Showing posts with label democracy. Show all posts
Showing posts with label democracy. Show all posts

Thursday, November 27, 2014

Spineless Bengal Bureaucrats for the first time defy Minister's order! Change of Rulers, foreseen?

The Telegraph
Thursday , November 27 , 2014

Rare sighting: glint of a spine

THOSE WERE THE DAYS
Sir Humphrey Appleby, cabinet secretary: I see, what do you advise, Bernard?
Bernard Woolley, principal private secretary to the Prime Minister: I advise you to consider your position carefully, perhaps adopting a more flexible posture, while keeping your ear to the ground, covering your retreat and watching your rear.

Sir Humphrey: Thank you, Bernard. You’ve been a great help.
Woolley: Actually, Sir Humphrey, I haven’t told you anything.
Sir Humphrey: I should hope not, Bernard. That would have been most improper.
From A Real Partnership, the fifth episode of Yes, Prime Minister, 1986
If Bengal’s finest seek such advice now, the answer will probably be uncharacteristically direct and brief: “Whatever you do, make sure you don’t have to visit the CGO Complex.”
“The CGO Complex” is the sprawling property in Salt Lake that houses the offices of the CBI and the Enforcement Directorate, both of which are probing the Saradha scandal and generally robbing the state’s high and mighty of sleep.
Bureaucrats who used to confine themselves to “Yes, Minister” are now declining to sign on the dotted line and are sending files back to ministers if the content is controversial, multiple sources have told this newspaper.
The refusal to toe the line is not a show of defiance or rebellion but is born out of an eagerness to remain on the right side of the law.
“It is very clear that I do not want to visit the CGO Complex,” a senior IAS officer was quoted as telling a subordinate after refusing to sign a file that a minister had wanted him to clear.
The display of extreme caution by the officials marks a change. In the past few years when chief minister Mamata Banerjee appeared unassailable, officials had complied with the whims of the political leadership. Two of the most infamous instances were the arrest of a professor for circulating a joke on the chief minister, and the who’s who of the state bureaucracy being made to stand on a dais behind a politician who has been accused of murder.
But the uproar over the Saradha scandal and other controversies appears to have emboldened some bureaucrats to cite the rulebook when faced with unpalatable demands.
“Bureaucrats are like weather cocks…. Realising that the government is no longer what it used to be, they are unlikely to go overboard to please the ministers and they will play it by the book. I am not surprised,” said a senior minister.
One swallow does not a summer make, but the following are four instances where officials have refused to swallow the rules:
Sorry, no advance
The information and cultural affairs department — the chief minister is in charge of it — recently refused to clear a proposal given by a minister and a ruling party MP to pay an advance to 11 theatre teams that will take part in Natya Utsav, scheduled next month.
“The financial norms do not allow the department to make advance payments to the participants of any government programmes. But the minister and the MP had proposed to pay in advance 50 per cent of the remuneration the teams are supposed to get,” said an official.
The teams will be paid between Rs 2 lakh and Rs 12 lakh.
“Following pressure from the minister and the MP, the department had sent the proposal to the finance department seeking an approval. The finance department chose to play it safe. It did not give any clear view in writing or reject the proposal but verbally communicated that the rules did not allow such an advance,” said a finance department official.
“The I&CA department could have overlooked the rule and cleared it. But the file was sent to the chief minister who has the right to clear it as the minister in charge of the department,” said a source.
No order, no cash
The officials of the information and cultural affairs department resisted pressure to clear bills of over Rs 30 lakh in favour of an event management agency that had helped the government organise Mati Utsav and Sangeet Mela last year.
“The bills were not cleared as no work order was issued in favour of the agency. The financial norms don’t allow the officials to clear bills in the absence of a work order,” said an official.
According to sources, the agency was backed by a singer close to a powerful politician. “Initially, officials used to clear bills by using an emergency provision. But now the officials refuse to clear the bills,” a source said.
Mitra’s dilemma
This newspaper had reported on November 11 how the finance department had declined to clear splitting a 60-year deal into two 30-year terms for reconstructing Lake Mall. A clearance will help Srikant Mohta, the investor and a filmmaker, save over Rs 15 crore and cause a loss to the state exchequer.
Now it has come to light that finance minister Amit Mitra made another attempt to see whether the deal can be cleared.
But the effort has again drawn a blank, said a source. No government officer wants to be a party to the decision that would affect the state exchequer, the source said.
“Soon after the finance secretary refused to sign it, the minister had sent back the file to the law department once again though the state legal remembrancer had earlier put the ball in the finance department’s court. This time too, the law department has pointed out that the decision to give relief has to be taken by the finance department,” said a source.
Since the law department has not suggested a way out and the finance secretary did not change his stand, the minister has two options: reject the deal or send it up to the chief minister to take the final call.
Mitra could not be contacted for comment.
No waiver
The public works department (PWD) recently made it clear that it would not implement an instruction to allow a company to lay optical fibre cables for a 4G network along the roads maintained by it against a licence fee of Re 1 per square metre.
Sources said instructions were sent to the Calcutta Municipal Corporation (CMC) and the PWD to levy Re 1. “The CMC is charging the company Re 1 as it has no notified fee. But the PWD said it would not be able to waive the licence fee as it has specific rates as per a government notification issued on August 29, 2013,” said an official.
For PWD roads, the notification has fixed Rs 300 a sqm in rural areas, Rs 575 in municipal areas, Rs 2,300 in CMC areas and Rs 1,150 in non-CMC municipal corporation areas.
“The licence fee is for 15 years…. As the agencies use the PWD land, they are supposed to pay the amount. We cannot waive it until we get a written order from the department minister or top brass of the government,” said a PWD engineer.

Mamta took side of corrupt leaders of TMC

Friday, October 24, 2014

এসএসকেএম-এর গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে

এসএসকেএম-এর গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে

Last Updated: Thursday, October 23, 2014 - 09:26


এসএসকেএম-এর গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে
কলকাতা: এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল গণটোকাটুকির দুই পাণ্ডাকে। এসএসকে এমে ডাক্তারি পরীক্ষায় গণ টোকাটুকিতে মদত দেন টিএমসিপির দুই ছাত্র নেতা। চব্বিশ ঘণ্টার স্টিং অপারেশনে সেই ঘটনার পর্দাফাঁস হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই দুই ছাত্রনেতাকে কেন ঘেঁষতে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নির্বিকার তারও কোনও সদুত্তর নেই।
এসএসকেএমে এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা।  হলের মধ্যে ঢুকেই গণটোকাটুকিতে সাহায্য করছেন টিএমসিপির এসএসকেএম ইউনিটের দুই নেতা, সৌমাভ চ্যাটার্জি এবং  শুভজিত্‍ দত্ত। এবছর চৌঠা জুন চব্বিশ ঘণ্টার স্টিং অপারেশনের এই ছবি সম্প্রচারিত হওয়ার পরই তোলপাড় শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। ছমাস পেরোতে না পেরোতেই ওই দুই ছাত্রনেতাকে এবারে দেখা গেল একেবারে মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে।
বুধবার এসএসকেএমেঅনুষ্ঠানে  মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় আগাগোড়া তাঁর পিছনে দাড়িয়ে ছিলেন গণটোকাটুকিকাণ্ডে অভিযুক্ত টিএমসিপি নেতা শুভজিত্‍ দত্ত। গোটা অনুষ্ঠান জুড়েই মঞ্চে ছিলেন আরেক অভিযুক্ত নেতা সৌমাভ চ্যাটার্জি। কেন অভিযুক্ত দুই ছাত্র নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হল, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ।
গত জুনে চব্বিশ ঘণ্টায় গণটোকাটুকির খবরের জেরে নড়ে চড়ে বসেছিল চিকিত্‍সক মহল। এমনকী ওই পরীক্ষার ফলপ্রকাশ স্থগিত করে নতুন করে পরীক্ষা প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন উপাচার্য। চাপে পড়ে দুই অভিযুক্ত জুনিয়র ডাক্তারকে শোকজও করেছিলেন এসএসকেএমের অধ্যক্ষ প্রদীপ মিত্র। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় অবসর নিতেই যাবতীয় উদ্যোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। অভিযুক্ত সৌমাভ চ্যাটার্জি এখন আর কোনওভাবেই এসএসকেএমের সঙ্গে যুক্ত নন। চলতি বছরের জুলাইয়ে হাউসস্টাফশিপও শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর। ক্যাম্পাসের সঙ্গে যোগ না থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে থাকা অবশ্য বাধা হয়নি সৌমাভর কাছে।

আরও পড়ুন -
লেক মল, মমতা ঘনিষ্ট ব্যবসায়ীকে নামমাত্র দামে লিজ পাইয়ে দেওয়া হল

Another name of CORRUPTION is Mamta - Lake Mall lease contract violated to give aide, financial benefit

মমতা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে পুরসভার চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৩:২৬:৩৭


1

লেক মল উদ্বোধনে শ্রীকান্ত মোহতা, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

লিজ চুক্তি ভেঙে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডকে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাইয়ে দিল কলকাতা পুরবোর্ড। যার জেরে রাজস্ব বাবদ রাজ্য সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় কম হবে বলে জানাচ্ছেন পুরকর্তারাই।
পুরসভার হাতে থাকা লেক বাজারকে ভেঙে মল তৈরির ব্যাপারে ১৯৮৭ সালে বড়বাজারের অরুণ প্লাস্টিক প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল পুরসভার। পুর নথি অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর। এর পর অরুণ প্লাস্টিক লিমিটেড নাম পাল্টে হয় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেড। পুরনো মডেল লিজ চুক্তির সূত্র ধরে ২০১০ সালে তাদের সঙ্গে ফের চুক্তি করে পুরসভা। কিন্তু সম্প্রতি ৬০ বছরের চুক্তিকে ভেঙে দু’ভাগ করে ৩০ বছর মেয়াদের দু’টি চুক্তি করার আবেদন জানায় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন। গত ১১ সেপ্টেম্বর পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠকে সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে।
লিজ চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে কী ভাবে?
সরকারি আইন অনুযায়ী, লিজ চুক্তি ৩০ বছরের বেশি হলে লিজ রেজিস্ট্রেশন করাতে সম্পত্তির বাজার দর (মার্কেট ভ্যালু) ধরে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়। কিন্তু ৩০ বছর বা তার কম হলে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয় গড় লিজ ভাড়ার (অ্যাভারেজ লিজ রেন্ট) ভিত্তিতে। এই হিসেবে লিজ চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর থাকলে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ২৪ কোটি টাকা। এখন চুক্তি দু’ভাগে ভাঙার ফলে দিতে হবে মাত্র ৭ লক্ষ টাকা। শুধু স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিপুল ছাড়ই নয়, লিজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে পুরসভা। আর একটি পুনর্নির্মিত পুরবাজার নিউ আলিপুর মার্কেটের ডেভেলপারের ক্ষেত্রে যখন লিজ ভাড়ার পরিমাণ বর্গফুট পিছু ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করা হয়েছে, তখন লেক মলের ক্ষেত্রে তা ১ টাকা ৬৩ পয়সাতেই বেঁধে রাখা হয়েছে।
কে এই ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন? যাদের জন্য পুরসভার এই বদান্যতা!
এক পুরকর্তার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকায় রাজ্যে যে কয়েক জন শিল্পোদ্যোগীর নাম রয়েছে, তাঁদেরই এক জন সিনেমা প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন সংস্থার কর্ণধার তিনিই।” গত বছর লেক মলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চেই ভেঙ্কটেশ কর্তার প্রশংসা করেন তিনি। এ বার সেই সংস্থাকে ‘তুষ্ট’ রাখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরবোর্ড। যাকে অনিয়ম বলেই বলে মনে করছেন পুরসভার একাধিক আধিকারিক, এমনকী কাউন্সিলররাও। তৃণমূলেরই এক কাউন্সিলরের কথায়, “ভেঙ্কটেশ সংস্থার কর্ণধার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন। তাই নিয়ম ভেঙে তাঁকে খুশ করা হচ্ছে।” প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “শুরু থেকেই এই পুরবোর্ড ধান্দাবাজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে। শুধু লেক মল নয়, এমন ঘটনা আরও আছে।”
অথচ ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের আবেদন মানা যাবে না বলে গত ৩০ জুনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল মেয়র পারিষদের বৈঠকে। সংস্থার প্রস্তাব ছিল, মোট ৬০ বছরের চুক্তির প্রথম ৩০ বছর ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন এবং বাকি ৩০ বছর তাদেরই নমিনি মেসার্স বি এম লেসার্স এলএলপি’র নামে দেওয়া হোক। সেই প্রস্তাব বাতিল করে তখন পুরনো লিজ চুক্তি মেনে চলারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 
পুরসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি নিজের চেম্বারে ভেঙ্কটেশের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর তার পরেই ১১ সেপ্টেম্বর মেয়র পারিষদের বৈঠকে ভেঙ্কটেশ সংস্থার আবেদন অনুমোদন করে পুরবোর্ড। যদিও এই প্রস্তাব মেনে লিজের মেয়াদ ভাগ করে দিলে যে রাজস্ব আদায় কমবে, সে কথা লিখিত নোট দিয়ে পুর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিল পুরসভার অর্থ দফতর। সেই আপত্তি উপেক্ষা করে বিশেষ একটি সংস্থাকে ‘সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পুরসভার অন্দরমহলে।
লেক মলে মোট জায়গার পরিমাণ ১৯ হাজার ৯২৫ বর্গ মিটার। লিজ চুক্তি অনুযায়ী পুরনো বাজারের সব দোকানদারকে পুনর্বাসন দিতে গিয়ে একতলায় ৩২৯৮ বর্গমিটার জায়গা খরচ হয়েছে। ৬ ও ৭ তলায় পুরসভাকে দিতে হয়েছে এক হাজার বর্গমিটার জায়গা। বাকি ১৫ হাজার বর্গমিটার বা ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৪০ বর্গফুট জায়গা পুরসভার অনুমতি নিয়ে ভাড়া দিতে পারবে নির্মাতা সংস্থা। এই জায়গাটুকুই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে তাদের।
রাজ্য সরকারের স্ট্যাম্প ডিউটি আইন অনুযায়ী (ইন্ডিয়ান স্ট্যাম্প, ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০১২) লিজ চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজার দরের উপর ৭ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে। লেক মল এলাকায় বাণিজ্যিক নির্মাণের বাজারদর এখন বর্গফুট পিছু ২০ হাজার টাকারও বেশি। সেই হিসেবে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৪০ বর্গফুটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা। সুতরাং রেজিস্ট্রেশনের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ২৪ কোটি টাকা।
কিন্তু ৩০ বছর বা তার কম সময়ের জন্য কোনও লিজ চুক্তির রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে যে হেতু লিজ ভাড়ার ভিত্তিতে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়, সে হেতু এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়ার হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন। তাদের সঙ্গে পুরসভার লিজ ভাড়া চুক্তি হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ লাগবে মাত্র ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯০১ টাকা।
ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরসভার যুক্তি কী? একাধিক কাউন্সিলরের কথায়, “পিপিপি মডেলের বিষয়টি মেয়র নিজেই দেখেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায়ও তাঁকেই নিতে হবে।”
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “চুক্তি যা হয়েছিল, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করেছি। সরকারের কোনও লোকসান হবে না।” যদিও পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চুক্তিতে যদি এমনটা থাকত, তা হলে অর্থ দফতর ওই নোট দিত না। ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কোনও কথা বলব না।” শুধু স্ট্যাম্প ডিউটি নয়, লিজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভেঙ্কটেশকে সুবিধা দিচ্ছে পুরসভা। নিউ আলিপুর মার্কেটের ডেভেলপারকে এত কাল প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা করে ভাড়া মেটাতে হতো পুরসভাকে। ওই সংস্থার সঙ্গেও পুরসভার চুক্তি হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। গত ১১ অগস্ট পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই সংস্থাকে প্রতি বর্গফুটের জন্য ২ টাকার পরিবর্তে ৪ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। অথচ লেক মলের ক্ষেত্রে কোনও ভাড়া বাড়ানো হয়নি। সেই ১ টাকা ৬৩ পয়সা হারই বজায় রয়েছে।
একই ধরনের দু’টি বাজারের ক্ষেত্রে দু’রকম সিদ্ধান্ত কেন?
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “লেক মলের ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেখানে ভাড়া বাড়ানোর কোনও কথা বলা নেই। তাই ভাড়া বাড়ানো হয়নি।” যদিও এক পুর-অফিসারের কথায়, নিউ আলিপুর বাজারের নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতেও ভাড়া বাড়ানোর কোনও কথা ছিল না। সময়ের পরিবর্তনের কথা ভেবেই তা বাড়ানো হয়েছে। একই ভাবে লেক মলেরও ভাড়া বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু ‘বিশেষ’ কারণে তা হয়নি। পুরসভার এক অফিসারের কথায়, “লেক মলের দোতলায় একটি সংস্থার কাছ থেকে ভেঙ্কটেশ সংস্থা ভাড়া নিচ্ছে প্রতি বর্গফুটে ৩৫ টাকা। অথচ পুরসভাকে দিচ্ছে মাত্র ১ টাকা ৬৩ পয়সা।” 
আরও অভিযোগ, ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন একাধিক সংস্থার কাছ থেকে সেলামি নিয়ে লেক মলে জায়গা দিয়েছে। সেই সব সংস্থার সঙ্গে লিজ চুক্তিও করেছে। যদিও পুরসভার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, তা তারা করতে পারে না। এ সবই পুরসভার কর্তারা জানেন। তা সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ সংস্থার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

***********

লেক মল চুক্তি

1515

চটজলদি সইসাবুদ সেরে নিল পুরসভা

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৩:৩৩:১৯





4

সোমবার সন্ধ্যায় পুরভবনে হঠাৎ শ্রীকান্ত মোহতা। ছবি: রণজিৎ নন্দী

লেক মলের নির্মাণ সংস্থাকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিতে লিজ চুক্তি দু’ভাগ করার বিষয়টিকে কয়লা খনি বণ্টন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করল বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে পুজোর পরেই পুরোদস্তুর ময়দানে নামা, এমনকী প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে তারা। বামেরাও এ নিয়ে আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বসে নেই কলকাতা পুরসভা। ওই চুক্তির রেজিস্ট্রি যাতে কোনও ভাবে আটকে না যায়, সে জন্য এ দিনই তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ কর্তাকে পুরভবনে ডেকে সইসাবুদ করিয়ে নেয় পুর প্রশাসন।
কেন পুরসভার তরফে ওই তৎপরতা?
পুরসভার এক আমলা জানান, আজ, মঙ্গলবার থেকে পুজোর ছুটি পড়ছে। ছুটির পর প্রথম দিনেই যাতে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলা যায়, এ দিন তার ব্যবস্থা করে রাখা হলো। চুক্তিটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা এড়াতেই এই তৎপরতা বলে জানান তিনি।
১৯৮৭ সালে হওয়া লিজ চুক্তি যে ভাবে শর্ত ভেঙে দু’ভাগ করা হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি এবং বামেরা। রাহুলবাবু সোমবার বলেন, “৩০ বছর পরে আরও ৩০ বছরের চুক্তি পুরসভা এখন করতে পারে না। ৩০ বছর পরে কে কোথায় থাকবে, কে কী করবে, কিছুই এখন নিশ্চিত করে বলা যায় না। তা হলে ৩০ বছর পরের চুক্তি কেমন করে এখন করা সম্ভব? সুতরাং, দ্বিতীয় পর্বের চুক্তি বেআইনি। তার মানে প্রথমটাও অবৈধ!” রাহুলবাবু জানান, দলের আইনজীবী সেলকে তিনি পুরো চুক্তি খুঁটিয়ে পড়ে আইনি পরামর্শ দিতে বলেছেন।
প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরসভা যে ভাবে চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ করেছে, তা করা যায় না। তা অনৈতিক এবং অন্যায়। নয়া চুক্তি আটকাতে তাঁরা আইনের পথে হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র।
বিরোধীদের এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা কি এ ভাবে চুক্তি ভাগ করতে পারে?
এ নিয়ে পুরসভার তরফে একাধিক ব্যাখ্যা মিলেছে। পদস্থ এক আমলার কথায়, “এটা আইনসম্মত নয়। চুক্তি ৬০ বছরের। কারও সুবিধার জন্য তার খেলাপ করা ঠিক নয় জেনেও চুপ করে থাকতে হয়েছে। কারণ এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত।” পুরসভারই অন্য এক অফিসারের আবার বক্তব্য, “লিজ চুক্তির সময়সীমা দু’ভাগে ভাগ করায় সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হবে এটা সত্য, তবে ভাগ করার বিষয়টা নিয়মবিরুদ্ধ নয়।”
পুরসভা সূত্রের খবর, গত ১১ সেপ্টেম্বর মেয়র পারিষদ বৈঠকে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের দেওয়া লিজ চুক্তি দু’ভাগ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এ দিন আনন্দবাজারে সেই খবর প্রকাশিত হতেই চুক্তি রেজিস্ট্রি করার জন্য বয়ান তৈরির কাজে তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। বিকেলেই মেয়র-সহ প্রায় সব মেয়র পারিষদ অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে সন্ধ্যায় পুরসভার বাজার ও আইন দফতরের অফিসারদের থাকতে বলা হয়। এমনকী রেজিস্ট্রেশনের বয়ানে বাজার দফতরের অফিসারদের সইসাবুদও করিয়ে রাখা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ভেঙ্কটেশের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতা পুরসভায় আসেন। তখন অবশ্য বাজার দফতরের তিন অফিসারের মধ্যে মাত্র এক জন উপস্থিত ছিলেন। ওই অবস্থাতেই ভেঙ্কটেশের কর্ণধার সইসাবুদ সেরে দ্রুত বেরিয়ে যান।
পুরসভার একটি সূত্রের অভিযোগ, লেক মলের মালিক কাগজে-কলমে কলকাতা পুরসভা হলেও বাজারটির কোন জায়গা কাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা জানেনই না পুরকর্তারা! জানা গিয়েছে, ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থার কাছ থেকে প্রচুর টাকা সেলামি নিয়ে লেক মলে তাদের জায়গা দিয়েছে। এমনকী তাদের সাব লিজও দিয়েছে। অথচ পুর নিয়ম অনুসারে, অন্য কোনও সংস্থাকে সাব-লিজ দিতে গেলে পুরসভাকে তা আগাম জানাতেই হবে। জানাতে হবে, কত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা-ও। অথচ ভেঙ্কটেশের ক্ষেত্রে কোনও নিয়মই মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন পুরসভার এক কর্তা।
কেন এমনটা হচ্ছে? ওই কর্তার মন্তব্য, “লেক মল নিয়ে কোনও প্রশ্ন করবেন না। ওই মলের যা কিছু সিদ্ধান্ত সবই উপরতলা থেকে আসছে।” পুরকর্তারা সবই জানেন। তা সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ সংস্থার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।  
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির ব্যাখ্যা, পুরভোটের আগে দলের নির্বাচন লড়ার টাকা জোগাড়ের জন্য তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে পুরসভা। রাহুলবাবুর কথায়, “সামনে পুরভোট। তৃণমূল জানে, সোজা পথে তারা পুরভোটে জিততে পারবে না। তাই এখন ক্লাবকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সুদীপ্ত সেন তো জেলে! তা হলে টাকা আসবে কোথা থেকে? নতুন এক সুদীপ্ত সেনের খোঁজ পেয়েছে তৃণমূল। সেই অর্থে পুরভোট জেতার পরিকল্পনা করেছে তারা।” ৬০ বছরের চুক্তিকে দু’ভাগে ভাগ করার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুজোর পরে লেক মলের সামনে ‘ঘেরাও অভিযান’ শুরু করবে বিজেপি।

*****************

দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধীদের, নীরব মেয়র

পরোয়া নেই ক্ষতির, পাশ লেক মল চুক্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা

২২ অক্টোবর, ২০১৪, ০২:৩৪:৪৭


1

পুর অধিবেশনে বাম কাউন্সিলরদের প্রতিবাদী পোস্টার। ছবি: প্রদীপ আদক

রাজ্য সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনাকে আমল না দিয়েই বিতর্কিত লেক মল চুক্তিটি পুরসভার অধিবেশনে পাশ করিয়ে নিল তৃণমূল। ওই চুক্তিতে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডকে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু সভায় হাজির থাকা সত্ত্বেও নিজে মুখ খোলেননি মেয়র। উল্টে বক্তৃতা দিতে এগিয়ে দেন মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারকে। যিনি বলেন, “চুক্তিতে যা রয়েছে, তাতে ভেঙ্কটেশ যা বলবে, তা-ই আমাদের করতে হবে।”
পুরসভার হাতে থাকা লেক বাজারকে ভেঙে পিপিপি মডেলে লেক মল তৈরির ব্যাপারে ১৯৮৭ সালে বড়বাজারের অরুণ প্লাস্টিকের (পরে যার নাম পাল্টে হয় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন) সঙ্গে ৬০ বছরের লিজ চুক্তি হয়েছিল পুরসভার। যদিও সেই মূল চুক্তিপত্রের খোঁজ মিলছে না। সম্প্রতি পুরনো চুক্তিটি ৩০ বছর করে দু’ভাগে ভেঙে ভেঙ্কটেশ কর্তৃপক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। হিসেব বলছে, চুক্তিটি দু’ভাগে ভাঙার ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ প্রায় ২৪ কোটি টাকা ক্ষতি হবে সরকারের। কারণ, এ ক্ষেত্রে ভেঙ্কটেশকে বাজার দরের পরিবর্তে লিজ ভাড়া অনুযায়ী স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হচ্ছে। চুক্তি পিছু যা মেরেকেটে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।
কারও কারও মতে, ‘ভেঙ্কটেশ যা বলবে’ বলতে দেবব্রতবাবু এ দিন বুঝিয়েছেন যে, ভেঙ্কটেশ কর্তৃপক্ষ পুরনো চুক্তিটিকে যত ভাগে ইচ্ছে ভাঙতে পারেন। কারণ, তাঁদের সঙ্গে আগে থেকেই ৬০ বছরের চুক্তি হয়ে  রয়েছে। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী সিপিএমের রূপা বাগচী, কংগ্রেসের মালা রায়-রা এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন যে চুক্তি পুরসভা থেকেই উধাও, তাতে কী লেখা ছিল দেবব্রতবাবু জানলেন কী করে?
বিপুল রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে গত শুক্রবার পুরভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ ওই চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। তার দিন কয়েক আগে মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দেন বাম কাউন্সিলররা। মেয়রের কুশপুতুল দাহ করেছিল কংগ্রেসও। এর পর মঙ্গলবার উত্তাল হলো পুরসভার অধিবেশন কক্ষ।
এ দিনের অধিবেশনে চুক্তিটি পাশ করার জন্য তোলার আগে আলোচনার সুযোগ দেন পুরসভার চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে মালাদেবী বলেন, “মূল চুক্তিটি উধাও। তা হলে কোন চুক্তির ভিত্তিতে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি করা হল, তা জানানো হোক।” ওই চুক্তি বাতিলের দাবি তোলেন তিনি। একই দাবি করে রূপাদেবী বলেন, “পুরসভা চরম আর্থিক সংকটের মুখে। ঋণের বোঝায় ব্যতিব্যস্ত সরকারও। সেই সময় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভেঙ্কটেশ সংস্থাকে বিশেষ সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার এই ঘটনা জনস্বার্থ বিরোধী। দুর্নীতিও।” বিজেপির বিজয় ওঝা বলেন, “বিশেষ কাউকে সুযোগ দেওয়ার আগে পুর প্রশাসনের ভাবা উচিত ছিল, সরকারের ক্ষতি হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, জনগণের কাছে তাঁরা দায়বদ্ধ, কোনও চলচ্চিত্র নির্মাতার কাছে নন।
পুরসভা সূত্রের বক্তব্য, পিপিপি মডেলে প্রকল্পের দায়িত্ব মেয়রের।  তাই তাঁর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা। কিন্তু তিনি কোনও জবাব না দিতেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বলতে দেওয়া হয়নি মেয়র পারিষদ (বাজার) তারক সিংহকেও। পাল্টা গলা চড়ান শাসক দলের কাউন্সলিররাও। বিজেপির এক সদস্য ছাড়া বিরোধীরা সকলেই প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ করেন। তার পরে মেয়র পারিষদ দেবব্রতবাবু বলেন, বিরোধীরা চুক্তি পড়েননি বলেই ‘ভুলভাল’ কথা বলেছেন। শাসক দলের সংখ্যাধিক্যের জেরেই বিনা বাধায় চুক্তিটি সভায় পাশ হয়ে যায়। দেবব্রতবাবু ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমে যাওয়া নিয়ে কিছু বলতে চাননি। ফলে পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এই মেয়র পারিষদকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা।

*******************

লেক মল

মূল চুক্তিই গায়েব, নয়া মোড় ভেঙ্কটেশ-বিতর্কে

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

১৬ অক্টোবর, ২০১৪, ০২:২৩:২৮


মূল চুক্তিপত্র বহু দিন হল গায়েব। অথচ তারই প্রতিলিপির ভিত্তিতে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে নতুন ভাবে (সাপ্লিমেন্টারি) চুক্তি করেছে কলকাতা পুরসভা, যার মারফত ষাট বছরের লিজ-চুক্তিকে তিরিশ বছর করে দু’ভাগে ভেঙে লেক মলের ওই ডেভেলপার সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় কমছে।
লিজ-মেয়াদে ‘অবৈধ’ বিভাজনের খবর আনন্দবাজারে প্রকাশিত হওয়ার পরে ইতিমধ্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মূল চুক্তিপত্র বেপাত্তা হওয়ার নতুন তথ্যের ইন্ধনে যা আরও জোরদার। প্রশ্ন উঠেছে, মূল যে চুক্তিপত্রের হদিসই নেই, তার জের টেনে কী ভাবে ভেঙ্কটেশের সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি করা হল? পুর-কর্তারা মুখ খুলতে নারাজ। মেয়রের দাবি, চুক্তিপত্র উধাওয়ের কথা তিনি জানেন না।
পুর-সূত্রের খবর: লেক মল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১৯৮৭-তে বড়বাজারের সংস্থা অরুণ প্লাস্টিকের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার চুক্তি হয়েছিল। পুরসভার নথি বলছে, সাতাশ বছর আগের সে চুক্তির কপি পুরভবন থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে অনেক দিন আগে। এমনকী, ডেভেলপার সংস্থার কাছে মূল চুক্তিপত্রের যে কপি থাকার কথা, তা-ও নেই। পুরসভার এক আমলা বলছেন, “গত বছর লেক মল উদ্বোধনের সময় অরুণ প্লাস্টিকের সঙ্গে হওয়া পুরনো চুক্তির কাগজপত্রের খোঁজ পড়েছিল। কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেল, পুরসভার কপি উধাও। আর ডেভেলপার কোম্পানির কাছে থাকা কপি নাকি পুড়ে গিয়েছে!”
চুক্তিকারী দু’পক্ষের হেফাজতে থাকা চুক্তিপত্রের দু’টো প্রতিলিপি-ই এ ভাবে একসঙ্গে বেপাত্তা হয়ে যাওয়াটা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে। পুর-সূত্রের খবর, কয়েক জন পুর-অফিসারও ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে শীর্ষকর্তারা নীরব থাকায় ওঁরা বিশেষ উচ্চবাচ্য করার সাহস দেখাননি। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, তা হলে পুরনো কোন চুক্তিপত্রের রেশ টেনে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডের (যা কিনা অরুণ প্লাস্টিকেরই নামান্তর) সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি হল?
এখানেও অনিয়মের আঁচ। এক পুর-আধিকারিকের বক্তব্য, বছর নয়েক আগে, ২০০৫-এ পুরসভার তদানীন্তন ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার একটি কাগজ ‘সার্টিফাই’ করে জানিয়েছিলেন, সেটাই পুরনো চুক্তির প্রতিলিপি। তারই ভিত্তিতে ভেঙ্কটেশের হাতে লেক মল সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “ঘটনা হল, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্রান্ত কোনও কাগজকে এ ভাবে মূল নথির প্রতিলিপি হিসেবে সার্টিফাই করার এক্তিয়ার ওঁর ছিল না। তবু সেটা গ্রহণ করা হল কেন, তা নিয়ে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক।” মন্তব্য করেন আধিকারিকটি। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট ওই ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘ কাল কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং দফতরের ডিজি পদে ছিলেন। পুরসভার যুগ্ম কমিশনারের অফিসের খবর, ওঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পুরবোর্ডের আমলেই ওঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এক্তিয়ার-বহির্ভূত কাজেই শেষ নয়। আসল চুক্তির প্রতিলিপি হিসেবে খাড়া করা সতেরো পাতার ওই চুক্তিপত্রে নানা অসঙ্গতিও রয়েছে বলে মত পুরসভার একাধিক আমলার।
কী রকম? ওঁদের দাবি: আসল চুক্তিপত্রটি সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৮৭-তে। অথচ ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সার্টিফাই করা প্রতিলিপিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে নোটারির স্বাক্ষর ২০০৩-এর! পুরসভার আইন দফতরের এক অফিসার বলেন, “১৯৮৭-তে সম্পাদিত চুক্তিতে নোটারির সই হবে সে বছরেরই। ষোলো বছর পিছিয়ে যাওয়াটা ঘোরতর সন্দেহজনক।” উপরন্তু একেবারে শেষ পাতায় তত্‌কালীন পুর-সচিব ও পুর-কমিশনারের সই থাকলেও তাতে তারিখ নেই। এমনকী, দুই অফিসারের কোনও সিলমোহরও নেই!
এ হেন বিবিধ গুরুতর অসঙ্গতিতে ভরা নথিটি নিয়ে পুর-কর্তৃপক্ষ রীতিমতো বিব্রত। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে পাঠানো একটি চিঠি ওঁদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। পুরসভার আইন দফতরের খবর, হাইকোর্টের এক আইনজীবী মূল চুক্তিপত্র দেখতে চেয়ে চিঠিটি দিয়েছেন। “চুক্তির কাগজ তো হাপিস! চিঠির কী উত্তর দেওয়া হবে, উপরওয়ালাদের কাছেই জানতে চাইব।” মন্তব্য এক অফিসারের। পুরসভার উপরওয়ালারা কী বলেন? মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মূল চুক্তিপত্র নিখোঁজ হওয়ার খবর তিনি জানেনই না। “একটা চুক্তি তো দেখেছি!”— বুধবার বলেন তিনি। সেটা যে সার্টিফায়েড কপি, তা শোনার পরে মেয়রের প্রতিক্রিয়া, “তাতেই তো হবে!” স্রেফ ‘সার্টিফায়েড’ কপির ভিত্তিতে এমন একটি প্রকল্প রূপায়ণের নতুন চুক্তি করা যায় কি না, সে সংক্রান্ত আইনি বিষয়ে মেয়র কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পদে পদে বিতর্কের ঝুঁকি রেখেও নতুন চুক্তির পথে পুরসভা এগোল কেন?
এক আমলার ব্যাখ্যা, “পুরনো চুক্তিপত্র না-থাকায় নতুন চুক্তি সম্পাদনে আইনত বাধা ছিল। তাই সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি, যাতে ব্যাপারটায় খানিকটা হলেও আইনি তকমা দেওয়া যায়। ভেঙ্কটেশকে নতুন ভাবে দায়িত্ব দিতে হলে এমন একটা কিছু করতেই হতো।” মল সংস্কারের দায়িত্বে ভেঙ্কটেশকেই আনার এ হেন মরিয়া তাগিদ প্রসঙ্গে অবশ্য ‘প্রভাবশালীদের পাইয়ে দেওয়া’র তত্ত্বই ঘোরাফেরা করছে পুরভবনের অন্দরে। বস্তুত লেক মল বিতর্ক ফাঁস হতেই, পুজোর ছুটি পড়ার আগের রাতে লিজ-মেয়াদ বিভাজনের নতুন চুক্তিতে তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ-কর্তাদের সইসাবুদ সেরে ফেলে পুরসভা। তা রেজিস্ট্রেশন করাতে সোমবার ভেঙ্কটেশ-কর্তা শ্রীকান্ত মোহতা পুরভবনে হাজির হয়েছিলেন। অন্য দিকে ভেঙ্কটেশ-চুক্তির জেরে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে সোমবারই মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সিপিএম কাউন্সিলরেরা। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচির ঘোষণা, “২১ তারিখের পুর-অধিবেশনে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সে দিন প্রতিবাদ জানাব।” আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেসও। মঙ্গলবার পুরভবনের সামনে কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রকাশ উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মেয়রের কুশপুতুল দাহ হয়েছে। কাল, শুক্রবার ওখানে বিজেপি’র বিক্ষোভ দেখানোর কথা।

**********

লেক মলে পুরনোরা ব্রাত্য, সুবিধা নতুনদেরই

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ১ অক্টোবর, ২০১৪, ০৩:৩৩:২৪

সাবেক লেক মার্কেট ভেঙে যে নতুন লেক মল তৈরি হয়েছে, সেখানে মূলত দু’ধরনের ব্যবসায়ী দোকান পেয়েছেন। এক দল, যাঁরা লেক মার্কেটের সাবেক ব্যবসায়ী। অন্য দল, যাঁদের বসিয়েছে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ। সাবেক ব্যবসায়ীদের যেখানে বর্গফুট পিছু চার থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয় পুরসভাকে, সেখানে নতুন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুরসভা পায় বর্গফুট পিছু এক টাকা ৬৩ পয়সা! ভাড়ায় এই বিপুল বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ অধিকাংশ পুরনো ব্যবসায়ী। তাঁদের বক্তব্য, পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থে লেক মার্কেট পুনর্গঠনের কথা কাগজে-কলমে বলা হলেও আদপে তার সুবিধা পাচ্ছেন কম ভাড়ায় থাকা ওই নতুন দোকানগুলি। পুরনো ব্যবসায়ীদের শুধু যে বেশি ভাড়া দিতে হয়, তা-ই নয়। তাঁরা নতুনদের তুলনায় যথেষ্ট পরিষেবাও পান না বলে অভিযোগ। পুরনো ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশকে বিশেষ সুবিধা দিতেই ব্যস্ত পুরসভা।
সাবেক ব্যবসায়ীদের অভিযোগের যথার্থতা মিলল মলে ঢুকেই। যে অংশটুকুতে নতুন ব্যবসায়ীদের বসানো হয়েছে, সেটুকু একেবারে ঝাঁ চকচকে। হাঁটতে গিয়ে পা পিছলে পড়ার অবস্থা! সেটা অবশ্য দোতলা থেকে উপরের দিকের অংশে। ঠিক তার উল্টো চিত্র একতলায়। যেখানে লেক মার্কেটের পুরনো প্রায় ৪৫০ দোকানকে কোনও ভাবে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে! সরু করিডরের দু’পাশে ভর্তি দোকান। আর দোকানের উপচে পড়া মালপত্রের কারণে দু’টো মানুষের পাশাপাশি হাঁটাও সমস্যার। এক পুরনো দোকানদারের কথায়, “এই মার্কেটের উন্নয়নের কথা ভেবে এক সময় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় পথে নেমেছিলেন। পরবর্তী কালে বাজারের উন্নয়নে পুর প্রশাসন বেসরকারি হাতে তা গড়ার ভার দেয়। মল তৈরি হলো বটে, তবে আমাদের দুর্ভোগ আর কাটল না!”
দুর্ভোগের ছবিটা কেমন?
সাবেক লেক মার্কেটের এক ব্যবসায়ী মহম্মদ ইউনিস জানান, পুরনো ব্যবসায়ীদের যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু দোকান খোলাই যায় না। কেন? ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, লেক মলের বেসমেন্টে গ্যারাজ তৈরি করেছে নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ। আর সেটা করতে গিয়ে মার্কেটের বাইরে থাকা ভ্যাটটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এক তলার বেশ কিছু দোকানের পাশে। এর পাশাপাশি আছে শৌচাগারের যন্ত্রণা। নীচে ৪৫০ দোকানের জন্য একই জায়গার মধ্যে তিনটে শৌচাগার! এবং সেটাও আবার ভ্যাটের পাশেই! ফলে দুর্গন্ধে সেখানে কেউ ঢুকতেই পারেন না। উপরের দিকের ছবিটা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য রকম। সেখানে কিন্তু ঝাঁ চকচকে শৌচাগার করে দিয়েছে নির্মাণ সংস্থা।
পুরনো ব্যবসায়ীদের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন শাসক দলের অনেক নেতা-কর্মীও। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার কথায়, “ভ্যাটের জন্য পাশেই থাকা বাড়ির ভাড়াটেরা ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন!” ঝাঁ চকচকে মলের একতলার করুণ দশা যে তাঁর দলকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা মেনে নিয়েছেন ওই নেতা। তাঁর কথায়, “মলের নির্মাণ সংস্থা যে অংশটুকু থেকে সেলামি পাবে, সেটুকু সাজিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়নি।” মহম্মদ ইউনিস জানান, প্রায় এক বছর আগে লেক মলের উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু এখনও গোটা তিরিশেক মাছ ব্যবসায়ীকে মলে জায়গা দেওয়া হয়নি। মাছ বাজারের বাইরে টিনের ছাউনি দিয়ে তাঁদের বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুরসভার বাজার দফতরের এক অফিসার জানান, লেক মলের বিষয়টি পুরসভার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ দেখছেন। তাঁদের কিছু করার নেই। ভেঙ্কটেশ-কর্তা শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর ফোন বেজেই গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভেঙ্কটেশের হাত ধরে ১৭টি সংস্থা লেক মলে ব্যবসা শুরু করেছে। পুরসভার এক আমলার কথায়, ১৯৮৭ সালের চুক্তিতে বলা ছিল, লেক মার্কেট পুনর্গঠন হলে প্রথমেই পুরনো দোকানগুলোকে পুনর্বাসন দিতে হবে এবং পুরসভার জন্য এক হাজার বর্গমিটার জায়গা দিতে হবে। এর পরে বাকি যে অংশ থাকবে, তা ভাড়া দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সেলামি নিয়ে ভাড়াটে খোঁজার ভার পাবে নির্মাণ সংস্থা। কিন্তু সেই ভাড়াটের সঙ্গে আলাদা চুক্তি হবে পুরসভার। পুরসভা ওই সব দোকান থেকে ভাড়া পাবে। কিন্তু লেক মলের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে জানান ওই আমলা। আরও অভিযোগ, শুধু সেলামি নয়, নির্মাণ সংস্থাটি নতুন দোকানগুলি থেকে বর্গফুট পিছু বেশি ভাড়াও নিচ্ছে। পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, ভেঙ্কটেশ যেখানে বর্গফুট পিছু প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে, সেখানে পুরসভা পাচ্ছে প্রতি বর্গফুটে মাত্র ১ টাকা ৬৩ পয়সা!
অনিয়মের কাহিনি এখানেই শেষ নয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, লেক মলের বেসমেন্টে নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ যে গ্যারাজ তৈরি করেছে, সেখানে চার চাকা গাড়ির জন্য ঘণ্টাপিছু নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। তিন ঘণ্টার বেশি হলে দিতে হচ্ছে ঘণ্টা প্রতি ৩০ টাকা। আর মোটরবাইকের জন্য ঘণ্টাপিছু ১০ টাকা। পুরসভার এক অফিসার জানান, গত বছর অগস্টেই ওই পার্কিং গ্যারাজ চালু হয়েছে। কিন্তু পুরসভাকে এ বাবদ কোনও ভাড়া এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলেই পুরসভা সূত্রের খবর। এ বিষয়ে তৃণমূলের একাধিক নেতার বক্তব্য, লেক মল খুব স্পর্শকাতর বিষয়। ৬০ বছরের লিজ চুক্তি দু’ভাগে ভাঙা তো এখন হলো। এর আগেও ওই মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের সুবিধার্থে নানা ‘অঘটন’ ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কী ভাবে? একাধিক ব্যবসায়ী এবং তৃণমূল নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত নীতি ছিল পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। লেক মলের সামনের রাস্তা খালি করতে তা-ও ভাঙা হয়েছে। এক প্রকার চাপ দিয়েই শ’খানেক দোকানদারকে সরানো হয়েছে।” এক তৃণমূল নেতার কথায়, “নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তায় বেআইনি ভাবে বসে থাকা হকারদের কিন্তু এখনও সরাতে পারেনি পুরসভা বা সরকার কেউই। অথচ ভেঙ্কটেশ সংস্থার স্বার্থে লেক মলের সামনে এমনটা করা হয়েছে।”

*******************
আরও পড়ুন - 
রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে, মমতার মতো, রাজ্যের এত বড় ক্ষতি আর কেহ কখনও করেন নি

হোমগার্ড নিয়োগে ব্যাপক দূর্নীতি 



Thursday, October 23, 2014

Defunct Human Rights commission and State administration on West Bengal

সম্পাদকীয় ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

সর্বনাশের আগে

২২ অক্টোবর, ২০১৪, 


মনুস্মৃতিতে ন্যায়বিচারের গুণকীর্তনস্বরূপ বলা হইয়াছে: ন্যায়কে রক্ষা করিলে তাহা রক্ষা করে, ন্যায়কে লঙ্ঘন করিলে তাহা ধ্বংস করে। যে কোনও যুগে যে কোনও দেশে রাজধর্মের ইহা অন্যতম মূল নীতি। রাজশক্তি এক বার নয়, দুই বার নয়, ক্রমাগত ন্যায়ের শর্ত লঙ্ঘন করিয়া চলিলে তাহা যে সেই শক্তির অধিকারীদেরও ক্রমে ধ্বংসের পথে লইয়া যায়, পশ্চিমবঙ্গের শাসকরা সম্ভবত তাহা ক্রমশ টের পাইতেছেন। তাঁহাদের হম্বিতম্বি ঈষৎ কমিয়াছে, তাঁহাদের কথাবার্তায় বেপরোয়া এবং দুর্বিনীত ভাবটিও হয়তো কিঞ্চিৎ স্তিমিত হইয়াছে। কিন্তু সেই বোধ তাঁহাদের আচরণে এখনও কোনও লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটাইয়াছে, এমন কথা বলা শক্ত। এখনও আপন ভুল এবং অন্যায় স্বীকার করিবার কোনও সুবুদ্ধি রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ আসন হইতে শুরু করিয়া বিভিন্ন স্তরের কর্ণধারদের কথায় ও কাজে দেখা যায় নাই। এখনও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রকারান্তরে বাধাসৃষ্টি অব্যাহত রহিয়াছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে সামান্য তির্যক মন্তব্যের শাস্তিতে হাজতবাস চলিতেছে। এখনও শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হইলে গুরুপাপে লঘুদণ্ড এবং না হইলে লঘুপাপে গুরুদণ্ড বিহিত হইতেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফলিত রাজধর্মের মূল নীতি দাঁড়াইয়াছে: শিষ্টের দমন এবং দুষ্টের পালন।
মনুস্মৃতির কালে গণতন্ত্র ছিল না। গণতন্ত্রের কালে রাজা আসে যায়, প্রশাসন নিরবচ্ছিন্ন। এক সরকারের স্থানে আর এক সরকার অধিষ্ঠিত হয়, রাষ্ট্রযন্ত্র বহাল থাকে। বহাল থাকেন আমলাবাহিনী, বহাল থাকেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। সরকার বদলাইলে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁহাদের অনেকের হয়তো আসন বদলায়, কিন্তু ব্যক্তি গৌণ, ব্যবস্থা মুখ্য। এখানেই  গণতন্ত্রে রাজধর্ম লঙ্ঘনের বৃহত্তর এবং গভীরতর বিপদ। এক সরকার রাজধর্ম লঙ্ঘন করিলে শাসনযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দুর্বল হয়, সরকার বদলাইলেও সেই ক্ষতির কুফল থাকিয়া যায়। এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুদায়িত্ব ছিল বামফ্রন্ট জমানার সঞ্চিত বিষ প্রবল উদ্যমে নিষ্কাশন করা। পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর দলতন্ত্রের কুপ্রভাব দীর্ঘ দিন ধরিয়া তাহাকে দুর্বল করিয়াছিল, সেই দুর্বলতা ঘুচাইয়া তাহাকে আবার সুদৃঢ় এবং নিরপেক্ষ একটি শাসনযন্ত্রে পরিণত করা। তিনি তাহা করেন নাই। তাহার পরিবর্তে পুলিশ প্রশাসনকে আরও নিবিড় ভাবে দলের বশীভূত করিয়াছেন, বস্তুত তাহাকে কার্যত ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের রক্ষী বাহিনীতে পরিণত করিয়াছেন। বামফ্রন্ট প্রশাসনের মেরুদণ্ড নরম করিয়া রাখিয়াছিল, তৃণমূল কংগ্রেস তাহা ভাঙিয়া দিয়াছে। ইহা দুঃশাসনের এক অভূতপূর্ব রূপ।
প্রথমে সারদা কাণ্ডের তদন্তে সিবিআই এবং তাহার পরে বর্ধমান কাণ্ডের তদন্তে এনআইএ দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে যে ভাবে ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনের পালা শুরু হইয়াছে এবং তাহার ফলে পূর্ববর্তী তদন্তের ভারপ্রাপ্ত রাজ্য পুলিশের যে যুগপৎ করুণ এবং ভয়াবহ মূর্তি উন্মোচিত হইতেছে, তাহা ওই দুঃশাসনেরই পরিণাম। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা যাহা পারেন, রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দারা তাহা কেন পারেন না? তাঁহারা অক্ষম, অথবা অনিচ্ছুক, অথবা দুইই। অনিচ্ছার কারণ অনুমান করা কঠিন নহে। নীচের তলায় পুলিশের সহিত দুষ্কৃতী বা তাহাদের পৃষ্ঠপোষকদের যোগাযোগের অভিযোগ উড়াইয়া দেওয়ার নয়, কিন্তু উত্তরোত্তর এই সংশয় গভীরতর যে, উপরমহল হইতে যথেষ্ট তৎপরতার সহিত তদন্ত না করিবার, এমনকী যথেষ্ট তৎপরতার সহিত তদন্তে বাধা দেওয়ার মন্ত্রণা অথবা নির্দেশ ছিল। এই সংশয় কোথায় কত শতাংশ সত্য, তাহা হয়তো ভবিষ্যতে জানা যাইবে। কিন্তু সংশয় যে প্রবল, তাহাই একটি রাজ্যের পক্ষে সর্বনাশের সূচক। সেই সর্বনাশের বোধ রাজ্যের শাসকদের আছে বলিয়া ভরসা হয় না। হয়তো থাকিবার কথাও নহে। সর্বনাশের আগে বুদ্ধিনাশ হইয়া থাকে।

*********

প্রবন্ধ ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

মানবাধিকার শিকেয় উঠলে কার কী?

সুকান্ত চৌধুরী

২২ অক্টোবর, ২০১৪


3

শূন্য। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কর্ণধারের আসন। জানুয়ারি ’১৪। ছবি: প্রদীপ আদক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের হাতে ছাত্র নিগ্রহের ছবি এখনও টিভিতে দেখি, মনের পর্দায় ফুটে ওঠে আরও ঘন-ঘন। আমরা অবশ্য সেই নিগ্রহের স্বরূপ নিয়ে বিভ্রান্ত। ক’জন পুলিশের হাতে লাঠি ছিল, সে প্রশ্ন অবান্তর। ‘লাঠি চার্জ হয়নি’ বলে পুলিশ কমিশনার অশ্বত্থামাবধ  করেছেন, কারণ লাঠিচার্জ নামক বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা আক্ষরিক অর্থে প্রয়োগ হয়নি। দরকারও ছিল না, কারণ হানাদাররা দৃশ্যত অস্ত্রহীন যুদ্ধে প্রশিক্ষিত, তাদের হাত-পা-ই মারাত্মক হাতিয়ার। ছাত্র আন্দোলনের উপর ভারতে প্রথম কমান্ডো অভিযানের সাক্ষী হয়ে থাকল অরবিন্দ ভবনের পোর্টিকো। হতে পারে, কুশীলবরা পুলিশের খাতায় কমান্ডো পদে বহাল নয়, সে জন্য আশা করি দ্বিতীয় বার অশ্বত্থামাবধ  হবে না।
একই প্রতিক্রিয়া ফের অনুভব করলাম মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার পর, যেখানে ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী সম্বন্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এক যুবককে গ্রেফতারের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে হাতকড়া পরানো হয়। যে রাজ্যে খুন, ধর্ষণ বা অগ্নিসংযোগের প্রকাশ্য প্ররোচনার পর সরকারের সোৎসাহ সমর্থন পাওয়া যায়, সেখানে ওই যুবকের মন্তব্য আরও কত জঘন্য ও ভয়াবহ ছিল, ভেবে নিশ্চয় আমরা শিউরে উঠব। কিন্তু দেখা গেল, শেষ পর্যন্ত মামলা রুজু হয়েছে দু’টি জামিনযোগ্য ধারায়, পুলিশপক্ষ আদালতে ভর্ৎসিতও হয়েছে। অম্বিকেশ মহাপাত্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আপাত সাদৃশ্য ধরা পড়বেই। অম্বিকেশবাবুর সৌভাগ্য, তাঁকে হাতকড়া পরতে হয়নি।
পাশাপাশি আরও হরেক ঘটনা মনে আসতে পারে। যেমন, বীভৎস হুমকি ও প্ররোচনা একের পর এক নিদর্শন, যার দু-একটি কিংবদন্তি হয়ে বাকিগুলি বিস্মৃতির পথে ঠেলে দিয়েছে। যেমন বীরভূমে হুমকির ফলে ঘরছাড়া এক পরিবারের কাহিনি, যাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে গ্রিন পুলিশ, নাবালিকা কন্যার ‘সুরক্ষার’ জন্য থানার দারোগা তার বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন বহু ধর্ষিতা ও নিগৃহীতা নারীর পরবর্তী বিড়ম্বনা। কী হল সেই মহিলার, ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় জগাছা থানায় পৌঁছলে যাঁকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়? বা গৃহকর্তার হাতে ধর্ষিতা সেই পরিচারিকার, অভিযোগ দায়ের করার জন্য যাঁকে সল্ট লেক থেকে গোসাবা ছোটাছুটি করতে হয়? এই লেখা লিখতে-লিখতেই পড়লাম, হাবড়ায় এমনি আক্রোশের সঙ্গে পুলিশ চোর ধরতে বেরিয়েছিল, যে  তাদের আস্ফালনে এক নিরীহ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পড়লাম, অসুস্থ আত্মীয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে একটা ভাঙা ট্রলি জোগাড় করতে এক ভদ্রলোককে একশো টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
এমন অগুনতি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’র একটাই যোগসূত্র: প্রত্যেকটিই মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকট উদাহরণ। অতএব মনে পড়ে যায় আমাদের নাগরিক পরিকাঠামোয় এক বিপুল ও বিপজ্জনক ঘাটতি: নয় মাসের উপর এ রাজ্যে সক্রিয় মানবাধিকার কমিশন নেই।
লিখলাম বটে ‘মনে পড়ে যায়’, কিন্তু মনে আমাদের পড়ে না। সমাজ এ নিয়ে বিস্ময়কর ভাবে নীরব। বাঙালির বড় গর্বের রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পায় চায়ের পেয়ালা বা টিভির পর্দার সামনে দলবাজির উপাদেয় চর্চায়, ইতিবাচক নাগরিকবোধের লেশমাত্র যাতে নেই। সংবাদ মাধ্যমের, বিশেষ বৈদ্যুতিন মাধ্যমের, বড় উপজীব্য রাজনৈতিক তামাসা, বহুপরিচিত ক’টি দলীয় মুখপাত্রের আপসে-খেলা সান্ধ্য বিতণ্ডা। খুব অসাধারণ উপলক্ষেও এর হেরফের ঘটে না। কৈলাস সত্যার্থীর নোবেল লাভের পর শিশুশ্রম, শিশুপাচার, শিশুদের অধিকার নিয়ে ক’টা আলোচনা শোনা বা পড়া গেছে?
সংবাদমাধ্যম আমাদের গণতন্ত্রের মস্ত স্তম্ভ। তারা না থাকলে উপরোক্ত কোনও ঘটনার কথা তো আমরা জানতেই পারতাম না। কিন্তু পিসার মিনারের মতো তার এই টালটাও স্বীকার করতে হয়। আমরাও অবশ্যই সেটা চাই বা চাইতে অভ্যস্ত হয়ে উঠি। সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের এই ঔদাসীন্যের ফলেই কর্তাব্যক্তিরা বুক ফুলিয়ে মানবাধিকার সম্বন্ধে অবজ্ঞার অবহেলা করতে ভরসা পান। তবু তাঁরা হয় জনগণের বেতনভোগী নয় জনগণের ভোটপ্রার্থী, একটা বিশেষ দায় তাঁরা এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে তাঁদের সাম্প্রতিক খতিয়ান একটু দেখা যাক।
জানুয়ারি মাসে বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কার্যত অচল। তার নেতৃত্বে থাকার কথা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির। এই পদ শূন্য, শূন্য আরও পদ। এই প্রেক্ষিতে প্রশংসনীয় দ্রুততার সঙ্গে, তাঁর অবসর গ্রহণের খুব অল্প দিনের মধ্যেই সদস্য করা হল পুলিশের প্রাক্তন ডিজি নপরাজিত মুখোপাধ্যায়কে। তিনিই আপাতত অস্থায়ী সভাপতি। কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী আছেন আর মাত্র এক জন বিচারবিভাগীয় সদস্য।
এ অবস্থায় কমিশনের উপর আস্থা রাখতে বা তার শরণাপন্ন হতে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়তে বাধ্য। নীতিগত দিক দিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, সদ্য-অবসরপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধানকে কী বিচারে সভাপতি করা হল, যেখানে কমিশনের কাছে যত অভিযোগ আসে, তার বিপুল পরিমাণ পুলিশের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। সাধারণ ন্যায় ও যুক্তির বিচারেই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটা অবস্থানগত দ্বন্দ্ব ঘটছে।
সবচেয়ে আশ্চর্য, যে বিরোধী দলগুলি সরকারের সমালোচনায় পাঁচ কেন পঞ্চান্ন মুখ, তারা এ বিষয়ে প্রায় নীরব। আর একটু আগের ইতিহাস দেখা যাক। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ দিকেও কমিশনের সভাপতিপদ বহু দিন খালি ছিল, বস্তুত নতুন সরকার বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়োগ করা পর্যন্ত। তার কারণ, যে কমিটি সভাপতি নির্বাচন করবে, তার এক সদস্য থাকেন বিরোধী দলনেতা। আর তৎকালীন বিরোধী (বর্তমান শাসক) দল তখন পণ করেছিল, সরকার পক্ষের সঙ্গে কোনও কমিটির বৈঠকে বসবে না। এই অন্যায় ও অসাংবিধানিক জেদের কাছে সরকারের নতিস্বীকার করার বাধ্যতা ছিল না। বিচক্ষণ সরকারপক্ষ কিন্তু দেখল, মানবাধিকার শিকেয় তুলে এক দিকে বিরোধীদের বদনাম দেওয়া যায়, সেই সঙ্গে রাজ্যে নির্বাচনের আগে কমিশনের উপদ্রব থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
আসলে সব সরকারই অনাচারের পথ পরিষ্কার রাখতে চায়, চায় জনসাধারণকে সাংবিধানিক অধিকার সম্বন্ধে অন্ধকারে রাখতে বা অন্তত সেই খাতে বঞ্চনাটা স্বাভাবিক বলে অভ্যস্ত করাতে। ফলে ঘটনা হল, গত চার বছরে স্থায়ী সভাপতি-সমেত পূর্ণক্ষম কমিশন আমরা পেয়েছি মাত্র বছর দেড়েক। জানি না অন্য কোনও রাজ্য এই রেকর্ড অতিক্রম করেছে কিনা। সেই সঙ্গে স্মর্তব্য, মহিলা কমিশনের সভানেত্রী নিজেই তাঁর কমিশনের সংহতি ও কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
নাগরিক মাত্রেই জানেন, থানার দারোগা বা দফতরের বড়বাবুর কাছে কাকুতিমিনতি করে কিছু কাজ পাওয়া যেতে পারে, অধিকার হিসেবে দাবি করলেই বিপত্তি। অমুক নেতা সম্বন্ধে শোনা যাবে, তিনি ভারী জনদরদী ও পরোপকারী। খোঁজ নিলে বেরোবে সেই উপকারের নব্বই শতাংশ নিরুপায় মানুষকে এমন কিছু পাইয়ে দেওয়া, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুষ্ঠু প্রশাসনের কাছ থেকে নাগরিকদের যার চতুর্গুণ পাওয়ার কথা।
জনসাধারণকে বশ করার তাড়নাতেই তাই প্রশাসনকে রাজনীতির দখলে রাখতে হয়, সাংবিধানিক কর্তব্য ভুলে ও ভুলিয়ে রাখতে হয়। এই শেষ কাজটা কঠিন নয়, কারণ ভুলে থাকার অবকাশ অশেষ। গরিব লোকের পক্ষে জীবনসংগ্রামই যথেষ্ট। সচ্ছল উচ্চাভিলাষী শ্রেণির কাছে আরও নানা সংগ্রাম। আর অবশ্যই আছে রঙিন টিভি, যাতে আমাদের নাগরিক অসম্মান আর বিড়ম্বনা ইনফোটেনমেন্টের রাংতা গায়ে জড়িয়ে ঝলমলে উপভোগ্য রূপে আমাদের মনোরঞ্জন করে।
কার্যকর মানবাধিকার কমিশন কবে পাব জানি না, কিন্তু এই নিয়ে দু-একটা চিত্তাকর্ষক টিভি-শো দেখার আশায় রইলাম। কবীর সুমনের ভাষায় ‘আমিও ভণ্ড অনেকের মতো’: ওগুলো দেখি, অংশও নিয়েছি কালেভদ্রে। কিন্তু একটা কাঙালিপনা কিছুতেই মন থেকে দূর হয় না: এই পিটুলিগোলার বদলে যদি সাচ্চা নাগরিক অধিকারের খাঁটি দুধ দু’ফোঁটা পেড়ে পড়ত!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে এমেরিটাস অধ্যাপক

******************

সম্পাদকীয় ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)


বিসর্জন

২৩ অক্টোবর, ২০১৪

একটিমাত্র কুমিরছানা থাকিলে তাহাকে যে খানিক যত্ন করা প্রয়োজন, কথাটি শেয়ালপণ্ডিতও জানিত। সেই জানায় বাহাদুরি নাই। কাণ্ডজ্ঞান থাকিলে যে কেহ বুঝিবে, সবেধন নীলমণিটিও গেলে দেখাইবার জন্যও আর কিছু পড়িয়া থাকে না। কথাটি না জানাই বরং অভিনব। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অভিনবত্বের প্রমাণ পেশ করিল। হলদিয়ার মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস হইল পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সেই কুমিরছানা। এই রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান মুখ। সংস্থাটি ধুঁকিতেছে। রাজ্য সরকার তাহাকে শিল্প ও আর্থিক পুনর্গঠন বোর্ড-এর ঠিকানা বাতলাইয়াই হাত ধুইয়া ফেলিয়াছে। সরকারের দায়ের প্রশ্ন উঠিলে অর্থমন্ত্রী চিনা প্রতিযোগিতার কথা বলিতে পারেন। প্রত্যুত্তরে তাঁহাকে হলদিয়া বন্দরের অব্যবস্থার কথা বলা চলে, সেখানে রাজনৈতিক তাণ্ডবে এবিজি গোষ্ঠীর বিদায়ের ফলে মাল খালাসের জন্য অযৌক্তিক অপেক্ষার কথাও শুনাইয়া দেওয়া যায়। কিন্তু, সেই তর্কে প্রবেশ করিবার প্রয়োজন নাই। গুজরাত যাহা পারে, পশ্চিমবঙ্গ পারিবে না, ইহা স্বতঃসিদ্ধ হইয়াছে। অতএব, সরকারি খয়রাতির অর্থ জোগাইতে মিত্রমহাশয় যে বিচিত্র ‘প্রবেশ কর’ চালু করিয়াছিলেন, মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-কে তাহার দায় বহিতে হইতেছে। এই অহৈতুকী করটি যে শুধু দার্শনিক ভাবে আপত্তিকর, তাহা নহে, ইহা রাজ্য-সম্ভাবনার পরিপন্থী। গুজরাতে পেট্রো-রাসায়নিক সংস্থা এই করে ছাড় পায়, কিন্তু এই রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ। এখানে ক্লাবে খয়রাতি হইবে, ইমামরা ভাতা পাইবেন, কিন্তু বিপন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার কথা ভাবিবার সময় এবং মনোবৃত্তি সরকারের নাই।
পশ্চিমবঙ্গে যে নূতন বিনিয়োগ আসিবে না, এই কথাটি এত দিনে সিপিআইএম-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ন্যায় স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। যে শিল্প আছে, সেগুলিও থাকিবে, এমন উপায় শাসকরা রাখিতেছেন না। বিনিয়োগকারীরা যে আইনের শাসন চাহেন, বঙ্গেশ্বরীর সরকার তাহা দিতে অপারগ। কিন্তু, এই রাজ্যের কোনও শিল্প বিপাকে পড়িলে যে সরকার তাহার পার্শ্বে দাঁড়াইবে না, মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-এর ঘটনা তাহা দেখাইয়া দিল। সংস্থাটির জন্য রাজ্য সরকার ঠিক কী করিতে পারিত, তাহা মূল প্রশ্ন নহে। সংস্থাটি সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁহার পারিষদরা যে ভাবে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকিয়াছেন, তাহাই প্রতীকী। শিল্পের প্রতি, রাজ্যের ভবিষ্যতের প্রতি এই সরকারের মনোভাবের প্রতীক। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বার্তাটি মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-এর পরিসীমায় থাকিতেছে না, তাহা বৃহত্তর বণিকমহলের নিকট পৌঁছাইতেছে। এই অসহযোগী রাজ্য সরকারের ভরসায় পুঁজি ঢালিবেন, এমন বিনিয়োগকারী কে?

কেহ বলিতে পারেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বুঝি শিল্পের কথা ভাবিবার সময় নাই। তিনি এক দিকে সারদা আর অন্য দিকে খাগড়াগড় সামলাইতে ব্যস্ত। কিন্তু, তাহা নহে। বিনিয়োগকারীদের লইয়া তাঁহার প্রমোদতরী ভাসাইবার ব্যবস্থা পাকা। তাহাও এক বার নহে, দুই বার। শোনা যাইতেছে, প্রথম বারে কেহ তেমন আগ্রহী না হওয়ায় দ্বিতীয় যাত্রার ব্যবস্থা হইয়াছে। বিনিয়োগকারীরা গত সাড়ে তিন বত্‌সরে বুঝিয়াছেন, বিজয়া সম্মেলনীই হউক কি নৌবিহার, কলিকাতায় হউক বা মুম্বইয়ে, সরকারের সহিত কোনও আলোচনাতেই এই রাজ্যের বিনিয়োগ-পরিবেশ বদলাইবার নহে। সম্মেলনে মিষ্টিমুখ হয়, গানও, কিন্তু সেই অখণ্ড আনন্দোত্‌সবে বণিকমহলের দৃশ্যত রুচি নাই। তাঁহারা কাজের কথায় আগ্রহী। সেই কাজের কথা আবার মুখ্যমন্ত্রীর মর্জিবিরুদ্ধ। ফলে, যে সাগরের জলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রমোদতরী ভাসিবে, রাজ্যের শিল্প-ভবিষ্যত্‌ সেই জলেই বিসর্জিত হইয়াছে। সেই সমাপ্তিতে যেন কাহারও সংশয় না থাকে, তাহা নিশ্চিত করিতেই বুঝি মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-এর সহিত এমন চর্চিত অসহযোগিতা।

Monday, October 20, 2014

Minorities playing communal card to hide Burdwan Blast terrorists

‘Don’t malign all madrasas’

Jamiat Ulama-e-Hind’s peace rally at Curzon gate in Burdwan, Monday 20-10-14(Source_ Express photo by Subham Dutta)
Express News Service | Kolkata | Posted: October 21, 2014 5:04 am | Updated: October 21, 2014 5:05 am
Alleging that the Burdwan blast incident was being used by certain circles with vested interests to malign the entire madrasa system and those associated with it, speakers under the banner of the state unit of Jamiat Ulema-e-Hind organised a rally in Burdwan on Monday to condemn the attack on madrasas as breeding ground for terror activities.
Claiming that such attacks on madrasas will not help the community, Siddiqullah Chowdhury, general secretary of the state committee of the Jamiat Ulema-e-Hind said no madrasa in West Bengal should be closed down either on account of panic or as an administrative measure. Urging all madrasas to resume normal classes and teachings, Chowdhury said any attack on madrasas will have serious repercussions.
“Some bearded criminals are involved in the Burdwan bomb blast. But this incident of criminals should not be used to malign an entire madrasa system,” Chowdhury said, while demanding exemplary punishment for the culprits. He added that people linked to madrasas should take a vow that no untoward incident be allowed to be perpetrated in these.
Chowdhury said that the previous government under Buddhadeb Bhattacharjee fell soon after he described illegal madrasas as cradle of terrorist activities that spewed anti-national elements, adding that the present Mamata Banerjee-led  government will also have to face the same fate if it does not restrain the police excesses. “You do not need to take shelter behind a madrasa to indulge in a subversive activity. One can do it from any platform,” he said.
The Muslim leader said if one goes by the BJP’s analysis of five to seven per cent of Muslims in madrasas to be involved in “jihadi activity” in West Bengal, this would imply that no less than 15 lakh Muslims have a “jihadi” background. “These are dangerous utterances,” Siddiquallah warned, adding that these could alienate the entire community.
Earlier, Rafiqul, a spokesperson of the All India United Democratic Front, said it was pointless to malign the entire madrasa system. “The land of Bengal is the land of democracy and communal harmony. It should not be vitiated by narrow political gains,” he said.
Maulana Imtiaz, a Burdwan-based leader of the Jamiat Ulema-e-Hind said a madrasa is no place for violence. “It preaches peace and amity. Muslims are as much patriotic and nationalist as any other citizen in the country,” Imtiaz said.
Asim Chatterjee, a former Naxalite, who joined the rally said Muslims should not think they are alone and assured them that thousands of Hindus will stand to support them if any attack was launched on their community.


***************

Are unregulated madrasas turning into terror hubs?

Ravik Bhattacharya, Hindustan Times  Kolkata, October 10, 2014
First Published: 01:24 IST(10/10/2014) | Last Updated: 02:17 IST(10/10/2014)

A bomb blast in Burdwan on October 2 has started a debate on madrasas emerging as nurseries of terror in West Bengal after police found that all four people arrested in connection with the blast met at madrasas.
Investigators visited a few madrasas suspecting many more links to emerge out of these religious schools, an issue that has since kicked up a political storm.
“There are madrasas that provide computer and English education along with religious training. They are doing a good job. But there are small, unrecognised ones mushrooming everywhere in Bengal, which are breeding grounds of terror, especially from Bangladesh,” said a senior home department official.
There are 614 madrasas under the West Bengal Board of Madrasa Education, while
thousands are spread all over the state.
Within days of coming to power, chief minister Mamata Banerjee announced that her government would grant recognition to 10,000 madrasas. People who run madrasas say it is wrong to label these schools as terror hubs just because of some individual cases.
“Why blame the institution when individuals are guilty? There have been Maoists who have hailed from Jadavpur University, Calcutta University and Delhi University. Do you call them terror hubs?” asks Siddiqullah Chowdhury, general secretary Jamiat-e Ulema-e-Hind that runs nearly 900 madrasas.
According to police sources, private madrasas are the real concern. Intelligence officials say these madrasas run as autonomous bodies that are funded by countries like Bangladesh, Pakistan and the UAE.
Students in these institutions become soft targets for recruiters of different terror groups, who sometimes pose as teachers.

Those receptive to the indoctrination are taken to camps in Bangladesh, where they are trained to use weapons and make bombs. Some talented recruits are even taken to Pakistan Occupied Kashmir and Afghanistan for advanced training, sources say.

****************
Return to frontpage

CITIES » KOLKATA

Updated: October 20, 2014 10:33 IST

‘Madrasas made a scapegoat’

STAFF REPORTER

In the wake of Bardhaman blast, say minority organisations

: Alleging that in the aftermath of the accidental blast case in Bardhaman district, the madrasas in Bengal are being made a scapegoat by the police, eight minority organisations of West Bengal have decided to write to Chief Minister Mamata Banerjee on Monday seeking an appointment with her to discuss the issue. The decision was taken in a convention of various minority groups here on Sunday.
Recently, a madrasa located at Simulia village in Bardhaman came under the scanner of the National Investigation Agency (NIA) which is probing the case.
An 11-member delegation consisting of six Muslims and five leaders from other religions will meet Ms. Banerjee if she gives an appointment. “We will urge her to form a committee with leaders from Islam and other religions to probe the issue,” said Md. Qamaruzzaman, general secretary of the All Bengal Minority Youth Federation. Alleging that after the Bardhaman blast case, the police are “regularly visiting madrasas,” he said that this is not “proper” since madrasas are educational institutions.
The delegation will also demand an impartial probe and adequate punishment for those involved in the blast case. The minority organisations have threatened to hit the streets in protest if Ms. Banerjee refuses to meet them. “We will ask for an appointment with her within one week. If she does not meet us, we will hit the streets in protest,” said Md. Qamaruzzaman.
Siddiqullah Chowdhury, general secretary of Jamiat Ulema-e-Hind, also alleged that madrasas are being made a scapegoat in the Bardhaman blast case. Claiming that due to the certain sections of the media, a “negative view” of madrasas is being created, he said that representatives of the minority organisations will meet the “chief editors of various media houses” in this regard.