুতরাং বিপদও। পরিণামবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখিলে এই ‘মরাল হ্যাজার্ড’ তৈরি করাই সেন কমিশনের বৃহত্তম কুপ্রভাব। সকলে টাকা না পাওয়ায় তবুও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি অনিশ্চয়তা রহিল। যাঁহারা টাকা পাইলেন না, তাঁহাদের প্রতি কোনও অন্যায় হয় নাই। বরং, যাঁহারা পাইয়াছেন, তাঁহাদের প্রাপ্তি অন্যায়। কিছু মানুষ অন্যায় সুবিধা পাইয়াছেন বলিয়া সকলকেই তাহা দিতে হইবে, এমন দাবি বুঝি এই রাজ্যেই সম্ভব।

************

*******************


Another name of CORRUPTION is Mamta - Lake Mall lease contract violated to give aide, financial benefit 

Friday, October 24, 2014

এসএসকেএম-এর গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে

এসএসকেএম-এর গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে

Last Updated: Thursday, October 23, 2014 - 09:26


এসএসকেএম-এর গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে
কলকাতা: এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডাকে। এসএসকে এমে ডাক্তারি পরীক্ষায় গণ টোকাটুকিতে মদত দেন টিএমসিপির দুই ছাত্র নেতা। চব্বিশ ঘণ্টার স্টিং অপারেশনে সেই ঘটনার পর্দাফাঁস হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই দুই ছাত্রনেতাকে কেন ঘেঁষতে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নির্বিকার তারও কোনও সদুত্তর নেই।
এসএসকেএমে এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা।  হলের মধ্যে ঢুকেই গণটোকাটুকিতে সাহায্য করছেন টিএমসিপির এসএসকেএম ইউনিটের দুই নেতা, সৌমাভ চ্যাটার্জি এবং  শুভজিত্‍ দত্ত। এবছর চৌঠা জুন চব্বিশ ঘণ্টার স্টিং অপারেশনের এই ছবি সম্প্রচারিত হওয়ার পরই তোলপাড় শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। ছমাস পেরোতে না পেরোতেই ওই দুই ছাত্রনেতাকে এবারে দেখা গেল একেবারে মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে।
বুধবার এসএসকেএমেঅনুষ্ঠানে  মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় আগাগোড়া তাঁর পিছনে দাড়িয়ে ছিলেন গণটোকাটুকিকাণ্ডে অভিযুক্ত টিএমসিপি নেতা শুভজিত্‍ দত্ত। গোটা অনুষ্ঠান জুড়েই মঞ্চে ছিলেন আরেক অভিযুক্ত নেতা সৌমাভ চ্যাটার্জি। কেন অভিযুক্ত দুই ছাত্র নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হল, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ।
গত জুনে চব্বিশ ঘণ্টায় গণটোকাটুকির খবরের জেরে নড়ে চড়ে বসেছিল চিকিত্‍সক মহল। এমনকী ওই পরীক্ষার ফলপ্রকাশ স্থগিত করে নতুন করে পরীক্ষা প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন উপাচার্য। চাপে পড়ে দুই অভিযুক্ত জুনিয়র ডাক্তারকে শোকজও করেছিলেন এসএসকেএমের অধ্যক্ষ প্রদীপ মিত্র। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় অবসর নিতেই যাবতীয় উদ্যোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। অভিযুক্ত সৌমাভ চ্যাটার্জি এখন আর কোনওভাবেই এসএসকেএমের সঙ্গে যুক্ত নন। চলতি বছরের জুলাইয়ে হাউসস্টাফশিপও শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর। ক্যাম্পাসের সঙ্গে যোগ না থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে থাকা অবশ্য বাধা হয়নি সৌমাভর কাছে।

আরও পড়ুন -
লেক মল, মমতা ঘনিষ্ট ব্যবসায়ীকে নামমাত্র দামে লিজ পাইয়ে দেওয়া হল

Another name of CORRUPTION is Mamta - Lake Mall lease contract violated to give aide, financial benefit

মমতা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে পুরসভার চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৩:২৬:৩৭


1

লেক মল উদ্বোধনে শ্রীকান্ত মোহতা, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

লিজ চুক্তি ভেঙে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডকে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাইয়ে দিল কলকাতা পুরবোর্ড। যার জেরে রাজস্ব বাবদ রাজ্য সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় কম হবে বলে জানাচ্ছেন পুরকর্তারাই।
পুরসভার হাতে থাকা লেক বাজারকে ভেঙে মল তৈরির ব্যাপারে ১৯৮৭ সালে বড়বাজারের অরুণ প্লাস্টিক প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল পুরসভার। পুর নথি অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর। এর পর অরুণ প্লাস্টিক লিমিটেড নাম পাল্টে হয় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেড। পুরনো মডেল লিজ চুক্তির সূত্র ধরে ২০১০ সালে তাদের সঙ্গে ফের চুক্তি করে পুরসভা। কিন্তু সম্প্রতি ৬০ বছরের চুক্তিকে ভেঙে দু’ভাগ করে ৩০ বছর মেয়াদের দু’টি চুক্তি করার আবেদন জানায় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন। গত ১১ সেপ্টেম্বর পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠকে সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে।
লিজ চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে কী ভাবে?
সরকারি আইন অনুযায়ী, লিজ চুক্তি ৩০ বছরের বেশি হলে লিজ রেজিস্ট্রেশন করাতে সম্পত্তির বাজার দর (মার্কেট ভ্যালু) ধরে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়। কিন্তু ৩০ বছর বা তার কম হলে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয় গড় লিজ ভাড়ার (অ্যাভারেজ লিজ রেন্ট) ভিত্তিতে। এই হিসেবে লিজ চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর থাকলে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ২৪ কোটি টাকা। এখন চুক্তি দু’ভাগে ভাঙার ফলে দিতে হবে মাত্র ৭ লক্ষ টাকা। শুধু স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিপুল ছাড়ই নয়, লিজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে পুরসভা। আর একটি পুনর্নির্মিত পুরবাজার নিউ আলিপুর মার্কেটের ডেভেলপারের ক্ষেত্রে যখন লিজ ভাড়ার পরিমাণ বর্গফুট পিছু ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করা হয়েছে, তখন লেক মলের ক্ষেত্রে তা ১ টাকা ৬৩ পয়সাতেই বেঁধে রাখা হয়েছে।
কে এই ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন? যাদের জন্য পুরসভার এই বদান্যতা!
এক পুরকর্তার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকায় রাজ্যে যে কয়েক জন শিল্পোদ্যোগীর নাম রয়েছে, তাঁদেরই এক জন সিনেমা প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন সংস্থার কর্ণধার তিনিই।” গত বছর লেক মলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চেই ভেঙ্কটেশ কর্তার প্রশংসা করেন তিনি। এ বার সেই সংস্থাকে ‘তুষ্ট’ রাখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরবোর্ড। যাকে অনিয়ম বলেই বলে মনে করছেন পুরসভার একাধিক আধিকারিক, এমনকী কাউন্সিলররাও। তৃণমূলেরই এক কাউন্সিলরের কথায়, “ভেঙ্কটেশ সংস্থার কর্ণধার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন। তাই নিয়ম ভেঙে তাঁকে খুশ করা হচ্ছে।” প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “শুরু থেকেই এই পুরবোর্ড ধান্দাবাজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে। শুধু লেক মল নয়, এমন ঘটনা আরও আছে।”
অথচ ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের আবেদন মানা যাবে না বলে গত ৩০ জুনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল মেয়র পারিষদের বৈঠকে। সংস্থার প্রস্তাব ছিল, মোট ৬০ বছরের চুক্তির প্রথম ৩০ বছর ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন এবং বাকি ৩০ বছর তাদেরই নমিনি মেসার্স বি এম লেসার্স এলএলপি’র নামে দেওয়া হোক। সেই প্রস্তাব বাতিল করে তখন পুরনো লিজ চুক্তি মেনে চলারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 
পুরসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি নিজের চেম্বারে ভেঙ্কটেশের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর তার পরেই ১১ সেপ্টেম্বর মেয়র পারিষদের বৈঠকে ভেঙ্কটেশ সংস্থার আবেদন অনুমোদন করে পুরবোর্ড। যদিও এই প্রস্তাব মেনে লিজের মেয়াদ ভাগ করে দিলে যে রাজস্ব আদায় কমবে, সে কথা লিখিত নোট দিয়ে পুর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিল পুরসভার অর্থ দফতর। সেই আপত্তি উপেক্ষা করে বিশেষ একটি সংস্থাকে ‘সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পুরসভার অন্দরমহলে।
লেক মলে মোট জায়গার পরিমাণ ১৯ হাজার ৯২৫ বর্গ মিটার। লিজ চুক্তি অনুযায়ী পুরনো বাজারের সব দোকানদারকে পুনর্বাসন দিতে গিয়ে একতলায় ৩২৯৮ বর্গমিটার জায়গা খরচ হয়েছে। ৬ ও ৭ তলায় পুরসভাকে দিতে হয়েছে এক হাজার বর্গমিটার জায়গা। বাকি ১৫ হাজার বর্গমিটার বা ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৪০ বর্গফুট জায়গা পুরসভার অনুমতি নিয়ে ভাড়া দিতে পারবে নির্মাতা সংস্থা। এই জায়গাটুকুই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে তাদের।
রাজ্য সরকারের স্ট্যাম্প ডিউটি আইন অনুযায়ী (ইন্ডিয়ান স্ট্যাম্প, ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০১২) লিজ চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজার দরের উপর ৭ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে। লেক মল এলাকায় বাণিজ্যিক নির্মাণের বাজারদর এখন বর্গফুট পিছু ২০ হাজার টাকারও বেশি। সেই হিসেবে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৪০ বর্গফুটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা। সুতরাং রেজিস্ট্রেশনের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ২৪ কোটি টাকা।
কিন্তু ৩০ বছর বা তার কম সময়ের জন্য কোনও লিজ চুক্তির রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে যে হেতু লিজ ভাড়ার ভিত্তিতে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়, সে হেতু এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়ার হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন। তাদের সঙ্গে পুরসভার লিজ ভাড়া চুক্তি হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ লাগবে মাত্র ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯০১ টাকা।
ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরসভার যুক্তি কী? একাধিক কাউন্সিলরের কথায়, “পিপিপি মডেলের বিষয়টি মেয়র নিজেই দেখেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায়ও তাঁকেই নিতে হবে।”
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “চুক্তি যা হয়েছিল, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করেছি। সরকারের কোনও লোকসান হবে না।” যদিও পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চুক্তিতে যদি এমনটা থাকত, তা হলে অর্থ দফতর ওই নোট দিত না। ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কোনও কথা বলব না।” শুধু স্ট্যাম্প ডিউটি নয়, লিজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভেঙ্কটেশকে সুবিধা দিচ্ছে পুরসভা। নিউ আলিপুর মার্কেটের ডেভেলপারকে এত কাল প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা করে ভাড়া মেটাতে হতো পুরসভাকে। ওই সংস্থার সঙ্গেও পুরসভার চুক্তি হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। গত ১১ অগস্ট পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই সংস্থাকে প্রতি বর্গফুটের জন্য ২ টাকার পরিবর্তে ৪ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। অথচ লেক মলের ক্ষেত্রে কোনও ভাড়া বাড়ানো হয়নি। সেই ১ টাকা ৬৩ পয়সা হারই বজায় রয়েছে।
একই ধরনের দু’টি বাজারের ক্ষেত্রে দু’রকম সিদ্ধান্ত কেন?
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “লেক মলের ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেখানে ভাড়া বাড়ানোর কোনও কথা বলা নেই। তাই ভাড়া বাড়ানো হয়নি।” যদিও এক পুর-অফিসারের কথায়, নিউ আলিপুর বাজারের নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতেও ভাড়া বাড়ানোর কোনও কথা ছিল না। সময়ের পরিবর্তনের কথা ভেবেই তা বাড়ানো হয়েছে। একই ভাবে লেক মলেরও ভাড়া বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু ‘বিশেষ’ কারণে তা হয়নি। পুরসভার এক অফিসারের কথায়, “লেক মলের দোতলায় একটি সংস্থার কাছ থেকে ভেঙ্কটেশ সংস্থা ভাড়া নিচ্ছে প্রতি বর্গফুটে ৩৫ টাকা। অথচ পুরসভাকে দিচ্ছে মাত্র ১ টাকা ৬৩ পয়সা।” 
আরও অভিযোগ, ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন একাধিক সংস্থার কাছ থেকে সেলামি নিয়ে লেক মলে জায়গা দিয়েছে। সেই সব সংস্থার সঙ্গে লিজ চুক্তিও করেছে। যদিও পুরসভার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, তা তারা করতে পারে না। এ সবই পুরসভার কর্তারা জানেন। তা সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ সংস্থার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

***********

লেক মল চুক্তি

1515

চটজলদি সইসাবুদ সেরে নিল পুরসভা

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৩:৩৩:১৯





4

সোমবার সন্ধ্যায় পুরভবনে হঠাৎ শ্রীকান্ত মোহতা। ছবি: রণজিৎ নন্দী

লেক মলের নির্মাণ সংস্থাকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিতে লিজ চুক্তি দু’ভাগ করার বিষয়টিকে কয়লা খনি বণ্টন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করল বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে পুজোর পরেই পুরোদস্তুর ময়দানে নামা, এমনকী প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে তারা। বামেরাও এ নিয়ে আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বসে নেই কলকাতা পুরসভা। ওই চুক্তির রেজিস্ট্রি যাতে কোনও ভাবে আটকে না যায়, সে জন্য এ দিনই তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ কর্তাকে পুরভবনে ডেকে সইসাবুদ করিয়ে নেয় পুর প্রশাসন।
কেন পুরসভার তরফে ওই তৎপরতা?
পুরসভার এক আমলা জানান, আজ, মঙ্গলবার থেকে পুজোর ছুটি পড়ছে। ছুটির পর প্রথম দিনেই যাতে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলা যায়, এ দিন তার ব্যবস্থা করে রাখা হলো। চুক্তিটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা এড়াতেই এই তৎপরতা বলে জানান তিনি।
১৯৮৭ সালে হওয়া লিজ চুক্তি যে ভাবে শর্ত ভেঙে দু’ভাগ করা হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি এবং বামেরা। রাহুলবাবু সোমবার বলেন, “৩০ বছর পরে আরও ৩০ বছরের চুক্তি পুরসভা এখন করতে পারে না। ৩০ বছর পরে কে কোথায় থাকবে, কে কী করবে, কিছুই এখন নিশ্চিত করে বলা যায় না। তা হলে ৩০ বছর পরের চুক্তি কেমন করে এখন করা সম্ভব? সুতরাং, দ্বিতীয় পর্বের চুক্তি বেআইনি। তার মানে প্রথমটাও অবৈধ!” রাহুলবাবু জানান, দলের আইনজীবী সেলকে তিনি পুরো চুক্তি খুঁটিয়ে পড়ে আইনি পরামর্শ দিতে বলেছেন।
প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরসভা যে ভাবে চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ করেছে, তা করা যায় না। তা অনৈতিক এবং অন্যায়। নয়া চুক্তি আটকাতে তাঁরা আইনের পথে হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র।
বিরোধীদের এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা কি এ ভাবে চুক্তি ভাগ করতে পারে?
এ নিয়ে পুরসভার তরফে একাধিক ব্যাখ্যা মিলেছে। পদস্থ এক আমলার কথায়, “এটা আইনসম্মত নয়। চুক্তি ৬০ বছরের। কারও সুবিধার জন্য তার খেলাপ করা ঠিক নয় জেনেও চুপ করে থাকতে হয়েছে। কারণ এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত।” পুরসভারই অন্য এক অফিসারের আবার বক্তব্য, “লিজ চুক্তির সময়সীমা দু’ভাগে ভাগ করায় সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হবে এটা সত্য, তবে ভাগ করার বিষয়টা নিয়মবিরুদ্ধ নয়।”
পুরসভা সূত্রের খবর, গত ১১ সেপ্টেম্বর মেয়র পারিষদ বৈঠকে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের দেওয়া লিজ চুক্তি দু’ভাগ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এ দিন আনন্দবাজারে সেই খবর প্রকাশিত হতেই চুক্তি রেজিস্ট্রি করার জন্য বয়ান তৈরির কাজে তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। বিকেলেই মেয়র-সহ প্রায় সব মেয়র পারিষদ অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে সন্ধ্যায় পুরসভার বাজার ও আইন দফতরের অফিসারদের থাকতে বলা হয়। এমনকী রেজিস্ট্রেশনের বয়ানে বাজার দফতরের অফিসারদের সইসাবুদও করিয়ে রাখা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ভেঙ্কটেশের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতা পুরসভায় আসেন। তখন অবশ্য বাজার দফতরের তিন অফিসারের মধ্যে মাত্র এক জন উপস্থিত ছিলেন। ওই অবস্থাতেই ভেঙ্কটেশের কর্ণধার সইসাবুদ সেরে দ্রুত বেরিয়ে যান।
পুরসভার একটি সূত্রের অভিযোগ, লেক মলের মালিক কাগজে-কলমে কলকাতা পুরসভা হলেও বাজারটির কোন জায়গা কাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা জানেনই না পুরকর্তারা! জানা গিয়েছে, ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থার কাছ থেকে প্রচুর টাকা সেলামি নিয়ে লেক মলে তাদের জায়গা দিয়েছে। এমনকী তাদের সাব লিজও দিয়েছে। অথচ পুর নিয়ম অনুসারে, অন্য কোনও সংস্থাকে সাব-লিজ দিতে গেলে পুরসভাকে তা আগাম জানাতেই হবে। জানাতে হবে, কত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা-ও। অথচ ভেঙ্কটেশের ক্ষেত্রে কোনও নিয়মই মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন পুরসভার এক কর্তা।
কেন এমনটা হচ্ছে? ওই কর্তার মন্তব্য, “লেক মল নিয়ে কোনও প্রশ্ন করবেন না। ওই মলের যা কিছু সিদ্ধান্ত সবই উপরতলা থেকে আসছে।” পুরকর্তারা সবই জানেন। তা সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ সংস্থার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।  
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির ব্যাখ্যা, পুরভোটের আগে দলের নির্বাচন লড়ার টাকা জোগাড়ের জন্য তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে পুরসভা। রাহুলবাবুর কথায়, “সামনে পুরভোট। তৃণমূল জানে, সোজা পথে তারা পুরভোটে জিততে পারবে না। তাই এখন ক্লাবকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সুদীপ্ত সেন তো জেলে! তা হলে টাকা আসবে কোথা থেকে? নতুন এক সুদীপ্ত সেনের খোঁজ পেয়েছে তৃণমূল। সেই অর্থে পুরভোট জেতার পরিকল্পনা করেছে তারা।” ৬০ বছরের চুক্তিকে দু’ভাগে ভাগ করার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুজোর পরে লেক মলের সামনে ‘ঘেরাও অভিযান’ শুরু করবে বিজেপি।

*****************

দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধীদের, নীরব মেয়র

পরোয়া নেই ক্ষতির, পাশ লেক মল চুক্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা

২২ অক্টোবর, ২০১৪, ০২:৩৪:৪৭


1

পুর অধিবেশনে বাম কাউন্সিলরদের প্রতিবাদী পোস্টার। ছবি: প্রদীপ আদক

রাজ্য সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনাকে আমল না দিয়েই বিতর্কিত লেক মল চুক্তিটি পুরসভার অধিবেশনে পাশ করিয়ে নিল তৃণমূল। ওই চুক্তিতে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডকে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু সভায় হাজির থাকা সত্ত্বেও নিজে মুখ খোলেননি মেয়র। উল্টে বক্তৃতা দিতে এগিয়ে দেন মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারকে। যিনি বলেন, “চুক্তিতে যা রয়েছে, তাতে ভেঙ্কটেশ যা বলবে, তা-ই আমাদের করতে হবে।”
পুরসভার হাতে থাকা লেক বাজারকে ভেঙে পিপিপি মডেলে লেক মল তৈরির ব্যাপারে ১৯৮৭ সালে বড়বাজারের অরুণ প্লাস্টিকের (পরে যার নাম পাল্টে হয় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন) সঙ্গে ৬০ বছরের লিজ চুক্তি হয়েছিল পুরসভার। যদিও সেই মূল চুক্তিপত্রের খোঁজ মিলছে না। সম্প্রতি পুরনো চুক্তিটি ৩০ বছর করে দু’ভাগে ভেঙে ভেঙ্কটেশ কর্তৃপক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। হিসেব বলছে, চুক্তিটি দু’ভাগে ভাঙার ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ প্রায় ২৪ কোটি টাকা ক্ষতি হবে সরকারের। কারণ, এ ক্ষেত্রে ভেঙ্কটেশকে বাজার দরের পরিবর্তে লিজ ভাড়া অনুযায়ী স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হচ্ছে। চুক্তি পিছু যা মেরেকেটে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।
কারও কারও মতে, ‘ভেঙ্কটেশ যা বলবে’ বলতে দেবব্রতবাবু এ দিন বুঝিয়েছেন যে, ভেঙ্কটেশ কর্তৃপক্ষ পুরনো চুক্তিটিকে যত ভাগে ইচ্ছে ভাঙতে পারেন। কারণ, তাঁদের সঙ্গে আগে থেকেই ৬০ বছরের চুক্তি হয়ে  রয়েছে। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী সিপিএমের রূপা বাগচী, কংগ্রেসের মালা রায়-রা এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন যে চুক্তি পুরসভা থেকেই উধাও, তাতে কী লেখা ছিল দেবব্রতবাবু জানলেন কী করে?
বিপুল রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে গত শুক্রবার পুরভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ ওই চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। তার দিন কয়েক আগে মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দেন বাম কাউন্সিলররা। মেয়রের কুশপুতুল দাহ করেছিল কংগ্রেসও। এর পর মঙ্গলবার উত্তাল হলো পুরসভার অধিবেশন কক্ষ।
এ দিনের অধিবেশনে চুক্তিটি পাশ করার জন্য তোলার আগে আলোচনার সুযোগ দেন পুরসভার চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে মালাদেবী বলেন, “মূল চুক্তিটি উধাও। তা হলে কোন চুক্তির ভিত্তিতে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি করা হল, তা জানানো হোক।” ওই চুক্তি বাতিলের দাবি তোলেন তিনি। একই দাবি করে রূপাদেবী বলেন, “পুরসভা চরম আর্থিক সংকটের মুখে। ঋণের বোঝায় ব্যতিব্যস্ত সরকারও। সেই সময় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভেঙ্কটেশ সংস্থাকে বিশেষ সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার এই ঘটনা জনস্বার্থ বিরোধী। দুর্নীতিও।” বিজেপির বিজয় ওঝা বলেন, “বিশেষ কাউকে সুযোগ দেওয়ার আগে পুর প্রশাসনের ভাবা উচিত ছিল, সরকারের ক্ষতি হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, জনগণের কাছে তাঁরা দায়বদ্ধ, কোনও চলচ্চিত্র নির্মাতার কাছে নন।
পুরসভা সূত্রের বক্তব্য, পিপিপি মডেলে প্রকল্পের দায়িত্ব মেয়রের।  তাই তাঁর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা। কিন্তু তিনি কোনও জবাব না দিতেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বলতে দেওয়া হয়নি মেয়র পারিষদ (বাজার) তারক সিংহকেও। পাল্টা গলা চড়ান শাসক দলের কাউন্সলিররাও। বিজেপির এক সদস্য ছাড়া বিরোধীরা সকলেই প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ করেন। তার পরে মেয়র পারিষদ দেবব্রতবাবু বলেন, বিরোধীরা চুক্তি পড়েননি বলেই ‘ভুলভাল’ কথা বলেছেন। শাসক দলের সংখ্যাধিক্যের জেরেই বিনা বাধায় চুক্তিটি সভায় পাশ হয়ে যায়। দেবব্রতবাবু ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমে যাওয়া নিয়ে কিছু বলতে চাননি। ফলে পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এই মেয়র পারিষদকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা।

*******************

লেক মল

মূল চুক্তিই গায়েব, নয়া মোড় ভেঙ্কটেশ-বিতর্কে

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

১৬ অক্টোবর, ২০১৪, ০২:২৩:২৮


মূল চুক্তিপত্র বহু দিন হল গায়েব। অথচ তারই প্রতিলিপির ভিত্তিতে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে নতুন ভাবে (সাপ্লিমেন্টারি) চুক্তি করেছে কলকাতা পুরসভা, যার মারফত ষাট বছরের লিজ-চুক্তিকে তিরিশ বছর করে দু’ভাগে ভেঙে লেক মলের ওই ডেভেলপার সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় কমছে।
লিজ-মেয়াদে ‘অবৈধ’ বিভাজনের খবর আনন্দবাজারে প্রকাশিত হওয়ার পরে ইতিমধ্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মূল চুক্তিপত্র বেপাত্তা হওয়ার নতুন তথ্যের ইন্ধনে যা আরও জোরদার। প্রশ্ন উঠেছে, মূল যে চুক্তিপত্রের হদিসই নেই, তার জের টেনে কী ভাবে ভেঙ্কটেশের সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি করা হল? পুর-কর্তারা মুখ খুলতে নারাজ। মেয়রের দাবি, চুক্তিপত্র উধাওয়ের কথা তিনি জানেন না।
পুর-সূত্রের খবর: লেক মল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১৯৮৭-তে বড়বাজারের সংস্থা অরুণ প্লাস্টিকের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার চুক্তি হয়েছিল। পুরসভার নথি বলছে, সাতাশ বছর আগের সে চুক্তির কপি পুরভবন থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে অনেক দিন আগে। এমনকী, ডেভেলপার সংস্থার কাছে মূল চুক্তিপত্রের যে কপি থাকার কথা, তা-ও নেই। পুরসভার এক আমলা বলছেন, “গত বছর লেক মল উদ্বোধনের সময় অরুণ প্লাস্টিকের সঙ্গে হওয়া পুরনো চুক্তির কাগজপত্রের খোঁজ পড়েছিল। কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেল, পুরসভার কপি উধাও। আর ডেভেলপার কোম্পানির কাছে থাকা কপি নাকি পুড়ে গিয়েছে!”
চুক্তিকারী দু’পক্ষের হেফাজতে থাকা চুক্তিপত্রের দু’টো প্রতিলিপি-ই এ ভাবে একসঙ্গে বেপাত্তা হয়ে যাওয়াটা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে। পুর-সূত্রের খবর, কয়েক জন পুর-অফিসারও ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে শীর্ষকর্তারা নীরব থাকায় ওঁরা বিশেষ উচ্চবাচ্য করার সাহস দেখাননি। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, তা হলে পুরনো কোন চুক্তিপত্রের রেশ টেনে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডের (যা কিনা অরুণ প্লাস্টিকেরই নামান্তর) সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি হল?
এখানেও অনিয়মের আঁচ। এক পুর-আধিকারিকের বক্তব্য, বছর নয়েক আগে, ২০০৫-এ পুরসভার তদানীন্তন ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার একটি কাগজ ‘সার্টিফাই’ করে জানিয়েছিলেন, সেটাই পুরনো চুক্তির প্রতিলিপি। তারই ভিত্তিতে ভেঙ্কটেশের হাতে লেক মল সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “ঘটনা হল, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্রান্ত কোনও কাগজকে এ ভাবে মূল নথির প্রতিলিপি হিসেবে সার্টিফাই করার এক্তিয়ার ওঁর ছিল না। তবু সেটা গ্রহণ করা হল কেন, তা নিয়ে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক।” মন্তব্য করেন আধিকারিকটি। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট ওই ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘ কাল কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং দফতরের ডিজি পদে ছিলেন। পুরসভার যুগ্ম কমিশনারের অফিসের খবর, ওঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পুরবোর্ডের আমলেই ওঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এক্তিয়ার-বহির্ভূত কাজেই শেষ নয়। আসল চুক্তির প্রতিলিপি হিসেবে খাড়া করা সতেরো পাতার ওই চুক্তিপত্রে নানা অসঙ্গতিও রয়েছে বলে মত পুরসভার একাধিক আমলার।
কী রকম? ওঁদের দাবি: আসল চুক্তিপত্রটি সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৮৭-তে। অথচ ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সার্টিফাই করা প্রতিলিপিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে নোটারির স্বাক্ষর ২০০৩-এর! পুরসভার আইন দফতরের এক অফিসার বলেন, “১৯৮৭-তে সম্পাদিত চুক্তিতে নোটারির সই হবে সে বছরেরই। ষোলো বছর পিছিয়ে যাওয়াটা ঘোরতর সন্দেহজনক।” উপরন্তু একেবারে শেষ পাতায় তত্‌কালীন পুর-সচিব ও পুর-কমিশনারের সই থাকলেও তাতে তারিখ নেই। এমনকী, দুই অফিসারের কোনও সিলমোহরও নেই!
এ হেন বিবিধ গুরুতর অসঙ্গতিতে ভরা নথিটি নিয়ে পুর-কর্তৃপক্ষ রীতিমতো বিব্রত। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে পাঠানো একটি চিঠি ওঁদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। পুরসভার আইন দফতরের খবর, হাইকোর্টের এক আইনজীবী মূল চুক্তিপত্র দেখতে চেয়ে চিঠিটি দিয়েছেন। “চুক্তির কাগজ তো হাপিস! চিঠির কী উত্তর দেওয়া হবে, উপরওয়ালাদের কাছেই জানতে চাইব।” মন্তব্য এক অফিসারের। পুরসভার উপরওয়ালারা কী বলেন? মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মূল চুক্তিপত্র নিখোঁজ হওয়ার খবর তিনি জানেনই না। “একটা চুক্তি তো দেখেছি!”— বুধবার বলেন তিনি। সেটা যে সার্টিফায়েড কপি, তা শোনার পরে মেয়রের প্রতিক্রিয়া, “তাতেই তো হবে!” স্রেফ ‘সার্টিফায়েড’ কপির ভিত্তিতে এমন একটি প্রকল্প রূপায়ণের নতুন চুক্তি করা যায় কি না, সে সংক্রান্ত আইনি বিষয়ে মেয়র কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পদে পদে বিতর্কের ঝুঁকি রেখেও নতুন চুক্তির পথে পুরসভা এগোল কেন?
এক আমলার ব্যাখ্যা, “পুরনো চুক্তিপত্র না-থাকায় নতুন চুক্তি সম্পাদনে আইনত বাধা ছিল। তাই সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি, যাতে ব্যাপারটায় খানিকটা হলেও আইনি তকমা দেওয়া যায়। ভেঙ্কটেশকে নতুন ভাবে দায়িত্ব দিতে হলে এমন একটা কিছু করতেই হতো।” মল সংস্কারের দায়িত্বে ভেঙ্কটেশকেই আনার এ হেন মরিয়া তাগিদ প্রসঙ্গে অবশ্য ‘প্রভাবশালীদের পাইয়ে দেওয়া’র তত্ত্বই ঘোরাফেরা করছে পুরভবনের অন্দরে। বস্তুত লেক মল বিতর্ক ফাঁস হতেই, পুজোর ছুটি পড়ার আগের রাতে লিজ-মেয়াদ বিভাজনের নতুন চুক্তিতে তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ-কর্তাদের সইসাবুদ সেরে ফেলে পুরসভা। তা রেজিস্ট্রেশন করাতে সোমবার ভেঙ্কটেশ-কর্তা শ্রীকান্ত মোহতা পুরভবনে হাজির হয়েছিলেন। অন্য দিকে ভেঙ্কটেশ-চুক্তির জেরে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে সোমবারই মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সিপিএম কাউন্সিলরেরা। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচির ঘোষণা, “২১ তারিখের পুর-অধিবেশনে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সে দিন প্রতিবাদ জানাব।” আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেসও। মঙ্গলবার পুরভবনের সামনে কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রকাশ উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মেয়রের কুশপুতুল দাহ হয়েছে। কাল, শুক্রবার ওখানে বিজেপি’র বিক্ষোভ দেখানোর কথা।

**********

লেক মলে পুরনোরা ব্রাত্য, সুবিধা নতুনদেরই

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ১ অক্টোবর, ২০১৪, ০৩:৩৩:২৪

সাবেক লেক মার্কেট ভেঙে যে নতুন লেক মল তৈরি হয়েছে, সেখানে মূলত দু’ধরনের ব্যবসায়ী দোকান পেয়েছেন। এক দল, যাঁরা লেক মার্কেটের সাবেক ব্যবসায়ী। অন্য দল, যাঁদের বসিয়েছে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ। সাবেক ব্যবসায়ীদের যেখানে বর্গফুট পিছু চার থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয় পুরসভাকে, সেখানে নতুন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুরসভা পায় বর্গফুট পিছু এক টাকা ৬৩ পয়সা! ভাড়ায় এই বিপুল বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ অধিকাংশ পুরনো ব্যবসায়ী। তাঁদের বক্তব্য, পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থে লেক মার্কেট পুনর্গঠনের কথা কাগজে-কলমে বলা হলেও আদপে তার সুবিধা পাচ্ছেন কম ভাড়ায় থাকা ওই নতুন দোকানগুলি। পুরনো ব্যবসায়ীদের শুধু যে বেশি ভাড়া দিতে হয়, তা-ই নয়। তাঁরা নতুনদের তুলনায় যথেষ্ট পরিষেবাও পান না বলে অভিযোগ। পুরনো ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশকে বিশেষ সুবিধা দিতেই ব্যস্ত পুরসভা।
সাবেক ব্যবসায়ীদের অভিযোগের যথার্থতা মিলল মলে ঢুকেই। যে অংশটুকুতে নতুন ব্যবসায়ীদের বসানো হয়েছে, সেটুকু একেবারে ঝাঁ চকচকে। হাঁটতে গিয়ে পা পিছলে পড়ার অবস্থা! সেটা অবশ্য দোতলা থেকে উপরের দিকের অংশে। ঠিক তার উল্টো চিত্র একতলায়। যেখানে লেক মার্কেটের পুরনো প্রায় ৪৫০ দোকানকে কোনও ভাবে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে! সরু করিডরের দু’পাশে ভর্তি দোকান। আর দোকানের উপচে পড়া মালপত্রের কারণে দু’টো মানুষের পাশাপাশি হাঁটাও সমস্যার। এক পুরনো দোকানদারের কথায়, “এই মার্কেটের উন্নয়নের কথা ভেবে এক সময় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় পথে নেমেছিলেন। পরবর্তী কালে বাজারের উন্নয়নে পুর প্রশাসন বেসরকারি হাতে তা গড়ার ভার দেয়। মল তৈরি হলো বটে, তবে আমাদের দুর্ভোগ আর কাটল না!”
দুর্ভোগের ছবিটা কেমন?
সাবেক লেক মার্কেটের এক ব্যবসায়ী মহম্মদ ইউনিস জানান, পুরনো ব্যবসায়ীদের যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু দোকান খোলাই যায় না। কেন? ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, লেক মলের বেসমেন্টে গ্যারাজ তৈরি করেছে নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ। আর সেটা করতে গিয়ে মার্কেটের বাইরে থাকা ভ্যাটটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এক তলার বেশ কিছু দোকানের পাশে। এর পাশাপাশি আছে শৌচাগারের যন্ত্রণা। নীচে ৪৫০ দোকানের জন্য একই জায়গার মধ্যে তিনটে শৌচাগার! এবং সেটাও আবার ভ্যাটের পাশেই! ফলে দুর্গন্ধে সেখানে কেউ ঢুকতেই পারেন না। উপরের দিকের ছবিটা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য রকম। সেখানে কিন্তু ঝাঁ চকচকে শৌচাগার করে দিয়েছে নির্মাণ সংস্থা।
পুরনো ব্যবসায়ীদের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন শাসক দলের অনেক নেতা-কর্মীও। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার কথায়, “ভ্যাটের জন্য পাশেই থাকা বাড়ির ভাড়াটেরা ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন!” ঝাঁ চকচকে মলের একতলার করুণ দশা যে তাঁর দলকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা মেনে নিয়েছেন ওই নেতা। তাঁর কথায়, “মলের নির্মাণ সংস্থা যে অংশটুকু থেকে সেলামি পাবে, সেটুকু সাজিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়নি।” মহম্মদ ইউনিস জানান, প্রায় এক বছর আগে লেক মলের উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু এখনও গোটা তিরিশেক মাছ ব্যবসায়ীকে মলে জায়গা দেওয়া হয়নি। মাছ বাজারের বাইরে টিনের ছাউনি দিয়ে তাঁদের বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুরসভার বাজার দফতরের এক অফিসার জানান, লেক মলের বিষয়টি পুরসভার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ দেখছেন। তাঁদের কিছু করার নেই। ভেঙ্কটেশ-কর্তা শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর ফোন বেজেই গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভেঙ্কটেশের হাত ধরে ১৭টি সংস্থা লেক মলে ব্যবসা শুরু করেছে। পুরসভার এক আমলার কথায়, ১৯৮৭ সালের চুক্তিতে বলা ছিল, লেক মার্কেট পুনর্গঠন হলে প্রথমেই পুরনো দোকানগুলোকে পুনর্বাসন দিতে হবে এবং পুরসভার জন্য এক হাজার বর্গমিটার জায়গা দিতে হবে। এর পরে বাকি যে অংশ থাকবে, তা ভাড়া দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সেলামি নিয়ে ভাড়াটে খোঁজার ভার পাবে নির্মাণ সংস্থা। কিন্তু সেই ভাড়াটের সঙ্গে আলাদা চুক্তি হবে পুরসভার। পুরসভা ওই সব দোকান থেকে ভাড়া পাবে। কিন্তু লেক মলের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে জানান ওই আমলা। আরও অভিযোগ, শুধু সেলামি নয়, নির্মাণ সংস্থাটি নতুন দোকানগুলি থেকে বর্গফুট পিছু বেশি ভাড়াও নিচ্ছে। পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, ভেঙ্কটেশ যেখানে বর্গফুট পিছু প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে, সেখানে পুরসভা পাচ্ছে প্রতি বর্গফুটে মাত্র ১ টাকা ৬৩ পয়সা!
অনিয়মের কাহিনি এখানেই শেষ নয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, লেক মলের বেসমেন্টে নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ যে গ্যারাজ তৈরি করেছে, সেখানে চার চাকা গাড়ির জন্য ঘণ্টাপিছু নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। তিন ঘণ্টার বেশি হলে দিতে হচ্ছে ঘণ্টা প্রতি ৩০ টাকা। আর মোটরবাইকের জন্য ঘণ্টাপিছু ১০ টাকা। পুরসভার এক অফিসার জানান, গত বছর অগস্টেই ওই পার্কিং গ্যারাজ চালু হয়েছে। কিন্তু পুরসভাকে এ বাবদ কোনও ভাড়া এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলেই পুরসভা সূত্রের খবর। এ বিষয়ে তৃণমূলের একাধিক নেতার বক্তব্য, লেক মল খুব স্পর্শকাতর বিষয়। ৬০ বছরের লিজ চুক্তি দু’ভাগে ভাঙা তো এখন হলো। এর আগেও ওই মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের সুবিধার্থে নানা ‘অঘটন’ ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কী ভাবে? একাধিক ব্যবসায়ী এবং তৃণমূল নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত নীতি ছিল পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। লেক মলের সামনের রাস্তা খালি করতে তা-ও ভাঙা হয়েছে। এক প্রকার চাপ দিয়েই শ’খানেক দোকানদারকে সরানো হয়েছে।” এক তৃণমূল নেতার কথায়, “নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তায় বেআইনি ভাবে বসে থাকা হকারদের কিন্তু এখনও সরাতে পারেনি পুরসভা বা সরকার কেউই। অথচ ভেঙ্কটেশ সংস্থার স্বার্থে লেক মলের সামনে এমনটা করা হয়েছে।”

*******************
আরও পড়ুন - 
রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে, মমতার মতো, রাজ্যের এত বড় ক্ষতি আর কেহ কখনও করেন নি

হোমগার্ড নিয়োগে ব্যাপক দূর্নীতি