Showing posts with label CM relief fund. Show all posts
Showing posts with label CM relief fund. Show all posts

Saturday, October 18, 2014

CM relief fund to be filled by Tax payers' money?

ত্রাণ তহবিলে করের আরও ৪ কোটি

দেবজিৎ ভট্টাচার্য (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ১৯ অক্টোবর, ২০১৪




আপত্তি বিস্তর। তবু বাজেট বরাদ্দের টাকায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ভরানোর কাজে রাশ টানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সরকারি কোষাগারের টাকা দান-খয়রাতিতে কেন খরচ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। কিন্তু তাদের পাঠানো সেই ‘নোট’ ফাইলবন্দি রেখে চলতি আর্থিক বছরে (২০১৪-’১৫) এ পর্যন্ত আরও ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।
কেন স্বরাষ্ট্র দফতরই বারবার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ভরাচ্ছে? দফতরের সচিব পর্যায়ের সব অফিসারই এই প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এক জন শুধু বলেছেন, “এই দফতর মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতেই রয়েছে। আমরা নবান্নের উঁচুতলার নির্দেশ পালন করছি মাত্র।” তবে সব ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়ার আগে অর্থ দফতরের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
কিন্তু সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তুলে এ ভাবে ত্রাণ তহবিলে জমা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নে। সরকারি সূত্র বলছে, গত বছরের মার্চ মাসে প্রথম বার নিজেদের বাজেটের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে স্বরাষ্ট্র দফতর। নবান্নের এক কর্তা জানান, সেই মাসের ২ তারিখে কলকাতার টাউন হলে এক অনুষ্ঠানে মন্তেশ্বরের ১৬৬ জন ‘বঞ্চিত’ চাষির হাতে ৪৫ লক্ষ টাকা সাহায্য তুলে দেওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ত্রাণ দিতে গিয়ে তহবিলের প্রায় সব টাকাই শেষ হয়ে গেল...।” ওই বক্তব্যের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, ৫ মার্চ স্বরাষ্ট্র দফতর তাদের পরিকল্পনা বহির্ভূত খাত থেকে ১ কোটি টাকা তুলে জমা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
সেই শুরু। তার পরে গত দু’বছরে একাধিক বার ওই ত্রাণ তহবিল ভরিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সিএজি যে তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়েছে নবান্নে, তাতে ২০১৩-’১৪ আর্থিক বছরে দু’দফায় ২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা করার জন্য একটা নতুন অ্যাকাউন্ট (০৩-সিএল-২০১৩-কাউন্সিল অব মিনিস্টারস-০০-১০৫) খোলা হয়েছিল। এ পর্যন্ত যত বার টাকা জমা করা হয়েছে, তা ওই অ্যাকাউন্টেই পড়েছে।
এর আগে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের দানেই চলত মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল। গরিব মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা বা খরা-বন্যায় আর্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য টাকা বরাদ্দ করতেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তহবিল থেকে টাকা বিলির বিষয়টি পুরোপুরি মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন। নতুন জমানায় নানা ভাতা ও পুরস্কার খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করছে রাজ্য সরকার। যে কারণে প্রতি বছর লাফ দিয়ে বাড়ছে পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে ব্যয়। এর পরেও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কোটি কোটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নের অন্দরেই। এই তহবিলের টাকা খরচের হিসেব মেলেনি। কিন্তু প্রশাসনের একটি শীর্ষ সূত্র বলছে, একদা সারদা গোষ্ঠীর হাতে থাকা একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেল চালাতেই খরচ হচ্ছে ত্রাণ তহবিলের অনেকটা টাকা। এই টাকায় মূলত ওই চ্যানেলের কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
জনগণের করের টাকা ত্রাণ তহবিলে ঢুকিয়ে তাই দিয়ে কেন চ্যানেল চালানো হবে, সেই প্রশ্ন যেমন থাকছে। তেমনই বাজেট বরাদ্দের টাকা ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার মতো ‘বেআইনি’ কাজ সরকার কেন বারবার করে চলেছে, তারও ব্যাখ্যা মেলেনি। নবান্নে পাঠানো রিপোর্টের পার্ট-২ (এ) অনুচ্ছেদে সিএজি স্পষ্ট বলেছে, ২০১৩-এর মার্চে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সরকার যে ভাবে ১ কোটি টাকা জমা করেছে তা বেআইনি। এই বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করার পরেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই বছরেরই জুলাই মাসে ফের ১ কোটি টাকা একই ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। কিন্তু সেই অর্থে কারা সাহায্য পেয়েছেন, কী ভাবে তাঁদের বাছাই করা হয়েছিল, বাছাইয়ের মাপকাঠিই বা কী ছিল, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি পাওয়া যায়নি বলে নবান্নকে জানিয়েছে সিএজি।
তার পরেও সরকারি কোষাগারের টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। নবান্ন সূত্র বলছে, চলতি আর্থিক বছরেই ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা তুলে ত্রাণ তহবিল ভরেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। এর মধ্যে মে মাসে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা, জুন মাসে ১ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি টাকা জমা পড়েছে। প্রশাসনের একাংশের অনুমান, বছরের শেষে টাকার অঙ্কটা আরও বাড়বে।
আমজনতার করের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করা যাবে না, এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ প্রশাসনেরই একটা অংশ। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, রাজ্যের অর্থ-বিধিতে এ নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা নেই। মুখ্যমন্ত্রীই যে হেতু প্রশাসনের প্রধান, তাই তাঁর সরকারের এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে টাকা পাঠানোর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। তবে একই সঙ্গে বিষয়টি যে প্রথা বহির্ভূত এবং এক কথায় নজিরবিহীন, সে কথাও কবুল করেছেন ওই অফিসারেরা।
ক্ষমতায় এসে নিজের আঁকা ছবি বিক্রির ১ কোটি টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করার ঘোষণা করেছিলেন মমতা। তার পরে বেশ কিছু সংগঠন টাকা জমা করলেও দান-খয়রাতি এত বেড়ে গিয়েছে যে তহবিলের অর্থ তলানিতে ঠেকেছে এবং সেই ঘাটতি পূরণ করতেই শেষ পর্যন্ত করের টাকায় হাত দিতে হচ্ছে বলে মত প্রশাসনের একাংশের। নবান্নের এক কর্তা বলেন, “সরকারি নিয়ম-কানুন আমরাও জানি। কিন্তু উপরমহলের নির্দেশ মেনে নেওয়া ছাড়া কী-ই বা করার আছে?”

আরও পড়ুন -

বেতন-পেনশনে না, তবু খামতি নেই উপহারের মমতায়

Tuesday, September 30, 2014

How Mamta spends on huge Gifts, when she claimed she doesn't take salary or MP pension?

বেতন-পেনশনে না, তবু খামতি নেই উপহারের মমতায়

নিজস্ব সংবাদদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ 



বিনা মাইনেতে উপহার কেনার পয়সা আসে কোথা থেকে? 
নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিচালনার পরের দিনের দুপুর। রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গাঁধী তমলুকে জেলা হাসপাতালে আসছেন, খবর হয়েছে। তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়ার আগে ব্যাগ খুলে তমলুকের বেসরকারি হোটেল মালিকের হাতে এক তাড়া নোট ধরিয়ে দিলেন তিনি। মুখে বরাভয়ের ভঙ্গিতে একটা বাক্য “এটা রাখো!”
হোটেল মালিক তখন প্রায় পায়ে পড়েছেন! এতগুলো প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনার পরে তিনি টাকা নিতে নারাজ। সাংসদ বললেন, আগের দিন থেকে তিনি ও তাঁর দলের সহকর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের লোকজন যে ওই হোটেলে ঠাঁই নিয়েছিলেন, তারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কিছু টাকা রাখতেই হবে। তর্কের অবকাশ না রেখে কালো স্করপিও চেপে রওনা দিলেন তিনি।
সে দিনের সাংসদ জানতেও চাননি, হোটেলের বিল কত হয়েছিল! হাতে ধরে কিছু টাকা তুলে দিয়েছিলেন মাত্র। আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানার চেষ্টা করেন না, খরচ কত হতে পারে! শুধু পুজোর সময় এলে তাঁর দেওয়া উপহারের প্যাকেট পৌঁছে যায় তাঁর প্রশাসনের কর্তা থেকে শুরু করে বহু বিদ্বজ্জন-সহ তাঁর ঘনিষ্ঠ জনেদের কাছে। এ বারও যেমন পৌঁছেছে নামী ব্র্যান্ডের কুর্তা-পাজামা, শাড়ি-সালোয়ার বা কোথাও স্যুট লেন্থ।
কালো স্করপিও-র আরোহী সেই সাংসদের টাকা মেটানো নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কারণ, তিনি তখন সাংসদ এবং সেই হিসেবেই বেতন পান।
"সারদা চিটফান্ড থেকে সবথেকে বেশী সুবিধা পেয়েছেন যিনি,
তার নাম মমতা ব্যানার্জ্জী"
সাদা স্করপিও-য় চেপে পুজোর পর পুজো উদ্বোধন করে চলেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর উপহার নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকছে! কারণ, তাঁর নিজেরই ঘোষণামাফিক মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গত সাড়ে তিন বছরে তিনি না নিয়েছেন বেতন, না তুলেছেন সাংসদ হিসাবে তাঁর পেনশন!
সাংবাদিকদের উপহার বিলিয়ে কেন্দ্রীয় এক মন্ত্রীকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তিরস্কারের মুখে পড়তে হয়, এ রাজ্যে তখন আরও জাঁকিয়ে বসে ‘উপহার সংস্কৃতি’! প্রশ্নটা হঠাৎই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে অবশ্য দক্ষিণী আম্মার সৌজন্যে! সারদা-কাণ্ড নিয়ে যখন এ রাজ্য তোলপাড়, তখন জয়ললিতার জেল-যাত্রা নিয়ে উত্তাল তামিলনাড়ু এবং গোটা দেশও। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি রাখার মামলায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর চার বছরের কারাদণ্ড এবং ১০০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে! মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়ে যে জয়ার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১ লক্ষ টাকা, মেয়াদ শেষে ১৯৯৬ সালে সেটাই বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ কোটিতে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে মাসে ১ টাকা প্রতীকী বেতন নিতেন! তার মানে হিসাব করলে পাঁচ বছরে যাঁর আয় হয়েছে সাকুল্যে ৬০ টাকা, ওই সময়ে তাঁর সম্পত্তি হয়েছে ৬৬ কোটি টাকার!
দক্ষিণের আম্মা তবু মাসে ১ টাকা বেতন নিতেন। বঙ্গের দিদি সরকারি কোষাগার থেকে এক পয়সাও নেন না! তা হলে এমন অবৈতনিক মুখ্যমন্ত্রীর ঢালাও উপহারের খরচ কোথা থেকে আসে? কে মেটায়? গুঞ্জন, কৌতূহল উড়ে বেড়াচ্ছে শারদীয়া বাতাসে!
নবান্নের খবর, ২০১১ সালের মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরেই মমতা জানিয়েছিলেন, তিনি সরকারের থেকে বেতন নেবেন না। সরকারি নিয়ম মেনে প্রতি মাসে তাঁর নামে বেতনের চেক তৈরি করে কলকাতা ট্রেজারি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করার পরে সেই চেকটি ট্রেজারি আবার নষ্ট করে দেয়। গত ৪০ মাস ধরে এমনই চলছে। অথচ এই ৪০ মাসেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর উপহারের বহর! তৃণমূল সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কিছু মন্ত্রী-নেতা, সাংসদ-বিধায়ক, টলিউড ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকেরাও আছেন প্রাপকের তালিকায়। সরকারের বিভিন্ন দফতরের সচিব, জেলাশাসক, পুলিশ-কর্তা, এসপি এবং তাঁদের স্ত্রীরাও আছেন। সঠিক সংখ্যা কেউ না জানাতে পারলেও তালিকা কিন্তু খুব ছোট নয়! ঘনিষ্ঠদের মতে, দু-তিন হাজারও হতে পারে!  শুধু ঘনিষ্ঠ জনই নয়, প্রতি বছর পুজোর সময় নিয়ম করে বৃদ্ধাবাসে জামাকাপড় পাঠিয়ে থাকেন মমতা। এ বারও তার অন্যথা হয়নি। সোমবারই একটি বৃদ্ধাবাসে পৌঁছেছে তাঁর উপহার। পুজোর মরসুমে তাঁর গাড়িতে রাখা থাকে বিভিন্ন বয়সের উপযোগী জামাকাপড়। পথচলতি কাউকে দেখে মনে হলেই মমতা কিছু দিতে কার্পণ্য করেন না। শুধু নিকট বৃত্ত নয়, বহু অনাথ-আতুর এই ভাবেই মমতার উপহার পেয়ে থাকেন।
আয় বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার জন্য জয়ললিতা জেলে
মুখ্যমন্ত্রী বলে নয়, ব্যক্তি মমতা নিজেই বরাবর উপহার দিতে ভালবাসেন। সেই বিরোধী নেত্রী বা রেলমন্ত্রী থাকার সময়েও তাঁর পছন্দের এবং ঘনিষ্ঠ লোকেদের হাতে প্রীতি-উপহার তুলে দিতেন তিনি। শুধু পুজোর মরসুম বলেই নয়, তাঁর ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত জীবনের স্মরণীয় দিনেও পৌঁছে গিয়েছে মমতার উপহার। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল যত কলেবরে বেড়েছে, উপহারও তত বেড়েছে! বিরোধী নেত্রী থাকার সময়ে মমতা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তাঁর নিজের খরচা বলতে বিশেষ কিছু নেই। সাংসদ হিসাবে বেতনের টাকা সঞ্চয় করে যা ব্যাঙ্কে আছে, তা থেকেই সামান্য উপহার দিয়ে থাকেন। কিন্তু এখনকার প্রশ্ন, কলসির জল গড়াতে গড়াতে এক দিন তো ফুরোবে! আয় না থাকলে কুবেরের ধনও ফুরোয়! অন্নপূর্ণা মুখ্যমন্ত্রীর উপহারের স্রোত তা হলে চলতেই থাকছে কী ভাবে?
স্বাভাবিক ভাবেই মমতার প্রশাসন বা দলের কেউ এই নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। প্রতি বছর উপহার প্রদানের এই প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা থাকে কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। তিনিও মুখ খোলেননি।
তৃণমূলের এক নেতা অবশ্য বলছেন, “উপহার দিতে দিদি কোনও দিনই কার্পণ্য করেননি। বই লিখে রয়্যালটি বাবদ কিছু টাকা পান। সে সব দিয়ে উনি চালিয়ে নেন।” আর রাজ্য সরকারের এক আধিকারিকের কথায়, “ভেবে দেখতে গেলে, যিনি বেতন নেন না, তাঁর পক্ষে হাওয়াই চটিও কেনা সম্ভব নয়! কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ভালবেসে কিছু উপহার দেন। কোথা থেকে দেন, সে সব নিয়ে ভাবিনি কখনও!”
শাসক দলেরই একটি অংশের বক্তব্য, দলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনকে উপহার কেনার দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বারেও তার অন্যথা হয়নি। তবে সেই ঘনিষ্ঠদের টাকার উৎস কী, সেই প্রশ্নের জবাব অজানা!
দান-খয়রাতির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ইতিমধ্যেই নাম কুড়িয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পরে তাঁর সরকার রাজ্য জুড়ে নানা নামে উৎসবের মেলা বসিয়ে দিয়েছে। তাঁর সরকারের দাক্ষিণ্য পেয়ে চলছে কয়েক হাজার ক্লাব। প্রতি বছর একাধিক নামে পুরস্কারও চালু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও পরিকল্পনা বহির্ভূত খাত থেকে ফি-বছর কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। একই ভাবে চলছে তাঁর নিজস্ব উপহার সংস্কৃতি। বিরোধী শিবিরের এক নেতার কথায়, “কষ্টের সংসার বলে রোজ আক্ষেপ করেন যিনি, তিনিই ক্লাবকে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দেন। যিনি নিজে রোজগারহীন, তিনি দিব্যি উপহার দেন।”
দিল্লিতে তাঁর সরকারের এক মন্ত্রীর উপহার-সংস্কৃতির কথা জানতে পেরে রীতিমতো রুষ্ট হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লিতে সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘সৌর লন্ঠন’ উপহার দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও কয়লামন্ত্রী পীযূষ গয়াল। জানতে পেরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সকলের সামনেই পীযূষকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলায় সে সবের প্রশ্ন নেই! স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিলোচ্ছেন। কারণ, বিলোতে তিনি ভালবাসেন।

আরও পড়ুন -

ত্রাণ তহবিলে করের আরও ৪ কোটি