Showing posts with label West Bengal. Show all posts
Showing posts with label West Bengal. Show all posts

Thursday, November 27, 2014

Spineless Bengal Bureaucrats for the first time defy Minister's order! Change of Rulers, foreseen?

The Telegraph
Thursday , November 27 , 2014

Rare sighting: glint of a spine

THOSE WERE THE DAYS
Sir Humphrey Appleby, cabinet secretary: I see, what do you advise, Bernard?
Bernard Woolley, principal private secretary to the Prime Minister: I advise you to consider your position carefully, perhaps adopting a more flexible posture, while keeping your ear to the ground, covering your retreat and watching your rear.

Sir Humphrey: Thank you, Bernard. You’ve been a great help.
Woolley: Actually, Sir Humphrey, I haven’t told you anything.
Sir Humphrey: I should hope not, Bernard. That would have been most improper.
From A Real Partnership, the fifth episode of Yes, Prime Minister, 1986
If Bengal’s finest seek such advice now, the answer will probably be uncharacteristically direct and brief: “Whatever you do, make sure you don’t have to visit the CGO Complex.”
“The CGO Complex” is the sprawling property in Salt Lake that houses the offices of the CBI and the Enforcement Directorate, both of which are probing the Saradha scandal and generally robbing the state’s high and mighty of sleep.
Bureaucrats who used to confine themselves to “Yes, Minister” are now declining to sign on the dotted line and are sending files back to ministers if the content is controversial, multiple sources have told this newspaper.
The refusal to toe the line is not a show of defiance or rebellion but is born out of an eagerness to remain on the right side of the law.
“It is very clear that I do not want to visit the CGO Complex,” a senior IAS officer was quoted as telling a subordinate after refusing to sign a file that a minister had wanted him to clear.
The display of extreme caution by the officials marks a change. In the past few years when chief minister Mamata Banerjee appeared unassailable, officials had complied with the whims of the political leadership. Two of the most infamous instances were the arrest of a professor for circulating a joke on the chief minister, and the who’s who of the state bureaucracy being made to stand on a dais behind a politician who has been accused of murder.
But the uproar over the Saradha scandal and other controversies appears to have emboldened some bureaucrats to cite the rulebook when faced with unpalatable demands.
“Bureaucrats are like weather cocks…. Realising that the government is no longer what it used to be, they are unlikely to go overboard to please the ministers and they will play it by the book. I am not surprised,” said a senior minister.
One swallow does not a summer make, but the following are four instances where officials have refused to swallow the rules:
Sorry, no advance
The information and cultural affairs department — the chief minister is in charge of it — recently refused to clear a proposal given by a minister and a ruling party MP to pay an advance to 11 theatre teams that will take part in Natya Utsav, scheduled next month.
“The financial norms do not allow the department to make advance payments to the participants of any government programmes. But the minister and the MP had proposed to pay in advance 50 per cent of the remuneration the teams are supposed to get,” said an official.
The teams will be paid between Rs 2 lakh and Rs 12 lakh.
“Following pressure from the minister and the MP, the department had sent the proposal to the finance department seeking an approval. The finance department chose to play it safe. It did not give any clear view in writing or reject the proposal but verbally communicated that the rules did not allow such an advance,” said a finance department official.
“The I&CA department could have overlooked the rule and cleared it. But the file was sent to the chief minister who has the right to clear it as the minister in charge of the department,” said a source.
No order, no cash
The officials of the information and cultural affairs department resisted pressure to clear bills of over Rs 30 lakh in favour of an event management agency that had helped the government organise Mati Utsav and Sangeet Mela last year.
“The bills were not cleared as no work order was issued in favour of the agency. The financial norms don’t allow the officials to clear bills in the absence of a work order,” said an official.
According to sources, the agency was backed by a singer close to a powerful politician. “Initially, officials used to clear bills by using an emergency provision. But now the officials refuse to clear the bills,” a source said.
Mitra’s dilemma
This newspaper had reported on November 11 how the finance department had declined to clear splitting a 60-year deal into two 30-year terms for reconstructing Lake Mall. A clearance will help Srikant Mohta, the investor and a filmmaker, save over Rs 15 crore and cause a loss to the state exchequer.
Now it has come to light that finance minister Amit Mitra made another attempt to see whether the deal can be cleared.
But the effort has again drawn a blank, said a source. No government officer wants to be a party to the decision that would affect the state exchequer, the source said.
“Soon after the finance secretary refused to sign it, the minister had sent back the file to the law department once again though the state legal remembrancer had earlier put the ball in the finance department’s court. This time too, the law department has pointed out that the decision to give relief has to be taken by the finance department,” said a source.
Since the law department has not suggested a way out and the finance secretary did not change his stand, the minister has two options: reject the deal or send it up to the chief minister to take the final call.
Mitra could not be contacted for comment.
No waiver
The public works department (PWD) recently made it clear that it would not implement an instruction to allow a company to lay optical fibre cables for a 4G network along the roads maintained by it against a licence fee of Re 1 per square metre.
Sources said instructions were sent to the Calcutta Municipal Corporation (CMC) and the PWD to levy Re 1. “The CMC is charging the company Re 1 as it has no notified fee. But the PWD said it would not be able to waive the licence fee as it has specific rates as per a government notification issued on August 29, 2013,” said an official.
For PWD roads, the notification has fixed Rs 300 a sqm in rural areas, Rs 575 in municipal areas, Rs 2,300 in CMC areas and Rs 1,150 in non-CMC municipal corporation areas.
“The licence fee is for 15 years…. As the agencies use the PWD land, they are supposed to pay the amount. We cannot waive it until we get a written order from the department minister or top brass of the government,” said a PWD engineer.

Mamta took side of corrupt leaders of TMC

Wednesday, November 26, 2014

চুরির অধিকার দাবিতে তৃণমূলী বুদ্ধিজীবিদের মিছিল ! বাংলার সম্মান ভূলুন্ঠিত!

এ কোন মিছিল? চক্রান্তের প্রতিবাদ, নাকি চুরির দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪




সপ্তাহ শুরু হয়েছিল এক অভিনব মিছিল দিয়ে। যার স্লোগান ছিল, ‘আমরা সবাই চোর’। সেই মিছিলের মঞ্চ থেকেই আর এক মিছিলের ফতোয়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কাল, শুক্রবার শিল্প-সংস্কৃতি জগতের মানুষদের সেই মিছিলে হাঁটার কথা। কার্যত যাকে চুরির অধিকার চাওয়ার মিছিল বলেই কটাক্ষ করছেন অনেকে।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ বলে কথা! অমান্য করার উপায় নেই। ফলে মিছিল ‘ম্যানেজমেন্টে’ কন্যা-কর্তার ভূমিকায় নেমেছেন মূলত তিন জন। সদ্য শিবির বদলানো এক অভিনেতা-পরিচালক। দল পাল্টানো এক কবি। আর বাংলা ছবির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে উঠতে চাওয়া এক প্রযোজক। কর ফাঁকি থেকে শুরু করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর বরাভয় হস্ত সর্বদাই যাঁর মাথার উপরে। অরিন্দম শীল, শ্রীকান্ত মোহতা ও সুবোধ সরকারের হাতে মিছিল ডাকার গুরু দায়িত্ব সঁপে দিয়েছেন মমতা নিজেই।
নেত্রীর ইচ্ছায় কর্ম। অরিন্দম তাই গণ-এসএমএস পাঠাচ্ছেন। তাতে লেখা, “আগামী ২৮ নভেম্বর, শুক্রবার, দুপুর একটায় নন্দনে জমায়েত। সেখান থেকে অ্যাকাডেমি অবধি প্রতীকী মিছিল। কোনও রাজনৈতিক ব্যানারে নয়। বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতির উপরে আঘাত ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে... পথে এ বার নামো সাথী। প্লিজ এসো।” শ্রীকান্তের সঙ্গে এ দিন কথা বলতে চেয়ে ফোন ও এসএমএস করা হলেও সাড়া মেলেনি। সুবোধবাবু এ দিন দুর্গাপুরে এক আলোচনাসভায় জানিয়েছেন, ২৮ নভেম্বর পথে নামবেন। তিনি বলেন, “বিচারের আগেই বিচারের দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে সংবাদমাধ্যমের একাংশ। সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে।”
কীসের চক্রান্ত? মুখ্যমন্ত্রীর সোমবারের বক্তৃতা থেকে স্পষ্ট, তাঁর রাগ সারদা তদন্তে সিবিআইয়ের ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে। সেই জন্যই সে দিন প্ল্যাকার্ড বলছিল, “আমরা সবাই চোর! আমাদের গ্রেফতার করো!” সেই কর্মসূচিরই পরের ধাপ শুক্রবারের মিছিল। এ বার কি তবে চুরির অধিকারের দাবিতে পথে নামা? নাট্যপরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, বিষয়টা হরেদরে সে রকমই তো দাঁড়াচ্ছে প্রায়। তাঁর কথায়, “উদ্ভট ব্যাপার। সিবিআইয়ের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে পথে নামা মানে তো চুরির অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাই হল।” সুমন অবশ্য এসএমএস-আমন্ত্রণ পাননি। তবে অন্য এক ‘আমন্ত্রিত’ অভিনেতা বলে ফেললেন, “চুরির অধিকারের দাবিতে মিছিল নন্দনে কেন? আলিপুর জেলখানার সামনে করলেই পারত!”
এই অস্বস্তিটা যে সংস্কৃতি জগতের মধ্যেও নেই, তা নয়। সেটা বুঝেই অরিন্দমরা সরাসরি সারদা-সিবিআই ইত্যাদি না বলে সংস্কৃতির উপরে আঘাতের কথা তুলছেন। কী রকম আঘাত? প্রশ্ন করলে অপর্ণা সেনকে জেরার উদাহরণ টানছেন অরিন্দম। কিন্তু সে তো বেশ কিছু দিন আগের কথা! এখন তার প্রতিবাদ কেন? অপর্ণা নিজে তো কোনও প্রতিবাদের ডাক দেননি? স্পষ্ট কোনও উত্তর নেই আয়োজকদের কাছে।
মমতা-ঘনিষ্ঠ অভিনেতা রুদ্রনীলের কাছেও বিষয়টা পরিষ্কার নয়। তাঁরও খটকা, সংস্কৃতিতে আঘাতটা হঠাৎ কীসে লাগল? রুদ্রর প্রশ্ন: “অরিন্দম পরিবর্তনের আগে টিভি চ্যানেলে বামফ্রন্টের হয়ে সওয়াল করতেন। ওঁর এসএমএসে আমি কেন বিশ্বাস করব? তা-ও যদি প্রসেনজিতের মতো সিনিয়র কেউ ডাকতেন।” প্রসেনজিৎ মিছিল ডাকেননি, মিছিল নিয়ে কিছু বলতেও রাজি নন। গায়ক ইন্দ্রনীল সেন বরং খোলা গলায় হাঁকছেন, “শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া যে-দিকে দেখছি, শুধু বঞ্চনা! চক্রান্ত! যে যেখান থেকে পারেন সকলে আসুন।” চিত্রপরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় গোয়ার ফিল্মোৎসবে রয়েছেন। শুক্রবার শহরে থাকছেন না। কিন্তু মানসিক ভাবে ইন্ডাস্ট্রির পাশে দাঁড়াবেন বলে জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবাই গেলে আমি পাশে দাঁড়াব। ঠিক-ভুল পরে ভাবব।”
এখানেই প্রশ্ন জাগছে অনেকের মনে। যে প্রতিবাদী স্বরকে বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করা হতো এত কাল, তার সঙ্গে এই নব্য প্রতিবাদীরা খাপ খাচ্ছেন কি? প্রবীণেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে পথে নামা রবীন্দ্রনাথ, খাদ্য আন্দোলনের জমানায় মিছিলে হাঁটা সত্যজিৎ রায় বা হাল আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়েও রাজপথে কবি-সাহিত্যিক-বিশিষ্টদের মহামিছিল যে প্রতিবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে, শুক্রবারের মিছিলের সঙ্গে তার কোনও সম্পকর্র্ নেই। সুভাষ বসু থেকে তরুণী মমতা পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিবাদের যে ঘরানা বাংলা দেখেছে, তার সঙ্গেও একে কোনও ভাবেই মেলানো যায় না।
বাম জমানাতেও বিনোদন জগৎ বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের একাংশ শাসক দলের তাঁবেদারি করেছেন বলে অভিযোগ। কিন্তু চুরির পক্ষে সওয়াল করে প্রতিবাদ সেই পরম্পরাতেও নয়া সংযোজন। সুমন হেসে বলছেন, “এ এক বীভৎস মজা। বাংলা কেন, জানি না এমন প্রতিবাদ, ভূভারতে কোথায় কবে হয়েছে।”
গায়ে পুরোদস্তুর তৃণমূলের তকমা যাঁদের রয়েছে, তাঁরাও অনেকেই মিছিল নিয়ে মন্তব্যে নারাজ। না-গেলে উপায় নেই, তাই যাবেন বলে ঠিক করেছেন কেউ। কেউ কেউ আবার অন্য কাজ আছে বা শহরে থাকছেন না বলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচছেন। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু মিছিলে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বলেন, “২৮ তারিখের পরই এ নিয়ে কথা বলব।” তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী দিল্লিতে সংসদের কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। মমতা-মনোনীত রাজ্য মহিলা কমিশনের সদস্য জুন মালিয়া আবার মিছিলে হাঁটতে গররাজি। তিনি এক আত্মীয়ের বিয়ে আছে বলে যেতে পারবেন না বলছেন। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর শ্যুটিং চলছে দার্জিলিংয়ে। তাই রাজ-মিমি চক্রবর্তী প্রমুখের থাকার সম্ভাবনা কম। মমতার দলের বিধায়ক চিরঞ্জিতও সম্ভবত থাকবেন না। তাঁর কথায়, “পার্টি যখন করি, তখন বললে যাব। তবে শুক্রবার আমার শ্যুটিং আছে।” অভিনতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও মিছিলের দিন কলকাতায় থাকা হবে না বলে জানিয়েছেন।
আর মিছিলে যাঁরা থাকবেন, তাঁরাই বা কী করবেন, তা-ও এখনও পরিষ্কার নয়। ইন্দ্রনীল যেমন বলছেন, “হাঁটতে হাঁটতে সলিল চৌধুরীর ‘পথে এ বার নামো সাথী’টা গাইব।” অরিন্দম শীলের দাবি, “মুখ বন্ধ। হাতে পোস্টার। মৌন মিছিল হবে।” মিছিলের ‘রুট’ নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। গন্তব্য, নন্দন থেকে অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস। শুনে আমন্ত্রিত শিল্পীরাই হাসছেন, এ তো রেকর্ড! কলকাতার সংক্ষিপ্ততম মিছিল। সংগঠকরা বোঝাচ্ছেন, ঘুরিয়ে নাক ধরার মতো নন্দনের ফটক ছেড়ে মিছিল যাবে জওহর শিশু মিউজিয়ামের দিকে। সেখান থেকে বাঁ দিকে ঘুরে তারামণ্ডল হয়ে অ্যাকাডেমির সামনে থামবে। তবু মুখ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া দিনক্ষণ অনুযায়ী, মিছিল শুরু করা যায়নি বলে একটা খচখচানি থাকছেই। মমতা চেয়েছিলেন, মিছিল হবে বুধবার। তবু শুক্রবারের আগে কিছু করা গেল না! এমনিতে মমতা ডাকলেই হাজির হন বিনোদন জগতের কেউকেটারা। যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে টিভি-ফিল্মের চেনা মুখগুলি মমতাকে ঘিরে থাকেন। তারকা-সমাবেশে উচ্ছ্বসিত মমতা সগর্বে ঘোষণা করেন, “দেব আমাদের, শুভশ্রী-ও!” এই মধুচন্দ্রিমার মেজাজ এ বার যেন খানিকটা বেসুরে বাজছে।
ইন্দ্রনীল-অরিন্দমেরা অবশ্য ভরসা দিচ্ছেন, চিন্তার কিছু নেই! মিছিল জমে যাবে। শুধু প্রশ্ন একটাই, মমতা জমানায় সংস্কৃতি আর গণবিনোদনের ফারাক আগেই গুলিয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, প্রতিবাদ আর পদলেহনটাও কি এ বার মিলেমিশে যাবে?


সারদা তদন্তে জালিয়াত তৃণমূলী 'চিত্রকর' শুভাপ্রসন্নর মিথ্যে তথ্য!

মুখরক্ষার পথ খুঁজল মুখ লুকনো পুলিশ

দল-দাপটে তলানিতে বল, ফাইলও তাই ঢাল পুলিশের

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

১৬ নভেম্বর, ২০১৪


1
ঘটনাচক্রে সে দিন কিছুটা আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন উত্তর কলকাতার একটি থানার ওসি। খবরের চ্যানেল খুলে রাতে সপরিবার খেতে বসে কয়েক মুহূর্ত বাদেই কার্যত ‘হে ধরণী দ্বিধা হও’-দশা তাঁর।
থানায় প্রাণভয়ে উর্দিধারীর টেবিলের তলায় মুখ লুকোনোর দৃশ্য সহ্য করতে না-পেরে তড়িঘড়ি চ্যানেল পাল্টে দিয়েছেন ওই প্রবীণ পুলিশ অফিসার। কিন্তু তার থেকেও বেশি আহত হয়েছেন ঘটনার ২৪ ঘণ্টা বাদেও লালবাজারের শীর্ষস্তর থেকে কোনও কড়া পদক্ষেপ হয়নি বলে। শনিবার দুপুরে তাঁর খেদোক্তি, “ছেলেমেয়েকে বলেছি, আর যা-ই করিস, পুলিশের চাকরি তোদের করতে দেব না।”
এ দিন সন্ধের ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথে আর এক পুলিশকর্মীর সংশয়, “পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে রাস্তায় অন্যায় দেখলেও প্রতিবাদের সাহস পাব না। কোনও রাজনৈতিক নেতাকে ধমক দিয়ে ফেললে, নাকখত দিয়েও তো পার পাব না!”
আলিপুর থানায় ঢুকে পুলিশের উপরে হামলা, টেবিলের তলায় ঢুকে গাবদা ফাইল দিয়ে মুখ আড়াল করে পুলিশের প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার দৃশ্য এখন রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার মুখরোচক খাদ্য। একটি ব্যঙ্গচিত্রে উর্দিধারী স্বামী বাড়ি থেকে বেরোনোর মুহূর্তে ঘরণীর প্রার্থনা, ‘দুগ্গা দুগ্গা, মানুষটা যেন আজ মারধর না-খেয়ে ফেরে!’ অবসরে কিছুটা কবিতার চর্চা করেন কলকাতা পুলিশের এক ইনস্পেক্টর। তাঁর মনে পড়ছে বহুচর্চিত কয়েকটি পঙ্ক্তি। “এক সময়ে শুনতাম, ‘পুলিশ, কবির সামনে টুপিটা তুই খুলিস।’ ক্রমশ দেখছি, কবি নয় নেতাদের জুতোয় মাথা ঠুকতেই প্রায় টেবিলের তলায় ঢুকে পড়ছি!” (আরও.....)



আলিপুর থানা

মুখরক্ষার পথ খুঁজল মুখ লুকনো পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা  (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

১৬ নভেম্বর, ২০১৪


2

থানার চেয়ারে সেই কার্তিক কর। 

শনিবার। —নিজস্ব চিত্র।

সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে তিনি এখন পরিচিত মুখ। পুলিশমহলে তো বটেই, হাটে-বাজারে আমজনতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও বটে। তিনি কার্তিক কর। আলিপুর থানার কনস্টেবল। শুক্রবার বিধান রায় কলোনির ক্ষিপ্ত তৃণমূল সমর্থকদের হামলায় যিনি থানার মধ্যেই টেবিলের আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। আলিপুর থানার পুলিশকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “শুক্রবার ক্ষিপ্ত জনতা যখন থানার সামনে ভিড় জমিয়েছিল, তখন গোটা পরিস্থিতি জানানো হয়েছিল লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে। কিন্তু সেখান থেকে কোনও নির্দেশ না আসায় হামলাকারীদের প্রতিহত করা যায়নি। উল্টে নিজেদেরই প্রাণে বাঁচার কৌশল খুঁজতে হয়েছে।”
সেই ঘটনার রেশ কাটিয়ে শনিবার সাতসকালেই আলিপুর থানায় হাজির হয়েছিলেন কার্তিকবাবু। কী পরিস্থিতিতে তাঁকে বাধ্য হয়ে টেবিলের পিছনে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, ওই ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে ওই পুলিশকর্মীকে। তাঁর নিজের মুখে সে কথা শুনে এবং টিভিতে-কাগজে ওই ছবি দেখার পরে ছোট-মেজো-বড় সব সহকর্মীই কার্তিকবাবুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “কার্তিকবাবু আদতে খুবই সাদামাটা, নিরীহ মানুষ। মুখে হাসি লেগেই থাকে। এমন মানুষের ও রকম উত্তেজিত জনতার হামলার সামনে পড়ে হতবাক হওয়ারই কথা।” আলিপুর থানার একাধিক পুলিশকর্মী জানান, ওই ‘ঝড়ের’ মুখে পড়লে তাঁরাও হয়তো এমনই করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশকর্তাদের একাংশ বলছেন, শুধু আলিপুর থানার পুলিশই নয়, কার্যত একই অবস্থা গোটা রাজ্যের পুলিশের। কোথাও শাসকদলের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে মাথায় ঢিল খাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা, কোথাও বা পেটে তির নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে সমাজরক্ষকদের। ওই পুলিশকর্তাদের মতে, যে ভাবে বাহিনীকে ঠুঁটো করে রাখা হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে পুলিশ-লাইন কিংবা থানা আক্রমণের ঘটনা বাড়বে বৈ কমবে না। এবং পুলিশকে তা দেখেও হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। কারণ, ‘অ্যাকশন’ নিতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে অনুমতির দরকার হয়, প্রয়োজনের সময়ে তা মিলছে না।(আরও.....)

মমতার নিজের পুলিশে আস্থা নেই, পাশে চান দিল্লিকেই

Saturday, November 1, 2014

Ruling Party Leaders of West Bengal

প্রবন্ধ ২ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

এ আমার জগের মুলুক

২ নভেম্বর, ২০১৪, ০০:০০:০০




3
আরে, জনগণের কথায় পার্টি চলে না কি? জনগণ তো গাধা, না না, গাধা নয়, ভেড়ার পাল, মিডিয়ার ছপ্টির ঘায়ে এক বার এ দিক ঝুঁকছে, এক বার ও দিক। খবরকাগজগুলো হেডলাইন করল, তৃণমূল ভাল, সবাই বলবে হ্যঁা হ্যঁা ভাল। আবার শয়তানগুলো চ্যানেলে বলল তৃণমূল খারাপ, পাবলিক মুড়ি খেতে খেতে সিদ্ধান্ত নিল, সত্যিই খুব খারাপ। এদের আবার কেউ ভয় পায়? ভয় পাওয়ায়। ভোটের দিনকতক আগে থেকে র্যান্ডম চড় মারো লাথি ঝাড়ো বন্দুক নিয়ে টেররাইজ করে রাখো, যারা বিরোধী-মাইন্ডেড তাদের ভোট দিতেই দিয়ো না, মারতে মারতে বুথের দশ মাইল দূরে ফেলে এসো, আর এক্সট্রা ত্যান্ডাইম্যান্ডাই দেখলে, গুড়ুম। মিটে গেল। পার্টির সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক হবে চাবুকের সঙ্গে পাছার সম্পর্ক। কথায় কথায় থ্রেট থাকবে, এক দিন চড়াও হব, ব্যস, কাগজে ডেডবডির কালার-ছবি বেরবে। তা না, সেই জনগণের কাছে কী ইমেজ হচ্ছে, এই ভয়ে আমায় ছ’বচ্ছর সাসপেন্ড করে দিল!
কী জগ-টা ছুড়েছিলাম সেই টিচারটার দিকে! ওঃ, অন্য দেশ হলে আমায় অলিম্পিকে নিয়ে যেত! ইভেন্টের নাম ‘জগিং’! তা ছাড়া, বোম না ছুড়ে জাস্ট জগ ছুড়েছি, সেই জন্যে আমার সংযমের বাহাদুরি দে! জগ খুলে জলও তো ছুড়তে পারতাম! তা হলে মেয়েটার কাপড় ভিজে যেত। কী ইজ্জত-লস হত! তা কিন্তু করিনি। মাথা আমার একদম সাফ। আরে, তাজা ছেলে আমি। আমার মধ্যে একটা তেজ সব সময় রাগী ভাতের হাঁড়ির মতো ফুটছে। এরাই তো পৃথিবীকে চেঞ্জ করে! চ্যালেঞ্জ দেখলে লাফিয়ে পড়ে, পাহাড় দেখলে লং জাম্প দেয়, সমুদ্র দেখলে তার মধ্যে চান করতে করতেই বাথরুম সেরে নেয়। এরা কিচ্ছুকে পরোয়া করে না। পাঙ্গা নিতে এলেই হাতের কাছে যা দেখে স্ট্রেট ছুড়ে মারে। পেপারওয়েট থাকলে ছুড়ব, জগ তো তা-ই সই, কিছু না পেলে একটা টিচারকেই তুলে আর একটা টিচারের দিকে ছুড়ে মারব। এরা ভীম ভাসমান মাইন। ছোটা ভীম নয় কিন্তু।
আগুন নিয়ে খেলা করা এই সব পাবলিকই পার্টিকে জেতায় আর ক্ষমতায় রাখে। সমস্ত পার্টির গুন্ডা থাকে। যে পার্টির গুন্ডা যত নিপুণ নিষ্ঠুর নিরক্ষর, সে পার্টির জোর তত বেশি। কত ন্যাকা লোক খবরকাগজে কী সব হাবিজাবি অ্যনালিসিস করে,  কোন দল কেন জিতল। আরে ভাই, কংগ্রেসের আগে ভাল ভাল গুন্ডা ছিল, তার চেয়ে সিপিএমের গুন্ডা বেটার হয়ে গেল, তো ওরা জিতে গেল। তার পর তৃণমূলের গুন্ডা আরও ভাল হল, আমরা জিতে গেলাম। এই তো ব্যাপার। এতে ভাবার কী আছে? অ্যাকচুয়ালি, ভাবাভাবি যত বেশি হবে, জীবনে তত বখেড়া। আরে, পুলিশকে পেটাবার সময়ও আমি আগুপাছু কিচ্ছু ভাবিনি। পড়াশোনা করিনি তো, তাই আমার মাথায় কোনও বাড়তি বস্তা নেই। ফাঁকা খুলিতে চড়াত্‌ চড়াত্‌ ইলেকট্রিক খেলছে। যারা আমার মতো হতে চায়, আমাকে পুজো করে, তাদের প্রতি আমার উপদেশ: বেশি ভেবে সময় নষ্ট কোরো না। কাজ করো। মানে, যার ওপর খার উঠবে, সটান মেরে দাও। থানায় ঢুকে আমি তাণ্ডব করেছি। আবার শত্রু-দলের একটা লোক, গলায় গামছা দিয়ে হাঁটে, তাকেও বেধড়ক্কা মেরেছি। ইশকুলে ঢুকে অর্ডার দিয়েছি, পরীক্ষা দিচ্ছে যে ফুলের মতো ছেলেমেয়েগুলো, তাদের টুকলি করতে দিন। তবে তো ওরা আমার মতো হয়ে উঠবে। শেষে কি পড়ায় মন দিয়ে আসল কাজগুলো নেগলেক্ট হবে? আসল কাজ কী? শের হওয়া। শের। গিধ্ধড় নয়। তুমি যেখান দিয়ে হাঁটবে, লোকে সেলাম ঠুকে রাস্তা ছেড়ে পাঁইপাঁই সরে যাবে, থরথরিয়ে কাঁপবে। সে অন্য দলের হোক, আর নিজের দলের। মারামারির সময় কোনও আমরা-ওরা ভেদাভেদ রেখো না। ছিঃ। ভেদ করতে নেই। নিজের দলের লোক ঝামেলি করলে, তাকেও জানে মেরে দেবে। আমার হাতেপায়ে আপনিই এ সব ডিপ থট এসে যায়, তাই তো আমি দামাল। ইংরিজিতে বলে the মাল!
জানি, এই সাহস দেখে বহুত লোকের চোখ টাটায়। হবেই, এটা তো বাঙালি জাতের ল্যান্ড। আর এই জাতটা ম্যাদামারা। সারা দিন শুধু ভয় খায় আর মেয়েছেলের মতো গান গায়। সেখানে এই রকম একটা দাপুটে সিংহম্ হাঁটছে দেখলে, তার পায়ের স্টেপে হুগলি ব্রিজ অবধি কেঁপে ওঠে, কিউবিক্লের ভেতর ক্যাবলাদের হাঁটু লড়বড় করে। আর আছে কয়েকটা শেয়াল পণ্ডিত, সারা দিন পিনপিন প্যানপ্যান করে আঁতেল বক্তিমে মারে, শালাদের কব্জিগুলো সরু আর চেহারা সিড়িঙ্গে, মদমাংস দেখলে পালায় আর বাড়ি থেকে টিপিনকারি খুলে ঢ্যঁাড়সের ঝোল খায়, আর হাত নেড়ে নেড়ে শক্ত বাংলা ওয়ার্ড বলে। এই গরমকালে মাফলার জড়ানো ব্যাটারাই যত আলফাল আইডিয়া ঢোকাচ্ছে পার্টির মগজে। আরে, একটা মারমুখো থাবা-রেডি মেম্বার থাকলে লোকে সেই দলকে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করে রে! বিজেপি এখন সারা বাংলায় কন্ট্রোল নিতে চাইছে, আমি আছি জানলে ওরা কোথাও ঢোকার আগে দশ বার ভাববে। আমাকে সাসপেন্ড করে কার পিঠ-চাপড়ানি পাবি? বড়জোর বিরোধী দলগুলোর, যারা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে, সচিন তেন্ডুলকরকে ড্রেসিং রুমে রেখে এই বোকা দলটা খেলতে নামছে বলে।
আবার ছ’বছর! রাম তবু চোদ্দো বছর বনবাসে ছিল, তার একটা ওয়েট আছে, ডবল ফিগার। ছ’বছরটা কোত্থেকে এল? আমি থোড়াই অদ্দিন বসে থাকব! অন্য পার্টি জয়েন, বা ফ্রিল্যান্সও করতে পারি। মোটা ফি নিয়ে এমন ভাঙচুর, বৈদিক যুগের রুইন! আবার কে বলতে পারে, আমার কাঁদোকাঁদো ক্ষমাচিঠি (ট্যাকটিক্স, বস) দেখে লিডাররা অ্যায়সা ফোঁপাল, ফের বহাল হয়ে গেলাম। সেই ঘোটালায় কেউ সাহস করে আসলি কোশ্চেনও বাগিয়ে ফেলতে পারে: আমাকে বাদ দিলে, পার্টি ছ’বচ্ছর টিকবে তো?

লেখাটির সঙ্গে বাস্তব চরিত্র বা ঘটনার মিল থাকলে তা নিতান্ত অনিচ্ছাকৃত, কাকতালীয়


**************

সম্পাদকীয় ২ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

নেত্রী কাহাকে বলে

১ নভেম্বর, ২০১৪, ০০:০৫:০০


দেখিয়া যেমন মনে হয়, অনেক কিছুই আসলে তেমন নহে। যুগযুগান্তর ধরিয়া মানুষ এই সতর্কবাণী শুনিয়াছে এবং ভুলিয়াছে। অথচ বাহিরের চাকচিক্য অথবা আস্ফালনে বিভ্রান্ত না হইয়া মন দিয়া দেখিলে এবং বিচার করিলেই মলাট খুলিয়া সত্য প্রকাশ হয়। যেমন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁহার চালচলন দর্শন করিলে এবং কথাবার্তা শ্রবণ করিলে এই বিশ্বাস জন্মাইতে বাধ্য যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুল্য প্রবল নেতা নরেন্দ্র মোদীর ভারতেও খুব বেশি নাই। অধুনা নানাবিধ কারণে দীপ্তিরাশিতে কিঞ্চিৎ ছায়া ঘনাইতেছে বটে, তবু শাহরুখ-সম্ভাষণ হইতে কপিলমুনি-বন্দনা— কী দাপট! কিন্তু দাপট দেখাইলেই নেত্রী হওয়া যায় না। নেতা বা নেত্রীর কাজ কী, নেতৃ শব্দেই তাহার স্পষ্ট নির্দেশ আছে। শব্দটি ‘নী’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন। নী অর্থ নয়ন করা অর্থাৎ লইয়া যাওয়া। নেতৃ তিনিই, যিনি অন্যদের পথ দেখাইয়া লইয়া যান।
কাজটি বড় সহজ নহে। বহুজন যে পথে চলিতে চাহে, সচরাচর তাহা আলস্যের পথ, হঠকারিতার পথ, সস্তায় বাজিমাত করিবার পথ, আপন কর্তব্য পালন না করিয়া যাবতীয় অধিকার ভোগ করিবার পথ। যিনি যথার্থ নেতা, তাঁহার কাজ এই কুপথ হইতে মানুষকে নিরস্ত করা এবং তাহাদের পরিশ্রমের পথে, নীতির পথে, কর্তব্যপালনের পথে (আ)নয়ন করা। কাজটি কঠিন। প্রথমত, এ কাজ করিতে চাহিলে সর্বাগ্রে নিজেকে প্রস্তুত করিতে হয়। দ্বিতীয়ত, বহু মানুষকে এই পথে আনিবার জন্য ধৈর্য এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়, অনেক সময়েই জনমনোরঞ্জনের বিপরীতে হাঁটিতে হয়, এমনকী বহু মানুষের— আপন অনুগামীদেরও— অসন্তোষ উৎপাদন করিতে হয়। নেতৃত্বের সরণি কুসুমাস্তীর্ণ নহে, মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী বা নেলসন ম্যান্ডেলারা তাহা বিলক্ষণ জানিতেন। মানুষ কী চাহিতেছে, সেই অনুসারে আপন পথ স্থির করা নেতা বা নেত্রীর কাজ নহে, মানুষের কী চাওয়া উচিত, তাহা দেখাইয়া দেওয়াই তাঁহার কাজ।
নেতৃত্বের এই প্রাথমিক শর্ত পূরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ। তিনি জনসাধারণকে পথ দেখান না, জনসাধারণ যে পথে চলিতে চাহেন তিনি সেই পথে চলেন। তাঁহার জনপ্রিয়তা অবিরত জনমনোরঞ্জনের ফসল। সিঙ্গুরের আন্দোলন হইতে শুরু করিয়া টলিউড-বলিউড-টেলিউড ভজনা, বিষাক্ত চোলাই মদে মৃতদের জন্য ক্ষতিপূরণ হইতে ‘বাসভাড়া বাড়ানো চলিবে না’, সর্বক্ষেত্রেই তিনি জনতার মন ভুলাইয়া জনসমর্থন সংগ্রহ করেন। বস্তুত, তাঁহার নীতি কী, ‘এজেন্ডা’ কী, কখনওই জানা যায় নাই, কারণ তাঁহার ওই সব বস্তুর কিছুমাত্র প্রয়োজন নাই, আমজনতা যাহা চাহে বলিয়া তিনি মনে করেন, উহাই তাঁহার নীতি, তাঁহার এজেন্ডা। জনপ্রিয়তার এই নিরন্তর সন্ধানেই মুখ্যমন্ত্রী ক্রমাগত রাজ্য সরকারের ছুটির তালিকা বাড়াইয়া চলিয়াছেন। ২০১১ হইতে ২০১৫, চার বছরে সরকারি ছুটির সংখ্যা বছরে ২৭ হইতে বাড়িয়া ৩২ হইতেছে, আগামী বছর দুর্গাপূজায় টানা এগারো দিন, কালীপূজা-দেওয়ালিতে টানা ছয় দিন সরকারি কাজ বন্ধ থাকিবে। ছুটিপ্রিয় বঙ্গবাসী তাঁহার উপর পরম প্রীত হইবেন। প্রীতি হইতে ভোট আসে, ভোট আসিলে রাজ্যপাট দীর্ঘায়িত হয়। আরও কিছু সময় হাতে পাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই ক্যালেন্ডারের বাকি তারিখগুলিকেও লাল কালিতে রাঙাইয়া দিতে সক্ষম হইবেন। নেতৃত্বের রক্তিমা সম্পূর্ণ হইবে।


আরও - 

আপনি ক্ষমা না করলে আমার সর্বনাশ

নৈতিকতার দায়

After killing democracy in West Bengal Mamta led TMC now killing own partymen at Bhangor

ভাইফোঁটায় রক্তাক্ত ভাঙড়

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে হত ২, কাঠগড়ায় আরাবুলই

নিজস্ব প্রতিবেদন (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৬ অক্টোবর, ২০১৪





1-1

রমেশ ঘোষালের শোকাহত পরিজনেরা।

ফের ভাঙড়। ফের সেই আরাবুল ইসলাম!
কলেজ শিক্ষিকাকে জগ ছুড়ে মারা থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লার উপরে হামলা একের পর এক ঘটনায় তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের নাম উঠে এলেও তাঁকে বরাবরই ছাড় দিয়ে এসেছেন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই প্রশ্রয়ে লাগামছাড়া আরাবুল গোষ্ঠী শনিবার তাণ্ডব চালাল ভাঙড়ে। তৃণমূলেরই অন্য এক গোষ্ঠীর উপরে সেই হামলার জেরে পনেরো মিনিটের ব্যবধানে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। জমি কেনাবেচার দালালির বখরা নিয়ে গোলমাল আর এলাকা দখলে রাখার মরিয়া চেষ্টাই এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নেপথ্যে, জানাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাদেরই একাংশ।
দলের ব্লক সভাপতি ওহিদুল ইসলামের অনুগামীদের সঙ্গে কিছু দিন ধরেই বিরোধ চলছিল আরাবুল অনুগামীদের। তার জেরে এ দিন সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ভাঙড়-২ ব্লকের বেঁওতা গ্রাম। দফায় দফায় গুলি চলে। ব্যাপক বোমাবাজি হয়। তখন ওহিদুল অনুগামী হিসেবে পরিচিত রমেশ ঘোষালের (৪২) বাড়িতে ভাইফোঁটার তোড়জোড় চলছিল। তারই মাঝে ঢুকে পড়ে তাঁর পেটে-বুকে চারটি গুলি করে এক দল যুবক। তারা আরাবুলের অনুগামী বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই রমেশের মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি, দু’টি মোটরবাইক ও কাপড়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বাপন মণ্ডল (১৯) নামে আর এক তৃণমূল কর্মী। তিনি আরাবুল-অনুগামী হলেও নিজের গোষ্ঠীর লোকেদেরই ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাঁর গায়ে লাগে বলে পুলিশের অনুমান। আরাবুলের অবশ্য দাবি, তিনি বা তাঁর কোনও অনুগামী এ দিনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
কেন এ দিন হঠাৎ উত্তপ্ত হল বেঁওতা গ্রাম?
স্থানীয় গ্রামবাসী ও তৃণমূূল নেতাদের একাংশের বক্তব্য, গোলমালের সূত্রপাত কয়েক মাস আগেই। চারটি সংস্থা বেঁওতা-১ এবং বেঁওতা-২ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৭০০ বিঘা জমি কিনবে বলে স্থির করে। তার মধ্যে ৪০০ বিঘা জমি কেনা হয়ে গিয়েছে। এই জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়েছে একটি চক্র। যারা দালালি আদায় করছে। তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, মোট দালালির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দুই পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানরা যে হেতু ওহিদুল-ঘনিষ্ঠ, তাই দালালিতে ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুলের নিয়ন্ত্রণ থাকছিল না। সেই নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে তিনি নিজের দলেরই পঞ্চায়েত প্রধানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার ব্যবস্থা করেন।
তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, অনাস্থায় হেরে মাসখানেক আগেই বেঁওতা-২ পঞ্চায়েতের প্রধান মর্জিনা বিবিকে পদ থেকে সরতে হয়। তার পর আরাবুলের ‘কোপে’ পড়েন বেঁওতা-১ পঞ্চায়েতের প্রধান সত্যজিৎ মণ্ডল ওরফে পাঁচু। সরতে হয় তাঁকেও। তা সত্ত্বেও পদচ্যুত ওই প্রধানদের অনুগামীদের দাপটে জমি লেনদেনের দালালিতে ভাগ বসাতে পারছিলেন না আরাবুল। ফলে তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই আরাবুল এবং ওহিদুল গোষ্ঠীর মধ্যে মারধর, হুমকি, শাসানি, পাল্টা শাসানি ঘিরে গ্রামে উত্তেজনা ছিল। বৃহস্পতিবারই মারধর করে রমেশের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি
টহলদার গাড়ি পাঠানো হয় গ্রামে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ লাঠি, রড, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রমেশের বাড়িতে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা গুলি-বোমা ছুড়তে ছুড়তে ঢোকে। রমেশের স্ত্রী আশাদেবী বলেন, “আরাবুলের লোকজনের পা জড়িয়ে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, টাকা লাগলে দেব। স্বামীকে মেরো না। ওরা শুনল না।”
রমেশকে খুন করার পরে দুষ্কৃতীরা পাশেই পাঁচুবাবুর বাড়িতে চড়াও হয়। বিপদ বুঝে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালান পাঁচুবাবু। তাঁর কথায়, “দিন কয়েক আগেও আরাবুল বাহিনী রাস্তায় আমার উপরে চড়াও হয়েছিল। এ দিন রমেশের বাড়ি থেকে ওরা আমার বাড়িতে আসছিল। আমি ছেলেকে নিয়ে পালাতে থাকি। উল্টো দিক দিয়ে আরাবুলের আর একটি বাহিনী গুলি চালাতে চালাতে আসে। আমাকে লক্ষ করে গুলি চালায়। আমি ছেলেকে নিয়ে নয়ানজুলিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

বাপন মণ্ডলের শোকাহত পরিবার।
ওই গুলিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাপনের গায়ে লাগে।”
ঘটনাস্থলেই বাপনের মৃত্যু হয়। মৃতদেহটি তাঁর বাড়ির সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আরাবুল-অনুগামীরা। চলে আসেন আরাবুলও। তার ফাঁকে পাঁচুবাবুরও বাড়িতে এবং মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রমেশের দেহ উদ্ধার করার পরে বাপনের দেহ উদ্ধারে গিয়ে বাধা পায় পুলিশ। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে। পরে জেলা পুলিশের কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করেন। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়।  
এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ে তৃণমূূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত চার বছরে বহু বার সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরাবুল এবং দলের জেলা পরিষদ সদস্য কাইজার আহমেদের অনুগামীরা। দলের রাজ্য স্তরের নেতাদের সামনেও প্রকাশ্যে এসেছে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বছরখানেক আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূল যুবার এক সভায় হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন আরাবুল এবং কাইজার। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়েও যাদবপুর কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী সুগত বসুর সমর্থনে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের একটি সভায় দুই গোষ্ঠী হাতাহাতিতে জড়ায়। চলতি বছরের গোড়ায় ভাঙড়-১ ব্লকে তৃণমূল নেতা রজ্জাক সর্দার খুনের পিছনেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইঙ্গিত মিলেছিল।

আগুনে পুড়ে ছাই রমেশ ঘোষালের বাড়ির আসবাবপত্র।
এত কিছু সত্ত্বেও আরাবুলের বিরুদ্ধে কখনওই কোনও ব্যবস্থা নেননি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনকী, রেজ্জাক মোল্লার উপরে হামলার পরে পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র আরাবুলকে ‘তাজা নেতা ও দক্ষ সংগঠক’ বলে প্রশংসাও করেছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশই বলছেন, রাজ্য নেতৃত্বের প্রশ্রয় পেয়েই ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন আরাবুল। যার পরিণতি আজকের ঘটনা।
আরাবুল অবশ্য গোটা ঘটনার জন্য পাঁচুবাবুকে দায়ী করেছেন। জমির দালালির কথা অস্বীকার করে তাঁর দাবি, “রমেশ আমার খুবই ঘনিষ্ঠ। পাঁচুর নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। আমি ঘটনার পরে গিয়েছি।”
যদিও দলীয় নেতাদের যে কোনও অপকর্মকে সাধারণ ভাবে ‘ছোট ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দিতে অভ্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে আরাবুলের উপরে ক্ষুব্ধ বলে তৃণমূলের অন্দরের একটি সূত্রের দাবি। মুকুল রায়কে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আর দু’জন খুন হওয়ার পরেও তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “এটা যে হেতু দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, দলের জেলা নেতৃত্বকে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে বলেছি।” ওই রিপোর্ট পেলে মুকুল রায়, সুব্রত বক্সী, অরূপ বিশ্বাস এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। দলের কেউ দোষী হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পার্থ।

পাঁচু মণ্ডলের পোড়া মোটরবাইক। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন জেলার পুলিশ সুপার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী।
তৃণমূল সূত্রের অবশ্য দাবি, পুলিশ-প্রশাসনকেও এ বার নিরপেক্ষ ভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এ দিনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত দুই তৃণমূল কর্মীর পরিবার এবং গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশের সামনেই হামলা হল। অথচ, পুলিশ ছিল দর্শক। বস্তুত, পুলিশের যে টহলদার গাড়ি ওই গ্রামে ছিল, সেখানে দুই কনস্টেবল এবং এক জন এএসআই ছিলেন। রমেশ খুনের পরে আরও কিছু পুলিশ আসে। কিন্তু তাঁদেরই বক্তব্য, শুধু লাঠি হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত না। তাই তাঁরা এগোতে সাহস করেননি। পরে অবশ্য আশপাশের থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী আসে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার প্রবীণ ত্রিপাঠী বলেন, “পুলিশের সামনেই গুলি চলার কথা আমারও কানে এসেছে। বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।” এ দিনের ঘটনায় রাত পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভাঙড়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বার শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যা চলছে তাকে আর যাই হোক প্রশাসন বলা যায় না। লুঠের রাজত্ব চলছে। তার ফলেই এই নৈরাজ্য এবং খুনোখুনি।” প্রবীণ কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়ারও অভিযোগ, “পুলিশ ও প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখে শাসক দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী আর্থিক ফায়দা তোলার কাজ করছে। তার ফলেই এই পরিস্থিতি।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু বলেন, “যত দিন যাবে ততই তৃণমূলের উপরে তৃণমূলের এই আক্রমণ বাড়বে। পুলিশকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। আর পুলিশের কিছু বড় কর্তা শীর্ষ নেতৃত্বের সুনজরে থাকার জন্য নিচুতলার কর্মীদের অ্যাকশন নিতে বারণ করছেন। মুখ্যমন্ত্রী আবার এই অফিসারদের ধন্য ধন্য করছেন!”

********************

দাপট কি কমবে আরাবুলের, প্রশ্ন তৃণমূলেই

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২৬ অক্টোবর, ২০১৪






2
তাঁর কীর্তি অনেক!
আট বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার লেদার কমপ্লেক্স থানার ওসি-কে মারধোর করেছিলেন। তবে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল ভাঙড় কলেজের এক শিক্ষিকাকে জগ ছুড়ে মেরে। সেখানেই থামেননি কীর্তিমান! ২০১৩-র ৬ জানুয়ারি কাঁটাতলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লার উপর হামলা করেন তিনি। সে যাত্রা গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু তাতে ভাঙড়ে তাঁর দাপট কমেনি। কিছু দিন আগেই ভাঙড়-২ নম্বর ব্লকের কাশীপুর থানায় গিয়ে হম্বিতম্বি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু কী পুলিশ, কী তাঁর দল কেউই ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আরাবুল ইসলামের রাশ টানেনি। শনিবার ভাইফোঁটার দিনে ভাঙড়ের বেঁওতা গ্রামে দলেরই দুই কর্মীর খুনের ঘটনার পরে তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে, এর পরেও কি আরাবুল বহাল তবিয়তে থাকবেন?
কালীঘাটে এ দিন দলের নেতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভাইফোঁটা দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পর্ব মিটতে নেত্রীর উপস্থিতিতেই নেতাদের কেউ কেউ ভাঙড়ের প্রসঙ্গ তোলেন। আর কত দিন আরাবুলের দাপট সহ্য করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বিস্তারিত আলোচনায় যাননি বলেই দলীয় সূত্রের খবর। (আরও....)


*********************

চন্দনের বাটি হাতে দাদার দেহ দেখল বোনেরা

শুভাশিস ঘটক (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

ভাঙড়, ২৬ অক্টোবর, ২০১৪


ধান-দুব্বো তোলা হয়ে গিয়েছিল সাত সকালেই। পছন্দ করে কেনা হয়েছিল পাজামা-পাঞ্জাবিও।কিন্তু দাদাকে ভাইফোঁটা’টা আর দেওয়া হল না দুই বোনের।নিয়তি মুখোপাধ্যায় আর মালতি চক্রবর্তীশনিবার সকালে গুলিতে ঝাঁঝরা ভাঙরের বেঁওতা গ্রামের রমেশ ঘোষালের দুই বোন। বাপের বাড়ি আসার পথেই খবরটা শুনেছিলেন--তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে গুলিতে শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁদের দাদা। বাড়িতে ঢুকে তাঁরা দেখলেন রক্তের দাগ। আগুনে খাক হয়ে যাওয়া দাদার দোকান, মোটরবাইক। পুড়ে যাওয়া বাড়ি আর সাদা কাপড়ে মোড়া দাদার রক্তাক্ত দেহ।
নিয়তির বাড়ি জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতে। মালতি কুলতলির জালাবেড়িয়ার বাসিন্দা। বাপেরবাড়ি যাবেন বলে ব্যাগপত্র গুছিয়ে শনিবার সাতসকালে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু শনিবার সেখানে আর তাঁদের বেশি ক্ষণ থাকা হয়নি। দাদা খুন হওয়ায় দিনভর কাটাতে হল লেদার কমপ্লেক্স থানায়। দিনের শেষে কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না দুই বোনই। কোনও রকমে তাঁরা বলেন, “কত আনন্দ নিয়ে আসছিলাম। ভেবেছিলাম হই-হুল্লোড় হবে। এমন একটা দিনে রাজনীতির জন্য যে দাদাকে বলি হতে হবে ভাবতেও পারছি না।” (আরও.....)

**********************

কাছ থেকেই গুলি বাপনকে, ইঙ্গিত ময়না-তদন্তে

শুভাশিস ঘটক (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ৩১ অক্টোবর, ২০১৪


ভাঙড়ে ভাইফোঁটার দিন নিহত বাপন মণ্ডলের মৃত্যু কী ভাবে হয়েছিল—তা নিয়ে প্রাথমিক ধারণা বদলাচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা মনে করেছিলেন, দূর থেকে ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিঁধেছে বাপনের গায়ে। কিন্তু পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের খবর, ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, একেবারে গায়ের সঙ্গে (পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ) ওয়ানশটার ঠেকিয়ে গুলি করা হয় বাপনকে। গুলি চালানো হয়েছিল গলার নলি থেকে নীচের দিক তাক করে। দূর থেকে ছোড়া গুলি এসে বিঁধলে যেমন ক্ষত হওয়ার কথা, বাপনের শরীরে তেমন কিছু মেলেনি।
গত ২৫ অক্টোবর, ভাইফোঁটার দিন ভাঙড়ের বেঁওতা গ্রামে গুলিতে খুন হন তৃণমূল কর্মী রমেশ ঘোষাল ও বাপন মণ্ডল। রমেশকে খুনের ঘটনায় অভিযোগ ওঠে সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের দলবলের বিরুদ্ধে। আরাবুল আবার পাল্টা দাবি করেন, বেঁওতা ১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সত্যজিৎ মণ্ডল ওরফে পাঁচু ও তাঁর দলবলের ছোড়া গুলিতে বাপনের মৃত্যু হয়েছিল। (আরও....)




***************
The Telegraph
Monday , October 27 , 2014 

7 of TMC arrested for Bhangar killings

Oct. 26: Seven Trinamul Congress workers, including a former gram panchayat pradhan opposed to local strongman Arabul Islam, were arrested early today in connection with the murder of two party activists from rival factions in Bhangar yesterday.
The names of Satyajit Mondal, a former chief of the Beonta-I gram panchayat, and his son Tapas figure in the FIR lodged by the mother of Bapon Mondal, an Arabul faction member who was among the two shot dead. The two were picked up from a relative’s home in Howrah.
In her FIR, Bapon’s mother Chaiti has named 11 people, of whom three more have been arrested.
The wife of Ramesh Ghosal, a Satyajit loyalist who died of bullet injuries, filed a counter-FIR in which no one was named. Police have arrested two persons believed to be members of Arabul’s group following investigations based on the complaint by Ramesh’s wife Asha. (More......)



          কাদের স্বার্থে বর্ধমান এস পি বিস্ফোরণের প্রমাণ নষ্ট করল এবং ভুল রিপোর্ট দিয়ে তদন্ত ভুলপথে চালিত করতে চাইলেন কাকে বাঁচাতে?
           

West Bengal Police - became partisan and inept under Mamta Administration!


সন্তোষপুর

আক্রান্ত পুলিশ, অভিযুক্ত শাসক দলের কাউন্সিলর

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অক্টোবর, ২০১৪,


3

সেই সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি।

এ বার খাস কলকাতাতেই আক্রান্ত হল পুলিশ। এক দিনের ব্যবধানে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহরে দু’বার আক্রমণের মুখে পড়তে হল তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে যাদবপুরের সন্তোষপুরে এবং রবিবার রাতে লেক এলাকার গোবিন্দপুর কলোনিতে এই দু’টি ঘটনায় মোট চার জন পুলিশকর্মী জখম হন। সন্তোষপুরের ঘটনায় পুলিশের উপরে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কর্তব্যরত এক সার্জেন্টের সঙ্গে বচসার জেরে তাঁর উপর চড়াও হন তিনি।
সন্তোষপুরের লেকপল্লিতে ঘটনার সূত্রপাত এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুর একটা নাগাদ এক ট্যাক্সিচালক সন্তোষপুরের রাস্তায় নো-পার্কিং জোনে ট্যাক্সি দাঁড় করালে কর্তব্যরত সার্জেন্ট মানবেন্দ্র বিশ্বাস তাঁকে ‘কেস’ দিতে যান। ট্যাক্সিচালক তখন ওই সার্জেন্টকে কোনও ‘কেস’ না দিয়ে ‘স্পট ফাইন’ করার অনুরোধ করেন। অনুরোধ মেনে তাঁকে জরিমানা করেন সার্জেন্ট।
পুলিশের একাংশের অভিযোগ, ওই সময়ে ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। ট্যাক্সিচালককে কেস দেওয়া নিয়ে মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গে বচসা বাধে তাঁর। মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গী আর এক সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি সেই সময়ে মোবাইলে ওই বচসার ছবি তুলতে গেলে সঞ্জয়বাবু ও তাঁর সহযোগীরা মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁর উপরে চড়াও হন বলে অভিযোগ। তখনই ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান সুকান্তবাবু। পুলিশ সূত্রে খবর, সুকান্তবাবুকে বাঘা যতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বুকে এবং মাথায় চোট লেগেছে বলে চিকিৎসকেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওই দুই সার্জেন্টের কেউই সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে সার্ভে পার্ক থানায় ওই কাউন্সিলর এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মানবেন্দ্রবাবু। তার ভিত্তিতে সরকারি কর্মীর কাজে বাধাদান, তাঁর উপরে হামলা চালানো, হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রাতে লালবাজারের এক কর্তা বলেন, “ওই সার্জেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।” তবে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কথা প্রথমে চেপে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার ছ’ঘণ্টারও বেশি সময় পরে এ নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর সঞ্জয়বাবুর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বেজে যায়। এসএমএসেরও জবাব মেলেনি।
অন্য দিকে, রবিবার রাতে কালীপ্রতিমা বিসর্জনের সময়ে বাজি ফাটানো নিয়ে দুই ক্লাবের সংঘর্ষ হয়। তা আটকাতে গিয়ে মার খায় পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, তাদের লক্ষ করে ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। এতে জখম হন তিন পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে লেক থানার গোবিন্দপুর লেনে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই রাতে বিসর্জন সেরে এলাকায় ফিরছিলেন স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যেরা। মাঝরাস্তায় যোধপুর পার্কের একটি ক্লাবের শোভাযাত্রার মুখোমুখি হন তাঁরা। পুলিশ জানায়, যোধপুর পার্কের ওই ক্লাবটির সদস্যেরা অন্য ক্লাবটির সদস্যদের লক্ষ করে বাজি ছোড়ে। এর জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লেক থানার চার পুলিশকর্মীর একটি দল। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করেও ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী জখম হন। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানায় পুলিশ।




পুলিশ নিগ্রহ: কেউ সাজা পায় কেউ পায় না

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

৩০ অক্টোবর, ২০১৪,

একই আইন এবং একই অভিযোগ। অথচ, দুই ক্ষেত্রে আইনের পৃথক ফল।
মঙ্গলবার সকালে সার্ভে পার্কে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আক্রান্ত হয়েছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট। সার্ভে পার্কের ঘটনায় রাতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আইনের ভিন্নতা দেখা গেল এই ঘটনার ১১ ঘণ্টা পরে। পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দুই পুলিশকর্মীকে মারধর করেন এক ব্যক্তি। আর এই ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ধৃতের নাম নিরঞ্জন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে মত্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি।
কিন্তু একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন আইন কেন? এই নিয়ে বুধবার যুগ্ম কমিশনার (সদর) রাজীব মিশ্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ফৌজদারি আইনে সব সময়ে গ্রেফতার বাধ্যতামূলক নয়। ঘটনার পরিস্থিতি বিচার করে গ্রেফতার করা হয়। এই ক্ষেত্রে তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ নিয়ম ভাঙার অভিযোগে এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন পূর্ব যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট। সন্তোষপুর এলাকার লেকপল্লিতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের উপরে আক্রমণের সময়ে ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি জখম হন। তাঁর বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবেন্দ্র বিশ্বাস নামে আর এক সার্জেন্টের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহলে কেউ কিছু বলতে না চাইলেও পরে রাতের দিকে তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অথচ সেই ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়নি।
কী ঘটেছে হরিদেবপুরে? পুলিশ জানায়, ওই রাতে নিরঞ্জনবাবু হরিদেবপুর থানার এক কনস্টেবলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে আসেন আরএফএসের কয়েক জন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী। মত্ত অবস্থার নিরঞ্জনবাবুর সঙ্গে তাঁরাও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর পরেই মত্ত ওই ব্যক্তি আচমকা তাঁদের মারধর করতে শুরু করেন। ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই পুলিশকে মারধরের অভিযোগে নিরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি ঘটনাতেই কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উপরে হামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে হুমকি (৫০৬), ৫০ টাকা মূল্যের বেশি সম্পত্তি ধ্বংস (৪২৭) এবং সমবেত হামলার (৩৪) ধারাগুলি। পুলিশ জানিয়েছে, আইনের অন্য ধারাগুলি জামিনযোগ্য অপরাধ হলেও ৩৫৩ ধারাটি জামিন-অযোগ্য। এই ধারায় অভিযুক্তের দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দু’টো সাজাই হতে পারে। অথচ অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার তো দূর অস্ত্‌, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। দুই ক্ষেত্রে দু’রকমের ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত এক জন তৃণমূল কাউন্সিলর হওয়ার কারণেই এমন ঘটেছে। তাঁকে গ্রেফতার করতে হলে উপরমহল থেকে অনুমতির প্রয়োজন।