Showing posts with label TMC. Show all posts
Showing posts with label TMC. Show all posts

Wednesday, November 26, 2014

সারদা-তোপ বিজেপির, দিশাহারা তৃণমূল

সারদা-তোপ বিজেপির, দিশাহারা তৃণমূল 

নিজস্ব সংবাদদাতা 

নয়াদিল্লি, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪


গত কাল মাথায় ছিল কালো ছাতা। আজ জুটল মুখে কালি।
কালো টাকা নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে ‘খোঁচা দিতে’ সংসদে ছাতা আনার ভাবনাটা ছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই লোকসভাতেই সারদা নিয়ে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের এমন গোলাবর্ষণের মুখে পড়ল মমতা-বাহিনী, যে পারলে আজও তারা ছাতার আড়াল খোঁজেন! মমতা নিজে, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, সৃঞ্জয় বসু, আহমেদ হাসান ইমরান থেকে শতাব্দী রায় কাউকেই রেহাই দিলেন না হিমাচলের তরুণ সাংসদ অনুরাগ। বললেন, ‘‘যারা পশ্চিমবঙ্গে কালো টাকা কামিয়েছে, তারাই আজ কালো ছাতা নিয়ে নেমেছে। এ তো চোর উল্টে দারোগাকে ধমকাচ্ছে।” দেশদ্রোহের অভিযোগ পর্যন্ত তুললেন তিনি। আর সরাসরি টিভি সম্প্রচারে গোটা দেশ দেখল, কার্যত মুখ বুজে অনুরাগের তোপ হজম করছেন তৃণমূল সাংসদরা। পিসিকে যখন নিশানা করা হচ্ছে, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটু গলা তুলেছিলেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়ের মতো দু’একজন কিছু বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই।
আসলে বিসিসিআইয়ের যুগ্মসচিব অনুরাগ যে এমন আগুনে স্পেল করবেন, আঁচই করতে পারেনি তৃণমূল। অনুরাগ যখন শুরু করেন, তখনও তৃণমূল সাংসদরা কালো টাকা নিয়ে ইতস্তত মন্তব্য করছিলেন। অনুরাগ বলেন, “কালো টাকা নিয়ে যখন আলোচনা, সারদা নিয়ে কথা না হলে গল্পটাই অসমাপ্ত থেকে যাবে।... বিদেশি কালো টাকার পাশাপাশি একটু দেশি কালো টাকা নিয়েও আলোচনা হোক।” সেই যে ‘আলোচনা’ শুরু হল, তৃণমূল সাংসদরা অপেক্ষা করছিল, অনুরাগ কখন ‘সুইস ব্যাঙ্কে’ ফেরেন। কিন্তু তিনি কার্যত গোটা সারদা-কাণ্ড বর্ণনা করেই ছাড়েন।
প্রথমেই অনুরাগ প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনাদের রাজ্যসভার দুই সাংসদ কোথায়? কুণাল ঘোষ নিজেই বলছেন, তিনি ছোট খেলোয়াড়। আসল ক্ষীর খেয়েছে আরও বড় কেউ। কুণাল সারদার মিডিয়ায় ১৫ লক্ষ টাকা বেতন পেতেন। এর পরে যে কেউ সারদার হয়ে ঢাক পেটাবে।” একই ভাবে সৃঞ্জয় বসুর সঙ্গেও সারদার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনুরাগ। এর পর আসে মদন মিত্রের প্রসঙ্গ। অনুরাগ বলেন, “মদন মিত্র সাহেব সারদার কর্মী ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। চিৎকার করে তিনি বলেছেন, সবাই এই কোম্পানিতে টাকা রাখুন।”
মদনের পরে মমতা! অনুরাগ বলে চলেন, “সুদীপ্ত সেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা দামের পেন্টিং! তাঁর ছবি কি এত টাকায় আগে বিক্রি হয়েছিল? না হয়ে থাকলে সুদীপ্ত কেন এত টাকা দিয়ে ওই ছবি কিনলেন?” এই জন্যই মমতা সমস্ত পাঠাগারে সারদার সংবাদপত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, প্রশ্ন তোলেন অনুরাগ। বলেন, “আপনাদের সাংসদরা সারদার সংস্থা থেকে মোটা বেতন পাচ্ছে। আর এক মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কারখানাও সুদীপ্ত সেন কিনেছিলেন। আর আপনারা দিল্লিতে এসে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন!” অনুরাগ দাবি করেন, ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসের কুশীলবদের সাহায্য করার জন্য দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে তৃণমূলকে। এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের আর এক সাংসদ জামাত-ই-ইসলামিকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতেন। ইনিও সারদার সঙ্গে জড়িত। নামটা আপনারা বলবেন, না আমিই বলে দেব?”
তৃণমূল সাংসদরা এই সময়ে আপত্তি তোলেন, রাজ্যসভার সাংসদদের নাম কেন লোকসভায় টানা হচ্ছে? অনুরাগকে তখনই সিপিএমের মহম্মদ সেলিম বলেন, সারদা কাণ্ডে লোকসভার সাংসদদের নামও উঠে এসেছে। তাঁদের নামই তোলা হোক। তাৎপর্যপূর্ণ যে, গত কাল তৃণমূলের হইহল্লার সময়ে কালো টাকা নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছিল সিপিএম। এমনকী সপা-কংগ্রেসও গলা মিলিয়েছিল। কিন্তু আজ তৃণমূল দেখে, পাশে নেই কেউ!
অনুরাগ তোপ দাগেন, “ওঁদের লোকসভার এক সাংসদ সারদার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন। বলুন ছিলেন কি না?” বিজেপির সকলে সুর মেলান, “ছিলেন, ছিলেন।” লক্ষ্য যিনি, সেই শতাব্দী রায় অবশ্য এই সময়ে লোকসভায় ছিলেন না। সারদাকে ‘দেশের সব থেকে বড় কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়ে অনুরাগ বলেন, “আপনারা সংসদে সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে সব তথ্য পেশ করুন। সেটাই হবে দেশভক্তির পরিচয়।”
কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতাই যে সুদীপ্ত সেনকে গ্রেফতার করিয়েছেন, সে কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, “সারদা নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে আপনারা নোটিস দিন। আমরা রাজি। (যদিও রাজ্য বিধানসভায় কখনও সারদা নিয়ে আলোচনায় রাজি হতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে।)” সুদীপ নেমে পড়েন মোদী-মমতা তুলনায়। কখনও বলেন, গুজরাতে মোদীর চেয়েও বাংলায় মমতার জনপ্রিয়তা বেশি। কখনও আবার বলেন, গুজরাতে বিজেপি যত আসন পেয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল তার থেকেও বেশি আসন জিতেছে। এ-ও দাবি করেন, ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল দু’শোর বেশি আসন জিতবে। ও দিকে, রাজ্যসভায় তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন গত কালের সুরেই আক্রমণ জারি রাখেন। তিনি বলেন, ভোটের আগে মোদী কালো টাকা ফেরত আনার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে এ বার সংসদে তাঁর সরকার ক্ষমা চাক। “আপনারা তো কোনও কথাই রাখছেন না,” বলেছেন তিনি।
দিনভর চর্চার কেন্দ্রে অবশ্য অনুরাগ ও বিব্রত তৃণমূল নেতারা। কলকাতায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিংহ রোজই তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। কিন্তু দিল্লি থেকে, তা-ও আবার সংসদে বিজেপির এ হেন তৃণমূল-নিশানা অভূতপূর্ব।
বিরোধীদের মতে, সারদা-খাগড়াগড় নিয়ে বেকায়দায় পড়েই পাল্টা চাপ দিতে কালো টাকা নিয়ে হইহল্লা শুরু করে তৃণমূল। কিন্তু বিজেপি তাদের মোকাবিলা করেছে মমতারই অস্ত্রে। সংসদে রাজ্য রাজনীতির বিষয় তুলে আনা মমতারই পুরনো কৌশল। বাম জমানায় তৃণমূল সাংসদরা পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সংসদে সরব হতেন। অনুরাগ সেই তাসটাই খেলেছেন।
আর গোটাটার পিছনেই রয়েছে সুচিন্তিত পরিকল্পনা। বিজেপি সূত্রের খবর, তৃণমূলকে ছেড়ে কথা বলা চলবে না বলে সাফ নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি অমিত শাহ। তার পর অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নায়ডুর সঙ্গে আলোচনা করেই অনুরাগ ময়দানে নেমেছেন। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দ্বৈরথ আরও বাড়তে চলেছে দু’দলের।
আজ অধিবেশনের শুরুতেই ছাতা-বিক্ষোভ নিয়ে স্পিকারের কাছে ধমক খায় তৃণমূল। স্পিকার সুমিত্রা মহাজন বলেন, এর জন্য সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি তেমন কিছু করছেন না। তৃ
দিনের শেষে তৃণমূলের এক সাংসদ বললেন, “যেমন কর্ম, তেমন ফল। কালো টাকা নিয়ে বিজেপিকে খোঁচাতে গিয়েছিলাম। সারদা নিয়ে পাল্টা খোঁচা খেতেই হতো।” বেঙ্কাইয়া নায়ডুর সরস মন্তব্য, “আজ নিজেদের গোলেই বল ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল!”


মুখরক্ষার পথ খুঁজল মুখ লুকনো পুলিশ

দল-দাপটে তলানিতে বল, ফাইলও তাই ঢাল পুলিশের

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

১৬ নভেম্বর, ২০১৪


1
ঘটনাচক্রে সে দিন কিছুটা আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন উত্তর কলকাতার একটি থানার ওসি। খবরের চ্যানেল খুলে রাতে সপরিবার খেতে বসে কয়েক মুহূর্ত বাদেই কার্যত ‘হে ধরণী দ্বিধা হও’-দশা তাঁর।
থানায় প্রাণভয়ে উর্দিধারীর টেবিলের তলায় মুখ লুকোনোর দৃশ্য সহ্য করতে না-পেরে তড়িঘড়ি চ্যানেল পাল্টে দিয়েছেন ওই প্রবীণ পুলিশ অফিসার। কিন্তু তার থেকেও বেশি আহত হয়েছেন ঘটনার ২৪ ঘণ্টা বাদেও লালবাজারের শীর্ষস্তর থেকে কোনও কড়া পদক্ষেপ হয়নি বলে। শনিবার দুপুরে তাঁর খেদোক্তি, “ছেলেমেয়েকে বলেছি, আর যা-ই করিস, পুলিশের চাকরি তোদের করতে দেব না।”
এ দিন সন্ধের ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথে আর এক পুলিশকর্মীর সংশয়, “পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে রাস্তায় অন্যায় দেখলেও প্রতিবাদের সাহস পাব না। কোনও রাজনৈতিক নেতাকে ধমক দিয়ে ফেললে, নাকখত দিয়েও তো পার পাব না!”
আলিপুর থানায় ঢুকে পুলিশের উপরে হামলা, টেবিলের তলায় ঢুকে গাবদা ফাইল দিয়ে মুখ আড়াল করে পুলিশের প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার দৃশ্য এখন রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার মুখরোচক খাদ্য। একটি ব্যঙ্গচিত্রে উর্দিধারী স্বামী বাড়ি থেকে বেরোনোর মুহূর্তে ঘরণীর প্রার্থনা, ‘দুগ্গা দুগ্গা, মানুষটা যেন আজ মারধর না-খেয়ে ফেরে!’ অবসরে কিছুটা কবিতার চর্চা করেন কলকাতা পুলিশের এক ইনস্পেক্টর। তাঁর মনে পড়ছে বহুচর্চিত কয়েকটি পঙ্ক্তি। “এক সময়ে শুনতাম, ‘পুলিশ, কবির সামনে টুপিটা তুই খুলিস।’ ক্রমশ দেখছি, কবি নয় নেতাদের জুতোয় মাথা ঠুকতেই প্রায় টেবিলের তলায় ঢুকে পড়ছি!” (আরও.....)



আলিপুর থানা

মুখরক্ষার পথ খুঁজল মুখ লুকনো পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা  (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

১৬ নভেম্বর, ২০১৪


2

থানার চেয়ারে সেই কার্তিক কর। 

শনিবার। —নিজস্ব চিত্র।

সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে তিনি এখন পরিচিত মুখ। পুলিশমহলে তো বটেই, হাটে-বাজারে আমজনতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও বটে। তিনি কার্তিক কর। আলিপুর থানার কনস্টেবল। শুক্রবার বিধান রায় কলোনির ক্ষিপ্ত তৃণমূল সমর্থকদের হামলায় যিনি থানার মধ্যেই টেবিলের আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। আলিপুর থানার পুলিশকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “শুক্রবার ক্ষিপ্ত জনতা যখন থানার সামনে ভিড় জমিয়েছিল, তখন গোটা পরিস্থিতি জানানো হয়েছিল লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে। কিন্তু সেখান থেকে কোনও নির্দেশ না আসায় হামলাকারীদের প্রতিহত করা যায়নি। উল্টে নিজেদেরই প্রাণে বাঁচার কৌশল খুঁজতে হয়েছে।”
সেই ঘটনার রেশ কাটিয়ে শনিবার সাতসকালেই আলিপুর থানায় হাজির হয়েছিলেন কার্তিকবাবু। কী পরিস্থিতিতে তাঁকে বাধ্য হয়ে টেবিলের পিছনে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, ওই ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে ওই পুলিশকর্মীকে। তাঁর নিজের মুখে সে কথা শুনে এবং টিভিতে-কাগজে ওই ছবি দেখার পরে ছোট-মেজো-বড় সব সহকর্মীই কার্তিকবাবুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “কার্তিকবাবু আদতে খুবই সাদামাটা, নিরীহ মানুষ। মুখে হাসি লেগেই থাকে। এমন মানুষের ও রকম উত্তেজিত জনতার হামলার সামনে পড়ে হতবাক হওয়ারই কথা।” আলিপুর থানার একাধিক পুলিশকর্মী জানান, ওই ‘ঝড়ের’ মুখে পড়লে তাঁরাও হয়তো এমনই করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশকর্তাদের একাংশ বলছেন, শুধু আলিপুর থানার পুলিশই নয়, কার্যত একই অবস্থা গোটা রাজ্যের পুলিশের। কোথাও শাসকদলের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে মাথায় ঢিল খাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা, কোথাও বা পেটে তির নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে সমাজরক্ষকদের। ওই পুলিশকর্তাদের মতে, যে ভাবে বাহিনীকে ঠুঁটো করে রাখা হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে পুলিশ-লাইন কিংবা থানা আক্রমণের ঘটনা বাড়বে বৈ কমবে না। এবং পুলিশকে তা দেখেও হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। কারণ, ‘অ্যাকশন’ নিতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে অনুমতির দরকার হয়, প্রয়োজনের সময়ে তা মিলছে না।(আরও.....)

মমতার নিজের পুলিশে আস্থা নেই, পাশে চান দিল্লিকেই

Tuesday, November 4, 2014

Extortion and Violence are TMC identities




মন্ত্রী কড়া বার্তা দিচ্ছেন বারংবার। নেতৃত্ব বদল হচ্ছে। তবু রোগ সারার লক্ষণ নেই। সোমবার আরও এক বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য তৈরি করে দিয়ে গেল শাসক দলের ছাত্র সংগঠন
ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্র নেতারা সব রকম নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শোরগোল করলেন। স্লোগান দিলেন, বিক্ষোভ দেখালেন। এক সময় হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লেন উপাচার্যের ঘরেও।
অথচ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা ছিল, যখন তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা ঢুকতে পারবেন না। ছাত্রছাত্রীদের দাবি-দাওয়া থাকলে কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং শুধুমাত্র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর কথার তোয়াক্কা যে অন্তত তাঁর দলের ছাত্র সংগঠন করে না, এ দিন সেটাই আরও এক বার প্রমাণ হয়ে গেল। পার্থবাবু এ দিন সরাসরিই বলেন, কাজটা ভাল হয়নি।
গত জুলাই মাসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পন্ডার নেতৃত্বে সংগঠনের একটি মিছিল সটান উঠে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট রুমের বাইরে। তখন সিন্ডিকেটের বৈঠক চলছিল। সিন্ডিকেটের সদস্যদের ভিতরে আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দিয়েছিলেন ছাত্র নেতারা। এর পরপরই রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে শারীরবিদ্যা বিভাগে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে। তখনও ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। শঙ্কুদেব পন্ডা তখন দাবি করেছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী যা বলেছেন তা অন্য দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সেই নেতৃত্বে বদল এসেছে। শঙ্কুদেবের পরিবর্তে এখন সভাপতি হয়েছেন অশোক রুদ্র। কিন্তু সোমবারের ঘটনা দেখাল সংগঠনের নেতা-কর্মীদের চালচলনে কোনও পরিবর্তন হয়নি। যদিও নতুন সভাপতি নিজে এ দিনের আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন না।
এ দিন দুপুরের পর থেকে ক্লাস চলাকালীনই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে জড়ো হচ্ছিলেন আটটি ক্যাম্পাসের ছাত্রনেতা এবং কয়েকটি হস্টেলের আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন টিএমসিপি নেতা সুজিত শাম, সৌরভ অধিকারী। ছাত্র নেতাদের সঙ্গেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন ক্রিক রো অঞ্চলের তৃণমূল নেতা চিনু হাজরা। তবে কিছুক্ষণ পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পুরো দলটি প্রথমে কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে ঢুকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মিছিল করেন। তার পর সওয়া তিনটে নাগাদ স্লোগান দিতে দিতে দ্বারভাঙা ভবনের ভিতরে ঢুকে সেনেট হলের বাইরে বসে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি ক্যাম্পাসেই বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। গত এক বছর ধরে বারবার বলা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাই এ দিন তাঁরা নিজেদের দাবি জানাতে এসেছেন। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে সাংবাদিক বিভাগের প্রধান পদে এবং অন্যান্য বিভাগের শূন্য পদগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন, নিয়মিত বাথরুম সাফাই, কমন রুম সারানো, হস্টেলে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বিক্ষোভ এবং স্লোগান চলার পর আচমকা কয়েক জন ছাত্রনেতা উপাচার্যের সেক্রেটারির ঘরে ঢুকে পড়েন এবং পরে উপাচার্যের ঘরেও চলে যান। সংখ্যায় তাঁরা ছিলেন ১৫ জনেরও বেশি। প্রায় ঘণ্টাখানেক কথাবার্তার পর সাড়ে ৫টা নাগাদ বিক্ষোভকারী দলটি উপাচার্যের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তাঁদের এ হেন আচরণে শিক্ষামন্ত্রী যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরেও ছাত্র সংগঠনের এই উচ্ছ্ৃঙ্খল আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। পার্থবাবুর কথায়, “এ দিনের কাজটি ছাত্রছাত্রীরা ভাল করেনি। এ বার আমি উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ব্যবস্থা নিতে বলব।”
সুরঞ্জনবাবু বরাবর ছাত্রবৎসল বলেই পরিচিত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী যেমন পুলিশ ডেকে ছাত্রদের মার খাইয়েছিলেন, সুরঞ্জনবাবু তা কোনও দিনই করেননি। রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে টিএমসিপির তাণ্ডবের সময় ভীত ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ঘিরে ধরে বলেছিলেন, এমন চলতে থাকলে অভিভাবকরা আর কলেজে আসতে দেবেন না। উপাচার্য নিজে পরিচয়পত্র দেখে দেখে বহিরাগতদের আটকে পড়ুয়াদের নিরাপদে কলেজে ঢোকার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সুরঞ্জনবাবু এ দিনও বলেন, ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে দাবি জানানোর। তাঁদের বেশ কিছু দাবি ন্যায়সঙ্গতও বটে। তিনি নিজে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবেন। “কিন্তু আগে থেকে কিছু না জানিয়ে আচমকা এসে যে ভাবে হইচই করে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হলো, সেটা বাঞ্ছনীয় ছিল না।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন এই অশান্তি চলছে, তখনই বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিরক্ষার আবেদন নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা। রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষিকা রোশেনারা মিশ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজে শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনার কথা জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথাই শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন ওয়েবকুটা নেতৃত্ব। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ বলেন, “আমরা লিখিত ভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে যে রকম হিংসা-হানাহানি চলছে, তাতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।” কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই আবহের কথা শিক্ষামন্ত্রী খুব ভালই জানেন। এর আগে তিনি নিজেই উপাচার্য-অধ্যক্ষদের কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু যেখানে শাসক দলের ছাত্রনেতারাই যখন তখন সদলবলে চোখ রাঙিয়ে যাচ্ছেন, তখন কোনও অধ্যক্ষ বা উপাচার্য একা কী করবেন, সে প্রশ্ন তখনই উঠেছিল। এ দিনও পার্থবাবু বলেন, “আমি ওঁদের পেশাগত এবং প্রশাসনিক সমস্যার কথা শুনেছি। সমস্যা সমাধানে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব।”



এবিপি আনন্দ ওয়েব ডেস্ক  Tuesday, 04 November 2014


তোলা তুলছেন দলীয় নেতাদের একাংশ। চাঞ্চল্যকর খোলসা তৃণমূলের পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের। বললেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জেলা নেতৃত্ব সবাইকে এবিষয়ে জানানো হয়েছে। যদিও, তৃণমূলের জেলা সভাপতির সাফাই, তোলাবাজির কোনও অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি।
শিশির অধিকারীর বক্তব্যের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এবার দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে সরব পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। ১৯ অক্টোবর মন্তেশ্বরে তৃণমূলের কর্মিসভায়, তিনি বলেন, দলের কিছু নেতা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায় করছে।
দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ থেকে যে তিনি একচুলও সরেননি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। উল্টে সুর আরও চড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, জোর করে চাঁদা আদায়ের নামে কেউ যদি টাকা তোলেন, তাহলে সেটাকে কী বলব?
তৃণমূল বিধায়ক যে মঞ্চ থেকে দলের একাংশ তোলাবাজি করছে বলে সরব, তখন মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ধমান জেলা গ্রামীণ তৃণমূলের সভাপতি স্বপন দেবনাথও। মঞ্চে বসে দলীয় বিধায়কের এই চাঞ্চল্যকর  খোলসার কথা শুনলেও এখন তাঁর সাফাই, তোলাবাজির কোনও অভিযোগ এখনও তিনি পাননি।

দলীয় নেতাদের একাংশ তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত বলে দিন কয়েক আগেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীও।  কিন্তু, সাংসদ দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে সরব হোন কিংবা বিধায়ক...এখনও পর্যন্ত তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও কড়া পদক্ষেপ করছে বা কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, এমনটা শোনা যায়নি। উল্টে, সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেই কাজ সেরেছে দল। যা বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে হাতিয়ার। তাদের কটাক্ষ, যাঁরাই তোলাবাজির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাঁদের সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে নিষেধ করে আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

ক্ষমতার স্বার্থে মমতা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে খেলছে

Saturday, November 1, 2014

West Bengal Police - became partisan and inept under Mamta Administration!


সন্তোষপুর

আক্রান্ত পুলিশ, অভিযুক্ত শাসক দলের কাউন্সিলর

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অক্টোবর, ২০১৪,


3

সেই সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি।

এ বার খাস কলকাতাতেই আক্রান্ত হল পুলিশ। এক দিনের ব্যবধানে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহরে দু’বার আক্রমণের মুখে পড়তে হল তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে যাদবপুরের সন্তোষপুরে এবং রবিবার রাতে লেক এলাকার গোবিন্দপুর কলোনিতে এই দু’টি ঘটনায় মোট চার জন পুলিশকর্মী জখম হন। সন্তোষপুরের ঘটনায় পুলিশের উপরে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কর্তব্যরত এক সার্জেন্টের সঙ্গে বচসার জেরে তাঁর উপর চড়াও হন তিনি।
সন্তোষপুরের লেকপল্লিতে ঘটনার সূত্রপাত এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুর একটা নাগাদ এক ট্যাক্সিচালক সন্তোষপুরের রাস্তায় নো-পার্কিং জোনে ট্যাক্সি দাঁড় করালে কর্তব্যরত সার্জেন্ট মানবেন্দ্র বিশ্বাস তাঁকে ‘কেস’ দিতে যান। ট্যাক্সিচালক তখন ওই সার্জেন্টকে কোনও ‘কেস’ না দিয়ে ‘স্পট ফাইন’ করার অনুরোধ করেন। অনুরোধ মেনে তাঁকে জরিমানা করেন সার্জেন্ট।
পুলিশের একাংশের অভিযোগ, ওই সময়ে ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। ট্যাক্সিচালককে কেস দেওয়া নিয়ে মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গে বচসা বাধে তাঁর। মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গী আর এক সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি সেই সময়ে মোবাইলে ওই বচসার ছবি তুলতে গেলে সঞ্জয়বাবু ও তাঁর সহযোগীরা মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁর উপরে চড়াও হন বলে অভিযোগ। তখনই ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান সুকান্তবাবু। পুলিশ সূত্রে খবর, সুকান্তবাবুকে বাঘা যতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বুকে এবং মাথায় চোট লেগেছে বলে চিকিৎসকেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওই দুই সার্জেন্টের কেউই সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে সার্ভে পার্ক থানায় ওই কাউন্সিলর এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মানবেন্দ্রবাবু। তার ভিত্তিতে সরকারি কর্মীর কাজে বাধাদান, তাঁর উপরে হামলা চালানো, হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রাতে লালবাজারের এক কর্তা বলেন, “ওই সার্জেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।” তবে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কথা প্রথমে চেপে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার ছ’ঘণ্টারও বেশি সময় পরে এ নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর সঞ্জয়বাবুর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বেজে যায়। এসএমএসেরও জবাব মেলেনি।
অন্য দিকে, রবিবার রাতে কালীপ্রতিমা বিসর্জনের সময়ে বাজি ফাটানো নিয়ে দুই ক্লাবের সংঘর্ষ হয়। তা আটকাতে গিয়ে মার খায় পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, তাদের লক্ষ করে ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। এতে জখম হন তিন পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে লেক থানার গোবিন্দপুর লেনে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই রাতে বিসর্জন সেরে এলাকায় ফিরছিলেন স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যেরা। মাঝরাস্তায় যোধপুর পার্কের একটি ক্লাবের শোভাযাত্রার মুখোমুখি হন তাঁরা। পুলিশ জানায়, যোধপুর পার্কের ওই ক্লাবটির সদস্যেরা অন্য ক্লাবটির সদস্যদের লক্ষ করে বাজি ছোড়ে। এর জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লেক থানার চার পুলিশকর্মীর একটি দল। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করেও ইট, পাথর, বাজি ছোড়া হয়। ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী জখম হন। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানায় পুলিশ।




পুলিশ নিগ্রহ: কেউ সাজা পায় কেউ পায় না

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

৩০ অক্টোবর, ২০১৪,

একই আইন এবং একই অভিযোগ। অথচ, দুই ক্ষেত্রে আইনের পৃথক ফল।
মঙ্গলবার সকালে সার্ভে পার্কে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আক্রান্ত হয়েছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট। সার্ভে পার্কের ঘটনায় রাতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আইনের ভিন্নতা দেখা গেল এই ঘটনার ১১ ঘণ্টা পরে। পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দুই পুলিশকর্মীকে মারধর করেন এক ব্যক্তি। আর এই ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ধৃতের নাম নিরঞ্জন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে মত্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি।
কিন্তু একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন আইন কেন? এই নিয়ে বুধবার যুগ্ম কমিশনার (সদর) রাজীব মিশ্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ফৌজদারি আইনে সব সময়ে গ্রেফতার বাধ্যতামূলক নয়। ঘটনার পরিস্থিতি বিচার করে গ্রেফতার করা হয়। এই ক্ষেত্রে তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ নিয়ম ভাঙার অভিযোগে এক ট্যাক্সিচালককে ‘কেস’ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন পূর্ব যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট। সন্তোষপুর এলাকার লেকপল্লিতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের উপরে আক্রমণের সময়ে ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় সার্জেন্ট সুকান্ত মুহুরি জখম হন। তাঁর বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবেন্দ্র বিশ্বাস নামে আর এক সার্জেন্টের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহলে কেউ কিছু বলতে না চাইলেও পরে রাতের দিকে তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অথচ সেই ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়নি।
কী ঘটেছে হরিদেবপুরে? পুলিশ জানায়, ওই রাতে নিরঞ্জনবাবু হরিদেবপুর থানার এক কনস্টেবলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে আসেন আরএফএসের কয়েক জন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী। মত্ত অবস্থার নিরঞ্জনবাবুর সঙ্গে তাঁরাও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর পরেই মত্ত ওই ব্যক্তি আচমকা তাঁদের মারধর করতে শুরু করেন। ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই পুলিশকে মারধরের অভিযোগে নিরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি ঘটনাতেই কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উপরে হামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে হুমকি (৫০৬), ৫০ টাকা মূল্যের বেশি সম্পত্তি ধ্বংস (৪২৭) এবং সমবেত হামলার (৩৪) ধারাগুলি। পুলিশ জানিয়েছে, আইনের অন্য ধারাগুলি জামিনযোগ্য অপরাধ হলেও ৩৫৩ ধারাটি জামিন-অযোগ্য। এই ধারায় অভিযুক্তের দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দু’টো সাজাই হতে পারে। অথচ অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার তো দূর অস্ত্‌, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। দুই ক্ষেত্রে দু’রকমের ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত এক জন তৃণমূল কাউন্সিলর হওয়ার কারণেই এমন ঘটেছে। তাঁকে গ্রেফতার করতে হলে উপরমহল থেকে অনুমতির প্রয়োজন।



        

"Miscarriage pf Justice" by Mamta administration - Arrested a person who is already in Police custody, Court lambasted!


Saturday , November 1 , 2014











Court slams West Bengal police for abuse of power in investigation of Birbhum clashes



Sougata Mukhopadhyay,CNN.com
Oct 31, 2014 at 03:01pm IST Kolkata: Siuri court severely reprimanded West Bengal Police and directed top brass of district police to remove the officer in charge of Parui PS Kartick Mohan Ghosh and suspend Investigation Officer in the Parui political clash case Dhrubajyoti Dutta for dereliction of duty.

Siuri court severely reprimanded West Bengal Police and directed top brass of district police to remove the officer in charge of Parui PS Kartick Mohan Ghosh and suspend Investigation Officer in the Parui political clash case Dhrubajyoti Dutta for dereliction of duty.
The court referred the case to Calcutta High Court for further action, also directed the district police to set up a high-level inquiry committee headed by a DSP against the accused officers.
The Parui police produced an accused, Ali Jinnah, twice before the court and showed him as accused in two different cases and even prayed for his remand.
The accused, a TMC supporter, was first arrested on Tuesday on the basis of an FIR lodged at the Parui PS on the clash between TMC and BJP in Makra village on Monday. The court remanded the accused in police custody for five days along with 10 other accused who were also arrested
The same person was again produced in court by the police on Thursday and was shown as an accused in a suo motu case lodged by the police on the Makra clash and again prayed for his remand
A disgusted chief judicial magistrate of Birbhum, Indranil Chatterjee, summoned the OC to the court and asked him how can he ask for remand of an accused who his already in his remand.
The OC said to court that this was a "mistake" and asked for the court's pardon. The judge observed that a "mistake" is when you write two plus two as six, but if you write two plus two as Shakespeare, then that cannot be called a "mistake", it's an abuse of power.
The disciplinary action on the accused officers was given by the court on Friday after the follow up hearing in this case.


***************
১৫ কার্তিক ১৪২১ শনিবার ১ নভেম্বর ২০১৪ | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ



বিচারের গর্ভপাত! পুলিশকে তোপ ক্ষুব্ধ বিচারকের

দয়াল সেনগুপ্ত


সিউড়ি, ১ নভেম্বর, ২০১৪, ০৩:৩৫:৪৭


3
সিউড়ি আদালত থেকে বেরোচ্ছেন পাড়ুই থানার ওসি কার্তিকমোহন ঘোষ।—নিজস্ব চিত্র।


বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ‘মিসইউজ অব পাওয়ার’ অর্থাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার। শুক্রবার আরও কঠোর ভাষায় বললেন, ‘মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’ (বিচারের গর্ভপাত)!
বললেন, বীরভূমের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বা সিজেএম ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়। শুনলেন, জেলা পুলিশের ডিএসপি (শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ) সুমিত চট্টোপাধ্যায়। মাখড়া-কাণ্ডে ধৃত আলি জিন্নাকে নিয়ে পরপর দু’দিন জেলা পুলিশকে এ ভাবেই তুলোধোনা করলেন সিজেএম। পাড়ুই থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া, তদন্তকারী অফিসারকে মাখড়ার তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া-সহ একাধিক সুপারিশও করলেন বিচারক। এমনকী, পুলিশের ‘ভুলে’র সত্যতা খতিয়ে দেখতে ডিএসপি পদমর্যাদার কোনও অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশও দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি বিচারক জানিয়েছেন, বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে ‘রেফার’ (গোচরে) করা হচ্ছে। নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারকের মন্তব্য, “যদি আদালত নরম মনোভাব দেখায়, তা হলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। যে কেউ ভাবতে পারেন, কোনও অন্যায় করে শুধু ‘ভুল হয়ে গিয়েছে’ বলে পার পাওয়া যায়। সেটা ঠিক হবে না। তাই বীরভূমের পুলিশের সুপারের কাছে সুপারিশগুলি করছি।”
এ দিনই গণধর্ষণের এক মামলায় একাধিক বার আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় নদিয়ার নাকাশিপাড়ার ওসি রাজা সরকারকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয় কৃষ্ণনগর আদালত। পরে অবশ্য জামিন পান।
মাখড়া-কাণ্ডে জড়িত অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে জিন্নাকে গ্রেফতার করেছিল পাড়ুই থানার ওসি। বুধবার তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখতে বলেন সিজেএম। বৃহস্পতিবার ফের জিন্নাকেই গ্রেফতার দেখিয়ে সিজেএমের এজলাসে তুলে হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারক। ওসি ও অ্যারেস্টিং অফিসারকে এজলাসে ডেকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। পুলিশের দাবি ছিল, ‘ভুল’ করে এই কাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা-সমেত শুক্রবার আদালতে পুলিশ সুপার, ওসি এবং তদন্তকারী অফিসারকে হাজির থাকার নির্দেশ দেন বিচারক।
এ দিন বেলা ১১টায় ডিএসপি সুমিতবাবু এজলাসে এসে পৌঁছন। দশ মিনিট পরেই চলে আসেন পাড়ুই থানার ওসি কার্তিকমোহন ঘোষ, জিন্নার অ্যারেস্টিং অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দত্ত ও তদন্তকারী অফিসার গোপালচন্দ্র চন্দ্র। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ওঠে মামলা। সুমিতবাবু বিচারককে জানান, মায়ের পারলৌকিক কাজের জন্য এসপি ছুটিতে থাকায় তিনি এসেছেন।
বিচারক (ডিএসপি-র উদ্দেশে): আপনি ঘটনার কথা জানেন তো?
ডিএসপি: আদালতের আদেশনামা পেয়ে জানতে পেরেছি।
বিচারক: পুলিশ রিমান্ডের জন্য ফরোয়ার্ড আপনিই করেছিলেন তো?
ডিএসপি: হ্যাঁ।
বিচারক: আর আগেরটা? (জিন্নাকে হেফাজতে চেয়ে বুধবারের আবেদন)
ডিএসপি: ওটা আমি করিনি।
লিখিত ব্যাখ্যা এনেছেন কি না ওসি-র কাছে জেনে নেন বিচারক। কাঠগড়ায় ওঠেন অ্যারেস্টিং অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দত্ত (যিনি বুধবার জিন্নাকে তার বাড়ি থেকেই ধরেছেন বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার কোর্টে তুলেছেন)
বিচারক: আমাকে বলুন তো, পুলিশি হেফাজতে থাকা এক জন আসামিকে আপনি দৌড়োদৌড়ি করে ধরলেন কী ভাবে?
আইও: স্যার, মিস্টেক হয়েছে।
বিচারক: অন্য শব্দ বাছুন। আগেও আপনাকে বলেছি, এটা ভুল নয়। (ডিএসপি-র দিকে তাকিয়ে) ঘটনার ভিত্তিতে আপনারা কি কোনও বিভাগীয় পদক্ষেপ করেছেন?
ডিএসপি: স্যার, এসপি সাহেব জানিয়েছেন আদালতে কী হচ্ছে, ছুটি থেকে ফিরে সেই নির্দেশ দেখবেন। আদালত নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিলে উনি ব্যবস্থা নেবেন।
বিচারক: (ওসি-কে) আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
ওসি: আইও এবং অ্যারেস্টিং অফিসারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিচ্ছি।
(এর পরেই বিচারক পুলিশের ভুলের ব্যাখ্যা চান)
বিচারক: নিজেদের হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তিকে ফের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার কথা বলছিল পুলিশ। সেটার কী ব্যাখ্যা?
সরকারি আইনজীবী: আসলে ওই থানায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। পুলিশকর্মীরা খুব চাপে আছেন। সেই জন্য এমন ভুল হয়ে গিয়েছে।
বিচারক: এটা হয় নাকি! ধরুন, আপনি এখানে রয়েছেন। কেউ যদি বলে আপনাকে মুম্বইয়ে দেখা গিয়েছে, সেটা কি সম্ভব?
সরকারি আইনজীবী: (বিব্রত হয়ে) সত্যিই এর কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই।
এর পরেই জিন্নার জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন অভিযুক্তের আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় (তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি)। বিচারক চট্টোপাধ্যায় জিন্নাকে ফের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সব শেষে বিচারক পুলিশ সুপারের উদ্দেশে সুপারিশগুলি দেন। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ভগবতীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। তাই আদালত ঠিকই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই এক্তিয়ার রয়েছে।” আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের মত, “আইনের শাসন বজায় রাখতে এই নির্দেশ সঙ্গত।”
এ দিন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করে পাড়ুই-প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি বলেন, “রাজ্যপালকে আমরা বলেছি, আপনার সরকার (যে হেতু আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্য সরকারকে ‘আমার সরকার’ বলেই উল্লেখ করতে হয় রাজ্যপালকে) প্রায় প্রতি দিন আদালতে ভর্ৎসিত হচ্ছে। প্রশাসনের উপরে সাধারণ মানুষের আর আস্থা নেই। আদালতের কাছে তাঁদের    বিচার চাইতে যেতে হচ্ছে এবং আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।” রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে একই সুরে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ বলেছেন, “পুলিশের অবস্থা তো আদালতের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার। আর যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের পুলিশের উপরে আস্থা নেই, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন কী করে?”


হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার দেখানোর জের, পাড়ুই থানার ওসিকে সরানোর অনুরোধ আদালতের, সাসপেন্ডের সুপারিশ আইও-কে


পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার দেখানোর জের। পাড়ুই থানার ওসিকে সরিয়ে দিতে পুলিশ সুপারকে অনুরোধ সিউড়ি আদালতের। সাসপেন্ড করার সুপারিশ এক তদন্তকারী অফিসারকে। গতকালই পাড়ুই থানার ওসিকে তলব করে তিরস্কার করেন বিচারক।
শুনানির শুরুতেই এদিনও পাড়ুই থানা ওসি এবং তদন্তকারী অফিসারকে তীব্র ভর্ত্সনা করেন বিচারক। তিনি বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব দুর্ভাগ্যজনক. শুধু অভিযুক্তর জন্য নয়, আদালতের জন্যও। এই পরিস্থিতি তৈরি হল পুলিশ অফিসারদের চূড়ান্ত অকর্মণ্যতার জন্য। এই ঘটনা তদন্তকারী অফিসারের চূড়ান্ত স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয়। সে কাজে সমর্থন ছিল ওসির। এবং একজন ডিএসপি দ্বিতীয় দফার হেফাজত চাওয়ার আবেদন আদালতে পাঠিয়েছেন।
তদন্তকারী অফিসারেরও কড়া সমালোচনা করে বিচারক বলেন, শুধু মন্তব্য করে বা সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়াটা সম্ভব নয়। যদি আদালত এক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভুল বার্তা যাবে। পরবর্তী সময়ে এধরনের কাজ করে সবাই ‘ভুল হয়ে গিয়েছে’ বলে পার পেয়ে যাবে।
এটা স্পষ্ট, তদন্তকারী অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দত্ত আলি জিন্নাকে পাড়ুই থানার পুলিশ লকআপ থেকে বের করে ১৫২ নম্বর মামলার অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পেশ করেছেন। অথচ আদালতের রেকর্ডে দেখানো হয়, আলি জিন্নাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন এবং পুরো ঘটনাক্রমকে ভুলভাবে দেখিয়েছেন। আদালত এই মামলাটি হাইকোর্টের নজরে নিয়ে আসবে। আদালত তদন্তকারী অফিসারকে সরাসরি সাসপেন্ড করার সুপারিশ করছে।
পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করছি, এই কথা ভেবে দেখতে, তার পুলিশ বাহিনীকে কোন অফিসাররা কাজ করছেন, এবং তাঁরা আদৌ কাজ করার যোগ্য কিনা।
এরপর পাড়ুই থানার ওসিকে তীব্র ভর্ত্সনা করে বিচারক মন্তব্য করেন, অফিসারের দেওয়া নথিতে অন্ধের মতো সই করেছেন ওসি। সেসময় ওসি ঘুমোচ্ছিলেন কিনা, আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যখন তদন্তকারী অফিসার আলি জিন্নাকে লক আপ থেকে বের করছেন, তখনও ওসি বুঝতে পারলেন না কী হচ্ছে! আদালত সুপারিশ করছে, ওসির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ সুপার বিভাগীয় তদন্ত করুন। ন্যূনতম ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারকে দিয়ে বিভাগীয় তদন্ত করানো হোক। আদালত পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করছে, কার্তিকমোহন ঘোষকে যত দ্রুত সম্ভব ওসির পদ থেকে সরানোর জন্য।
সরকারি আইনজীবীও স্বীকার করে নিয়েছেন, পাড়ুই থানার লকআপে বন্দিদের অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য এই ভুল। আদালতের নির্দেশে সরকারি আইনজীবীর সেই মন্তব্যেরও উল্লেখ রয়েছে।
ধৃত আলি জিন্নাকে আগের মামলা অর্থাৎ ১৫৫ নম্বর মামলার তদন্তকারী অফিসারের হাতেই ফেরত পাঠিয়েছে আদালত। ধৃতের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত বহাল রয়েছে। সেই তদন্তকারী অফিসারকেও আদালত এই ভুলের জন্য সতর্ক করেছে।



Nov 01 2014 : The Times of India (Kolkata)


Are Your Men Eligible For Job, SP Asked
In a stinging indictment of Birbhum police, a Suri court on Friday directed SP Aloke Rajuria to suspend investigating officer Dhrubajyoti Dutta, relieve Parui OC Kartik Mohan Ghosh of duty , and hold a departmental inquiry into why police claimed they had arrested a `suspect' in the Makhra violence a second time when he was already in police custody .Chief judicial magistrate Indranil Chatterjee also urged the SP to think about the “kind of officers“ serving in his department and whether they are eligible for the job. Magistrate Chatterjee said he would draw the attention of Calcutta high court to the matter.
“The OC, Parui, has blindly signed the papers given to him by his officers... It is not possible for the court to ascertain whether he was sleeping or not... There remains a shadow of doubt. To remove these doubts the court recommends that the police superintendent initiate an in-depth inquiry ,“ magistrate Chatterjee said.The probe has to be conducted by someone ranked not below deputy SP .
During the hearing, the magistrate asked the Parui OC if he had submitted the report according to the court's directions on Thursday . When Ghosh said he had, assistant public prosecutor Kuntal Chatterjee told the magistrate: “I have read the report. It says the name was added as a mistake.But it does not explain why it is written that the second arrest was made from home.“ At this the magistrate asked, “Well, Mr APP , now at 10.30 am you are in the court. If somebody suddenly says that you are in Mumbai, how can it be possible?“ Chatterjee got the cue and replied, “Then somebody is lying, sir.“
On Thursday , police had produced Makhra violence suspects Biswanath Bagdi and Ali Jinna in magistrate Chatterjee's court. They were accused in case No. 152, lodged by police on the Makhra incident.To his surprise, the magistrate found that Jinna had already been arrested in case No. 155, filed by the father of slain BJP supporter Tousif Sk, on Tuesday . He had been produced in magistrate Chatterjee's court on Wednesday and remanded in five-day police custody . The magistrate summoned the SP, OC and investigating officer to explain the goof-up. Rajuria couldn't appear in court because of a personal bereavement and sent deputy SP Samit Chatterjee in his stead.
During the hearing, IO Dutta kept mumbling “sorry“ when the court sought answers. When the court asked the DSP what action had been taken, he said all steps will be taken in accordance with the court order. In the report, the IO and OC admitted there was a “mistake“.
Dutta tried to clarify that his real intention was to mention Jinna as “shown arrest“.The magistrate cornered him by asking why was Jinna then shown as arrested from home?
As Dutta fumbled, the magistrate remarked, “The development is very unfortunate...not only for the accused but also for the court. And it happened solely due to callousness of police.“
Jinna's lawyer Malay Muk herjee was quick to seize on the goof-up, saying, “If the arrest is a mistake, he should be released from this case. He is an innocent college student and was arrested only because his father is active in politics.“
Meanwhile, six more suspects were arrested on Friday for the Makhra violence. Five of them are Trinamool Congress supporters and the sixth is a BJP man. This takes the number of arrests to 17. All six have been remanded in police custody till November 5.
Two more suspects were arrested on Friday for the attack on Parui cops in Chowmandalpur village, taking the number in custody to 10.



Thursday, October 30, 2014

Police stopped opposition leaders to enter Makhra Village, but let enter the TMC goons

(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
মহেন্দ্র জেনা, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪



মাখড়া যাওয়ার পথে আটকে দেওয়া হল বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকেও। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর গ্রেফতার করা হয় মুক্তার আব্বাস নকভি, কীর্তি আজাদ, উদিত রাজ, রাহুল সিংহ-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতাদের। বিজেপির মাখড়া সফর ঘিরে এদিন সকাল থেকেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিজেপির প্রতিনিধি দল চৌমণ্ডলপুরে পৌঁছতেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ।
বিজেপি নেতাদের দাবি, ১৪৪ ধারা মেনে তাঁরা চারজন মাখড়ায় ঢুকতে চাইলেও, পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। এরপরই সেখানে মোতায়েন কমব্যাট ফোর্স এবং RAF-এর সঙ্গে বিজেপি নেততাদের রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপরই বিজেপি নেতাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।


********

রাজ্যের পরিস্থিতি দমবন্ধকর:অশোক গঙ্গোপাধ্যায়





4
মাখড়ায় ঢুকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে বিজেপির প্রতিনিধিদল। 
বুধবার বিশ্বজিত্‌ রায়চৌধুরীর তোলা ছবি।
কখনও নিষ্ক্রিয়। কখনও অতি-সক্রিয়। পাড়ুইয়ে গত ক’দিনের ঘটনা পুলিশের এই দ্বৈত ভূমিকাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
সোমবার তৃণমূলের শতাধিক দুষ্কৃতী মাখড়া গ্রামে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। তখনও ছিল ১৪৪ ধারা। গ্রামের ভিতরে ঢোকেনি পুলিশ। প্রশ্ন উঠেছিল, কী করে ১৪৪ ধারা থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতী-তাণ্ডব চলল? কেনই বা পুলিশ হাত গুটিয়ে রইল?
সেই বীরভূম জেলা পুলিশই চূড়ান্ত সক্রিয়তা দেখাল বুধবার। মাখড়ায় ঢোকার আগে আটকে দেওয়া হল এ রাজ্যের তিন বিরোধী দলের নেতাদেরই! এবং তা করা হল সেই ১৪৪ ধারার যুক্তি দেখিয়েই! চাপ বাড়াতে বৃহস্পতিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল মাখড়া যাবে। বিরোধীরা তো বটেই, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরাও। শেখ আজমল, লড়াই বাউরি, নাজমা বিবিরা এ দিন স্পষ্ট বলেছেন, “বিরোধী নেতারা তো বোমা-গুলি নিয়ে আসেননি! অথচ পুলিশ তাঁদের ঢুকতে দিল না। হামলার সময় এই বীরত্ব কোথায় ছিল?”
রাজ্য প্রশাসনের যুক্তি, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এবং নিয়ম মেনেই বিরোধী প্রতিনিধিদলকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এক সময় সিঙ্গুরে বিক্ষোভ-আন্দোলন এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার। সিঙ্গুরে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধা পেয়ে তত্‌কালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফিরে আসতেই আরাবুল ইসলামরা বিধানসভার লবিতে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন! এক বিজেপি নেতার কটাক্ষ, “সেই সময় মমতা ১৪৪ ধারার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন, আজ তাঁর পুলিশ একই কাণ্ড ঘটাচ্ছে!”
এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ হাঁসড়া স্কুলমোড়ে পৌঁছেছিল সাংসদ অভিজিত্‌ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের দল। ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মিও। অভিজিত্‌বাবু বোলপুরের এসডিপিও সূর্যপ্রতাপ যাদব ও সিআই (বোলপুর) চন্দ্রশেখর দাসের কাছে জানতে চান, কী কারণে তাঁদের আটকানো হচ্ছে। এসডিপিও বলেন, “১৪৪ ধারা আছে। ওখানে গেলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই আটকানো হচ্ছে।” অভিজিত্‌বাবু পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা যখন মাখড়ায় হামলা চালিয়েছিল, তখন ১৪৪ কোথায় ছিল?” এর পরেই পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে। রাস্তায় বসে পড়েন কংগ্রেস নেতারা। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলে তাঁদের।
পুলিশের বাধায় মাখড়া গ্রামে ঢুকতে না পেরে হাঁসড়া
মোড়ে অবস্থান কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের।—নিজস্ব চিত্র।
দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বাম প্রতিনিধিদল প্রথমে আসে চৌমণ্ডলপুরে। দলে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমান-সহ দশ জন বিধায়ক, সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোম। গ্রামে ঢোকার মুখে তাঁদেরও আটকে দেয় পুলিশ। সেই সময় গ্রামের জনা কুড়ি মহিলা দৌড়ে চলে আসেন। পুলিশ-কর্তাদের সামনেই বাম নেতাদের তাঁরা বলেন, “চার-পাঁচ দিন ধরে আমরা পুুলিশের ভয়ে গ্রামছাড়া। খাওয়া জুটছে না। পুলিশ গ্রামের নলকূপগুলো পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছে!”
এ দিন মাখড়ার প্রাথমিক স্কুলে অস্থায়ী ক্যাম্প বসলেও এলাকায় আতঙ্ক কাটেনি। তল্পিতল্পা নিয়ে গ্রাম ছেড়েছেন অনেকে। মসলিমা বিবি, শরিফা বিবি, খুরজান বিবিদের প্রশ্ন, “এই পুলিশের উপরে কোনও ভরসা নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মহিলা। এখানে আমাদের কী করুণ অবস্থা, তা কি তিনি জানেন না?”
শেষে বাম নেতাদের হাঁসড়া মোড় পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ। সেখানে ফের তাঁদের আটকানো হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়ে দেন এসডিপিও। ঋতব্রত বলেন, “আমরা জনপ্রতিনিধি। আমরা বোমা নিয়ে যাচ্ছি না। আপনাদেরকে বোমা মারার কথাও বলছি না!” ঋতব্রতর কথায়, “১৪৪ ধারার মধ্যেই গুলি-বোমা চলল। এখন সেই পুলিশই কত সক্রিয়!” পুলিশ বাম নেতাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু বাম নেতারা জামিনের বন্ডে সই করতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের নিঃশর্ত জামিন দেওয়া হয়।
হাঁসড়া মোড়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাম প্রতিনিধি দলের।—নিজস্ব চিত্র।
এই সময়েই হাঁসড়া স্কুলমোড়ে শিশির বাজোরিয়া, সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, শর্মিষ্ঠা কর পুরকায়স্থ, মহম্মদ আরশাদ আলম ও প্রভাকর তিওয়ারিকে নিয়ে চলে আসে বিজেপি-র দল। পুলিশের সঙ্গে তাঁদেরও বচসা বাধে। শিশিরবাবু বলেন, “আমরা দু’জন যাব। দু’জন গেলে তো ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন হবে না!” পুলিশকর্তারা জানিয়ে দেন, গ্রামে গেলেই উত্তেজনার সৃষ্টি হবে। পরে শিশিরবাবু কটাক্ষ করে বলেন, “পুলিশ নিশ্চয়ই নবান্ন থেকে নির্দেশ পায়নি! তাই এ ভাবে আটকে দিল!” বিজেপি-র আইনজীবী কৌশিক চন্দ্র এ দিন জানিয়েছেন, মাখড়ায় সিবিআই তদন্ত, ঘরছাড়াদের ফেরানো এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে এ দিন হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার পাড়ুইয়ে আসছে মুখতার আব্বাস নকভির নেতৃত্বে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। তাঁরাও বাধা পান কি না, সেটাই দেখার।

আরও - 
Bengal cops attacked with bombs when they raid suspect village