Showing posts with label Kolkata Municipal Corporation. Show all posts
Showing posts with label Kolkata Municipal Corporation. Show all posts

Friday, October 24, 2014

Another name of CORRUPTION is Mamta - Lake Mall lease contract violated to give aide, financial benefit

মমতা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে পুরসভার চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৩:২৬:৩৭


1

লেক মল উদ্বোধনে শ্রীকান্ত মোহতা, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

লিজ চুক্তি ভেঙে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডকে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাইয়ে দিল কলকাতা পুরবোর্ড। যার জেরে রাজস্ব বাবদ রাজ্য সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় কম হবে বলে জানাচ্ছেন পুরকর্তারাই।
পুরসভার হাতে থাকা লেক বাজারকে ভেঙে মল তৈরির ব্যাপারে ১৯৮৭ সালে বড়বাজারের অরুণ প্লাস্টিক প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল পুরসভার। পুর নথি অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর। এর পর অরুণ প্লাস্টিক লিমিটেড নাম পাল্টে হয় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেড। পুরনো মডেল লিজ চুক্তির সূত্র ধরে ২০১০ সালে তাদের সঙ্গে ফের চুক্তি করে পুরসভা। কিন্তু সম্প্রতি ৬০ বছরের চুক্তিকে ভেঙে দু’ভাগ করে ৩০ বছর মেয়াদের দু’টি চুক্তি করার আবেদন জানায় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন। গত ১১ সেপ্টেম্বর পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠকে সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে।
লিজ চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে কী ভাবে?
সরকারি আইন অনুযায়ী, লিজ চুক্তি ৩০ বছরের বেশি হলে লিজ রেজিস্ট্রেশন করাতে সম্পত্তির বাজার দর (মার্কেট ভ্যালু) ধরে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়। কিন্তু ৩০ বছর বা তার কম হলে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয় গড় লিজ ভাড়ার (অ্যাভারেজ লিজ রেন্ট) ভিত্তিতে। এই হিসেবে লিজ চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর থাকলে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ২৪ কোটি টাকা। এখন চুক্তি দু’ভাগে ভাঙার ফলে দিতে হবে মাত্র ৭ লক্ষ টাকা। শুধু স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিপুল ছাড়ই নয়, লিজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে পুরসভা। আর একটি পুনর্নির্মিত পুরবাজার নিউ আলিপুর মার্কেটের ডেভেলপারের ক্ষেত্রে যখন লিজ ভাড়ার পরিমাণ বর্গফুট পিছু ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করা হয়েছে, তখন লেক মলের ক্ষেত্রে তা ১ টাকা ৬৩ পয়সাতেই বেঁধে রাখা হয়েছে।
কে এই ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন? যাদের জন্য পুরসভার এই বদান্যতা!
এক পুরকর্তার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকায় রাজ্যে যে কয়েক জন শিল্পোদ্যোগীর নাম রয়েছে, তাঁদেরই এক জন সিনেমা প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন সংস্থার কর্ণধার তিনিই।” গত বছর লেক মলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চেই ভেঙ্কটেশ কর্তার প্রশংসা করেন তিনি। এ বার সেই সংস্থাকে ‘তুষ্ট’ রাখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরবোর্ড। যাকে অনিয়ম বলেই বলে মনে করছেন পুরসভার একাধিক আধিকারিক, এমনকী কাউন্সিলররাও। তৃণমূলেরই এক কাউন্সিলরের কথায়, “ভেঙ্কটেশ সংস্থার কর্ণধার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন। তাই নিয়ম ভেঙে তাঁকে খুশ করা হচ্ছে।” প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “শুরু থেকেই এই পুরবোর্ড ধান্দাবাজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে। শুধু লেক মল নয়, এমন ঘটনা আরও আছে।”
অথচ ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের আবেদন মানা যাবে না বলে গত ৩০ জুনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল মেয়র পারিষদের বৈঠকে। সংস্থার প্রস্তাব ছিল, মোট ৬০ বছরের চুক্তির প্রথম ৩০ বছর ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন এবং বাকি ৩০ বছর তাদেরই নমিনি মেসার্স বি এম লেসার্স এলএলপি’র নামে দেওয়া হোক। সেই প্রস্তাব বাতিল করে তখন পুরনো লিজ চুক্তি মেনে চলারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 
পুরসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি নিজের চেম্বারে ভেঙ্কটেশের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর তার পরেই ১১ সেপ্টেম্বর মেয়র পারিষদের বৈঠকে ভেঙ্কটেশ সংস্থার আবেদন অনুমোদন করে পুরবোর্ড। যদিও এই প্রস্তাব মেনে লিজের মেয়াদ ভাগ করে দিলে যে রাজস্ব আদায় কমবে, সে কথা লিখিত নোট দিয়ে পুর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিল পুরসভার অর্থ দফতর। সেই আপত্তি উপেক্ষা করে বিশেষ একটি সংস্থাকে ‘সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পুরসভার অন্দরমহলে।
লেক মলে মোট জায়গার পরিমাণ ১৯ হাজার ৯২৫ বর্গ মিটার। লিজ চুক্তি অনুযায়ী পুরনো বাজারের সব দোকানদারকে পুনর্বাসন দিতে গিয়ে একতলায় ৩২৯৮ বর্গমিটার জায়গা খরচ হয়েছে। ৬ ও ৭ তলায় পুরসভাকে দিতে হয়েছে এক হাজার বর্গমিটার জায়গা। বাকি ১৫ হাজার বর্গমিটার বা ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৪০ বর্গফুট জায়গা পুরসভার অনুমতি নিয়ে ভাড়া দিতে পারবে নির্মাতা সংস্থা। এই জায়গাটুকুই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে তাদের।
রাজ্য সরকারের স্ট্যাম্প ডিউটি আইন অনুযায়ী (ইন্ডিয়ান স্ট্যাম্প, ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০১২) লিজ চুক্তির মেয়াদ ৬০ বছর থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজার দরের উপর ৭ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে। লেক মল এলাকায় বাণিজ্যিক নির্মাণের বাজারদর এখন বর্গফুট পিছু ২০ হাজার টাকারও বেশি। সেই হিসেবে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৪০ বর্গফুটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা। সুতরাং রেজিস্ট্রেশনের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতো ২৪ কোটি টাকা।
কিন্তু ৩০ বছর বা তার কম সময়ের জন্য কোনও লিজ চুক্তির রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে যে হেতু লিজ ভাড়ার ভিত্তিতে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়, সে হেতু এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়ার হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন। তাদের সঙ্গে পুরসভার লিজ ভাড়া চুক্তি হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ লাগবে মাত্র ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯০১ টাকা।
ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরসভার যুক্তি কী? একাধিক কাউন্সিলরের কথায়, “পিপিপি মডেলের বিষয়টি মেয়র নিজেই দেখেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায়ও তাঁকেই নিতে হবে।”
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “চুক্তি যা হয়েছিল, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করেছি। সরকারের কোনও লোকসান হবে না।” যদিও পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চুক্তিতে যদি এমনটা থাকত, তা হলে অর্থ দফতর ওই নোট দিত না। ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কোনও কথা বলব না।” শুধু স্ট্যাম্প ডিউটি নয়, লিজ ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভেঙ্কটেশকে সুবিধা দিচ্ছে পুরসভা। নিউ আলিপুর মার্কেটের ডেভেলপারকে এত কাল প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা করে ভাড়া মেটাতে হতো পুরসভাকে। ওই সংস্থার সঙ্গেও পুরসভার চুক্তি হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। গত ১১ অগস্ট পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই সংস্থাকে প্রতি বর্গফুটের জন্য ২ টাকার পরিবর্তে ৪ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। অথচ লেক মলের ক্ষেত্রে কোনও ভাড়া বাড়ানো হয়নি। সেই ১ টাকা ৬৩ পয়সা হারই বজায় রয়েছে।
একই ধরনের দু’টি বাজারের ক্ষেত্রে দু’রকম সিদ্ধান্ত কেন?
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “লেক মলের ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেখানে ভাড়া বাড়ানোর কোনও কথা বলা নেই। তাই ভাড়া বাড়ানো হয়নি।” যদিও এক পুর-অফিসারের কথায়, নিউ আলিপুর বাজারের নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতেও ভাড়া বাড়ানোর কোনও কথা ছিল না। সময়ের পরিবর্তনের কথা ভেবেই তা বাড়ানো হয়েছে। একই ভাবে লেক মলেরও ভাড়া বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু ‘বিশেষ’ কারণে তা হয়নি। পুরসভার এক অফিসারের কথায়, “লেক মলের দোতলায় একটি সংস্থার কাছ থেকে ভেঙ্কটেশ সংস্থা ভাড়া নিচ্ছে প্রতি বর্গফুটে ৩৫ টাকা। অথচ পুরসভাকে দিচ্ছে মাত্র ১ টাকা ৬৩ পয়সা।” 
আরও অভিযোগ, ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন একাধিক সংস্থার কাছ থেকে সেলামি নিয়ে লেক মলে জায়গা দিয়েছে। সেই সব সংস্থার সঙ্গে লিজ চুক্তিও করেছে। যদিও পুরসভার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, তা তারা করতে পারে না। এ সবই পুরসভার কর্তারা জানেন। তা সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ সংস্থার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

***********

লেক মল চুক্তি

1515

চটজলদি সইসাবুদ সেরে নিল পুরসভা

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৩:৩৩:১৯





4

সোমবার সন্ধ্যায় পুরভবনে হঠাৎ শ্রীকান্ত মোহতা। ছবি: রণজিৎ নন্দী

লেক মলের নির্মাণ সংস্থাকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিতে লিজ চুক্তি দু’ভাগ করার বিষয়টিকে কয়লা খনি বণ্টন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করল বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে পুজোর পরেই পুরোদস্তুর ময়দানে নামা, এমনকী প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে তারা। বামেরাও এ নিয়ে আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বসে নেই কলকাতা পুরসভা। ওই চুক্তির রেজিস্ট্রি যাতে কোনও ভাবে আটকে না যায়, সে জন্য এ দিনই তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ কর্তাকে পুরভবনে ডেকে সইসাবুদ করিয়ে নেয় পুর প্রশাসন।
কেন পুরসভার তরফে ওই তৎপরতা?
পুরসভার এক আমলা জানান, আজ, মঙ্গলবার থেকে পুজোর ছুটি পড়ছে। ছুটির পর প্রথম দিনেই যাতে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলা যায়, এ দিন তার ব্যবস্থা করে রাখা হলো। চুক্তিটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা এড়াতেই এই তৎপরতা বলে জানান তিনি।
১৯৮৭ সালে হওয়া লিজ চুক্তি যে ভাবে শর্ত ভেঙে দু’ভাগ করা হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি এবং বামেরা। রাহুলবাবু সোমবার বলেন, “৩০ বছর পরে আরও ৩০ বছরের চুক্তি পুরসভা এখন করতে পারে না। ৩০ বছর পরে কে কোথায় থাকবে, কে কী করবে, কিছুই এখন নিশ্চিত করে বলা যায় না। তা হলে ৩০ বছর পরের চুক্তি কেমন করে এখন করা সম্ভব? সুতরাং, দ্বিতীয় পর্বের চুক্তি বেআইনি। তার মানে প্রথমটাও অবৈধ!” রাহুলবাবু জানান, দলের আইনজীবী সেলকে তিনি পুরো চুক্তি খুঁটিয়ে পড়ে আইনি পরামর্শ দিতে বলেছেন।
প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরসভা যে ভাবে চুক্তি ভেঙে দু’ভাগ করেছে, তা করা যায় না। তা অনৈতিক এবং অন্যায়। নয়া চুক্তি আটকাতে তাঁরা আইনের পথে হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র।
বিরোধীদের এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা কি এ ভাবে চুক্তি ভাগ করতে পারে?
এ নিয়ে পুরসভার তরফে একাধিক ব্যাখ্যা মিলেছে। পদস্থ এক আমলার কথায়, “এটা আইনসম্মত নয়। চুক্তি ৬০ বছরের। কারও সুবিধার জন্য তার খেলাপ করা ঠিক নয় জেনেও চুপ করে থাকতে হয়েছে। কারণ এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত।” পুরসভারই অন্য এক অফিসারের আবার বক্তব্য, “লিজ চুক্তির সময়সীমা দু’ভাগে ভাগ করায় সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হবে এটা সত্য, তবে ভাগ করার বিষয়টা নিয়মবিরুদ্ধ নয়।”
পুরসভা সূত্রের খবর, গত ১১ সেপ্টেম্বর মেয়র পারিষদ বৈঠকে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের দেওয়া লিজ চুক্তি দু’ভাগ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এ দিন আনন্দবাজারে সেই খবর প্রকাশিত হতেই চুক্তি রেজিস্ট্রি করার জন্য বয়ান তৈরির কাজে তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। বিকেলেই মেয়র-সহ প্রায় সব মেয়র পারিষদ অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে সন্ধ্যায় পুরসভার বাজার ও আইন দফতরের অফিসারদের থাকতে বলা হয়। এমনকী রেজিস্ট্রেশনের বয়ানে বাজার দফতরের অফিসারদের সইসাবুদও করিয়ে রাখা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ভেঙ্কটেশের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতা পুরসভায় আসেন। তখন অবশ্য বাজার দফতরের তিন অফিসারের মধ্যে মাত্র এক জন উপস্থিত ছিলেন। ওই অবস্থাতেই ভেঙ্কটেশের কর্ণধার সইসাবুদ সেরে দ্রুত বেরিয়ে যান।
পুরসভার একটি সূত্রের অভিযোগ, লেক মলের মালিক কাগজে-কলমে কলকাতা পুরসভা হলেও বাজারটির কোন জায়গা কাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা জানেনই না পুরকর্তারা! জানা গিয়েছে, ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থার কাছ থেকে প্রচুর টাকা সেলামি নিয়ে লেক মলে তাদের জায়গা দিয়েছে। এমনকী তাদের সাব লিজও দিয়েছে। অথচ পুর নিয়ম অনুসারে, অন্য কোনও সংস্থাকে সাব-লিজ দিতে গেলে পুরসভাকে তা আগাম জানাতেই হবে। জানাতে হবে, কত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা-ও। অথচ ভেঙ্কটেশের ক্ষেত্রে কোনও নিয়মই মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন পুরসভার এক কর্তা।
কেন এমনটা হচ্ছে? ওই কর্তার মন্তব্য, “লেক মল নিয়ে কোনও প্রশ্ন করবেন না। ওই মলের যা কিছু সিদ্ধান্ত সবই উপরতলা থেকে আসছে।” পুরকর্তারা সবই জানেন। তা সত্ত্বেও ভেঙ্কটেশ সংস্থার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।  
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির ব্যাখ্যা, পুরভোটের আগে দলের নির্বাচন লড়ার টাকা জোগাড়ের জন্য তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে পুরসভা। রাহুলবাবুর কথায়, “সামনে পুরভোট। তৃণমূল জানে, সোজা পথে তারা পুরভোটে জিততে পারবে না। তাই এখন ক্লাবকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সুদীপ্ত সেন তো জেলে! তা হলে টাকা আসবে কোথা থেকে? নতুন এক সুদীপ্ত সেনের খোঁজ পেয়েছে তৃণমূল। সেই অর্থে পুরভোট জেতার পরিকল্পনা করেছে তারা।” ৬০ বছরের চুক্তিকে দু’ভাগে ভাগ করার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুজোর পরে লেক মলের সামনে ‘ঘেরাও অভিযান’ শুরু করবে বিজেপি।

*****************

দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধীদের, নীরব মেয়র

পরোয়া নেই ক্ষতির, পাশ লেক মল চুক্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা

২২ অক্টোবর, ২০১৪, ০২:৩৪:৪৭


1

পুর অধিবেশনে বাম কাউন্সিলরদের প্রতিবাদী পোস্টার। ছবি: প্রদীপ আদক

রাজ্য সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনাকে আমল না দিয়েই বিতর্কিত লেক মল চুক্তিটি পুরসভার অধিবেশনে পাশ করিয়ে নিল তৃণমূল। ওই চুক্তিতে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডকে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু সভায় হাজির থাকা সত্ত্বেও নিজে মুখ খোলেননি মেয়র। উল্টে বক্তৃতা দিতে এগিয়ে দেন মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারকে। যিনি বলেন, “চুক্তিতে যা রয়েছে, তাতে ভেঙ্কটেশ যা বলবে, তা-ই আমাদের করতে হবে।”
পুরসভার হাতে থাকা লেক বাজারকে ভেঙে পিপিপি মডেলে লেক মল তৈরির ব্যাপারে ১৯৮৭ সালে বড়বাজারের অরুণ প্লাস্টিকের (পরে যার নাম পাল্টে হয় ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন) সঙ্গে ৬০ বছরের লিজ চুক্তি হয়েছিল পুরসভার। যদিও সেই মূল চুক্তিপত্রের খোঁজ মিলছে না। সম্প্রতি পুরনো চুক্তিটি ৩০ বছর করে দু’ভাগে ভেঙে ভেঙ্কটেশ কর্তৃপক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। হিসেব বলছে, চুক্তিটি দু’ভাগে ভাঙার ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ প্রায় ২৪ কোটি টাকা ক্ষতি হবে সরকারের। কারণ, এ ক্ষেত্রে ভেঙ্কটেশকে বাজার দরের পরিবর্তে লিজ ভাড়া অনুযায়ী স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হচ্ছে। চুক্তি পিছু যা মেরেকেটে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।
কারও কারও মতে, ‘ভেঙ্কটেশ যা বলবে’ বলতে দেবব্রতবাবু এ দিন বুঝিয়েছেন যে, ভেঙ্কটেশ কর্তৃপক্ষ পুরনো চুক্তিটিকে যত ভাগে ইচ্ছে ভাঙতে পারেন। কারণ, তাঁদের সঙ্গে আগে থেকেই ৬০ বছরের চুক্তি হয়ে  রয়েছে। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী সিপিএমের রূপা বাগচী, কংগ্রেসের মালা রায়-রা এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন যে চুক্তি পুরসভা থেকেই উধাও, তাতে কী লেখা ছিল দেবব্রতবাবু জানলেন কী করে?
বিপুল রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে গত শুক্রবার পুরভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ ওই চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। তার দিন কয়েক আগে মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দেন বাম কাউন্সিলররা। মেয়রের কুশপুতুল দাহ করেছিল কংগ্রেসও। এর পর মঙ্গলবার উত্তাল হলো পুরসভার অধিবেশন কক্ষ।
এ দিনের অধিবেশনে চুক্তিটি পাশ করার জন্য তোলার আগে আলোচনার সুযোগ দেন পুরসভার চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে মালাদেবী বলেন, “মূল চুক্তিটি উধাও। তা হলে কোন চুক্তির ভিত্তিতে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি করা হল, তা জানানো হোক।” ওই চুক্তি বাতিলের দাবি তোলেন তিনি। একই দাবি করে রূপাদেবী বলেন, “পুরসভা চরম আর্থিক সংকটের মুখে। ঋণের বোঝায় ব্যতিব্যস্ত সরকারও। সেই সময় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভেঙ্কটেশ সংস্থাকে বিশেষ সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার এই ঘটনা জনস্বার্থ বিরোধী। দুর্নীতিও।” বিজেপির বিজয় ওঝা বলেন, “বিশেষ কাউকে সুযোগ দেওয়ার আগে পুর প্রশাসনের ভাবা উচিত ছিল, সরকারের ক্ষতি হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, জনগণের কাছে তাঁরা দায়বদ্ধ, কোনও চলচ্চিত্র নির্মাতার কাছে নন।
পুরসভা সূত্রের বক্তব্য, পিপিপি মডেলে প্রকল্পের দায়িত্ব মেয়রের।  তাই তাঁর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা। কিন্তু তিনি কোনও জবাব না দিতেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বলতে দেওয়া হয়নি মেয়র পারিষদ (বাজার) তারক সিংহকেও। পাল্টা গলা চড়ান শাসক দলের কাউন্সলিররাও। বিজেপির এক সদস্য ছাড়া বিরোধীরা সকলেই প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ করেন। তার পরে মেয়র পারিষদ দেবব্রতবাবু বলেন, বিরোধীরা চুক্তি পড়েননি বলেই ‘ভুলভাল’ কথা বলেছেন। শাসক দলের সংখ্যাধিক্যের জেরেই বিনা বাধায় চুক্তিটি সভায় পাশ হয়ে যায়। দেবব্রতবাবু ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমে যাওয়া নিয়ে কিছু বলতে চাননি। ফলে পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এই মেয়র পারিষদকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা।

*******************

লেক মল

মূল চুক্তিই গায়েব, নয়া মোড় ভেঙ্কটেশ-বিতর্কে

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

১৬ অক্টোবর, ২০১৪, ০২:২৩:২৮


মূল চুক্তিপত্র বহু দিন হল গায়েব। অথচ তারই প্রতিলিপির ভিত্তিতে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে নতুন ভাবে (সাপ্লিমেন্টারি) চুক্তি করেছে কলকাতা পুরসভা, যার মারফত ষাট বছরের লিজ-চুক্তিকে তিরিশ বছর করে দু’ভাগে ভেঙে লেক মলের ওই ডেভেলপার সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় কমছে।
লিজ-মেয়াদে ‘অবৈধ’ বিভাজনের খবর আনন্দবাজারে প্রকাশিত হওয়ার পরে ইতিমধ্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মূল চুক্তিপত্র বেপাত্তা হওয়ার নতুন তথ্যের ইন্ধনে যা আরও জোরদার। প্রশ্ন উঠেছে, মূল যে চুক্তিপত্রের হদিসই নেই, তার জের টেনে কী ভাবে ভেঙ্কটেশের সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি করা হল? পুর-কর্তারা মুখ খুলতে নারাজ। মেয়রের দাবি, চুক্তিপত্র উধাওয়ের কথা তিনি জানেন না।
পুর-সূত্রের খবর: লেক মল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১৯৮৭-তে বড়বাজারের সংস্থা অরুণ প্লাস্টিকের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার চুক্তি হয়েছিল। পুরসভার নথি বলছে, সাতাশ বছর আগের সে চুক্তির কপি পুরভবন থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে অনেক দিন আগে। এমনকী, ডেভেলপার সংস্থার কাছে মূল চুক্তিপত্রের যে কপি থাকার কথা, তা-ও নেই। পুরসভার এক আমলা বলছেন, “গত বছর লেক মল উদ্বোধনের সময় অরুণ প্লাস্টিকের সঙ্গে হওয়া পুরনো চুক্তির কাগজপত্রের খোঁজ পড়েছিল। কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেল, পুরসভার কপি উধাও। আর ডেভেলপার কোম্পানির কাছে থাকা কপি নাকি পুড়ে গিয়েছে!”
চুক্তিকারী দু’পক্ষের হেফাজতে থাকা চুক্তিপত্রের দু’টো প্রতিলিপি-ই এ ভাবে একসঙ্গে বেপাত্তা হয়ে যাওয়াটা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে। পুর-সূত্রের খবর, কয়েক জন পুর-অফিসারও ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে শীর্ষকর্তারা নীরব থাকায় ওঁরা বিশেষ উচ্চবাচ্য করার সাহস দেখাননি। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, তা হলে পুরনো কোন চুক্তিপত্রের রেশ টেনে ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশন প্রাইভেট লিমিটেডের (যা কিনা অরুণ প্লাস্টিকেরই নামান্তর) সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি হল?
এখানেও অনিয়মের আঁচ। এক পুর-আধিকারিকের বক্তব্য, বছর নয়েক আগে, ২০০৫-এ পুরসভার তদানীন্তন ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার একটি কাগজ ‘সার্টিফাই’ করে জানিয়েছিলেন, সেটাই পুরনো চুক্তির প্রতিলিপি। তারই ভিত্তিতে ভেঙ্কটেশের হাতে লেক মল সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “ঘটনা হল, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্রান্ত কোনও কাগজকে এ ভাবে মূল নথির প্রতিলিপি হিসেবে সার্টিফাই করার এক্তিয়ার ওঁর ছিল না। তবু সেটা গ্রহণ করা হল কেন, তা নিয়ে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক।” মন্তব্য করেন আধিকারিকটি। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট ওই ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘ কাল কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং দফতরের ডিজি পদে ছিলেন। পুরসভার যুগ্ম কমিশনারের অফিসের খবর, ওঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পুরবোর্ডের আমলেই ওঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এক্তিয়ার-বহির্ভূত কাজেই শেষ নয়। আসল চুক্তির প্রতিলিপি হিসেবে খাড়া করা সতেরো পাতার ওই চুক্তিপত্রে নানা অসঙ্গতিও রয়েছে বলে মত পুরসভার একাধিক আমলার।
কী রকম? ওঁদের দাবি: আসল চুক্তিপত্রটি সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৮৭-তে। অথচ ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সার্টিফাই করা প্রতিলিপিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে নোটারির স্বাক্ষর ২০০৩-এর! পুরসভার আইন দফতরের এক অফিসার বলেন, “১৯৮৭-তে সম্পাদিত চুক্তিতে নোটারির সই হবে সে বছরেরই। ষোলো বছর পিছিয়ে যাওয়াটা ঘোরতর সন্দেহজনক।” উপরন্তু একেবারে শেষ পাতায় তত্‌কালীন পুর-সচিব ও পুর-কমিশনারের সই থাকলেও তাতে তারিখ নেই। এমনকী, দুই অফিসারের কোনও সিলমোহরও নেই!
এ হেন বিবিধ গুরুতর অসঙ্গতিতে ভরা নথিটি নিয়ে পুর-কর্তৃপক্ষ রীতিমতো বিব্রত। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে পাঠানো একটি চিঠি ওঁদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। পুরসভার আইন দফতরের খবর, হাইকোর্টের এক আইনজীবী মূল চুক্তিপত্র দেখতে চেয়ে চিঠিটি দিয়েছেন। “চুক্তির কাগজ তো হাপিস! চিঠির কী উত্তর দেওয়া হবে, উপরওয়ালাদের কাছেই জানতে চাইব।” মন্তব্য এক অফিসারের। পুরসভার উপরওয়ালারা কী বলেন? মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মূল চুক্তিপত্র নিখোঁজ হওয়ার খবর তিনি জানেনই না। “একটা চুক্তি তো দেখেছি!”— বুধবার বলেন তিনি। সেটা যে সার্টিফায়েড কপি, তা শোনার পরে মেয়রের প্রতিক্রিয়া, “তাতেই তো হবে!” স্রেফ ‘সার্টিফায়েড’ কপির ভিত্তিতে এমন একটি প্রকল্প রূপায়ণের নতুন চুক্তি করা যায় কি না, সে সংক্রান্ত আইনি বিষয়ে মেয়র কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পদে পদে বিতর্কের ঝুঁকি রেখেও নতুন চুক্তির পথে পুরসভা এগোল কেন?
এক আমলার ব্যাখ্যা, “পুরনো চুক্তিপত্র না-থাকায় নতুন চুক্তি সম্পাদনে আইনত বাধা ছিল। তাই সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি, যাতে ব্যাপারটায় খানিকটা হলেও আইনি তকমা দেওয়া যায়। ভেঙ্কটেশকে নতুন ভাবে দায়িত্ব দিতে হলে এমন একটা কিছু করতেই হতো।” মল সংস্কারের দায়িত্বে ভেঙ্কটেশকেই আনার এ হেন মরিয়া তাগিদ প্রসঙ্গে অবশ্য ‘প্রভাবশালীদের পাইয়ে দেওয়া’র তত্ত্বই ঘোরাফেরা করছে পুরভবনের অন্দরে। বস্তুত লেক মল বিতর্ক ফাঁস হতেই, পুজোর ছুটি পড়ার আগের রাতে লিজ-মেয়াদ বিভাজনের নতুন চুক্তিতে তড়িঘড়ি ভেঙ্কটেশ-কর্তাদের সইসাবুদ সেরে ফেলে পুরসভা। তা রেজিস্ট্রেশন করাতে সোমবার ভেঙ্কটেশ-কর্তা শ্রীকান্ত মোহতা পুরভবনে হাজির হয়েছিলেন। অন্য দিকে ভেঙ্কটেশ-চুক্তির জেরে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে সোমবারই মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সিপিএম কাউন্সিলরেরা। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচির ঘোষণা, “২১ তারিখের পুর-অধিবেশনে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সে দিন প্রতিবাদ জানাব।” আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেসও। মঙ্গলবার পুরভবনের সামনে কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রকাশ উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মেয়রের কুশপুতুল দাহ হয়েছে। কাল, শুক্রবার ওখানে বিজেপি’র বিক্ষোভ দেখানোর কথা।

**********

লেক মলে পুরনোরা ব্রাত্য, সুবিধা নতুনদেরই

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ১ অক্টোবর, ২০১৪, ০৩:৩৩:২৪

সাবেক লেক মার্কেট ভেঙে যে নতুন লেক মল তৈরি হয়েছে, সেখানে মূলত দু’ধরনের ব্যবসায়ী দোকান পেয়েছেন। এক দল, যাঁরা লেক মার্কেটের সাবেক ব্যবসায়ী। অন্য দল, যাঁদের বসিয়েছে লেক মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ। সাবেক ব্যবসায়ীদের যেখানে বর্গফুট পিছু চার থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয় পুরসভাকে, সেখানে নতুন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুরসভা পায় বর্গফুট পিছু এক টাকা ৬৩ পয়সা! ভাড়ায় এই বিপুল বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ অধিকাংশ পুরনো ব্যবসায়ী। তাঁদের বক্তব্য, পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থে লেক মার্কেট পুনর্গঠনের কথা কাগজে-কলমে বলা হলেও আদপে তার সুবিধা পাচ্ছেন কম ভাড়ায় থাকা ওই নতুন দোকানগুলি। পুরনো ব্যবসায়ীদের শুধু যে বেশি ভাড়া দিতে হয়, তা-ই নয়। তাঁরা নতুনদের তুলনায় যথেষ্ট পরিষেবাও পান না বলে অভিযোগ। পুরনো ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশকে বিশেষ সুবিধা দিতেই ব্যস্ত পুরসভা।
সাবেক ব্যবসায়ীদের অভিযোগের যথার্থতা মিলল মলে ঢুকেই। যে অংশটুকুতে নতুন ব্যবসায়ীদের বসানো হয়েছে, সেটুকু একেবারে ঝাঁ চকচকে। হাঁটতে গিয়ে পা পিছলে পড়ার অবস্থা! সেটা অবশ্য দোতলা থেকে উপরের দিকের অংশে। ঠিক তার উল্টো চিত্র একতলায়। যেখানে লেক মার্কেটের পুরনো প্রায় ৪৫০ দোকানকে কোনও ভাবে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে! সরু করিডরের দু’পাশে ভর্তি দোকান। আর দোকানের উপচে পড়া মালপত্রের কারণে দু’টো মানুষের পাশাপাশি হাঁটাও সমস্যার। এক পুরনো দোকানদারের কথায়, “এই মার্কেটের উন্নয়নের কথা ভেবে এক সময় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় পথে নেমেছিলেন। পরবর্তী কালে বাজারের উন্নয়নে পুর প্রশাসন বেসরকারি হাতে তা গড়ার ভার দেয়। মল তৈরি হলো বটে, তবে আমাদের দুর্ভোগ আর কাটল না!”
দুর্ভোগের ছবিটা কেমন?
সাবেক লেক মার্কেটের এক ব্যবসায়ী মহম্মদ ইউনিস জানান, পুরনো ব্যবসায়ীদের যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু দোকান খোলাই যায় না। কেন? ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, লেক মলের বেসমেন্টে গ্যারাজ তৈরি করেছে নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ। আর সেটা করতে গিয়ে মার্কেটের বাইরে থাকা ভ্যাটটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এক তলার বেশ কিছু দোকানের পাশে। এর পাশাপাশি আছে শৌচাগারের যন্ত্রণা। নীচে ৪৫০ দোকানের জন্য একই জায়গার মধ্যে তিনটে শৌচাগার! এবং সেটাও আবার ভ্যাটের পাশেই! ফলে দুর্গন্ধে সেখানে কেউ ঢুকতেই পারেন না। উপরের দিকের ছবিটা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য রকম। সেখানে কিন্তু ঝাঁ চকচকে শৌচাগার করে দিয়েছে নির্মাণ সংস্থা।
পুরনো ব্যবসায়ীদের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন শাসক দলের অনেক নেতা-কর্মীও। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার কথায়, “ভ্যাটের জন্য পাশেই থাকা বাড়ির ভাড়াটেরা ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন!” ঝাঁ চকচকে মলের একতলার করুণ দশা যে তাঁর দলকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা মেনে নিয়েছেন ওই নেতা। তাঁর কথায়, “মলের নির্মাণ সংস্থা যে অংশটুকু থেকে সেলামি পাবে, সেটুকু সাজিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়নি।” মহম্মদ ইউনিস জানান, প্রায় এক বছর আগে লেক মলের উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু এখনও গোটা তিরিশেক মাছ ব্যবসায়ীকে মলে জায়গা দেওয়া হয়নি। মাছ বাজারের বাইরে টিনের ছাউনি দিয়ে তাঁদের বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুরসভার বাজার দফতরের এক অফিসার জানান, লেক মলের বিষয়টি পুরসভার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ দেখছেন। তাঁদের কিছু করার নেই। ভেঙ্কটেশ-কর্তা শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর ফোন বেজেই গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভেঙ্কটেশের হাত ধরে ১৭টি সংস্থা লেক মলে ব্যবসা শুরু করেছে। পুরসভার এক আমলার কথায়, ১৯৮৭ সালের চুক্তিতে বলা ছিল, লেক মার্কেট পুনর্গঠন হলে প্রথমেই পুরনো দোকানগুলোকে পুনর্বাসন দিতে হবে এবং পুরসভার জন্য এক হাজার বর্গমিটার জায়গা দিতে হবে। এর পরে বাকি যে অংশ থাকবে, তা ভাড়া দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সেলামি নিয়ে ভাড়াটে খোঁজার ভার পাবে নির্মাণ সংস্থা। কিন্তু সেই ভাড়াটের সঙ্গে আলাদা চুক্তি হবে পুরসভার। পুরসভা ওই সব দোকান থেকে ভাড়া পাবে। কিন্তু লেক মলের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে জানান ওই আমলা। আরও অভিযোগ, শুধু সেলামি নয়, নির্মাণ সংস্থাটি নতুন দোকানগুলি থেকে বর্গফুট পিছু বেশি ভাড়াও নিচ্ছে। পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, ভেঙ্কটেশ যেখানে বর্গফুট পিছু প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে, সেখানে পুরসভা পাচ্ছে প্রতি বর্গফুটে মাত্র ১ টাকা ৬৩ পয়সা!
অনিয়মের কাহিনি এখানেই শেষ নয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, লেক মলের বেসমেন্টে নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ যে গ্যারাজ তৈরি করেছে, সেখানে চার চাকা গাড়ির জন্য ঘণ্টাপিছু নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। তিন ঘণ্টার বেশি হলে দিতে হচ্ছে ঘণ্টা প্রতি ৩০ টাকা। আর মোটরবাইকের জন্য ঘণ্টাপিছু ১০ টাকা। পুরসভার এক অফিসার জানান, গত বছর অগস্টেই ওই পার্কিং গ্যারাজ চালু হয়েছে। কিন্তু পুরসভাকে এ বাবদ কোনও ভাড়া এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলেই পুরসভা সূত্রের খবর। এ বিষয়ে তৃণমূলের একাধিক নেতার বক্তব্য, লেক মল খুব স্পর্শকাতর বিষয়। ৬০ বছরের লিজ চুক্তি দু’ভাগে ভাঙা তো এখন হলো। এর আগেও ওই মলের নির্মাণ সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফাউন্ডেশনের সুবিধার্থে নানা ‘অঘটন’ ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কী ভাবে? একাধিক ব্যবসায়ী এবং তৃণমূল নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত নীতি ছিল পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। লেক মলের সামনের রাস্তা খালি করতে তা-ও ভাঙা হয়েছে। এক প্রকার চাপ দিয়েই শ’খানেক দোকানদারকে সরানো হয়েছে।” এক তৃণমূল নেতার কথায়, “নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তায় বেআইনি ভাবে বসে থাকা হকারদের কিন্তু এখনও সরাতে পারেনি পুরসভা বা সরকার কেউই। অথচ ভেঙ্কটেশ সংস্থার স্বার্থে লেক মলের সামনে এমনটা করা হয়েছে।”

*******************
আরও পড়ুন - 
রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে, মমতার মতো, রাজ্যের এত বড় ক্ষতি আর কেহ কখনও করেন নি

হোমগার্ড নিয়োগে ব্যাপক দূর্নীতি 



Thursday, February 7, 2013

Major scam and misuse of public money by Mamta party run Kolkata Municipal Corporation


Nothing fair about Kolkata Municipal Corporation trident ‘fair rate’

Saikat Ray, TNN Oct 4, 2012, 01.26AM IST
KOLKATA: Trident lamps have muddied the civic waters further. It has been revealed that the Kolkata Municipal Corporation (KMC) fixed Rs 17,690 as "fair rate" for installation of trident lamps - a few notches above market rates.
The rate on offer for a medium pole with lamp at the KMC's Entally workshop is Rs 9,600 - at least Rs 5,000 above the existing market rate. A TOI team probing the KMC rate came to know about it from suppliers at Muktaram Babu Street. According to market estimates, the medium pole costs Rs 3,500 while the KMC put it at Rs 5,800. A solite (decorative lamp) distributor at Shibnarayan Das Lane, off Bidhan Sarani in north Kolkata, put the price of each lamp at a maximum of Rs 2,000 while the KMC fair price rate is Rs 2,965.
Worse, the KMC lighting department fixed the rates after taking quotations from two small-time shops in the sanitary and fittings trade — one at Nirmal Chandra Street and the other at Shibnarayan Das Lane. The arbitrary price fixing has raised eyebrows even among officials in the state urban development department.
Heads rolled in the lighting department with director general (electrical) Gautam Patnaik being transferred to the Kolkata Environment Improvement Project. But the controversy refuses to die down even if mayor Sovan Chatterjee is desperate to sweep it under the carpet. Like Patnaik, other senior officers namely Monobrata Bose, now acting DG (electrical), was also a signatory to the fair rate decision as officer on special duty. Even an executive engineer of the lighting department had signed the rate, though they remain where they were.
Even as Patnaik in his reply to the show-cause said whatever he did was after consultation with his political bosses, the mayor refuses to probe the muddle further. "We have no role in fair rate fixing. The lighting department officials did it on their own," Chatterjee said. On the contrary, the mayor refused to take sides when asked how the lighting department could fix rates for the entire state except Salt Lake by consulting two shops only. "It is up to the lighting department to choose the process," the mayor said. Chatterjee was also non-committal to the Opposition demand for a probe.
Surprisingly, the TOI team that spotted the two shops based on corporation documents found that the owners didn't ever speak to corporation officials. "Yes, we are in touch with KMC-enlisted contractors to whom we supply materials," said the decorative lamp distributor at Shibnarayan Lane. But the one at Nirmal Chandra Street expressed dismay over his shop being mentioned in the KMC papers. "I am not into it," the shop owner said. However, he hinted at a shop on Muktaram Babu Street that has been supplying medium poles to KMC contractors.
The mismatch between KMC records and the reality over fair rates has come as a shot in the arm to the Opposition in the KMC. "We have already demanded a probe. The mayor has turned it down. But the recent revelations indicate that the trident lamp controversy is turning out to be a major scam," said KMC opposition leader Rupa Bagchi.




Trident main accused in HC, says mayor signed file



Saikat Ray TNN 07.02.2013


Kolkata:Mayor Sovan Chatterjee once again finds himself in the dock in the trident light scam.
    A former civic official indicted by the KMC as the prime accused in the scam has moved the Calcutta high court, alleging in his petition the file on installation of the lights —integral to beautification drives undertaken to realize the CM’s vision of turning Kolkata into London — was signed by Chatterjee.
    Gautam Pattanayak, former director general of the KMC’s electrical department, retired on December 31 last year, but was shunted out months before that to the Kolkata Environment Improvement Project. In paragraph VIII of his petition, Pattanayak has said the mayor signed the file on January 1, 2012. Since the file recommended emergency installation, the KMC’s electrical department finished the work within two months, the petition adds. Pattanayak has said he has documents to back his claims and will produce them before the court. His petition will come up for hearing at Justice Jayanta Biswas’ court on Friday.
    The official has also accused the KMC of holding back his retirement benefits that include provident fund, gratuity and pension.
 Didn’t approve breaking of rules: Mayor As the KMC brass went into a huddle with senior lawyers on Wednesday to discuss its reponse after receiving a notice, the mayor rubbished the charges and said he had cleared a file that was routed through proper channels and hadn’t approved breaking of rules. He said the KMC’s lawyers will contest the case.Pattanayak’s claims have, however, added to the simmering discontent in the KMC ranks over officials being made scapegoats for councillors’ faults. A delegation of KMC directors-general (DGs) have already taken up the issue with the mayor, requesting him not to take harsh steps against officials since they had only carried out instructions from political bosses
    An internal audit report submitted by chief municipal auditor Biplab Guha Roy just over a week ago found the entire process of installing trident lights-—right from tendering to fixing
the ‘fair’ price — to be lacking transparency. The auditor also pointed to "extraneous circumstances" that compelled civic officials to bypass rules.
    While officials believe that Pattanayak, who was in charge of the electrical department, was responsible for impropriety, they also want ‘political’ forces that influenced his actions to be exposed. Apart from Pattanayak, officer-on-special duty (electrical) Monobrata Chaudhuri was showcaused. Like Pattanayak, he was also transferred to the Kolkata Environment Improvement Project.