Showing posts with label price rise. Show all posts
Showing posts with label price rise. Show all posts

Saturday, October 18, 2014

CM relief fund to be filled by Tax payers' money?

ত্রাণ তহবিলে করের আরও ৪ কোটি

দেবজিৎ ভট্টাচার্য (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ১৯ অক্টোবর, ২০১৪




আপত্তি বিস্তর। তবু বাজেট বরাদ্দের টাকায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ভরানোর কাজে রাশ টানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সরকারি কোষাগারের টাকা দান-খয়রাতিতে কেন খরচ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। কিন্তু তাদের পাঠানো সেই ‘নোট’ ফাইলবন্দি রেখে চলতি আর্থিক বছরে (২০১৪-’১৫) এ পর্যন্ত আরও ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।
কেন স্বরাষ্ট্র দফতরই বারবার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ভরাচ্ছে? দফতরের সচিব পর্যায়ের সব অফিসারই এই প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এক জন শুধু বলেছেন, “এই দফতর মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতেই রয়েছে। আমরা নবান্নের উঁচুতলার নির্দেশ পালন করছি মাত্র।” তবে সব ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়ার আগে অর্থ দফতরের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
কিন্তু সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তুলে এ ভাবে ত্রাণ তহবিলে জমা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নে। সরকারি সূত্র বলছে, গত বছরের মার্চ মাসে প্রথম বার নিজেদের বাজেটের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে স্বরাষ্ট্র দফতর। নবান্নের এক কর্তা জানান, সেই মাসের ২ তারিখে কলকাতার টাউন হলে এক অনুষ্ঠানে মন্তেশ্বরের ১৬৬ জন ‘বঞ্চিত’ চাষির হাতে ৪৫ লক্ষ টাকা সাহায্য তুলে দেওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ত্রাণ দিতে গিয়ে তহবিলের প্রায় সব টাকাই শেষ হয়ে গেল...।” ওই বক্তব্যের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, ৫ মার্চ স্বরাষ্ট্র দফতর তাদের পরিকল্পনা বহির্ভূত খাত থেকে ১ কোটি টাকা তুলে জমা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
সেই শুরু। তার পরে গত দু’বছরে একাধিক বার ওই ত্রাণ তহবিল ভরিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সিএজি যে তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়েছে নবান্নে, তাতে ২০১৩-’১৪ আর্থিক বছরে দু’দফায় ২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা করার জন্য একটা নতুন অ্যাকাউন্ট (০৩-সিএল-২০১৩-কাউন্সিল অব মিনিস্টারস-০০-১০৫) খোলা হয়েছিল। এ পর্যন্ত যত বার টাকা জমা করা হয়েছে, তা ওই অ্যাকাউন্টেই পড়েছে।
এর আগে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের দানেই চলত মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল। গরিব মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা বা খরা-বন্যায় আর্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য টাকা বরাদ্দ করতেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তহবিল থেকে টাকা বিলির বিষয়টি পুরোপুরি মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন। নতুন জমানায় নানা ভাতা ও পুরস্কার খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করছে রাজ্য সরকার। যে কারণে প্রতি বছর লাফ দিয়ে বাড়ছে পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে ব্যয়। এর পরেও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কোটি কোটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নের অন্দরেই। এই তহবিলের টাকা খরচের হিসেব মেলেনি। কিন্তু প্রশাসনের একটি শীর্ষ সূত্র বলছে, একদা সারদা গোষ্ঠীর হাতে থাকা একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেল চালাতেই খরচ হচ্ছে ত্রাণ তহবিলের অনেকটা টাকা। এই টাকায় মূলত ওই চ্যানেলের কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
জনগণের করের টাকা ত্রাণ তহবিলে ঢুকিয়ে তাই দিয়ে কেন চ্যানেল চালানো হবে, সেই প্রশ্ন যেমন থাকছে। তেমনই বাজেট বরাদ্দের টাকা ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার মতো ‘বেআইনি’ কাজ সরকার কেন বারবার করে চলেছে, তারও ব্যাখ্যা মেলেনি। নবান্নে পাঠানো রিপোর্টের পার্ট-২ (এ) অনুচ্ছেদে সিএজি স্পষ্ট বলেছে, ২০১৩-এর মার্চে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সরকার যে ভাবে ১ কোটি টাকা জমা করেছে তা বেআইনি। এই বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করার পরেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই বছরেরই জুলাই মাসে ফের ১ কোটি টাকা একই ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। কিন্তু সেই অর্থে কারা সাহায্য পেয়েছেন, কী ভাবে তাঁদের বাছাই করা হয়েছিল, বাছাইয়ের মাপকাঠিই বা কী ছিল, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি পাওয়া যায়নি বলে নবান্নকে জানিয়েছে সিএজি।
তার পরেও সরকারি কোষাগারের টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। নবান্ন সূত্র বলছে, চলতি আর্থিক বছরেই ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা তুলে ত্রাণ তহবিল ভরেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। এর মধ্যে মে মাসে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা, জুন মাসে ১ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি টাকা জমা পড়েছে। প্রশাসনের একাংশের অনুমান, বছরের শেষে টাকার অঙ্কটা আরও বাড়বে।
আমজনতার করের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করা যাবে না, এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ প্রশাসনেরই একটা অংশ। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, রাজ্যের অর্থ-বিধিতে এ নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা নেই। মুখ্যমন্ত্রীই যে হেতু প্রশাসনের প্রধান, তাই তাঁর সরকারের এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে টাকা পাঠানোর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। তবে একই সঙ্গে বিষয়টি যে প্রথা বহির্ভূত এবং এক কথায় নজিরবিহীন, সে কথাও কবুল করেছেন ওই অফিসারেরা।
ক্ষমতায় এসে নিজের আঁকা ছবি বিক্রির ১ কোটি টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করার ঘোষণা করেছিলেন মমতা। তার পরে বেশ কিছু সংগঠন টাকা জমা করলেও দান-খয়রাতি এত বেড়ে গিয়েছে যে তহবিলের অর্থ তলানিতে ঠেকেছে এবং সেই ঘাটতি পূরণ করতেই শেষ পর্যন্ত করের টাকায় হাত দিতে হচ্ছে বলে মত প্রশাসনের একাংশের। নবান্নের এক কর্তা বলেন, “সরকারি নিয়ম-কানুন আমরাও জানি। কিন্তু উপরমহলের নির্দেশ মেনে নেওয়া ছাড়া কী-ই বা করার আছে?”

আরও পড়ুন -

বেতন-পেনশনে না, তবু খামতি নেই উপহারের মমতায়

Saturday, September 27, 2014

পাল্টার রাজনীতি তাই বিশ্ববঙ্গের অনন্য ঐতিহ্য


সম্পাদকীয়

পাল্টা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, 
(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)






পশ্চিমবঙ্গে এখন শুধুই পাল্টা দানের খেলা। তুমি যাদবপুরের উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিছিল করিলে কেন? তাহা হইলে আমিও তাঁহার সমর্থনে পাল্টা জনজোয়ার ডাকিব। কার্যক্ষেত্রে সে জোয়ার যতই অস্ফুট বুদ্বুদসম প্রতিভাত হউক না কেন, মিছিল তো হইল! তুমি চিট ফান্ডের প্রতারণার বিরুদ্ধে মিছিল ডাকিলে? বেশ, আমি এখনই সরকারবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা মিছিল ও ধর্নার ডাক দিব। তুমি আলু-ব্যবসায়ী, আমার নির্ধারিত দামে ক্ষতি স্বীকার করিয়াও আলু বিক্রয় করিবে না? এখনই পাল্টা দিব, প্রয়োজনে ট্রাক আটকাইয়া আলু মিলনমেলায় আনিয়া সরকারি ভাবে বিক্রয়ের বন্দোবস্ত করিব, না পারিলে ধাপার মাঠে পাঠাইয়া দিব। কয়েক টন আলু পচিল বটে, কিন্তু বেয়াড়া ব্যবসায়ীগুলার পাল্টা শিক্ষা হইল! তুমি সংক্রমণের কারণকে জ্বর না বলিয়া এনসেফ্যালাইটিস দেখাইলে? এখনই পাল্টা দিব, তোমার হাত হইতে যাবতীয় দায়দায়িত্ব কাড়িয়া লইব। পাল্টা দানের এই খুচরো খেলা তাস, দাবার আসরে চলিতে পারে। কিন্তু এখানে রণনীতির মহাকাব্যিক বিস্তার নাই, শেষ অবধি হেক্টর বধ বা দুঃশাসনের রক্তপান কিছুই ঘটে না। তাহা সম্ভবও নহে। প্রাকৃত শব্দ পলট্ট হইতে আমদানিকৃত পাল্টা নামক বিশেষ্য পদটি বাংলার নিজস্ব অভিজ্ঞান। কবিগানে অন্য পক্ষকে উত্তর দানের নামই পাল্টা। তরজা-সংস্কৃতি বেয়েই বঙ্গভাষায় প্রত্যুত্তর শব্দের অর্থ: পাল্টা জবাব। পাল্টার রাজনীতি তাই বিশ্ববঙ্গের অনন্য ঐতিহ্য। বাংলাকে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন দান করিবার লক্ষ্যে নিবেদিতপ্রাণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সেই ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক হইবেন, ইহাতে আর আশ্চর্য কী!
পাল্টার অন্যতম বৈশিষ্ট্য: বিরোধীকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। প্রাচীন কালে রাজানুগ্রহ লাভের ক্ষেত্রে কবির নিজস্ব কাব্যকৃতিই ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু তরজায় শুধু কাব্যকৃতি নহে, গায়িকা যজ্ঞেশ্বরীকে জগা বা ভোলানাথকে ভোলা ময়রা বলিয়া তুচ্ছ করার ক্ষমতাই প্রধান। পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি হইতে রায়গঞ্জ, যাদবপুর সবই যখন সাড়ে তিন বছর ধরিয়া একাদিক্রমে তুচ্ছ ঘটনার অভিধা পায়, তাহাকে আর রাজনীতি বলা যায় না। শাসকের রাজনীতিতে মতাদর্শগত আধিপত্য বিস্তারের ব্যাঞ্জনা থাকে, পাল্টা দেওয়ার তরজা সংস্কৃতি নহে। বাম জমানার অন্তিম পর্বে ‘আমরা বনাম ওরা’ বা নন্দীগ্রামকাণ্ডের পাল্টা মিছিলেও সেই আধিপত্য বিস্তারের দুর্বল রেশ ছিল। সব কিছু তুশ্চু জ্ঞান করিবার তরজা গাওয়া হইত না। নির্বিচারে ক্যাডার নামাইয়া বিরোধীদের একই মুদ্রায় শোধ দেওয়া হইত। ভ্রান্ত আদর্শ বরাবর বিরোধিতাকে চক্রান্ত বলিয়া প্রমাণ করিতে চাহে। কিন্তু তরজা-সংস্কৃতি সেই পরিশ্রমটুকুও স্বীকার করে না, বিরোধিতাকে কুৎসা বলিয়া খেউড় গানের আসর জমানোই তাহার একমাত্র লক্ষ্য।
পাল্টার এই জনসংস্কৃতিতে পাল্টি খাওয়াই রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। পাল্টানো মানে নিছক পরিবর্তন নহে, আরও কিছু। বাংলা ব্যাকরণের পরীক্ষায় নম্বর পাইবার জন্য পড়ুয়াদের বিপরীতার্থক শব্দের তালিকা মুখস্থ করিতে হয়। কিন্তু সেই তালিকায় সকল শব্দের প্রবেশ থাকে না। সব শব্দের বিপরীত হয় না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং সমাজ এই সীমার অবসান চাহিতেছে। সে মনে করে, সব কিছুর বিপরীত চাই। সে প্রশ্ন তোলে, তুমি মিছিল করিলে আমি পাল্টা দিব না কেন, তুমি সিপিএমত্ব দেখাইলে আমিই বা কেন তৃণমূলত্ব দেখাইব না। তুমি অধম হইলে আমি পাল্টা অধমতর হইব না কেন। কথা একটিই। বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস বা কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামের বাংলা ভাষায় পালট বা পাল্টা শব্দটি নিছক পরিবর্তনকে বুঝায় না। তাহা এক বিশেষ পরিবর্তন: পশ্চাতে ফেরা। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয় বাংলার এই ভাষা-সংস্কৃতি বিস্মৃত হন নাই!

Common ailment of Politicians to save themselves from trial!

উৎকণ্ঠায় বুক ধড়ফড়, মদন ফের হাসপাতালে

নিজস্ব সংবাদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, 


শ্বাসকষ্ট, অম্বল, অনিদ্রা, বুক ধড়ফড় ও পেট ফুলে যাওয়া। এই সব উপসর্গ নিয়ে শনিবার দুপুরে ফের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মদন মিত্র। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর।
তবে আপাতত তাঁর হৃদযন্ত্র একেবারে ঠিকঠাক কাজ করছে। চিকিৎসকেরা দেখেছেন, মন্ত্রীর রক্তচাপ ১৭০/৯০। নাড়ির গতি ৯০ থেকে ৯৫ এর মধ্যে। এ দিন মদনবাবুর চিকিৎসা করেন অভিজ্ঞান মাজি। তিনি বলেন, “নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল বলে রোগীকে অল্প অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। হাল্কা ঘুমের ওষুধ ও গ্যাস-অম্বলের ওষুধও চলছে।” চিকিৎসকের পরামর্শ মন থেকে সব উৎকণ্ঠা-আতঙ্ক সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে মন্ত্রীকে।
প্যানিক অ্যাটাক রোগটা কী?
মনোচিকিৎসক মলয় ঘোষাল বলেন, “কোনও বিশেষ কারণে রোগী প্রবল আতঙ্কে ভোগেন। হাত-পা কাঁপে, বুক ধড়ফড় করে, প্রচুর ঘাম হয়। অনেকের গলা শুকিয়ে যায়, নিঃশ্বাসে কষ্ট হয়। যে কোনও সময় দম বন্ধ হয়ে যাবে রোগী এমন ভয় পেতেও শুরু করেন।” চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, রোগীর মনে যে ভয় বাসা বেঁধেছে তা যে কোনও সময় বাস্তবায়িত হবে, এমন আতঙ্ক চেপে ধরে তাঁকে। সেই আতঙ্ক জন্ম দেয় প্যানিক অ্যাটাক-এর।
গত ২১ অগস্ট এই হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছিলেন মদনবাবু। সে বারেও একই উপসর্গ ছিল। কিন্তু এক মাসের মধ্যে মন্ত্রীকে কেন হাসপাতালে ভর্তি করতে হল, তা নিয়েই চিন্তিত চিকিৎসকেরা। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বলছেন, সারদা-কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তাঁর এক প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক বাপি করিমের। করিমকে ডেকে জেরাও করেছেন তদন্তকারীরা। মন্ত্রীর এক বর্তমান ছায়াসঙ্গী প্রশান্ত প্রামাণিকও সিবিআই জেরার মুখে পড়েছেন। সিবিআই সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের কৌশলের কাছে হার মেনে বহু গোপন কথাই জানিয়েছেন তাঁরা। ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা, তার পর থেকে মদনবাবু ভীষণ মানসিক চাপে রয়েছেন। তাঁর বুক ধড়ফড় করছে, ঘুমও ছুটেছে।
চিকিৎসকদের মন্ত্রী জানিয়েছেন, এ দিন সকালেই তাঁর বুকে ব্যথা চাগাড় দেয়। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় সরকারি অনুষ্ঠানেও যেতে পারেননি। ক্রমশ সেই ব্যথা বাড়তে থাকায় দুপুরে নিজেই ফোন করেন ওই হাসপাতালের সিইও প্রদীপ টন্ডনকে। তার পরে তাঁকে চার তলার একটি কেবিনে চিকিৎসক সুব্রত মৈত্রের অধীনে ভর্তি করা হয়। সুব্রতবাবু তখন হাসপাতালে ছিলেন না। তাঁর দলের অন্য চিকিৎসকেরা মন্ত্রীকে পরীক্ষা করেন। টন্ডন বলেন, “আমাকে ফোন করার কিছু ক্ষণের মধ্যেই মন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছ যান। উনি বেশ ধীরে হাঁটাচলা করছিলেন, হাঁফাচ্ছিলেন। দুর্বল ও অসুস্থ লাগছিল ওঁকে। হুইলচেয়ারে বসিয়েই ওঁকে কেবিনে পাঠানো হয়।”
গত মাসে আট দিন হাসপাতালে ছিলেন মদনবাবু। ডাক্তাররা তাঁকে ছাড়ার কথা বললেও মন্ত্রী আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে চেয়েছিলেন। সেই আর্জি মানা হয়নি। সূত্রের খবর, মন্ত্রীর অসুখ নিয়ে সিবিআই হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পরেই মদনবাবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন তাড়াতাড়ি ছাড়া হয়েছিল বলেই কি বুকের ব্যথা বাড়ল? টন্ডন বলেন, “রোগী পুরোপুরি সুস্থ না-হলে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। আগের বার মন্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন বলেই তাঁকে ছাড়া হয়েছিল।”

Friday, August 29, 2014

Cheap publicity stunt by Mamta on Sarada

সম্পাদকীয় ২

তৃতীয় রিপু

১৬ মে, ২০১৪, ০০:০০:০০


  (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

সারদা কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই-এর হস্তে অর্পিত হইলে যে মুখ্যমন্ত্রীর ‘আমানত ফেরত অভিযান’-এর উত্তরাধিকারটিও সহগামী হয়, রাজ্যবাসী তাহা সদ্য জানিয়াছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষবিপক্ষের রাজনীতিকরাও জানিয়াছেন এবং নিজ নিজ রাজনৈতিক বর্ণের প্রতি বিশ্বস্ত থাকিয়া প্রতিক্রিয়াও জানাইয়াছেন। কেহ রাজকোষ হইতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার অযৌক্তিকতার কথা তোলেন নাই। রাজকোষ উজাড় করিয়া খয়রাতিতে যে অনৈতিক কিছু আছে, জনপ্রিয়তাসর্বস্ব রাজনীতিতে আকণ্ঠ মজ্জিত নেতারা সম্ভবত তাহা বুঝিতে পারেন না। বুঝিলেও, আমানতকারীরা কেন ডুবিয়াছেন, তাহা স্বীকার করিতে তাঁহাদের রাজনীতিতে বাধে। অসাধু লগ্নি সংস্থায় টাকা রাখিয়া আজ যাঁহারা নিঃস্ব, তাঁহারা স্বখাতসলিলে ডুবিয়াছেন। লোভ তাঁহাদের ডুবাইয়াছে। সেই তৃতীয় রিপু। অর্থবান হইবার লোভ, সচ্ছলতার লোভ। ভাল থাকিতে চাহিবার মধ্যে কোনও অন্যায় নাই। বস্তুত, ওই আদিম রিপুটির তাগিদেই মানবসভ্যতা আগাইয়াছে। কিন্তু, ভাল থাকিবার ইচ্ছা এক কথা, তাহার জন্য কাণ্ডজ্ঞানবিস্মৃত হওয়া আর এক। যেখানে সৎ পথে বড় জোর আট শতাংশ সুদ মিলে, সেখানে সারদার ন্যায় সংস্থা কী ভাবে চার বৎসরে লগ্নি দ্বিগুণ করিয়া দিতে পারে, এই প্রশ্নটি না করিবার মধ্যে বিপুল দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আছে। যাঁহাদের টাকা মার গিয়াছে, তাঁহারা গরিব বলিয়াই এই লোভ মার্জনা করিতে হইবে?

সত্য, লোভ বস্তুটি গরিবের একচেটিয়া নহে। ২০০৭-০৮ সালের যে আর্থিক সংকট গোটা দুনিয়াকে নড়াইয়া দিয়াছিল, তাহারও মূলে ছিল লোভ। বিত্তশালীদের লোভ। লোভ ব্যতীত কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারিই সম্ভব নহে। জালিয়াতির মূলধন হইল প্রাপ্যের অধিক পাইবার বাসনা। সব লোভই যে বন্ধ্যা, তাহাও নহে। সারদায় বিনিয়োগ করিয়াও অনেকেই প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত পাইয়াছেন। তাঁহাদের প্রাপ্তি দেখিয়া আরও অনেকের লোভ বাড়িয়াছে। তাঁহারাও বিনিয়োগ করিয়াছেন। যে কোনও পনজি স্কিমেই শেষ দফার বহু লোকের টাকা মার যাওয়া প্রথম দিকের আমানতকারীদের লাভের শর্ত। সারদার ক্ষেত্রেও সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে নাই। নেতা-মন্ত্রীদের হাবভাব দেখিলে আশঙ্কা হয়, ভবিষ্যতেও এই গোত্রের প্রকল্প এবং তাহার প্রতারণার ধরন অব্যাহত ও অপরিবর্তিত থাকিবে।
এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল খুলিয়া ভবিষ্যতের বিপদের জমি প্রস্তুত করিতেছিলেন। সাধারণ মানুষ জানিবেন, এক বার যখন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দিয়াছেন, ভবিষ্যতেও দিবেন। অর্থাৎ, তাঁহার বর্তমান খয়রাতি ভবিষ্যৎ আমানতকারীদের জন্য একটি বিমা হইয়া থাকিল— আর্থিক সংস্থা ফেল করিলে সরকার বাঁচাইবে। এই বিনিয়োগে ঝুঁকি নাই, কারণ সরকার সেই ঝুঁকির দায়িত্ব লইতেছে। যে কোনও স্বেচ্ছা-বিনিময়ই লাভ-ঝুঁকির আপেক্ষিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। জালিয়াত সংস্থায় লাভের পরিমাণ যেমন বেশি, ঝুঁকিও তেমনই বেশি। সরকার সেই ঝুঁকির দায়িত্ব লইলে লাভের পাল্লা ঝুঁকিয়া পড়ে। ফলে, জালিয়াত সংস্থার বাড়বাড়ন্ত হইবে। জনপ্রিয়তা অর্জনের অদম্য তাড়নায় রাজ্য সরকার যাহা করিয়াছে, তাহা পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষকে আরও বেশি দায়িত্বজ্ঞানহীন, লোভী হইয়া উঠিতে উৎসাহ দিতে পারে। এবং, অন্যান্য দলের নেতারাও দৃশ্যত এই বিপজ্জনক খেলার আগ্রহী দর্শক। লোভ তাঁহাদেরও বড় কম নহে।

Ponzi scheme money in show biz?

লগ্নি সংস্থার টাকা কি টলিউডে, ফের প্রশ্ন

ইন্দ্রনীল রায়   (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২৯ অগস্ট, ২০১৪, ০৪:০০:৩৪


সারদায় সিবিআই হানা নিয়ে তোলপাড়ের মুহূর্তেই টলিউডে ফের মাথা চাড়া দিল বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার ভ্রূকুটি।
গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট টালিগঞ্জে একটি পরিচিত নাম। তাদের প্রযোজিত একটি ছবি মুক্তি পেতে চলেছে আজ, শুক্রবার। আরও বেশ কয়েকটি ছবির কাজও চলছে এই প্রযোজকের ব্যানারেই। নতুন ছবির পোস্টারে, আমন্ত্রণপত্রে ছবির নিবেদক হিসেবে নাম রয়েছে শ্যামসুন্দর দে-র। এই শ্যামসুন্দর দে গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড নামে সংস্থারও কর্ণধার। যার আর্থিক লেনদেনের উপরে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেবি।
চলতি মাসের ৭ তারিখ সেবি-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “এই সংস্থা (গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড) ১৯৫৬ সালের কোম্পানি আইন এবং ২০০৮ সালের সেবি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে ৪৯ জনের বেশি ব্যক্তির কাছ থেকে সিকিওরড রিডিমেব্ল ডিবেঞ্চারের (ফেরতযোগ্য ঝুঁকিহীন ঋণপত্র) মাধ্যমে টাকা তুলেছে।”
এই পরিস্থিতিতে গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর প্রতি সেবির নির্দেশ, “সেবি-র আগাম অনুমতি ছাড়া এই সংস্থা বা তার ডিরেক্টররা জনসাধারণের কাছ থেকে তোলা টাকায় কেনা সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। এই সূত্রে পাওয়া টাকা সংস্থার তহবিলে বা কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা থাকলে তা-ও খরচ বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।”
এই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের কাজকর্ম ঘিরেও আইনি জটিলতার একটা সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের মতে গোটা বিষয়টা নির্ভর করছে, গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের সঙ্গে গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর কী সম্পর্ক, তার উপরে। গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড যদি গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের মূল সংস্থা (মাদার কোম্পানি) হয়, তা হলে সেবি-র নিষেধাজ্ঞা প্রযোজক সংস্থার উপরেও বর্তাতে পারে। ওই আইনজীবীদের বক্তব্য, সে ক্ষেত্রে হয় প্রযোজকদের প্রমাণ দিতে হবে যে, অর্থলগ্নি সংস্থার মাধ্যমে তোলা টাকা ছবির প্রযোজনায় খাটেনি। নচেৎ সেবি-র কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। দু’টোর কোনওটাই করা না-হলে সেবি পদক্ষেপ করতে পারে।
গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড এবং গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট-এর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কী? শ্যামসুন্দরবাবু বলেন, “এই দু’টি সংস্থা আলাদা।” 
গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর যে চার জন কর্ণধারের নামে সেবি নির্দেশিকা জারি করেছে, তাঁরা হলেন শ্যামসুন্দর দে, স্নেহাশিস সরকার, সুজয় সাহা এবং সুমন সরকার। গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত সিনেমার পোস্টারে প্রযোজক হিসেবে শ্যামসুন্দর দে-র নামই থাকে। শুক্রবার মুক্তি পেতে চলা ছবির ক্ষেত্রেও তাই-ই রয়েছে। শ্যামসুন্দরবাবু এ দিন স্বীকার করেছেন, তিনি গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর অন্যতম ডিরেক্টর। তাঁরই প্রযোজনায় তৈরি অভিজিৎ গুহ এবং সুদেষ্ণা রায় পরিচালিত এই ‘হারকিউলিস’ ছবিতে অভিনয় করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।
কী ভাবছেন শ্যামসুন্দরবাবু? তাঁর কথায়, “সেবি কী বলেছে, আমি ভাল করে জানি না।” কিন্তু সংস্থার এক জন কর্ণধার হিসেবে সেটা কী করে অজানা থাকল শ্যামসুন্দরবাবুর? “যদি জানতাম, তা হলে নিশ্চয়ই আপনাকে জানাতাম,” বলছেন তিনি। তাঁর প্রযোজনা সংস্থায় অর্থলগ্নির টাকা খাটে কি না, সে সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি শ্যামসুন্দরবাবুর কাছ থেকে।
টলিউডের বাজারে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার টাকা খাটার বিষয়টি অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। এই জাতীয় বহু সংস্থাই বাংলা ছবিতে টাকা ঢেলেছিল। ২০১১-১২তে টলিউডে ৬০-৭০ শতাংশ ছবিই প্রযোজনা করত এই সংস্থাগুলো। সারদা কেলেঙ্কারির পরে অবশ্য তারা বেশির ভাগই বিনোদন ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে।
প্রয়াগ গ্রুপ, অ্যালকেমিস্ট, রেম্যাক ফিল্ম, রুফার্স মিডিয়া, সিলিকন গ্রুপ অব কোম্পানিজ, আইকোর এন্টারটেনমেন্ট রাতারাতি নিজেদের সরিয়ে নেয়। ‘ভাল থেকো’, ‘একটি আষাঢ়ে গল্প’, ‘আমি সায়রা বানু’, ‘জলে-জঙ্গলে’, ‘কাঁচের দেওয়াল’-এর মতো বহু ছবি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এমনকী ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু কমিউনিকেশনস’-এর ব্যানারে ‘মনের মানুষ’, ‘ল্যাপটপ’ ও ‘শব্দ’ বা ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর মতো ছবি করা ‘রোজ ভ্যালি’-ও নিজেদের বিনোদন বিভাগ বন্ধ করে দেয়।
‘গ্রিনটাচ’-এর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইদানীং টালিগঞ্জের কার্যত নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত যুবকল্যাণ ও আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মন্তব্য করতে চাননি। প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা বলছেন, “ঘটনাটা দুর্ভাগ্যজনক। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার উপস্থিতি টালিগঞ্জের অনেক ক্ষতি করেছে।” তবে ইন্ডাস্ট্রির বেশির ভাগেরই একটাই প্রশ্ন, “কাউকে বাইরে থেকে দেখে কী করে বোঝা যাবে তার টাকার উৎস কী?”
তবে কি এখনও অনেক অর্থলগ্নি সংস্থা বকলমে টালিগঞ্জে টাকা ঢেলে চলেছে? প্রযোজক পীযূষ সাহার দাবি,  বেশ কিছু সংস্থা ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকে টাকা তুলে টালিগঞ্জে বিনিয়োগ করছে। প্রসঙ্গত, সেবি-র নির্দেশিকায় গ্রিনটাচ-এর টাকা তোলার ক্ষেত্র হিসেবেও বিহারের কথাই বলা হয়েছে।
শ্যামসুন্দরবাবুর সঙ্গে কাজ করা কলাকুশলীরা এ ব্যাপারে কিছু জানেন কি? পরমব্রত বলেন, “আমি এটুকুই জানি, শ্যামসুন্দরবাবু সৎ মানুষ। আমি মনে করি, উনি কখনওই আইনবিরোধী কাজ করবেন না।” রাজ চক্রবর্তীর মন্তব্য, “ব্যাপারটা ঠিক জানি না। শুধু চাইব, ওঁর যেন কোনও ক্ষতি না হয়।”

Madan Mitra to be interrogated by CBI

মদন মিত্রকে এ বার জেরা করতে চায় সিবিআই

নিজস্ব সংবাদদাতা   (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অগস্ট, ২০১৪, ২০:৪১:৪২




সারদা কেলেঙ্কারিতে এ বার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের এই বক্তব্যের সমর্থন মিলেছে সিবিআইয়ের অধিকর্তা রঞ্জিত সিন্হার কথাতেও। এ দিন দিল্লি থেকে ফোনে এই প্রসঙ্গেই অধিকর্তা বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মামলা গুটিয়ে আনছি। অফিসারদের পেশাদার মনোভাব নিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।”
ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে মদন মিত্র একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। যদিও শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পান। তবে কবে মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মদনবাবু একটু সুস্থ হলেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও এ দিন সারদা প্রসঙ্গে সিবিআইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। এ দিন বসিরহাটে মুকুলবাবু বলেছেন, “বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে সিবিআই চার্জশিট দিয়েছিল। কংগ্রেস আমলে নরেন্দ্র মোদীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ১৯ ঘণ্টা জেরা করেছিল সিবিআই। ফলে সিবিআই যে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, তা সকলের জানা।”
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা অবশ্য বলছেন, গত দু’দিনে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে সিবিআইয়ের হাতে যে তথ্যপ্রমাণ এসেছে তার ভিত্তিতেই এ বার পরিবহণ মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এসেছে। বৃহস্পতিবার মদনের ঘনিষ্ঠ রেজাউল ওরফে বাপি করিমের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। ওই দিন দুপুরে সল্টলেকে ডেকে জেরা করা হয় তাঁকে। শুক্রবার দুপুরেও বাপিকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে বাপি অবশ্য নিজেকে ও মন্ত্রীকে সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কহীন বলেই দাবি করেছেন।
এ দিন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতুকে আদালতে পেশ করা হয়। সিবিআই তাঁকে আর নিজেদের হেফাজতে রাখতে চায়নি। বিচারক তাঁকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সিবিআইয়ের বক্তব্য, সেবি এবং আরবিআই অফিসারদের সঙ্গে সুদীপ্তর তরফে মধ্যস্থতা করতেন নিতু। তাঁর কাছ থেকে আরবিআইয়ের একাধিক কর্তার নাম জানা গিয়েছে। সিবিআইয়ের হাতে ধৃত ব্যবসায়ী সন্ধির অগ্রবালের অফিস থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে যেখান থেকে বহু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে।
অসমে মনোরঞ্জনা সিংহকে সঙ্গে নিয়ে সিবিআই অফিসারেরা এ দিন তাঁর খারগুলি ও রুক্মিণীগাঁওয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালান। তল্লাশি চালানো হয় রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি জি এম শ্রীবাস্তবের বাড়িতেও। এ দিন মনোরঞ্জনাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। শুক্রবার অসমের ছাত্র সংগঠন আসুর সভাপতি শঙ্করপ্রসাদ রায় ও হিমন্তর স্ত্রীর মালিকানাধীন চ্যানেলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা তথা রাজীব বরার বাড়িতেও এ দিন তল্লাশি চালায় সিবিআই।

Letter of Sudipta Sen Sardha Group CMD to CBI

Sudipta Sen, CMD Sarada Group Letter to CBI





















(Pic Courtesy : http://www.scribd.com/doc/137809857/Sudipta-Sen-CMD-Sarada-Group-Letter-to-CBI)

Close Mamta aides interrogated by CBI on Saradah scam

সারদায় শুরু মাথার খোঁজ

সকালে হানা মদন-ঘনিষ্ঠের বাড়িতে, ডাক জেরাতেও

নিজস্ব প্রতিবেদন    (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অগস্ট, ২০১৪, ০৪:১১:১৫










সিবিআই জালে এ বার প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতাশালী ঘনিষ্ঠরা।
তিন রাজ্য জুড়ে সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা এ দিন নিছক ২২ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাননি। তাঁরা হানা দিয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতেও। সেই তালিকায় এমন কয়েক জন রয়েছেন, যাঁরা আবার ক্ষমতাশালী নেতা বা মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার এতগুলি জায়গায় হানা দিয়ে সিবিআই অফিসারেরা যে তথ্য পেয়েছেন, মনে করা হচ্ছে, তার ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বড় ‘মাথা’দের নিজেদের জালে টেনে আনতে পারেন তাঁরা। 
সারদা কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের রায় দেওয়ার সময়েই সুপ্রিম কোর্ট সমাজের প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার কথা বলেছিল। দু’দিন আগে সিবিআই অধিকর্তা রঞ্জিত সিন্হাও বলেছিলেন, “ধৈর্য ধরুন। যাঁরা জড়িত, একে একে সবাইকে টেনে আনা হবে আমাদের জালে।” সেটা যে ফাঁকা আওয়াজ ছিল না, তার প্রমাণ পাওয়া গেল বৃহস্পতিবার।
রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রেজাউল করিমের বাড়ি ছিল এ দিন সিবিআইয়ের অভিযানের তালিকায়। তৃণমূলের আর এক নেতা আসিফ খানের পার্ক সার্কাসের বাড়িতেও এ দিন তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। বাদ যাননি প্রাক্তন পুলিশকর্তা দেবেন বিশ্বাসও। এক সময়ের সিপিএম বিধায়ক এই পুলিশকর্তা সারদা থেকে নিয়মিত বেতন নিতেন। এ ছাড়াও, সিবিআইয়ের হাতে ধৃত ব্যবসায়ী সন্ধির অগ্রবালের অফিস এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রয়াত কর্তা পল্টু দাসের বাড়ি, ব্যবসায়ী সজ্জন অগ্রবালের অফিস-সহ কলকাতার মোট সাত জায়গায় হানা দেয় সিবিআই।
অসমেও এ দিন অভিযান চালানো হয়েছে প্রভাবশালীদের বাড়িতে। সে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অঞ্জন দত্ত, প্রাক্তন পুলিশকর্তা শঙ্কর বরুয়া এবং গায়ক সদানন্দ গগৈয়ের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। গুয়াহাটিতে আরও ৯ জায়গায় হানা দিয়েছেন গোয়েন্দারা। অসমের ধুবুড়িতেও দু’টি জায়গায় হানা দিয়েছেন তাঁরা। তল্লাশি চলেছে মুম্বইয়েও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক শীর্ষ কর্তার ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এমন তল্লাশি আরও বাড়ানো হবে।
সিবিআই সূত্রের খবর, এ দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের সাতটি দল কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল আটটার সময় নিজেদের ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয় দিয়ে মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক রেজাউল ওরফে বাপির বাড়িতে হানা দেন সিবিআই অফিসারেরা। তল্লাশি চালিয়ে বাপির বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক বিনিয়োগের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাপিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। নির্দেশমতো বেলা আড়াইটে নাগাদ সল্টলেকে সিবিআই অফিসে হাজির হন বাপি। সিবিআই সূত্রের দাবি, এক সময় সারদার মিডল্যান্ড পার্কের অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন রেজাউল ওরফে বাপি। মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন ঘনঘন সারদার অফিসে যেতেন, তা নিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ দিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সিবিআই দফতর থেকে বেরোনোর সময় রেজাউল বলেন, “এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের হাতে আসা বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ আমাকে দিয়ে যাচাই করানো হয়েছে।”
সিবিআই সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে ইস্টবেঙ্গলের প্রয়াত কর্তা পল্টু দাসের বাড়িতে সকাল ন’টায় হানা দেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতুর আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে পল্টু দাসের বাড়ি থেকে। পল্টুবাবুর স্ত্রী রীনা দাসের কিছু আর্থিকবিনিয়োগের কাগজপত্রও গোয়েন্দারা আটক করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, পল্টুবাবুর পরিবারের সঙ্গে নিতুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে পালানোর আগে সিবিআইকে লেখা সুদীপ্তর চিঠিতেও আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি বাড়ির উল্লেখ ছিল। সেখানে টাকা লেনদেন হতো বলে সুদীপ্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, পল্টুবাবুর এই বাড়ির কথাই চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন সুদীপ্ত। বেলা দু’টো নাগাদ তল্লাশি শেষ হয়। পল্টুবাবুর পরিজনেরা জানান, রীনাদেবী অসুস্থ। কথা বলতে পারবেন না। কথা বলতে চাননি প্রাক্তন পুলিশকর্তা দেবেন বিশ্বাসও।
সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে গত কয়েক দিনে নিতু, সন্ধির, শান্তনু ঘোষ, প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রজত মজুমদার-সহ সারদার সঙ্গে জড়িত কয়েক জনকে জেরা করে এবং তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি করে কিছু সূত্র পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তার ভিত্তিতেই এ দিন তল্লাশি চলে।
শান্তনু ঘোষকে এ দিনও সিবিআই দফতরে ডেকে জেরা করা হয়েছে। গত সোমবারই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ এবং ‘কলম’ পত্রিকার শীর্ষকর্তা আহমেদ হাসান ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। গোয়েন্দারা বলছেন, তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার একদা সহচর আসিফ খানের সঙ্গে এক সময় ইমরানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তখন তিনি ‘কলম’ পত্রিকার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সারদার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। পরে ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় আসিফ ‘আজকের কলম’ নামে একটি আলাদা কাগজ তৈরি করেন। মাস কয়েক আগে সেই কাগজটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিজেকে তৃণমূল নেতা বলেও দাবি করেন আসিফ। এ দিন অবশ্য বারবার ফোন করলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল।
তদন্তে নেমে লাস ভেগাসে প্রবাসী বাঙালিদের একটি অনুষ্ঠান ও একটি বাংলা সিনেমার প্রিমিয়ার নিয়ে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে বলে সিবিআই সূত্রের খবর। সেই প্রসঙ্গে সারদার পর্যটন ব্যবসা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে সিবিআই। বিভিন্ন লোককে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছিলেন, সারদার পর্যটন সংস্থা নিজেরা টিকিটের ব্যবস্থা না করে অন্য কয়েকটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই সূত্রেই এ দিন হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর এলাকার নরসিংহ বসু লেনে একটি বহুতলে হানা দেয় চার সদস্যের সিবিআই দল। গোয়েন্দারা জানান, ওই বহুতলের তিন তলায় রাজেশ শরাফ নামে এক পর্যটন ব্যবসায়ী থাকেন। তাঁর সংস্থার সঙ্গে সারদার পর্যটন ব্যবসার যোগ ছিল বলেই তদন্তকারীদের দাবি।
অসমের প্রাক্তন মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও অঞ্জন দত্তের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেই সূত্র ধরেই এ দিন হিমন্তর দু’টি বাড়ি ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন বৈদ্যুতিন চ্যানেলে তল্লাশি চালায় সিবিআই। সম্প্রতি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করা হিমন্ত এখন দিল্লিতে। এ দিন তাঁর বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সিবিআই হিমন্তর বাড়ি থেকে কিছু নথিপত্র নিয়ে যায়। চ্যানেলের অফিসেও অভিযান চালিয়ে কিছু নথি ও সিডি বাজেয়াপ্ত করা হয়। হিমন্ত জানিয়েছেন, তিনি কোনও টাকা নেননি। উল্টে তিনি সুদীপ্তর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হিমন্তর বক্তব্য, সারদার বিস্কুট কারখানার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সারদা যে ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থা, তা তিনি জানতেন না। তিনি এক বারই সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সুদীপ্ত তাঁকে দু’টি সংবাদপত্র উদ্বোধনের প্রস্তাব দিলে তিনি আসার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছিলেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী অঞ্জন দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সুদীপ্তকে সংবাদপত্রের পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতি বিক্রি করে বাজারদরের চেয়ে বেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে অঞ্জনবাবু আনন্দবাজারকে জানান, সারদার তরফে তাঁকে যে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল, সব বাউন্স করে। তিনি সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে টাকা-গাড়ি বা অন্য কিছু নেননি। তাই, সিবিআই-এর বাজেয়াপ্ত করার মতো কিছু নেই। তিনি বলেন “সিবিআই যা জানতে চেয়েছে, আমি সব বলেছি। তদন্ত হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি বহু দিন আগেই সুদীপ্তর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছি।”
সিবিআই এ দিন হানা দিয়েছে অসম পুলিশের প্রাক্তন ডিজি শঙ্কর বরুয়ার বাড়িতে। স্টেট ব্যাঙ্কের চেনিকুঠি শাখায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে ব্যাঙ্কের তথ্য পরীক্ষা করা হয়। বরুয়া কোনও মন্তব্যে রাজি হননি। এ দিন তল্লাশি হয়েছে গায়ক এবং চিত্রনির্মাতা সদানন্দ গগৈয়ে সরুমটরিয়ার বাড়িতেও। অভিযোগ, সদানন্দ গগৈ গভীর রাতে হিমন্তকে নিয়ে সুদীপ্তর সঙ্গে বৈঠক করতেন। সদানন্দ অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি শুধু সারদার বিস্কুট কোম্পানির জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি করেছিলেন।
এ দিকে, ধুবুরিতে সারদার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবদুল কাদের শেখের বাড়িতেও সিবিআই হানা দেয়। অভিযোগ, তিনি সারদার একশো কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। নামনি অসমে এজেন্টরা সারদা বলতে কাদেরকেই চিনতেন। সুদীপ্ত সিবিআইকে জানিয়েছিলেন কাদের নামনি অসম থেকে সংগ্রহ করা অর্থের ৯০ শতাংশই আত্মসাৎ করে। এই বছর মে মাসে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

Madan Mitra praised and promoted Saradha Ponzi scheme


Madan Mitra trusted minister and one of the closest sycophants of Mamta , West Bengal CM, praised for Saradha group and promote their business to loot poor people 


Thursday, August 28, 2014

Now teachers' honors are in danger in West Bengal

নৈরাজ্য রুখতে বার্তা নেই মমতার, উজ্জীবিত শঙ্কুরা

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ২৯ অগস্ট, ২০১৪, ০৪:০৭:০৮

(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই যিনি শিক্ষক-উপাচার্যদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করেছেন, চাপের কাছে মাথানত করবেন না। সরকার তাঁদের সঙ্গে আছে। ছিলেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের যে দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার দাপটে শিক্ষক-উপাচার্যেরা নিরন্তর ‘চাপে’ থাকেন! ছিলেন কলেজে কলেজে শাসক দলের সংগঠন করা হাজার হাজার শিক্ষার্থী। অথচ মঞ্চের প্রধান চরিত্রই চিত্রনাট্য গুলিয়ে ফেললেন!
রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্র জুড়ে দৈনন্দিন নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে একটি শব্দও খরচ করলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি)-র বাৎসরিক সমাবেশে ছাত্র নেতৃত্বকে সতর্ক করা দূরের কথা, সংযত হওয়ার বার্তাটুকুও দিলেন না শাসক দলের সর্বময় নেত্রী। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান করা উচিত, এই আপ্তবাক্য অবশ্য তাঁর বক্তব্যে ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে ছিল এই কথাও “১৮ বছর বয়সে প্রাণশক্তি, উদ্দীপনা, উচ্ছ্বলতা বেশি থাকে এবং তা ছোট করে দেখা ঠিক নয়।” মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে তরুণ ছাত্র নেতৃত্বের কাজকর্মের প্রতি কোনও প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় থাকল কি না, পরিস্থিতি বিচারে স্বভাবতই উঠে গিয়েছে সেই প্রশ্ন! প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে, যখন দলনেত্রীর বক্তব্যের পরে বৃহস্পতিবার টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে বুঝলাম, কুৎসা করে টিএমসিপি-কে আটকানো যাবে না!”
শিক্ষাঙ্গনে প্রায় প্রতিদিনের ধারা মেনে বৃহস্পতিবারও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে শিক্ষকদের তালাবন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে টিএমসিপি-র বিরুদ্ধে। কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে নিয়োগের গোটা প্যানেল বাতিল করতে হয়েছে। সেখানেও স্বজনপোষণে অভিযুক্ত তৃণমূলের বিধায়ক। ছাত্র সংগঠনের দাপটে জেরবার শিক্ষক-অধ্যাপকদের কারও না কারও প্রায় রোজই পদত্যাগ করতে চাওয়ার ইচ্ছা তো আছেই। রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘটে চলা এ সব কোনও ঘটনারই প্রতিফলন কলকাতা ময়দানে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে শাসক দলের ছাত্র সমাবেশে পড়ল না!

কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এ দিনই সবংয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া প্রশ্ন তুলেছেন, “শিক্ষামন্ত্রী বদলে গিয়ে ব্রাত্য থেকে পার্থ হলেন। কিন্তু শিক্ষক-অধ্যাপকেরা রক্তাক্ত হচ্ছেন, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিবর্তন কি আমরা আনতে চেয়েছিলাম? শিক্ষা ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ কি এখন শাসক দলের ছাত্র নেতাদের হাতে?” ঠিক এই প্রশ্নেরই জবাব এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা করেছিল শিক্ষা জগৎ। বাস্তবে তাঁর কাছ থেকে উত্তর তো নয়ই, শিক্ষক বা ছাত্রদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর মতো আবেদনটুকুও মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে শোনা গেল না!
ছাত্র সংগঠনকে সংযত করার কোনও বার্তাই না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বরং উপদেশ দিলেন, তাঁর সরকার ও দলের বিরুদ্ধে যাবতীয় কুৎসা ও অপপ্রচারের জবাব দিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সোস্যাল নেটওয়ার্কে আরও সক্রিয় হতে হবে! ‘অপপ্রচারে’র জবাব দেওয়ার জন্য ছাত্র-সমাবেশের মঞ্চকেই বেছে নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সেখানে জানিয়েছেন, তাঁর সিঙ্গাপুর সফরে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের খরচে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘নীরবতা’কে চোরকে চুরি করা এবং গৃহস্থকে সতর্ক থাকতে বলার কৌশল হিসাবেই ব্যাখ্যা করছেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তাঁর কথায়, “বেশির ভাগ সময় কিছু ঘটলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন তুচ্ছ ঘটনা। আর এ বার শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু ঘটছে বলেই স্বীকার করলেন না! এতে বোঝা যায়, যাঁরা শাসক দলের ছাত্র সংগঠন করছেন এবং যাঁরা সংগঠন চালাচ্ছেন, তাঁরা এটাই চান!”
সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে ছাত্র নেতাদের হুঁশিয়ারি না দিলেও মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ দিন বোঝাতে চেয়েছেন, কলেজে কলেজে ছাত্র-অশান্তি এখন আগের চেয়ে অনেক কম। তাঁর বক্তব্য, “যোগমায়া দেবী কলেজে যখন ছাত্র পরিষদের ইউনিট খুলেছিলাম, তখন একটা দিনও যেত না যে দিন এসইউসি-র মেয়েরা এসে আমাদের মারত না! বা সিপিএম অশান্তি করত না। কিন্তু এখন গণ্ডগোল অনেক কম।” বিরোধীরা বলছেন, ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটছে না ঠিকই। তা বলে শিক্ষাঙ্গন সমস্যামুক্ত, তা তো নয়! মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনেককেই হতাশ করেছে বুঝে শাসক দলের এক প্রথম সারির নেতাও মেনে নিচ্ছেন, “দিদি সে ভাবে শিক্ষার মধ্যে ঢুকলেন না! অন্য রাজনীতির কথাই যেন বেশি হয়ে গেল!”
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বেশি আক্রমণ করেছেন সিপিএমের ‘উচ্ছিষ্ট’ ও বিজেপি-র ‘ভৈরব বাহিনী’কে। শাসক দল ও তার ছাত্র সংগঠনের সমালোচকদের ‘নিরপেক্ষ নয়, কুৎসাপক্ষ’ বলে এক হাত নিয়েছেন!
আগের দিনের মতো না হলেও শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবু তবু কিছুটা শিক্ষা ক্ষেত্রে ঢুকেছিলেন তাঁর বক্তব্যে। পার্থবাবু এ দিন বলেছেন, “আমরা যখন কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের বার্তা প্রচার করব, তখন খেয়াল রাখতে হবে সেই প্রতিষ্ঠানের পঠনপাঠন, নিয়মানুবর্তিতা, সর্বাঙ্গীন উন্নতির উপরে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্রচার করতে হবে, রাজ্যের মেধা রাজ্যেই রাখব।” সরকারের ভাল কাজের খতিয়ান দিয়ে পার্থবাবু বলেন, “এমন কিছু করব না, যাতে শত্রুরা ভাল কাজগুলিকে চাপা দিতে পারে।”
প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা এ দিনই ফের অভিযোগ করেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মহাজাতি সদনের সামনে মঞ্চ বেঁধে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্টক এক্সেচেঞ্জে পরিণত করেছে! এখন টাকা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়।” দলের সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যের দাবি, সিপিএম আমলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রিত হত। এখন তপসিয়ার তৃণমূল ভবন থেকে তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে অবিলম্বে ছাত্র পরিষদকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন নেতারা।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাঁধীমূর্তির সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ সব প্রসঙ্গে যাননি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দমতো ছাত্রভর্তি বা টোকাটুকির দাবিতে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে টিএমসিপি-র জঙ্গি পথ কী সমস্যা তৈরি করছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়।
শিক্ষামন্ত্রী তো বটেই, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ও এর আগে টিএমসিপি-কে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন। টিএমসিপি-র জন্য তৃণমূল ক্ষমতায় আসেনি, তাই তাদের জন্য দল কেন বিড়ম্বনায় পড়বে, সেই প্রশ্নও দলের বৈঠকে তুলেছিলেন মুকুলবাবু।
অথচ এ দিন ছাত্র সমাবেশের মঞ্চে মমতা বলেছেন, “সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী বিজেপি-র ভৈরব বাহিনীর সঙ্গে মিলে গুন্ডামি করে বেড়াচ্ছে। যারা উচ্ছিষ্টের দল, তাদের উচ্ছিষ্ট করতে দিন! আমরা উন্নয়নের দল। যারা ছাত্র রাজনীতি করে, তারা হারে না, পিছনে দেখে না। বীরের মতো এগিয়ে যায়। আপনারা বীরের মতো এগিয়ে চলুন!” অধ্যক্ষদের অনেকের আশঙ্কা, টিএমসিপি-কে সংযত হওয়ার বার্তা না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তাতে কার্যত তাদের দাদাগিরিকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আর শঙ্কুদেব যা বুঝেছেন বলে দাবি, তাতে এ বার টিএমসিপি-কে রোখা সত্যিই কঠিন হবে বলে আশঙ্কা অধ্যক্ষদের বড় অংশের!
ইংরেজির এমেরিটাস অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ সুকান্ত চৌধুরীর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী মুখে কিছু বলেননি বলে খুব একটা ক্ষতি হয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। শিক্ষামন্ত্রী তো বলছেন। কী লাভ হচ্ছে তাতে? আসল জায়গায় বার্তাটা পৌঁছচ্ছে না।” তাঁর মতে, বিভিন্ন সময়ে সরকার এমন পদক্ষেপ করেছে, যাতে আসল জায়গায় বার্তা পৌঁছচ্ছে না। স্নাতক স্তরে অনলাইন চালু না করা তেমনই এক পদক্ষেপ বলে মত এই প্রবীণ শিক্ষকের। জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রাক্তন ডিরেক্টর-জেনারেল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক স্বপন চক্রবর্তীর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী পেশাদার রাজনীতিক। উনি কী বলবেন, না বলবেন, সেটা উনিই ঠিক করবেন। কিন্তু আমার মতে, শিক্ষা ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি চলতে পারে। ঘেরাওয়ের মতো শারীরিক নিগ্রহ  যেন বন্ধ হয়, তা দেখতে হবে।” কিছুটা সুকান্তবাবুর সুরে স্বপনবাবুরও বক্তব্য, “শিক্ষামন্ত্রীর বুধবারের বক্তব্যকে সমর্থন করি। কিন্তু কেবল বলে গেলাম, তাতে কাজ কিছু হল না, তা হলে কী লাভ!”
কী শিখলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে? শঙ্কুদেবের জবাব, “অধ্যক্ষ-অধ্যক্ষাদের সম্মান করব। শিক্ষকদের কেউ কেউ অবশ্য ষড়যন্ত্র করতে পারেন, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে!” 

Mamta threatens CBI on Saradah Scam by TMC

মরে যাইনি, পাল্টা হুঁশিয়ারি মমতার

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা, ২৯ অগস্ট, ২০১৪, ০৪:০৯:৩৭

(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
সারদা-কাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজ্য সরকার প্রস্তুত। দাবি করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার একই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতার হুঁশিয়ারি, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখিয়ে লাভ নেই! চিট ফান্ডের টাকায় আমাদের করে খেতে হয় না। আসল অপরাধীদের আড়াল করবেন না। মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু মরে যাইনি!” সিবিআইয়ের তদন্তে যে ভাবে সারদার সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর যোগসাজশ উঠে আসছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগই বৃহস্পতিবার তাঁর মন্তব্যে ধরা পড়েছে বলে বিরোধী শিবির মনে করছে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠা দিবসে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ফের দাবি করেছেন, তিনি সারদার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। জানতে পারার পরে তাঁর প্রশাসন কাশ্মীর থেকে সারদা-কর্তাকে ধরে এনেছিল। আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার তহবিলও খুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সিবিআই নিয়েছে (তদন্ত), ভাল কথা! ভাল করে তদন্ত করুক। আমরা সহযোগিতা করব। আমানতকারীরা যাতে টাকা ফেরত পায়, সেটা তোমরাই দেখবে। আমাদের এখন তো কিছু করার নেই।”
মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের আইনজীবী-নেতা অরুণাভ ঘোষের মন্তব্য, “সিবিআই তদন্ত নিয়ে উনি চাপে আছেন। তাতে যা বলছেন, তার মধ্যে নানা স্ব-বিরোধিতা আছে। সিবিআই তদন্ত করছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সিবিআই একটা তদন্তকারী সংস্থা। টাকা ফেরানো তো তার দায়িত্ব নয়। তার মানে কি মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টকেই টাকা দিতে বলছেন?” একই সঙ্গে সহযোগিতার কথা এবং ‘মরে যাইনি’ বলে সিবিআইকে হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, “রাজ্য সরকার কেমন সহযোগিতা করছে, প্রতিদিন বোঝা যাচ্ছে!”
সহযোগিতা না-করলে রাজনৈতিক নেতাদেরও যে গ্রেফতারির মুখে পড়তে হবে, এ দিনই কিন্তু তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বয়ং সিবিআই অধিকর্তা রঞ্জিৎ সিনহা। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, “যেখানে সন্দেহের যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে, সেখানেই তল্লাশি চালাচ্ছি। কেউ যদি সহযোগিতা না করেন, তা তিনি রাজনৈতিক নেতাই হোন বা অন্য কেউ, তাঁকে গ্রেফতার করব।”
এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরমে-গরমে সিবিআই নিয়ে মন্তব্য করলেও অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ অবশ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমরাই দুই বছর আগে চিট ফান্ডগুলির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়েছিলাম। পশ্চিমবঙ্গ বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে বাধ্য হয়ে সিবিআই তদন্ত করায়। ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থাগুলি বহু মানুষকে ঠকিয়েছে। তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের খুঁজে বার করুক সিবিআই।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা কিছু মন্তব্য করেন সারদা-কাণ্ডের তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদ নিয়েও। যেমন, তাঁর প্রশ্ন অপর্ণা সেনকে কেন ডাকা হল? মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু উনি তো চাকরি করতেন। তাঁর কি দোষ?” সাংবাদিকদেরই বা দোষ কোথায়, প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্র-সমাবেশের মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, সারদা-কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে সাংবাদিকদের মুখ চেয়ে চ্যানেল টেন চালাতেন তৃণমূল নেতা সমীর (বুয়া) চক্রবর্তী। বলেছেন, “চ্যানেল টেন বুয়া চালাত। এখন বন্ধ।” তারা চ্যানেলের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হতো, তা-ও বলেছেন। যা থেকে বিরোধীদের কটাক্ষ, সারদার সম্পত্তির ম্যানেজার যে শাসক দল হয়ে উঠেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই তো সে সব স্পষ্ট! কয়েক দিন আগে সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেনও বলেছিলেন, তাঁর সংস্থার অনেক সম্পত্তিরই হাতবদল হয়ে গিয়েছে।
বিরোধীরা প্রত্যাশিত ভাবেই সরকার তথা শাসক দলের উপরে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানের দাবি, “অনেক রথী-মহারথী জড়িত বলে আগেই অভিযোগ করেছিলাম। বিধাননগরের পুলিশ তথ্য লোপাট করেছে। তাঁদেরও গ্রেফতার করতে হবে।” রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি রাহুল সিংহের বক্তব্য, ‘‘যারা গরিব মানুষকে ঠকিয়েছে, তাদের শাস্তি হোক।”

মমতার রাজনৈতিক মিথ্যাচার বন্ধ হোক

অপরাধীদের আড়াল করতে রাজনৈতিক কুত্সা ছড়ানো হচ্ছে, সিবিআইকে তোপ মমতার


সারদাকাণ্ডে ক্রমেই জাল গোটাচ্ছে সিবিআই। তৃণমূলের সর্বভারতীয় নেতার একদা ঘনিষ্ঠ সহযোগী থেকে শুরু করে মদন মিত্রর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক, গোয়েন্দাদের নজর এখন প্রভাবশালীদের দিকে। এই প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমাবেশ থেকে সিবিআইয়ের উদ্দেশে জোড়া বার্তা তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বললেন, তদন্তে সিবিআইকে সব ধরণের সহযোগিতা করবে সরকার, তবে সাধারণ মানুষের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। মমতার হুঁশিয়ারি, আসল অপরাধীদের আড়াল করে রাজনৈতিক কুত্‍সা করা চলবে না।
এদিনের সভা থেকে নাম না করে বিজেপির উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলকে পদের টোপ এবং সিবিআই-এর ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।
তৃণমূল নেত্রীকে পাল্টা খোঁচা দিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, সারদা কেলেঙ্কারিতে দলের নেতাদের নাম সামনে চলে আসার ভয়েই কি এখন সিবিআই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তিনি? তার সঙ্গে রাজনীতি জড়ানোর চেষ্টা করছেন?
বিরোধীদের আরও প্রশ্ন, সিবিআইয়ের কাজ সারদা কেলেঙ্কারির কোটি কোটি টাকা যাঁদের পকেটে ঢুকেছে তাঁদের গ্রেফতার করা, টাকা ফেরানো তো নয়! তাহলে টাকা ফেরতের কথা বলে কি সাধারণ মানুষের মনে সিবিআইয়ের তদন্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কারণ, এর আগেও তিনি একই ধরণের কথা বলেছিলেন।
এদিকে, সিবিআইকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির দিনই পাল্টা গর্জন করেছে সিবিআইও।  কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের বক্তব্য, যেখানে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেখানেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে রাজনীতিকরা তদন্তে সহযোগিতা করবেন না, তাঁদের গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হবে।
সারদাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই জেলে রয়েছেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড সাংসদ কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান, বালুরঘাটের তৃণমূল সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বস্ত্রমন্ত্রী শ্যামাপদ মুখোপাধ্যায়কে জেরা করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তৃণমূল নেতা রজত মজুমদারের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে জেরা করেছে সিবিআই। বৃহস্পতিবারই মদন মিত্রর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক বাপি করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। হানা দিয়েছে তৃণমূলের এক সর্বভারতীয় নেতার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আসিফ খানের বাড়িতেও হানা দিয়েছে তারা। তৃণমূল সাংসদ সৃঞ্জয় বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এসএফআইও। সব মিলিয়ে সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি।