Showing posts with label criminal. Show all posts
Showing posts with label criminal. Show all posts

Saturday, November 1, 2014

West Bengal Police - became partisan and inept under Mamta Administration!


সন্তোষপুর

আক্রান্ত পুলিশ, অভিযুক্ত শাসক দলের কাউন্সিলর

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অক্টোবর, ২০১৪,


3

সেই সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি।

এ বার খাস কলকাতাতেই আক্রান্ত হল পুলিশ। এক দিনের ব্যবধানে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহরে দু’বার আক্রমণের মুখে পড়তে হল তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে যাদবপুরের সন্তোষপুরে এবং রবিবার রাতে লেক এলাকার গোবিন্দপুর কলোনিতে এই দু’টি ঘটনায় মোট চার জন পুলিশকর্মী জখম হন। সন্তোষপুরের ঘটনায় পুলিশের উপরে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কর্তব্যরত এক সার্জেন্টের সঙ্গে বচসার জেরে তাঁর উপর চড়াও হন তিনি।
সন্তোষপুরের লেকপল্লিতে ঘটনার সূত্রপাত এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুর একটা নাগাদ এক ট্যাক্সিচালক সন্তোষপুরের রাস্তায় নো-পার্কিং জোনে ট্যাক্সি দাঁড় করালে কর্তব্যরত সার্জেন্ট মানবেন্দ্র বিশ্বাস তাঁকে ‘কেস’ দিতে যান। ট্যাক্সিচালক তখন ওই সার্জেন্টকে কোনও ‘কেস’ না দিয়ে ‘স্পট ফাইন’ করার অনুরোধ করেন। অনুরোধ মেনে তাঁকে জরিমানা করেন সার্জেন্ট।
পুলিশের একাংশের অভিযোগ, ওই সময়ে ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। ট্যাক্সিচালককে কেস দেওয়া নিয়ে মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গে বচসা বাধে তাঁর। মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গী আর এক সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি সেই সময়ে মোবাইলে ওই বচসার ছবি তুলতে গেলে সঞ্জয়বাবু ও তাঁর সহযোগীরা মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁর উপরে চড়াও হন বলে অভিযোগ। তখনই ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান সুকান্তবাবু। পুলিশ সূত্রে খবর, সুকান্তবাবুকে বাঘা যতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বুকে এবং মাথায় চোট লেগেছে বলে চিকিৎসকেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওই দুই সার্জেন্টের কেউই সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে সার্ভে পার্ক থানায় ওই কাউন্সিলর এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মানবেন্দ্রবাবু। তার ভিত্তিতে সরকারি কর্মীর কাজে বাধাদান, তাঁর উপরে হামলা চালানো, হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রাতে লালবাজারের এক কর্তা বলেন, “ওই সার্জেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।” তবে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কথা প্রথমে চেপে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার ছ’ঘণ্টারও বেশি সময় পরে এ নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর সঞ্জয়বাবুর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বেজে যায়। এসএমএসেরও জবাব মেলেনি।
অন্য দিকে, রবিবার রাতে কালীপ্রতিমা বিসর্জনের সময়ে বাজি ফাটানো নিয়ে দুই ক্লাবের সংঘর্ষ হয়। তা আটকাতে গিয়ে মার খায় পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, তাদের লক্ষ করে ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। এতে জখম হন তিন পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে লেক থানার গোবিন্দপুর লেনে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই রাতে বিসর্জন সেরে এলাকায় ফিরছিলেন স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যেরা। মাঝরাস্তায় যোধপুর পার্কের একটি ক্লাবের শোভাযাত্রার মুখোমুখি হন তাঁরা। পুলিশ জানায়, যোধপুর পার্কের ওই ক্লাবটির সদস্যেরা অন্য ক্লাবটির সদস্যদের লক্ষ করে বাজি ছোড়ে। এর জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লেক থানার চার পুলিশকর্মীর একটি দল। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করেও ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী জখম হন। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানায় পুলিশ।




পুলিশ নিগ্রহ: কেউ সাজা পায় কেউ পায় না

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

৩০ অক্টোবর, ২০১৪,

একই আইন এবং একই অভিযোগ। অথচ, দুই ক্ষেত্রে আইনের পৃথক ফল।
মঙ্গলবার সকালে সার্ভে পার্কে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আক্রান্ত হয়েছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট। সার্ভে পার্কের ঘটনায় রাতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আইনের ভিন্নতা দেখা গেল এই ঘটনার ১১ ঘণ্টা পরে। পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দুই পুলিশকর্মীকে মারধর করেন এক ব্যক্তি। আর এই ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ধৃতের নাম নিরঞ্জন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে মত্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি।
কিন্তু একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন আইন কেন? এই নিয়ে বুধবার যুগ্ম কমিশনার (সদর) রাজীব মিশ্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ফৌজদারি আইনে সব সময়ে গ্রেফতার বাধ্যতামূলক নয়। ঘটনার পরিস্থিতি বিচার করে গ্রেফতার করা হয়। এই ক্ষেত্রে তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ নিয়ম ভাঙার অভিযোগে এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন পূর্ব যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট। সন্তোষপুর এলাকার লেকপল্লিতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের উপরে আক্রমণের সময়ে ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি জখম হন। তাঁর বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবেন্দ্র বিশ্বাস নামে আর এক সার্জেন্টের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহলে কেউ কিছু বলতে না চাইলেও পরে রাতের দিকে তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অথচ সেই ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়নি।
কী ঘটেছে হরিদেবপুরে? পুলিশ জানায়, ওই রাতে নিরঞ্জনবাবু হরিদেবপুর থানার এক কনস্টেবলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে আসেন আরএফএসের কয়েক জন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী। মত্ত অবস্থার নিরঞ্জনবাবুর সঙ্গে তাঁরাও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর পরেই মত্ত ওই ব্যক্তি আচমকা তাঁদের মারধর করতে শুরু করেন। ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই পুলিশকে মারধরের অভিযোগে নিরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি ঘটনাতেই কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উপরে হামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে হুমকি (৫০৬), ৫০ টাকা মূল্যের বেশি সম্পত্তি ধ্বংস (৪২৭) এবং সমবেত হামলার (৩৪) ধারাগুলি। পুলিশ জানিয়েছে, আইনের অন্য ধারাগুলি জামিনযোগ্য অপরাধ হলেও ৩৫৩ ধারাটি জামিন-অযোগ্য। এই ধারায় অভিযুক্তের দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দু’টো সাজাই হতে পারে। অথচ অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার তো দূর অস্ত্‌, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। দুই ক্ষেত্রে দু’রকমের ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত এক জন তৃণমূল কাউন্সিলর হওয়ার কারণেই এমন ঘটেছে। তাঁকে গ্রেফতার করতে হলে উপরমহল থেকে অনুমতির প্রয়োজন।



        

"Miscarriage pf Justice" by Mamta administration - Arrested a person who is already in Police custody, Court lambasted!


Saturday , November 1 , 2014











Court slams West Bengal police for abuse of power in investigation of Birbhum clashes



Sougata Mukhopadhyay,CNN.com
Oct 31, 2014 at 03:01pm IST Kolkata: Siuri court severely reprimanded West Bengal Police and directed top brass of district police to remove the officer in charge of Parui PS Kartick Mohan Ghosh and suspend Investigation Officer in the Parui political clash case Dhrubajyoti Dutta for dereliction of duty.

Siuri court severely reprimanded West Bengal Police and directed top brass of district police to remove the officer in charge of Parui PS Kartick Mohan Ghosh and suspend Investigation Officer in the Parui political clash case Dhrubajyoti Dutta for dereliction of duty.
The court referred the case to Calcutta High Court for further action, also directed the district police to set up a high-level inquiry committee headed by a DSP against the accused officers.
The Parui police produced an accused, Ali Jinnah, twice before the court and showed him as accused in two different cases and even prayed for his remand.
The accused, a TMC supporter, was first arrested on Tuesday on the basis of an FIR lodged at the Parui PS on the clash between TMC and BJP in Makra village on Monday. The court remanded the accused in police custody for five days along with 10 other accused who were also arrested
The same person was again produced in court by the police on Thursday and was shown as an accused in a suo motu case lodged by the police on the Makra clash and again prayed for his remand
A disgusted chief judicial magistrate of Birbhum, Indranil Chatterjee, summoned the OC to the court and asked him how can he ask for remand of an accused who his already in his remand.
The OC said to court that this was a "mistake" and asked for the court's pardon. The judge observed that a "mistake" is when you write two plus two as six, but if you write two plus two as Shakespeare, then that cannot be called a "mistake", it's an abuse of power.
The disciplinary action on the accused officers was given by the court on Friday after the follow up hearing in this case.


***************
১৫ কার্তিক ১৪২১ শনিবার ১ নভেম্বর ২০১৪ | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ



বিচারের গর্ভপাত! পুলিশকে তোপ ক্ষুব্ধ বিচারকের

দয়াল সেনগুপ্ত


সিউড়ি, ১ নভেম্বর, ২০১৪, ০৩:৩৫:৪৭


3
সিউড়ি আদালত থেকে বেরোচ্ছেন পাড়ুই থানার ওসি কার্তিকমোহন ঘোষ।—নিজস্ব চিত্র।


বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ‘মিসইউজ অব পাওয়ার’ অর্থাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার। শুক্রবার আরও কঠোর ভাষায় বললেন, ‘মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’ (বিচারের গর্ভপাত)!
বললেন, বীরভূমের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বা সিজেএম ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়। শুনলেন, জেলা পুলিশের ডিএসপি (শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ) সুমিত চট্টোপাধ্যায়। মাখড়া-কাণ্ডে ধৃত আলি জিন্নাকে নিয়ে পরপর দু’দিন জেলা পুলিশকে এ ভাবেই তুলোধোনা করলেন সিজেএম। পাড়ুই থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া, তদন্তকারী অফিসারকে মাখড়ার তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া-সহ একাধিক সুপারিশও করলেন বিচারক। এমনকী, পুলিশের ‘ভুলে’র সত্যতা খতিয়ে দেখতে ডিএসপি পদমর্যাদার কোনও অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশও দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি বিচারক জানিয়েছেন, বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে ‘রেফার’ (গোচরে) করা হচ্ছে। নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারকের মন্তব্য, “যদি আদালত নরম মনোভাব দেখায়, তা হলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। যে কেউ ভাবতে পারেন, কোনও অন্যায় করে শুধু ‘ভুল হয়ে গিয়েছে’ বলে পার পাওয়া যায়। সেটা ঠিক হবে না। তাই বীরভূমের পুলিশের সুপারের কাছে সুপারিশগুলি করছি।”
এ দিনই গণধর্ষণের এক মামলায় একাধিক বার আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় নদিয়ার নাকাশিপাড়ার ওসি রাজা সরকারকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয় কৃষ্ণনগর আদালত। পরে অবশ্য জামিন পান।
মাখড়া-কাণ্ডে জড়িত অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে জিন্নাকে গ্রেফতার করেছিল পাড়ুই থানার ওসি। বুধবার তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখতে বলেন সিজেএম। বৃহস্পতিবার ফের জিন্নাকেই গ্রেফতার দেখিয়ে সিজেএমের এজলাসে তুলে হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারক। ওসি ও অ্যারেস্টিং অফিসারকে এজলাসে ডেকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। পুলিশের দাবি ছিল, ‘ভুল’ করে এই কাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা-সমেত শুক্রবার আদালতে পুলিশ সুপার, ওসি এবং তদন্তকারী অফিসারকে হাজির থাকার নির্দেশ দেন বিচারক।
এ দিন বেলা ১১টায় ডিএসপি সুমিতবাবু এজলাসে এসে পৌঁছন। দশ মিনিট পরেই চলে আসেন পাড়ুই থানার ওসি কার্তিকমোহন ঘোষ, জিন্নার অ্যারেস্টিং অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দত্ত ও তদন্তকারী অফিসার গোপালচন্দ্র চন্দ্র। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ওঠে মামলা। সুমিতবাবু বিচারককে জানান, মায়ের পারলৌকিক কাজের জন্য এসপি ছুটিতে থাকায় তিনি এসেছেন।
বিচারক (ডিএসপি-র উদ্দেশে): আপনি ঘটনার কথা জানেন তো?
ডিএসপি: আদালতের আদেশনামা পেয়ে জানতে পেরেছি।
বিচারক: পুলিশ রিমান্ডের জন্য ফরোয়ার্ড আপনিই করেছিলেন তো?
ডিএসপি: হ্যাঁ।
বিচারক: আর আগেরটা? (জিন্নাকে হেফাজতে চেয়ে বুধবারের আবেদন)
ডিএসপি: ওটা আমি করিনি।
লিখিত ব্যাখ্যা এনেছেন কি না ওসি-র কাছে জেনে নেন বিচারক। কাঠগড়ায় ওঠেন অ্যারেস্টিং অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দত্ত (যিনি বুধবার জিন্নাকে তার বাড়ি থেকেই ধরেছেন বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার কোর্টে তুলেছেন)
বিচারক: আমাকে বলুন তো, পুলিশি হেফাজতে থাকা এক জন আসামিকে আপনি দৌড়োদৌড়ি করে ধরলেন কী ভাবে?
আইও: স্যার, মিস্টেক হয়েছে।
বিচারক: অন্য শব্দ বাছুন। আগেও আপনাকে বলেছি, এটা ভুল নয়। (ডিএসপি-র দিকে তাকিয়ে) ঘটনার ভিত্তিতে আপনারা কি কোনও বিভাগীয় পদক্ষেপ করেছেন?
ডিএসপি: স্যার, এসপি সাহেব জানিয়েছেন আদালতে কী হচ্ছে, ছুটি থেকে ফিরে সেই নির্দেশ দেখবেন। আদালত নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিলে উনি ব্যবস্থা নেবেন।
বিচারক: (ওসি-কে) আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
ওসি: আইও এবং অ্যারেস্টিং অফিসারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিচ্ছি।
(এর পরেই বিচারক পুলিশের ভুলের ব্যাখ্যা চান)
বিচারক: নিজেদের হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তিকে ফের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার কথা বলছিল পুলিশ। সেটার কী ব্যাখ্যা?
সরকারি আইনজীবী: আসলে ওই থানায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। পুলিশকর্মীরা খুব চাপে আছেন। সেই জন্য এমন ভুল হয়ে গিয়েছে।
বিচারক: এটা হয় নাকি! ধরুন, আপনি এখানে রয়েছেন। কেউ যদি বলে আপনাকে মুম্বইয়ে দেখা গিয়েছে, সেটা কি সম্ভব?
সরকারি আইনজীবী: (বিব্রত হয়ে) সত্যিই এর কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই।
এর পরেই জিন্নার জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন অভিযুক্তের আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় (তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি)। বিচারক চট্টোপাধ্যায় জিন্নাকে ফের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সব শেষে বিচারক পুলিশ সুপারের উদ্দেশে সুপারিশগুলি দেন। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ভগবতীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। তাই আদালত ঠিকই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই এক্তিয়ার রয়েছে।” আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের মত, “আইনের শাসন বজায় রাখতে এই নির্দেশ সঙ্গত।”
এ দিন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করে পাড়ুই-প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি বলেন, “রাজ্যপালকে আমরা বলেছি, আপনার সরকার (যে হেতু আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্য সরকারকে ‘আমার সরকার’ বলেই উল্লেখ করতে হয় রাজ্যপালকে) প্রায় প্রতি দিন আদালতে ভর্ৎসিত হচ্ছে। প্রশাসনের উপরে সাধারণ মানুষের আর আস্থা নেই। আদালতের কাছে তাঁদের    বিচার চাইতে যেতে হচ্ছে এবং আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।” রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে একই সুরে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ বলেছেন, “পুলিশের অবস্থা তো আদালতের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার। আর যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের পুলিশের উপরে আস্থা নেই, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন কী করে?”


হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার দেখানোর জের, পাড়ুই থানার ওসিকে সরানোর অনুরোধ আদালতের, সাসপেন্ডের সুপারিশ আইও-কে


পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার দেখানোর জের। পাড়ুই থানার ওসিকে সরিয়ে দিতে পুলিশ সুপারকে অনুরোধ সিউড়ি আদালতের। সাসপেন্ড করার সুপারিশ এক তদন্তকারী অফিসারকে। গতকালই পাড়ুই থানার ওসিকে তলব করে তিরস্কার করেন বিচারক।
শুনানির শুরুতেই এদিনও পাড়ুই থানা ওসি এবং তদন্তকারী অফিসারকে তীব্র ভর্ত্সনা করেন বিচারক। তিনি বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব দুর্ভাগ্যজনক. শুধু অভিযুক্তর জন্য নয়, আদালতের জন্যও। এই পরিস্থিতি তৈরি হল পুলিশ অফিসারদের চূড়ান্ত অকর্মণ্যতার জন্য। এই ঘটনা তদন্তকারী অফিসারের চূড়ান্ত স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয়। সে কাজে সমর্থন ছিল ওসির। এবং একজন ডিএসপি দ্বিতীয় দফার হেফাজত চাওয়ার আবেদন আদালতে পাঠিয়েছেন।
তদন্তকারী অফিসারেরও কড়া সমালোচনা করে বিচারক বলেন, শুধু মন্তব্য করে বা সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়াটা সম্ভব নয়। যদি আদালত এক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভুল বার্তা যাবে। পরবর্তী সময়ে এধরনের কাজ করে সবাই ‘ভুল হয়ে গিয়েছে’ বলে পার পেয়ে যাবে।
এটা স্পষ্ট, তদন্তকারী অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দত্ত আলি জিন্নাকে পাড়ুই থানার পুলিশ লকআপ থেকে বের করে ১৫২ নম্বর মামলার অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পেশ করেছেন। অথচ আদালতের রেকর্ডে দেখানো হয়, আলি জিন্নাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন এবং পুরো ঘটনাক্রমকে ভুলভাবে দেখিয়েছেন। আদালত এই মামলাটি হাইকোর্টের নজরে নিয়ে আসবে। আদালত তদন্তকারী অফিসারকে সরাসরি সাসপেন্ড করার সুপারিশ করছে।
পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করছি, এই কথা ভেবে দেখতে, তার পুলিশ বাহিনীকে কোন অফিসাররা কাজ করছেন, এবং তাঁরা আদৌ কাজ করার যোগ্য কিনা।
এরপর পাড়ুই থানার ওসিকে তীব্র ভর্ত্সনা করে বিচারক মন্তব্য করেন, অফিসারের দেওয়া নথিতে অন্ধের মতো সই করেছেন ওসি। সেসময় ওসি ঘুমোচ্ছিলেন কিনা, আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যখন তদন্তকারী অফিসার আলি জিন্নাকে লক আপ থেকে বের করছেন, তখনও ওসি বুঝতে পারলেন না কী হচ্ছে! আদালত সুপারিশ করছে, ওসির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ সুপার বিভাগীয় তদন্ত করুন। ন্যূনতম ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারকে দিয়ে বিভাগীয় তদন্ত করানো হোক। আদালত পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করছে, কার্তিকমোহন ঘোষকে যত দ্রুত সম্ভব ওসির পদ থেকে সরানোর জন্য।
সরকারি আইনজীবীও স্বীকার করে নিয়েছেন, পাড়ুই থানার লকআপে বন্দিদের অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য এই ভুল। আদালতের নির্দেশে সরকারি আইনজীবীর সেই মন্তব্যেরও উল্লেখ রয়েছে।
ধৃত আলি জিন্নাকে আগের মামলা অর্থাৎ ১৫৫ নম্বর মামলার তদন্তকারী অফিসারের হাতেই ফেরত পাঠিয়েছে আদালত। ধৃতের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত বহাল রয়েছে। সেই তদন্তকারী অফিসারকেও আদালত এই ভুলের জন্য সতর্ক করেছে।



Nov 01 2014 : The Times of India (Kolkata)


Are Your Men Eligible For Job, SP Asked
In a stinging indictment of Birbhum police, a Suri court on Friday directed SP Aloke Rajuria to suspend investigating officer Dhrubajyoti Dutta, relieve Parui OC Kartik Mohan Ghosh of duty , and hold a departmental inquiry into why police claimed they had arrested a `suspect' in the Makhra violence a second time when he was already in police custody .Chief judicial magistrate Indranil Chatterjee also urged the SP to think about the “kind of officers“ serving in his department and whether they are eligible for the job. Magistrate Chatterjee said he would draw the attention of Calcutta high court to the matter.
“The OC, Parui, has blindly signed the papers given to him by his officers... It is not possible for the court to ascertain whether he was sleeping or not... There remains a shadow of doubt. To remove these doubts the court recommends that the police superintendent initiate an in-depth inquiry ,“ magistrate Chatterjee said.The probe has to be conducted by someone ranked not below deputy SP .
During the hearing, the magistrate asked the Parui OC if he had submitted the report according to the court's directions on Thursday . When Ghosh said he had, assistant public prosecutor Kuntal Chatterjee told the magistrate: “I have read the report. It says the name was added as a mistake.But it does not explain why it is written that the second arrest was made from home.“ At this the magistrate asked, “Well, Mr APP , now at 10.30 am you are in the court. If somebody suddenly says that you are in Mumbai, how can it be possible?“ Chatterjee got the cue and replied, “Then somebody is lying, sir.“
On Thursday , police had produced Makhra violence suspects Biswanath Bagdi and Ali Jinna in magistrate Chatterjee's court. They were accused in case No. 152, lodged by police on the Makhra incident.To his surprise, the magistrate found that Jinna had already been arrested in case No. 155, filed by the father of slain BJP supporter Tousif Sk, on Tuesday . He had been produced in magistrate Chatterjee's court on Wednesday and remanded in five-day police custody . The magistrate summoned the SP, OC and investigating officer to explain the goof-up. Rajuria couldn't appear in court because of a personal bereavement and sent deputy SP Samit Chatterjee in his stead.
During the hearing, IO Dutta kept mumbling “sorry“ when the court sought answers. When the court asked the DSP what action had been taken, he said all steps will be taken in accordance with the court order. In the report, the IO and OC admitted there was a “mistake“.
Dutta tried to clarify that his real intention was to mention Jinna as “shown arrest“.The magistrate cornered him by asking why was Jinna then shown as arrested from home?
As Dutta fumbled, the magistrate remarked, “The development is very unfortunate...not only for the accused but also for the court. And it happened solely due to callousness of police.“
Jinna's lawyer Malay Muk herjee was quick to seize on the goof-up, saying, “If the arrest is a mistake, he should be released from this case. He is an innocent college student and was arrested only because his father is active in politics.“
Meanwhile, six more suspects were arrested on Friday for the Makhra violence. Five of them are Trinamool Congress supporters and the sixth is a BJP man. This takes the number of arrests to 17. All six have been remanded in police custody till November 5.
Two more suspects were arrested on Friday for the attack on Parui cops in Chowmandalpur village, taking the number in custody to 10.



Friday, October 24, 2014

Parui OC attacked, by Bengal ruling party, admitted in ICU



পাড়ুই থানার ওসিকে লক্ষ্য করে বোমা, ভর্তি ICU-তে

Last Updated: Friday, October 24, 2014 - 15:31

পাড়ুই থানার ওসিকে লক্ষ্য করে বোমা, ভর্তি ICU-তে
পাড়ুই: অস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে বীরভূমের পাড়ুইয়ে আজ দফায় দফায় আক্রান্ত হল পুলিস। পুলিসকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া বোমায় গুরুতর জখম হয়েছেন পাড়ুই থানার ওসি প্রসেনজিত্‍ দত্ত। থানার আর এক পুলিসকর্মীও জখম হয়েছেন। হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এদিন প্রথমে পাড়ুইয়ের চৌমণ্ডলপুপরে  অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে আক্রান্ত  হয় পুলিস। সেখানে পুলিসকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে  দুষ্কৃতীরা। এরপর পুলিস আক্রান্ত হয় সাততোড়ে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উল্টোদিকে বীরভূমের পাড়ুইয়ে পাড়ুই থানার ওসির ওপর বোমা নিয়ে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। ওসিসহ থানার এক পুলিসকর্মীও হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন। পাড়ুইয়ের সাতপুরায় স্থানীয় হাসপাতালের একটি  পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে অস্ত্র মজুতের খবর পেয়ে আজ হানা দেয় পুলিস।হাসপাতালে ঢোকার মুখেই পুলিসের ওপর বোমা নিয়ে হামলা চালানো হয়। জখম ওসি ও এক পুলিসকর্মীকে সিউড়ি হাসপাতালে আনা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র  উদ্ধারে এলাকার চৌমণ্ডল গ্রামেও তল্লাশি চলছে বলে জানা গেছে।








More: Bengal cops attacked with bombs when they raid suspect village

Bengal cops attacked with bombs when they raid suspect village


The Telegraph
Friday , October 24 , 2014

Bengal cops attacked with bombs when they raid suspect village

Suri (WB), Oct. 24 (PTI): The officer-in-charge of Parui Police Station in Birbhum district was injured
on Friday when bombs were hurled at a police team that had raided a village after it was informed that
bombs were being manufactured there.
OC Prosenjit Dutta has been admitted to the intensive care unit of Suri Hospital with splinter injuries.
Ananda Roy, the Additional Superintendent of Police, Birbhum district, said that a strong police contingent
led by the OC had raided Chakmondola village and seized bombs.
As the alleged bomb-makers escaped soon after the police team arrived, some people threw
bombs and brickbats at the police team, injuring the OC and three other policemen.
The police are searching the area. No arrest had been made yet.
The OC told reporters that the police team went to the village on being tipped off and that the villagers
threw the bombs.
”We had information and went there to seize bombs and we recovered some. The raid was continuing.
Bombs were hurled at us,” he said.


********************




Bomb Thrown At Police Team at a 

Village in West Bengal


Bomb Thrown At Police Team at a Village in West Bengal
The officer in charge of the Parui police station, Prasenjit Dutta, and two more policemen were injured
in the mob attack in Birbhum.

BIRBHUM:  A police officer was wounded when he and his team were attacked with bombs, 
bricks and sticks at a village in West Bengal's Birbhum district today. The police team had 
gone to the village this afternoon on a tip off that bombs were being made or stocked in the 
village. 

The tip off did hold true at Sottor village where the police found at least 200 bombs stored 
in 14 drums at a disused health centre. But when they went to the adjoining Chowmandal 
village to search a poultry farm, they were attacked by the villagers. 

The OC (officer in charge) of the Parui police station, Prasenjit Dutta, and two more 
policemen were injured in the mob attack. The OC has been admitted to a hospital at district 
headquarter Siuri with splinter injuries.
A large police force rushed to the area and raided several houses in Chowmandal but did not 
find any bombs. 14 people have been detained for the attack on the police.

The political affiliation of those detained is not known but the incident has acquired political 
overtones. The CPM and the BJP are blaming the ruling Trinamool Congress of stashing the 
bombs. The Trinamool in turn is blaming it on the BJP. 

The CPM and the BJP are pointing to a public statement by TMC's Birbhum district chief 
Anubrata Mondal urging his supporters to "bomb the police". Trinamool sources, however, 
claim that the BJP was trying to "capture" some villages in Birbhum and were stocking bombs 
for the turf war. 

BJP's Rahul Sinha said, "The Trinamool is passing the buck. They attacked the police and 
are blaming us. But it is they who have been terrorising BJP supporters in the districts."

Trinamool MP Abhishek Banerjee issued a statement saying, "BJP is quick to rush to 
conclusions and preaching from Delhi. Birbhum incident is being investigated. Law will take 
its own course. Culprits will not be spared."

Trinamool's Anubrata Mondal has said, "Asking people to bomb the police was the biggest 
mistake of my life." 


**************






More: Police recovered huge cache of bombs from Sattora healh centre at Parui


Police recovered huge cache of bombs from Sattora healh centre at Parui




বীরভূম: স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মজুত বোমা! অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।



শুক্রবার পাড়ুইয়ের সাত্তোর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কমপক্ষে ২০০টি তাজা বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। হৃদয় ঘোষের অভিযোগ, এলাকা
দখল করার জন্য বোমা মজুত করেছেন অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা। যদিও, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
যেখানে কিনা চিকিত্সা হওয়ার কথা, সেখানেই বিস্ফোরকের ভাণ্ডার! স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যেই তাজা বোমার পাহাড়! শুক্রবার এই ছবিই ধরা পড়ল বীরভূমের পাড়ুই থানা এলাকার সাত্তোরে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন সাত্তোর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অভিযান চালায় পুলিশ। দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি ঘরে মজুত রয়েছে কমপক্ষে ২০০টি তাজা বোমা। তত্ক্ষণাৎ সিআইডিকে খবর দেয় পুলিশ।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে বিস্ফোরকের পাহাড় দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা

তাত্পর্যপূর্ণভাবে এই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মাত্র ৫-৭ কিলোমিটার দূরেই পাড়ুইকাণ্ডে নিহত সাগর ঘোষের বাড়ি। সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষের অভিযোগ, বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার তত্ত্বাবধানেই মজুত করা হয়েছিল বোমা। এলাকা দখল করতেই তৃণমূলের নির্দেশে বোমা মজুত  করা হয়েছে, এমনকি অস্ত্রও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যদিও, বোমা মজুত রাখার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি।
কিন্তু রাজনৈতিক তরজার মধ্যে প্রশ্ন একটাই, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে এত তাজা বোমা এল কোথা থেকে? কার মদতে? স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অসংখ্য সাধারণ মানুষ আসে চিকিৎসার জন্য, আর সেখানেই কি না বিস্ফোরকভাণ্ডার! এতো প্রাণ বাঁচাতে এসে, বেঘোরে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা! তাহলে কোথায় নিরাপত্তা? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

Thursday, October 23, 2014

Defunct Human Rights commission and State administration on West Bengal

সম্পাদকীয় ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

সর্বনাশের আগে

২২ অক্টোবর, ২০১৪, 


মনুস্মৃতিতে ন্যায়বিচারের গুণকীর্তনস্বরূপ বলা হইয়াছে: ন্যায়কে রক্ষা করিলে তাহা রক্ষা করে, ন্যায়কে লঙ্ঘন করিলে তাহা ধ্বংস করে। যে কোনও যুগে যে কোনও দেশে রাজধর্মের ইহা অন্যতম মূল নীতি। রাজশক্তি এক বার নয়, দুই বার নয়, ক্রমাগত ন্যায়ের শর্ত লঙ্ঘন করিয়া চলিলে তাহা যে সেই শক্তির অধিকারীদেরও ক্রমে ধ্বংসের পথে লইয়া যায়, পশ্চিমবঙ্গের শাসকরা সম্ভবত তাহা ক্রমশ টের পাইতেছেন। তাঁহাদের হম্বিতম্বি ঈষৎ কমিয়াছে, তাঁহাদের কথাবার্তায় বেপরোয়া এবং দুর্বিনীত ভাবটিও হয়তো কিঞ্চিৎ স্তিমিত হইয়াছে। কিন্তু সেই বোধ তাঁহাদের আচরণে এখনও কোনও লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটাইয়াছে, এমন কথা বলা শক্ত। এখনও আপন ভুল এবং অন্যায় স্বীকার করিবার কোনও সুবুদ্ধি রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ আসন হইতে শুরু করিয়া বিভিন্ন স্তরের কর্ণধারদের কথায় ও কাজে দেখা যায় নাই। এখনও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রকারান্তরে বাধাসৃষ্টি অব্যাহত রহিয়াছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে সামান্য তির্যক মন্তব্যের শাস্তিতে হাজতবাস চলিতেছে। এখনও শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হইলে গুরুপাপে লঘুদণ্ড এবং না হইলে লঘুপাপে গুরুদণ্ড বিহিত হইতেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফলিত রাজধর্মের মূল নীতি দাঁড়াইয়াছে: শিষ্টের দমন এবং দুষ্টের পালন।
মনুস্মৃতির কালে গণতন্ত্র ছিল না। গণতন্ত্রের কালে রাজা আসে যায়, প্রশাসন নিরবচ্ছিন্ন। এক সরকারের স্থানে আর এক সরকার অধিষ্ঠিত হয়, রাষ্ট্রযন্ত্র বহাল থাকে। বহাল থাকেন আমলাবাহিনী, বহাল থাকেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। সরকার বদলাইলে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁহাদের অনেকের হয়তো আসন বদলায়, কিন্তু ব্যক্তি গৌণ, ব্যবস্থা মুখ্য। এখানেই  গণতন্ত্রে রাজধর্ম লঙ্ঘনের বৃহত্তর এবং গভীরতর বিপদ। এক সরকার রাজধর্ম লঙ্ঘন করিলে শাসনযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দুর্বল হয়, সরকার বদলাইলেও সেই ক্ষতির কুফল থাকিয়া যায়। এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুদায়িত্ব ছিল বামফ্রন্ট জমানার সঞ্চিত বিষ প্রবল উদ্যমে নিষ্কাশন করা। পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর দলতন্ত্রের কুপ্রভাব দীর্ঘ দিন ধরিয়া তাহাকে দুর্বল করিয়াছিল, সেই দুর্বলতা ঘুচাইয়া তাহাকে আবার সুদৃঢ় এবং নিরপেক্ষ একটি শাসনযন্ত্রে পরিণত করা। তিনি তাহা করেন নাই। তাহার পরিবর্তে পুলিশ প্রশাসনকে আরও নিবিড় ভাবে দলের বশীভূত করিয়াছেন, বস্তুত তাহাকে কার্যত ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের রক্ষী বাহিনীতে পরিণত করিয়াছেন। বামফ্রন্ট প্রশাসনের মেরুদণ্ড নরম করিয়া রাখিয়াছিল, তৃণমূল কংগ্রেস তাহা ভাঙিয়া দিয়াছে। ইহা দুঃশাসনের এক অভূতপূর্ব রূপ।
প্রথমে সারদা কাণ্ডের তদন্তে সিবিআই এবং তাহার পরে বর্ধমান কাণ্ডের তদন্তে এনআইএ দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে যে ভাবে ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনের পালা শুরু হইয়াছে এবং তাহার ফলে পূর্ববর্তী তদন্তের ভারপ্রাপ্ত রাজ্য পুলিশের যে যুগপৎ করুণ এবং ভয়াবহ মূর্তি উন্মোচিত হইতেছে, তাহা ওই দুঃশাসনেরই পরিণাম। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা যাহা পারেন, রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দারা তাহা কেন পারেন না? তাঁহারা অক্ষম, অথবা অনিচ্ছুক, অথবা দুইই। অনিচ্ছার কারণ অনুমান করা কঠিন নহে। নীচের তলায় পুলিশের সহিত দুষ্কৃতী বা তাহাদের পৃষ্ঠপোষকদের যোগাযোগের অভিযোগ উড়াইয়া দেওয়ার নয়, কিন্তু উত্তরোত্তর এই সংশয় গভীরতর যে, উপরমহল হইতে যথেষ্ট তৎপরতার সহিত তদন্ত না করিবার, এমনকী যথেষ্ট তৎপরতার সহিত তদন্তে বাধা দেওয়ার মন্ত্রণা অথবা নির্দেশ ছিল। এই সংশয় কোথায় কত শতাংশ সত্য, তাহা হয়তো ভবিষ্যতে জানা যাইবে। কিন্তু সংশয় যে প্রবল, তাহাই একটি রাজ্যের পক্ষে সর্বনাশের সূচক। সেই সর্বনাশের বোধ রাজ্যের শাসকদের আছে বলিয়া ভরসা হয় না। হয়তো থাকিবার কথাও নহে। সর্বনাশের আগে বুদ্ধিনাশ হইয়া থাকে।

*********

প্রবন্ধ ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

মানবাধিকার শিকেয় উঠলে কার কী?

সুকান্ত চৌধুরী

২২ অক্টোবর, ২০১৪


3

শূন্য। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কর্ণধারের আসন। জানুয়ারি ’১৪। ছবি: প্রদীপ আদক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের হাতে ছাত্র নিগ্রহের ছবি এখনও টিভিতে দেখি, মনের পর্দায় ফুটে ওঠে আরও ঘন-ঘন। আমরা অবশ্য সেই নিগ্রহের স্বরূপ নিয়ে বিভ্রান্ত। ক’জন পুলিশের হাতে লাঠি ছিল, সে প্রশ্ন অবান্তর। ‘লাঠি চার্জ হয়নি’ বলে পুলিশ কমিশনার অশ্বত্থামাবধ  করেছেন, কারণ লাঠিচার্জ নামক বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা আক্ষরিক অর্থে প্রয়োগ হয়নি। দরকারও ছিল না, কারণ হানাদাররা দৃশ্যত অস্ত্রহীন যুদ্ধে প্রশিক্ষিত, তাদের হাত-পা-ই মারাত্মক হাতিয়ার। ছাত্র আন্দোলনের উপর ভারতে প্রথম কমান্ডো অভিযানের সাক্ষী হয়ে থাকল অরবিন্দ ভবনের পোর্টিকো। হতে পারে, কুশীলবরা পুলিশের খাতায় কমান্ডো পদে বহাল নয়, সে জন্য আশা করি দ্বিতীয় বার অশ্বত্থামাবধ  হবে না।
একই প্রতিক্রিয়া ফের অনুভব করলাম মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার পর, যেখানে ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী সম্বন্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এক যুবককে গ্রেফতারের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে হাতকড়া পরানো হয়। যে রাজ্যে খুন, ধর্ষণ বা অগ্নিসংযোগের প্রকাশ্য প্ররোচনার পর সরকারের সোৎসাহ সমর্থন পাওয়া যায়, সেখানে ওই যুবকের মন্তব্য আরও কত জঘন্য ও ভয়াবহ ছিল, ভেবে নিশ্চয় আমরা শিউরে উঠব। কিন্তু দেখা গেল, শেষ পর্যন্ত মামলা রুজু হয়েছে দু’টি জামিনযোগ্য ধারায়, পুলিশপক্ষ আদালতে ভর্ৎসিতও হয়েছে। অম্বিকেশ মহাপাত্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আপাত সাদৃশ্য ধরা পড়বেই। অম্বিকেশবাবুর সৌভাগ্য, তাঁকে হাতকড়া পরতে হয়নি।
পাশাপাশি আরও হরেক ঘটনা মনে আসতে পারে। যেমন, বীভৎস হুমকি ও প্ররোচনা একের পর এক নিদর্শন, যার দু-একটি কিংবদন্তি হয়ে বাকিগুলি বিস্মৃতির পথে ঠেলে দিয়েছে। যেমন বীরভূমে হুমকির ফলে ঘরছাড়া এক পরিবারের কাহিনি, যাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে গ্রিন পুলিশ, নাবালিকা কন্যার ‘সুরক্ষার’ জন্য থানার দারোগা তার বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন বহু ধর্ষিতা ও নিগৃহীতা নারীর পরবর্তী বিড়ম্বনা। কী হল সেই মহিলার, ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় জগাছা থানায় পৌঁছলে যাঁকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়? বা গৃহকর্তার হাতে ধর্ষিতা সেই পরিচারিকার, অভিযোগ দায়ের করার জন্য যাঁকে সল্ট লেক থেকে গোসাবা ছোটাছুটি করতে হয়? এই লেখা লিখতে-লিখতেই পড়লাম, হাবড়ায় এমনি আক্রোশের সঙ্গে পুলিশ চোর ধরতে বেরিয়েছিল, যে  তাদের আস্ফালনে এক নিরীহ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পড়লাম, অসুস্থ আত্মীয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে একটা ভাঙা ট্রলি জোগাড় করতে এক ভদ্রলোককে একশো টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
এমন অগুনতি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’র একটাই যোগসূত্র: প্রত্যেকটিই মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকট উদাহরণ। অতএব মনে পড়ে যায় আমাদের নাগরিক পরিকাঠামোয় এক বিপুল ও বিপজ্জনক ঘাটতি: নয় মাসের উপর এ রাজ্যে সক্রিয় মানবাধিকার কমিশন নেই।
লিখলাম বটে ‘মনে পড়ে যায়’, কিন্তু মনে আমাদের পড়ে না। সমাজ এ নিয়ে বিস্ময়কর ভাবে নীরব। বাঙালির বড় গর্বের রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পায় চায়ের পেয়ালা বা টিভির পর্দার সামনে দলবাজির উপাদেয় চর্চায়, ইতিবাচক নাগরিকবোধের লেশমাত্র যাতে নেই। সংবাদ মাধ্যমের, বিশেষ বৈদ্যুতিন মাধ্যমের, বড় উপজীব্য রাজনৈতিক তামাসা, বহুপরিচিত ক’টি দলীয় মুখপাত্রের আপসে-খেলা সান্ধ্য বিতণ্ডা। খুব অসাধারণ উপলক্ষেও এর হেরফের ঘটে না। কৈলাস সত্যার্থীর নোবেল লাভের পর শিশুশ্রম, শিশুপাচার, শিশুদের অধিকার নিয়ে ক’টা আলোচনা শোনা বা পড়া গেছে?
সংবাদমাধ্যম আমাদের গণতন্ত্রের মস্ত স্তম্ভ। তারা না থাকলে উপরোক্ত কোনও ঘটনার কথা তো আমরা জানতেই পারতাম না। কিন্তু পিসার মিনারের মতো তার এই টালটাও স্বীকার করতে হয়। আমরাও অবশ্যই সেটা চাই বা চাইতে অভ্যস্ত হয়ে উঠি। সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের এই ঔদাসীন্যের ফলেই কর্তাব্যক্তিরা বুক ফুলিয়ে মানবাধিকার সম্বন্ধে অবজ্ঞার অবহেলা করতে ভরসা পান। তবু তাঁরা হয় জনগণের বেতনভোগী নয় জনগণের ভোটপ্রার্থী, একটা বিশেষ দায় তাঁরা এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে তাঁদের সাম্প্রতিক খতিয়ান একটু দেখা যাক।
জানুয়ারি মাসে বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কার্যত অচল। তার নেতৃত্বে থাকার কথা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির। এই পদ শূন্য, শূন্য আরও পদ। এই প্রেক্ষিতে প্রশংসনীয় দ্রুততার সঙ্গে, তাঁর অবসর গ্রহণের খুব অল্প দিনের মধ্যেই সদস্য করা হল পুলিশের প্রাক্তন ডিজি নপরাজিত মুখোপাধ্যায়কে। তিনিই আপাতত অস্থায়ী সভাপতি। কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী আছেন আর মাত্র এক জন বিচারবিভাগীয় সদস্য।
এ অবস্থায় কমিশনের উপর আস্থা রাখতে বা তার শরণাপন্ন হতে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়তে বাধ্য। নীতিগত দিক দিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, সদ্য-অবসরপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধানকে কী বিচারে সভাপতি করা হল, যেখানে কমিশনের কাছে যত অভিযোগ আসে, তার বিপুল পরিমাণ পুলিশের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। সাধারণ ন্যায় ও যুক্তির বিচারেই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটা অবস্থানগত দ্বন্দ্ব ঘটছে।
সবচেয়ে আশ্চর্য, যে বিরোধী দলগুলি সরকারের সমালোচনায় পাঁচ কেন পঞ্চান্ন মুখ, তারা এ বিষয়ে প্রায় নীরব। আর একটু আগের ইতিহাস দেখা যাক। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ দিকেও কমিশনের সভাপতিপদ বহু দিন খালি ছিল, বস্তুত নতুন সরকার বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়োগ করা পর্যন্ত। তার কারণ, যে কমিটি সভাপতি নির্বাচন করবে, তার এক সদস্য থাকেন বিরোধী দলনেতা। আর তৎকালীন বিরোধী (বর্তমান শাসক) দল তখন পণ করেছিল, সরকার পক্ষের সঙ্গে কোনও কমিটির বৈঠকে বসবে না। এই অন্যায় ও অসাংবিধানিক জেদের কাছে সরকারের নতিস্বীকার করার বাধ্যতা ছিল না। বিচক্ষণ সরকারপক্ষ কিন্তু দেখল, মানবাধিকার শিকেয় তুলে এক দিকে বিরোধীদের বদনাম দেওয়া যায়, সেই সঙ্গে রাজ্যে নির্বাচনের আগে কমিশনের উপদ্রব থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
আসলে সব সরকারই অনাচারের পথ পরিষ্কার রাখতে চায়, চায় জনসাধারণকে সাংবিধানিক অধিকার সম্বন্ধে অন্ধকারে রাখতে বা অন্তত সেই খাতে বঞ্চনাটা স্বাভাবিক বলে অভ্যস্ত করাতে। ফলে ঘটনা হল, গত চার বছরে স্থায়ী সভাপতি-সমেত পূর্ণক্ষম কমিশন আমরা পেয়েছি মাত্র বছর দেড়েক। জানি না অন্য কোনও রাজ্য এই রেকর্ড অতিক্রম করেছে কিনা। সেই সঙ্গে স্মর্তব্য, মহিলা কমিশনের সভানেত্রী নিজেই তাঁর কমিশনের সংহতি ও কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
নাগরিক মাত্রেই জানেন, থানার দারোগা বা দফতরের বড়বাবুর কাছে কাকুতিমিনতি করে কিছু কাজ পাওয়া যেতে পারে, অধিকার হিসেবে দাবি করলেই বিপত্তি। অমুক নেতা সম্বন্ধে শোনা যাবে, তিনি ভারী জনদরদী ও পরোপকারী। খোঁজ নিলে বেরোবে সেই উপকারের নব্বই শতাংশ নিরুপায় মানুষকে এমন কিছু পাইয়ে দেওয়া, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুষ্ঠু প্রশাসনের কাছ থেকে নাগরিকদের যার চতুর্গুণ পাওয়ার কথা।
জনসাধারণকে বশ করার তাড়নাতেই তাই প্রশাসনকে রাজনীতির দখলে রাখতে হয়, সাংবিধানিক কর্তব্য ভুলে ও ভুলিয়ে রাখতে হয়। এই শেষ কাজটা কঠিন নয়, কারণ ভুলে থাকার অবকাশ অশেষ। গরিব লোকের পক্ষে জীবনসংগ্রামই যথেষ্ট। সচ্ছল উচ্চাভিলাষী শ্রেণির কাছে আরও নানা সংগ্রাম। আর অবশ্যই আছে রঙিন টিভি, যাতে আমাদের নাগরিক অসম্মান আর বিড়ম্বনা ইনফোটেনমেন্টের রাংতা গায়ে জড়িয়ে ঝলমলে উপভোগ্য রূপে আমাদের মনোরঞ্জন করে।
কার্যকর মানবাধিকার কমিশন কবে পাব জানি না, কিন্তু এই নিয়ে দু-একটা চিত্তাকর্ষক টিভি-শো দেখার আশায় রইলাম। কবীর সুমনের ভাষায় ‘আমিও ভণ্ড অনেকের মতো’: ওগুলো দেখি, অংশও নিয়েছি কালেভদ্রে। কিন্তু একটা কাঙালিপনা কিছুতেই মন থেকে দূর হয় না: এই পিটুলিগোলার বদলে যদি সাচ্চা নাগরিক অধিকারের খাঁটি দুধ দু’ফোঁটা পেড়ে পড়ত!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে এমেরিটাস অধ্যাপক

******************

সম্পাদকীয় ১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)


বিসর্জন

২৩ অক্টোবর, ২০১৪

একটিমাত্র কুমিরছানা থাকিলে তাহাকে যে খানিক যত্ন করা প্রয়োজন, কথাটি শেয়ালপণ্ডিতও জানিত। সেই জানায় বাহাদুরি নাই। কাণ্ডজ্ঞান থাকিলে যে কেহ বুঝিবে, সবেধন নীলমণিটিও গেলে দেখাইবার জন্যও আর কিছু পড়িয়া থাকে না। কথাটি না জানাই বরং অভিনব। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অভিনবত্বের প্রমাণ পেশ করিল। হলদিয়ার মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস হইল পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সেই কুমিরছানা। এই রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান মুখ। সংস্থাটি ধুঁকিতেছে। রাজ্য সরকার তাহাকে শিল্প ও আর্থিক পুনর্গঠন বোর্ড-এর ঠিকানা বাতলাইয়াই হাত ধুইয়া ফেলিয়াছে। সরকারের দায়ের প্রশ্ন উঠিলে অর্থমন্ত্রী চিনা প্রতিযোগিতার কথা বলিতে পারেন। প্রত্যুত্তরে তাঁহাকে হলদিয়া বন্দরের অব্যবস্থার কথা বলা চলে, সেখানে রাজনৈতিক তাণ্ডবে এবিজি গোষ্ঠীর বিদায়ের ফলে মাল খালাসের জন্য অযৌক্তিক অপেক্ষার কথাও শুনাইয়া দেওয়া যায়। কিন্তু, সেই তর্কে প্রবেশ করিবার প্রয়োজন নাই। গুজরাত যাহা পারে, পশ্চিমবঙ্গ পারিবে না, ইহা স্বতঃসিদ্ধ হইয়াছে। অতএব, সরকারি খয়রাতির অর্থ জোগাইতে মিত্রমহাশয় যে বিচিত্র ‘প্রবেশ কর’ চালু করিয়াছিলেন, মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-কে তাহার দায় বহিতে হইতেছে। এই অহৈতুকী করটি যে শুধু দার্শনিক ভাবে আপত্তিকর, তাহা নহে, ইহা রাজ্য-সম্ভাবনার পরিপন্থী। গুজরাতে পেট্রো-রাসায়নিক সংস্থা এই করে ছাড় পায়, কিন্তু এই রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ। এখানে ক্লাবে খয়রাতি হইবে, ইমামরা ভাতা পাইবেন, কিন্তু বিপন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার কথা ভাবিবার সময় এবং মনোবৃত্তি সরকারের নাই।
পশ্চিমবঙ্গে যে নূতন বিনিয়োগ আসিবে না, এই কথাটি এত দিনে সিপিআইএম-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ন্যায় স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। যে শিল্প আছে, সেগুলিও থাকিবে, এমন উপায় শাসকরা রাখিতেছেন না। বিনিয়োগকারীরা যে আইনের শাসন চাহেন, বঙ্গেশ্বরীর সরকার তাহা দিতে অপারগ। কিন্তু, এই রাজ্যের কোনও শিল্প বিপাকে পড়িলে যে সরকার তাহার পার্শ্বে দাঁড়াইবে না, মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-এর ঘটনা তাহা দেখাইয়া দিল। সংস্থাটির জন্য রাজ্য সরকার ঠিক কী করিতে পারিত, তাহা মূল প্রশ্ন নহে। সংস্থাটি সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁহার পারিষদরা যে ভাবে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকিয়াছেন, তাহাই প্রতীকী। শিল্পের প্রতি, রাজ্যের ভবিষ্যতের প্রতি এই সরকারের মনোভাবের প্রতীক। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বার্তাটি মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-এর পরিসীমায় থাকিতেছে না, তাহা বৃহত্তর বণিকমহলের নিকট পৌঁছাইতেছে। এই অসহযোগী রাজ্য সরকারের ভরসায় পুঁজি ঢালিবেন, এমন বিনিয়োগকারী কে?

কেহ বলিতে পারেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বুঝি শিল্পের কথা ভাবিবার সময় নাই। তিনি এক দিকে সারদা আর অন্য দিকে খাগড়াগড় সামলাইতে ব্যস্ত। কিন্তু, তাহা নহে। বিনিয়োগকারীদের লইয়া তাঁহার প্রমোদতরী ভাসাইবার ব্যবস্থা পাকা। তাহাও এক বার নহে, দুই বার। শোনা যাইতেছে, প্রথম বারে কেহ তেমন আগ্রহী না হওয়ায় দ্বিতীয় যাত্রার ব্যবস্থা হইয়াছে। বিনিয়োগকারীরা গত সাড়ে তিন বত্‌সরে বুঝিয়াছেন, বিজয়া সম্মেলনীই হউক কি নৌবিহার, কলিকাতায় হউক বা মুম্বইয়ে, সরকারের সহিত কোনও আলোচনাতেই এই রাজ্যের বিনিয়োগ-পরিবেশ বদলাইবার নহে। সম্মেলনে মিষ্টিমুখ হয়, গানও, কিন্তু সেই অখণ্ড আনন্দোত্‌সবে বণিকমহলের দৃশ্যত রুচি নাই। তাঁহারা কাজের কথায় আগ্রহী। সেই কাজের কথা আবার মুখ্যমন্ত্রীর মর্জিবিরুদ্ধ। ফলে, যে সাগরের জলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রমোদতরী ভাসিবে, রাজ্যের শিল্প-ভবিষ্যত্‌ সেই জলেই বিসর্জিত হইয়াছে। সেই সমাপ্তিতে যেন কাহারও সংশয় না থাকে, তাহা নিশ্চিত করিতেই বুঝি মিত্‌সুবিশি কেমিক্যালস-এর সহিত এমন চর্চিত অসহযোগিতা।