Showing posts with label development. Show all posts
Showing posts with label development. Show all posts

Friday, October 24, 2014

Corruption at West Bengal Home Guard employment

হোমগার্ড নিয়োগ

পেনসিলের আঁচড়েই রহস্যের আঁচ

দেবজিৎ ভট্টাচার্য (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৪ অক্টোবর, ২০১৪


পেনসিলেরই আঁচড়েই মালুম হচ্ছে অনিয়মের গন্ধ!
মুর্শিদাবাদে হোমগার্ড নিয়োগ ঘিরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় শিল্প-সচিব চঞ্চলমল বাচোয়াতকে মাথায় রেখে রাজ্য সরকার দু’সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছে। কিন্তু তারই মধ্যে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নবান্নে যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন, তাতেই স্পষ্ট দুর্নীতির ইঙ্গিত। ডিএমের রিপোর্ট বলছে, নিয়োগ পরীক্ষার ‘স্কোর শিট’-এ পেনের বদলে পেনসিলে নম্বর লেখাকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত।
কেলেঙ্কারির জেরে রাজ্য পুলিশের ডিজি (হোমগার্ড) রবীন্দ্রজিৎ সিংহ নালোয়া এবং মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীরকে ইতিমধ্যে কম্পালসারি ওয়েটিং (পদ নেই, কাজও নেই)-এ পাঠানো হয়েছে। পেনসিল-রহস্য ফাঁস হল কী ভাবে?
মুর্শিদাবাদ প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলায় যে কমিটির মাধ্যমে হোমগার্ড নিয়োগ হয়, পদাধিকারবলে ডিজি (হোমগার্ড) তার চেয়ারম্যান, এসপি হলেন মেম্বার কনভেনর। সদস্য হিসেবে থাকেন জেলাশাসকের এক বা একাধিক প্রতিনিধি। এবং মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও তাঁর রিপোর্টের সঙ্গে কমিটির এমন একাধিক সদস্যের যে লিখিত বয়ান জুড়ে দিয়েছেন, তাতেই মিলেছে দুর্নীতির হদিস। ওই সদস্যেরা ডিএম’কে জানিয়েছেন, পরীক্ষা চলাকালীন ডিজি (হোমগার্ড) তাঁদের বলেন স্কোর শিটে কলমের বদলে পেনসিল দিয়ে নম্বর লিখতে। সই করতে বলা হয় কলম দিয়ে। সদস্যদের দাবি, তাঁরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ডিজি বলেছিলেন, তিনি নিজে তো বটেই, এসপি-ও একই ভাবে স্কোর শিট তৈরি করবেন। খোদ চেয়ারম্যানের মুখে এ কথা শুনে তাঁরা ‘সরল বিশ্বাসে’ নির্দেশ পালন করেন বলে কমিটির একাধিক সদস্য ডিএম’কে জানিয়েছেন।
মুর্শিদাবাদের চার ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে হোমগার্ড নিয়োগ কমিটিতে রেখেছিলেন জেলাশাসক। তাঁদের এক জন, কল্লোল ভট্টাচার্য গত ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন, তিনি সব মিলিয়ে ১৩ দিন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাজির ছিলেন, এবং ডিজি-র নির্দেশ মেনে স্কোর শিটে আগাগোড়া পেনসিলেই নম্বর লিখে কলমে সই করেছেন।
এখানে প্রশ্ন উঠেছে, অনিয়মের নির্দেশ কেন মান্য করলেন তাঁরা? কেনই ডিজি’র অন্যায় অনুরোধ সম্পর্কে জেলাশাসকের কাছে প্রতিকার চাইলেন না? প্রশাসনের একাংশের যুক্তি, পেনসিলে নম্বর লেখা কখনওই উচিত নয়, কাম্যও নয়। কারণ, পেনসিলের লেখা মুছে বদল করা সহজ। পেনসিলে নম্বর লিখে পেনে সই করার পরে যদি দেখা যায় শিটের নম্বর বদলে গিয়েছে, তখন সত্য প্রমাণ করা কঠিন হবে। এ হেন অনিয়ম নিয়ে জেলাশাসকও কেন তাঁর প্রতিনিধিদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন না, সে প্রশ্নও উঠেছে প্রশাসনের অন্দরে।
এখানেই শেষ নয়। স্কোর শিট সংগ্রহের জন্য ডিজি’র তরফে ‘অস্বাভাবিক’ তাড়াহুড়োর প্রসঙ্গও রিপোর্টে রয়েছে। কী রকম?
ডিএম’কে কল্লোলবাবু জানিয়েছেন, গত ১৩ অগস্ট ডিজি তাঁকে ফোন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেলার পুলিশ গেস্ট হাউসে চলে আসতে বলেন। কল্লোলবাবু জেলা পরিষদের কাজে বহরমপুরের বাইরে ছিলেন, সঙ্গে গাড়িও ছিল না। তা শুনে ডিজি নিজের গাড়ি পাঠিয়ে তাঁকে গেস্ট হাউসে তুলে এনে বলেন, সম্মিলিত স্কোর শিটে তখনই সই করে দিতে। কল্লোলবাবুর বক্তব্য, তিনি সব স্কোর শিটে সইসাবুদ করে দিলেও ডিজি’র তাড়াহুড়োর কারণে সব নথি খতিয়ে দেখতে পারেননি। জেলাশাসকের রিপোর্টও বলছে,  চূড়ান্ত স্কোর শিট তৈরির সময়   কমিটির চেয়ারম্যান, মেম্বার কনভেনর ও সব সদস্যের একযোগে সই করার কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে সে নিয়ম মানা হয়নি।
ফলে ডিএমের প্রতিনিধিরা নিজের দেওয়া নম্বর দ্বিতীয় বার মিলিয়ে দেখার সুযোগ পাননি বলে রিপোর্টের দাবি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন-সূত্রের খবর: ডিএমের রিপোর্ট নবান্নে পৌঁছানোর আগে মুর্শিদাবাদের এসপি হুমায়ুন কবীরও ডিজি (হোমগার্ড)-কে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যেখানে নালোয়ার বিরুদ্ধে কার্যত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগই তুলেছেন তিনি। কী রকম?
হুমায়ুন বলেছেন, কৃতকার্যদের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য তাঁকে গত১৩ অগস্ট পুলিশ গেস্ট হাউসে ডেকে পাঠিয়েও ডিজি অন্যত্র চলে যান। বলে যান, পরের দিন এসে কাজ শেষ করবেন। কিন্তু পর দিনও দিনও ডিজি বহরমপুরে পা দেননি। উল্টে ১৬ অগস্ট ফোন করে বলেন, এসপি’র স্কোর শিট যেন কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এসপি’র দাবি, তার প্রস্তুতি চলাকালীন জেলার সিনিয়র অ্যাডজুট্যান্ট (হোমগার্ড)-এর কাছে তিনি জানতে পারেন, ১৩ অগস্ট অফিসারদের পেনসিলে লেখা স্কোর শিটের সঙ্গে বেশ কিছু ফাঁকা শিট-ও কলকাতায় নিয়ে গিয়েছেন নালোয়া! এসপি লিখেছেন, এটা জানার পরে তিনি আর কোনও নথি ডিজি’কে পাঠাননি। ৪ সেপ্টেম্বর ডিজি সস্ত্রীক পুলিশ অতিথিশালায় এসে ওঠেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। ডিজি তাঁকে বলেন কৃতকার্যদের চূড়ান্ত তালিকায় সই করে দিতে। কিন্তু তিনি করেননি। কেন?
চিঠিতে হুমায়ুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ডিজি’র ওই তালিকার সঙ্গে পরীক্ষকদের বানানো তালিকার বিস্তর অমিল ছিল। তাই তিনি সই করতে চাননি। এসপি’র অভিযোগ: এতে ডিজি ও তাঁর স্ত্রী এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন যে, তিনি গেস্ট হাউস ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হন। ডিজি তখন পুলিশ অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে কান্ননকে দিয়ে তালিকায় সই করান বলে চিঠিতে লিখেছেন হুমায়ুন।
রিপোর্টে বা চিঠিতে যা-ই লিখে থাকুন, রত্নাকর ও হুমায়ুন এ প্রসঙ্গে মুখে কিছু বলতে চাননি। নালোয়াও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। ইতিমধ্যে পুরো ব্যাপারটায় জড়িয়ে গিয়েছে শাসকদলের নামও। জেলা-সূত্রের খবর, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ হোমগার্ডের চাকরির জন্য বেশ কিছু কর্মী-সমর্থকের নাম সুপারিশ করেছিলেন মুর্শিদাবাদ প্রশাসনের কাছে। এঁদের কারও কারও নাম প্রাথমিক তালিকায় উঠেছিল। ‘বঞ্চিত’ প্রার্থীরা তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। অনেকে অভিযোগ করেন, চাকরি পাওয়ার জন্য তাঁরা জমিজমাও বন্ধক রেখেছিলেন। তার পরেও চাকরি না-হওয়ায় তাঁরা অকূলপাথারে।
বস্তুত মুর্শিদাবাদের প্রায় সব থানা এলাকা থেকেই এমন অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে বলে সূত্রের দাবি। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ মান্নান হোসেন বলেন, “আমি তৃণমূলে আসার আগে ঘটনাটি ঘটেছে।
দলের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক আমার কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের কথা শুনে আমার মনে হয়েছে, অভিযোগের সারবত্তা আছে। আমি রাজ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পরীক্ষা বাতিলের আর্জি জানিয়েছি।” কিন্তু তৃণমূলের বেশ কিছু নেতার দিকেও তো আঙুল উঠেছে?
মান্নানের জবাব, “ওঁদের অনেকের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। তবে ওঁদের মধ্যে যে আমাদের লোকজন একেবারে নেই, তা বলছি না। দলের রাজ্য নেতৃত্বকে সব জানানো হয়েছে। তৃণমূলে দুর্নীতির কোনও স্থান নেই।”

****************


CM relief fund to be filled by Tax payers' money?

Saturday, October 18, 2014

CM relief fund to be filled by Tax payers' money?

ত্রাণ তহবিলে করের আরও ৪ কোটি

দেবজিৎ ভট্টাচার্য (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ১৯ অক্টোবর, ২০১৪




আপত্তি বিস্তর। তবু বাজেট বরাদ্দের টাকায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ভরানোর কাজে রাশ টানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সরকারি কোষাগারের টাকা দান-খয়রাতিতে কেন খরচ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। কিন্তু তাদের পাঠানো সেই ‘নোট’ ফাইলবন্দি রেখে চলতি আর্থিক বছরে (২০১৪-’১৫) এ পর্যন্ত আরও ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।
কেন স্বরাষ্ট্র দফতরই বারবার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ভরাচ্ছে? দফতরের সচিব পর্যায়ের সব অফিসারই এই প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এক জন শুধু বলেছেন, “এই দফতর মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতেই রয়েছে। আমরা নবান্নের উঁচুতলার নির্দেশ পালন করছি মাত্র।” তবে সব ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়ার আগে অর্থ দফতরের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
কিন্তু সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তুলে এ ভাবে ত্রাণ তহবিলে জমা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নে। সরকারি সূত্র বলছে, গত বছরের মার্চ মাসে প্রথম বার নিজেদের বাজেটের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে স্বরাষ্ট্র দফতর। নবান্নের এক কর্তা জানান, সেই মাসের ২ তারিখে কলকাতার টাউন হলে এক অনুষ্ঠানে মন্তেশ্বরের ১৬৬ জন ‘বঞ্চিত’ চাষির হাতে ৪৫ লক্ষ টাকা সাহায্য তুলে দেওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ত্রাণ দিতে গিয়ে তহবিলের প্রায় সব টাকাই শেষ হয়ে গেল...।” ওই বক্তব্যের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, ৫ মার্চ স্বরাষ্ট্র দফতর তাদের পরিকল্পনা বহির্ভূত খাত থেকে ১ কোটি টাকা তুলে জমা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
সেই শুরু। তার পরে গত দু’বছরে একাধিক বার ওই ত্রাণ তহবিল ভরিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সিএজি যে তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়েছে নবান্নে, তাতে ২০১৩-’১৪ আর্থিক বছরে দু’দফায় ২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা করার জন্য একটা নতুন অ্যাকাউন্ট (০৩-সিএল-২০১৩-কাউন্সিল অব মিনিস্টারস-০০-১০৫) খোলা হয়েছিল। এ পর্যন্ত যত বার টাকা জমা করা হয়েছে, তা ওই অ্যাকাউন্টেই পড়েছে।
এর আগে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের দানেই চলত মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল। গরিব মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা বা খরা-বন্যায় আর্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য টাকা বরাদ্দ করতেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তহবিল থেকে টাকা বিলির বিষয়টি পুরোপুরি মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন। নতুন জমানায় নানা ভাতা ও পুরস্কার খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করছে রাজ্য সরকার। যে কারণে প্রতি বছর লাফ দিয়ে বাড়ছে পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে ব্যয়। এর পরেও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কোটি কোটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নের অন্দরেই। এই তহবিলের টাকা খরচের হিসেব মেলেনি। কিন্তু প্রশাসনের একটি শীর্ষ সূত্র বলছে, একদা সারদা গোষ্ঠীর হাতে থাকা একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেল চালাতেই খরচ হচ্ছে ত্রাণ তহবিলের অনেকটা টাকা। এই টাকায় মূলত ওই চ্যানেলের কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
জনগণের করের টাকা ত্রাণ তহবিলে ঢুকিয়ে তাই দিয়ে কেন চ্যানেল চালানো হবে, সেই প্রশ্ন যেমন থাকছে। তেমনই বাজেট বরাদ্দের টাকা ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার মতো ‘বেআইনি’ কাজ সরকার কেন বারবার করে চলেছে, তারও ব্যাখ্যা মেলেনি। নবান্নে পাঠানো রিপোর্টের পার্ট-২ (এ) অনুচ্ছেদে সিএজি স্পষ্ট বলেছে, ২০১৩-এর মার্চে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সরকার যে ভাবে ১ কোটি টাকা জমা করেছে তা বেআইনি। এই বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করার পরেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই বছরেরই জুলাই মাসে ফের ১ কোটি টাকা একই ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। কিন্তু সেই অর্থে কারা সাহায্য পেয়েছেন, কী ভাবে তাঁদের বাছাই করা হয়েছিল, বাছাইয়ের মাপকাঠিই বা কী ছিল, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি পাওয়া যায়নি বলে নবান্নকে জানিয়েছে সিএজি।
তার পরেও সরকারি কোষাগারের টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। নবান্ন সূত্র বলছে, চলতি আর্থিক বছরেই ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা তুলে ত্রাণ তহবিল ভরেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। এর মধ্যে মে মাসে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা, জুন মাসে ১ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি টাকা জমা পড়েছে। প্রশাসনের একাংশের অনুমান, বছরের শেষে টাকার অঙ্কটা আরও বাড়বে।
আমজনতার করের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করা যাবে না, এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ প্রশাসনেরই একটা অংশ। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, রাজ্যের অর্থ-বিধিতে এ নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা নেই। মুখ্যমন্ত্রীই যে হেতু প্রশাসনের প্রধান, তাই তাঁর সরকারের এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে টাকা পাঠানোর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। তবে একই সঙ্গে বিষয়টি যে প্রথা বহির্ভূত এবং এক কথায় নজিরবিহীন, সে কথাও কবুল করেছেন ওই অফিসারেরা।
ক্ষমতায় এসে নিজের আঁকা ছবি বিক্রির ১ কোটি টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করার ঘোষণা করেছিলেন মমতা। তার পরে বেশ কিছু সংগঠন টাকা জমা করলেও দান-খয়রাতি এত বেড়ে গিয়েছে যে তহবিলের অর্থ তলানিতে ঠেকেছে এবং সেই ঘাটতি পূরণ করতেই শেষ পর্যন্ত করের টাকায় হাত দিতে হচ্ছে বলে মত প্রশাসনের একাংশের। নবান্নের এক কর্তা বলেন, “সরকারি নিয়ম-কানুন আমরাও জানি। কিন্তু উপরমহলের নির্দেশ মেনে নেওয়া ছাড়া কী-ই বা করার আছে?”

আরও পড়ুন -

বেতন-পেনশনে না, তবু খামতি নেই উপহারের মমতায়

Saturday, September 27, 2014

পাল্টার রাজনীতি তাই বিশ্ববঙ্গের অনন্য ঐতিহ্য


সম্পাদকীয়

পাল্টা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, 
(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)






পশ্চিমবঙ্গে এখন শুধুই পাল্টা দানের খেলা। তুমি যাদবপুরের উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিছিল করিলে কেন? তাহা হইলে আমিও তাঁহার সমর্থনে পাল্টা জনজোয়ার ডাকিব। কার্যক্ষেত্রে সে জোয়ার যতই অস্ফুট বুদ্বুদসম প্রতিভাত হউক না কেন, মিছিল তো হইল! তুমি চিট ফান্ডের প্রতারণার বিরুদ্ধে মিছিল ডাকিলে? বেশ, আমি এখনই সরকারবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা মিছিল ও ধর্নার ডাক দিব। তুমি আলু-ব্যবসায়ী, আমার নির্ধারিত দামে ক্ষতি স্বীকার করিয়াও আলু বিক্রয় করিবে না? এখনই পাল্টা দিব, প্রয়োজনে ট্রাক আটকাইয়া আলু মিলনমেলায় আনিয়া সরকারি ভাবে বিক্রয়ের বন্দোবস্ত করিব, না পারিলে ধাপার মাঠে পাঠাইয়া দিব। কয়েক টন আলু পচিল বটে, কিন্তু বেয়াড়া ব্যবসায়ীগুলার পাল্টা শিক্ষা হইল! তুমি সংক্রমণের কারণকে জ্বর না বলিয়া এনসেফ্যালাইটিস দেখাইলে? এখনই পাল্টা দিব, তোমার হাত হইতে যাবতীয় দায়দায়িত্ব কাড়িয়া লইব। পাল্টা দানের এই খুচরো খেলা তাস, দাবার আসরে চলিতে পারে। কিন্তু এখানে রণনীতির মহাকাব্যিক বিস্তার নাই, শেষ অবধি হেক্টর বধ বা দুঃশাসনের রক্তপান কিছুই ঘটে না। তাহা সম্ভবও নহে। প্রাকৃত শব্দ পলট্ট হইতে আমদানিকৃত পাল্টা নামক বিশেষ্য পদটি বাংলার নিজস্ব অভিজ্ঞান। কবিগানে অন্য পক্ষকে উত্তর দানের নামই পাল্টা। তরজা-সংস্কৃতি বেয়েই বঙ্গভাষায় প্রত্যুত্তর শব্দের অর্থ: পাল্টা জবাব। পাল্টার রাজনীতি তাই বিশ্ববঙ্গের অনন্য ঐতিহ্য। বাংলাকে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন দান করিবার লক্ষ্যে নিবেদিতপ্রাণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সেই ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক হইবেন, ইহাতে আর আশ্চর্য কী!
পাল্টার অন্যতম বৈশিষ্ট্য: বিরোধীকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। প্রাচীন কালে রাজানুগ্রহ লাভের ক্ষেত্রে কবির নিজস্ব কাব্যকৃতিই ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু তরজায় শুধু কাব্যকৃতি নহে, গায়িকা যজ্ঞেশ্বরীকে জগা বা ভোলানাথকে ভোলা ময়রা বলিয়া তুচ্ছ করার ক্ষমতাই প্রধান। পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি হইতে রায়গঞ্জ, যাদবপুর সবই যখন সাড়ে তিন বছর ধরিয়া একাদিক্রমে তুচ্ছ ঘটনার অভিধা পায়, তাহাকে আর রাজনীতি বলা যায় না। শাসকের রাজনীতিতে মতাদর্শগত আধিপত্য বিস্তারের ব্যাঞ্জনা থাকে, পাল্টা দেওয়ার তরজা সংস্কৃতি নহে। বাম জমানার অন্তিম পর্বে ‘আমরা বনাম ওরা’ বা নন্দীগ্রামকাণ্ডের পাল্টা মিছিলেও সেই আধিপত্য বিস্তারের দুর্বল রেশ ছিল। সব কিছু তুশ্চু জ্ঞান করিবার তরজা গাওয়া হইত না। নির্বিচারে ক্যাডার নামাইয়া বিরোধীদের একই মুদ্রায় শোধ দেওয়া হইত। ভ্রান্ত আদর্শ বরাবর বিরোধিতাকে চক্রান্ত বলিয়া প্রমাণ করিতে চাহে। কিন্তু তরজা-সংস্কৃতি সেই পরিশ্রমটুকুও স্বীকার করে না, বিরোধিতাকে কুৎসা বলিয়া খেউড় গানের আসর জমানোই তাহার একমাত্র লক্ষ্য।
পাল্টার এই জনসংস্কৃতিতে পাল্টি খাওয়াই রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। পাল্টানো মানে নিছক পরিবর্তন নহে, আরও কিছু। বাংলা ব্যাকরণের পরীক্ষায় নম্বর পাইবার জন্য পড়ুয়াদের বিপরীতার্থক শব্দের তালিকা মুখস্থ করিতে হয়। কিন্তু সেই তালিকায় সকল শব্দের প্রবেশ থাকে না। সব শব্দের বিপরীত হয় না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং সমাজ এই সীমার অবসান চাহিতেছে। সে মনে করে, সব কিছুর বিপরীত চাই। সে প্রশ্ন তোলে, তুমি মিছিল করিলে আমি পাল্টা দিব না কেন, তুমি সিপিএমত্ব দেখাইলে আমিই বা কেন তৃণমূলত্ব দেখাইব না। তুমি অধম হইলে আমি পাল্টা অধমতর হইব না কেন। কথা একটিই। বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস বা কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামের বাংলা ভাষায় পালট বা পাল্টা শব্দটি নিছক পরিবর্তনকে বুঝায় না। তাহা এক বিশেষ পরিবর্তন: পশ্চাতে ফেরা। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয় বাংলার এই ভাষা-সংস্কৃতি বিস্মৃত হন নাই!

Common ailment of Politicians to save themselves from trial!

উৎকণ্ঠায় বুক ধড়ফড়, মদন ফের হাসপাতালে

নিজস্ব সংবাদাতা (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, 


শ্বাসকষ্ট, অম্বল, অনিদ্রা, বুক ধড়ফড় ও পেট ফুলে যাওয়া। এই সব উপসর্গ নিয়ে শনিবার দুপুরে ফের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মদন মিত্র। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর।
তবে আপাতত তাঁর হৃদযন্ত্র একেবারে ঠিকঠাক কাজ করছে। চিকিৎসকেরা দেখেছেন, মন্ত্রীর রক্তচাপ ১৭০/৯০। নাড়ির গতি ৯০ থেকে ৯৫ এর মধ্যে। এ দিন মদনবাবুর চিকিৎসা করেন অভিজ্ঞান মাজি। তিনি বলেন, “নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল বলে রোগীকে অল্প অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। হাল্কা ঘুমের ওষুধ ও গ্যাস-অম্বলের ওষুধও চলছে।” চিকিৎসকের পরামর্শ মন থেকে সব উৎকণ্ঠা-আতঙ্ক সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে মন্ত্রীকে।
প্যানিক অ্যাটাক রোগটা কী?
মনোচিকিৎসক মলয় ঘোষাল বলেন, “কোনও বিশেষ কারণে রোগী প্রবল আতঙ্কে ভোগেন। হাত-পা কাঁপে, বুক ধড়ফড় করে, প্রচুর ঘাম হয়। অনেকের গলা শুকিয়ে যায়, নিঃশ্বাসে কষ্ট হয়। যে কোনও সময় দম বন্ধ হয়ে যাবে রোগী এমন ভয় পেতেও শুরু করেন।” চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, রোগীর মনে যে ভয় বাসা বেঁধেছে তা যে কোনও সময় বাস্তবায়িত হবে, এমন আতঙ্ক চেপে ধরে তাঁকে। সেই আতঙ্ক জন্ম দেয় প্যানিক অ্যাটাক-এর।
গত ২১ অগস্ট এই হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছিলেন মদনবাবু। সে বারেও একই উপসর্গ ছিল। কিন্তু এক মাসের মধ্যে মন্ত্রীকে কেন হাসপাতালে ভর্তি করতে হল, তা নিয়েই চিন্তিত চিকিৎসকেরা। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বলছেন, সারদা-কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তাঁর এক প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক বাপি করিমের। করিমকে ডেকে জেরাও করেছেন তদন্তকারীরা। মন্ত্রীর এক বর্তমান ছায়াসঙ্গী প্রশান্ত প্রামাণিকও সিবিআই জেরার মুখে পড়েছেন। সিবিআই সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের কৌশলের কাছে হার মেনে বহু গোপন কথাই জানিয়েছেন তাঁরা। ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা, তার পর থেকে মদনবাবু ভীষণ মানসিক চাপে রয়েছেন। তাঁর বুক ধড়ফড় করছে, ঘুমও ছুটেছে।
চিকিৎসকদের মন্ত্রী জানিয়েছেন, এ দিন সকালেই তাঁর বুকে ব্যথা চাগাড় দেয়। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় সরকারি অনুষ্ঠানেও যেতে পারেননি। ক্রমশ সেই ব্যথা বাড়তে থাকায় দুপুরে নিজেই ফোন করেন ওই হাসপাতালের সিইও প্রদীপ টন্ডনকে। তার পরে তাঁকে চার তলার একটি কেবিনে চিকিৎসক সুব্রত মৈত্রের অধীনে ভর্তি করা হয়। সুব্রতবাবু তখন হাসপাতালে ছিলেন না। তাঁর দলের অন্য চিকিৎসকেরা মন্ত্রীকে পরীক্ষা করেন। টন্ডন বলেন, “আমাকে ফোন করার কিছু ক্ষণের মধ্যেই মন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছ যান। উনি বেশ ধীরে হাঁটাচলা করছিলেন, হাঁফাচ্ছিলেন। দুর্বল ও অসুস্থ লাগছিল ওঁকে। হুইলচেয়ারে বসিয়েই ওঁকে কেবিনে পাঠানো হয়।”
গত মাসে আট দিন হাসপাতালে ছিলেন মদনবাবু। ডাক্তাররা তাঁকে ছাড়ার কথা বললেও মন্ত্রী আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে চেয়েছিলেন। সেই আর্জি মানা হয়নি। সূত্রের খবর, মন্ত্রীর অসুখ নিয়ে সিবিআই হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পরেই মদনবাবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন তাড়াতাড়ি ছাড়া হয়েছিল বলেই কি বুকের ব্যথা বাড়ল? টন্ডন বলেন, “রোগী পুরোপুরি সুস্থ না-হলে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। আগের বার মন্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন বলেই তাঁকে ছাড়া হয়েছিল।”

Saturday, September 6, 2014

Who got money - Asif Khan ready to reveal Saradha scam


Express News Service | Kolkata | September 6, 2014 2:24 am
Trinamool Congress leader Asif Khan, who has been in hiding for some time , surfaced Friday and said he was ready to speak to the CBI and ED if summoned in connection with the multi-crore Saradha chit fund scam.
“I did not receive any notice from CBI and ED as of now. If I am summoned I would speak. CBI is investigating into the matter, and it is good,” he said appearing before news channels.
Khan, whose Park Circus residence was searched by the CBI recently, alleged that many TMC leaders had amassed wealth in the last three years.
“I have seen many TMC leaders who used to sleep on empty stomach. Now many of them have Rs 100 croreto Rs 1,000 crore in their pockets. I do not know from where that money came.”
Khan had taken over a newspaper called ‘Ajker Kalam’ from Saradha CMD Sudipta Sen and was under scanner for his business deals with Sen.
Khan, who was the TMC’s observer  in Uttar Pradesh during the 2014 Lok Sabha elections, said he has resigned from the post.
However, he maintained he was still a member in the party.
Khan was  known as one of the closest associates of TMC general secretary Mukul Roy.
TMC sources revealed that Roy has severed ties with Khan and after he fell out with the TMC general secretary, Roy had in a statement said Khan was no more a TMC member.
Talking to The Indian Express, Khan said: “I am still a member in the party. I resigned from the post of observer in UP as I was not able to visit the state regularly.”
He denied Roy’s claim and said, “I did not know what Roy said about me. But I never received any official notice of expulsion from the party.”
Denying having gone “underground”, Khan said, “I was in Singapore when the CBI conducted search operations at my residence. I was never absconding and why should I abscond?”
He added he never received any notice from the CBI or ED.
Khan could not be contacted for several days after the raids.
“If I had received any notice from the agencies, I would have given them information which I have. But if I do not know something, then how can I tell them? “ asked Khan.
Sources revealed that Khan covertly tried to contact senior officials in the agencies and sent a message that he was ready to share “important information” about some TMC leaders.

Now these Trinamool leaders command assets worth Rs 500 crore to Rs 1,000 crore - Asif Khan

Asif dig at TMC leaders’ quick-rich story




Asif Khan
KOLKATA: Businessman Asif Khan, once the close aide of a former Trinamool Congress Union minister, made an explosive statement on Friday, alleging that several Trinamool leaders have made "fortunes" over the past three years.

"I have seen some of these leaders going to sleep without food. Now these leaders command assets worth Rs 500 crore to Rs 1,000 crore. I do not know who gave them the money or from where it was accumulated. It must be good for all of them is my only guess," Asif — whose house was raided by CBI on August 29 for alleged Saradha links — told a TV news channel.

Asif is editor of Aajker Kalom — the reincarnated version of Saradha publication Kalom — and was convenor of Trinamool's Uttar Pradesh unit. His statement is likely to stir a hornet's nest in the party. What's interesting is that the top Trinamool leader he was once close to also made a Saradha remark recently that triggered tremors within. This leader's son, too, had sparked controversy some time ago by saying that "fortune seekers" were grabbing all the limelight in Trinamool.

It's a pattern that whenever Trinamool mid-level leaders are cornered in the Saradha probe, they come out with explosive media statements against the top brass of the party. For instance, suspended Trinamool MP Kunal Ghosh had alleged two days after his arrest in November last year that the Trinamool top leadership met Saradha mastermind Sudipta Sen at Delo near Kalimpong in March 2012 on the sidelines of an official tour of chief minister Mamata Banerjee. Sources say CBI wants to question Ghosh on his sensational allegation. Officers, however, said it was too early to say if the meeting had indeed take place. "We are looking into the allegations just like we are probing the Saradha-IRCTC deal," said a source. Trinamool has repeatedly denied there was any such meeting.

There was enough indication on Friday that CBI is getting to closer to the "high and mighty" involved in the Ponzi scam. Sources said the probe will include a fresh accusation made by businessman Sandhir Agarwal, who was arrested some time ago. "During the initial rounds of questioning, Sandhir kept refuting the charges that he was a middleman in a deal involving Saradha and Sebi and RBI officials. Instead, he told CBI investigators how Sudipta Sen flaunted his connections with the Trinamool leadership. Sandhir claims that it was not him but Sudipta who had agreed to play middleman to iron out differences between the Orion group and Trinamool," said a source.

CBI is trying to file a preliminary chargesheet at the earliest to establish the role of some politicians. The key to this chargesheet is locker No. 107 of a nationalized bank branch on College Street in Kolkata. Its key was found during a search at the residence of former East Bengal Club functionary Paltu Das on August 28. Sources say the contents of this locker can unravel the cash flow from Saradha HQ to various beneficiaries.

The locker might be opened next week. Though it was in the name of a person close to Paltu Das, it was reportedly operated by East Bengal Club boss Debabrata Sarkar aka Nitu, say sources.

"In his letter, Sudipta had mentioned that he carried cash to be distributed to Nitu to either East Bengal club or a residence near Amherst Street that is close to the Das family residence," said a CBI source, adding that they are checking certain memos that show large volumes of cash were transported at night from Saradha's Midland Park HQ to a an Amherst Street address.

Mamta paintings 'bought' by Sudipto after IRCTC deal with Saradha?

IRCTC RAINED MAMATA ON SARADHA WHEN DIDI WAS RAILWAY MINISTER

Tuesday, 02 September 2014 | Saugar Sengupta | Kolkata




CBI probes Railway subsidiary’s deal with Saradha Tours & Travels in 2010
Startling revelations in the Saradha chit fund scam probe could pose uncomfortable questions to West Bengal Chief Minister and TMC chief Mamata Banerjee. The CBI has found that the Indian Railways Catering and Tourism Corporation (IRCTC), a subsidiary of Indian Railways, had struck a business deal with Saradha Tours and Travels owned by the jailed ponzi kingpin Sudipto Sen in   2010 for a tourism package called Bharat Teertha.  Banerjee was the Railway Minister at that time.
In another development, the Enforcement Directorate (ED) has learnt that Saradha funds were transferred to the account of the daughter of Brazilian football star Barreto, who played for East Bengal Club for years. The ED suspects the involvement of Sports Minister Madan Mitra in the fund transfer.
While Minister of State for Railways Manoj Sinha said: “No one will be spared if found guilty,” his predecessor Adhir Chowdhury maintained that “such a deal would not have been possible had the then Railway Minister not played a role.”
Mamata is already under a cloud in the Saradha scam since Sudipto Sen purchased her paintings at an exorbitant price. The fact that IRCTC granted favours to the chit fund company when she was the Railway Minister could further muddy the water for her.
Meanwhile, flipping through bank statements recovered from various places, the ED stumbled upon an account where a huge amount of money from Saradha Tours and Travels had been transferred to the bank account of Barreto’s daughter Natalia Barreto at Panaji, sources said adding the first transfer took place in January 2012.
Further investigations revealed that “in the same year, huge amounts were transferred to the same account not once but about 15-16 times.” The ED will question the Brazilian footballer who is not in India currently.
Sources said the shady transfer “could explain the huge amount of money that was not accounted for during the Brazilian veterans’ soccer tournament organised a couple of years ago.” The match was organized under the auspices of Bengal Transport and Sports Minister Madan Mitra whose name has repeatedly come up in the Saradha deal. Sources also said that the names of two MPs and a Minister had come up during investigations. The CBI sources said they were planning to summon Mitra in a few days for questioning.
Meanwhile the ED on Monday summoned former chief of Tara channels Ratikanta Basu. Sudipto Sen in his statements to the ED has said that though Basu had sold off his four channels to him payments had not been made for the same.

Friday, August 29, 2014

Cheap publicity stunt by Mamta on Sarada

সম্পাদকীয় ২

তৃতীয় রিপু

১৬ মে, ২০১৪, ০০:০০:০০


  (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

সারদা কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই-এর হস্তে অর্পিত হইলে যে মুখ্যমন্ত্রীর ‘আমানত ফেরত অভিযান’-এর উত্তরাধিকারটিও সহগামী হয়, রাজ্যবাসী তাহা সদ্য জানিয়াছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষবিপক্ষের রাজনীতিকরাও জানিয়াছেন এবং নিজ নিজ রাজনৈতিক বর্ণের প্রতি বিশ্বস্ত থাকিয়া প্রতিক্রিয়াও জানাইয়াছেন। কেহ রাজকোষ হইতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার অযৌক্তিকতার কথা তোলেন নাই। রাজকোষ উজাড় করিয়া খয়রাতিতে যে অনৈতিক কিছু আছে, জনপ্রিয়তাসর্বস্ব রাজনীতিতে আকণ্ঠ মজ্জিত নেতারা সম্ভবত তাহা বুঝিতে পারেন না। বুঝিলেও, আমানতকারীরা কেন ডুবিয়াছেন, তাহা স্বীকার করিতে তাঁহাদের রাজনীতিতে বাধে। অসাধু লগ্নি সংস্থায় টাকা রাখিয়া আজ যাঁহারা নিঃস্ব, তাঁহারা স্বখাতসলিলে ডুবিয়াছেন। লোভ তাঁহাদের ডুবাইয়াছে। সেই তৃতীয় রিপু। অর্থবান হইবার লোভ, সচ্ছলতার লোভ। ভাল থাকিতে চাহিবার মধ্যে কোনও অন্যায় নাই। বস্তুত, ওই আদিম রিপুটির তাগিদেই মানবসভ্যতা আগাইয়াছে। কিন্তু, ভাল থাকিবার ইচ্ছা এক কথা, তাহার জন্য কাণ্ডজ্ঞানবিস্মৃত হওয়া আর এক। যেখানে সৎ পথে বড় জোর আট শতাংশ সুদ মিলে, সেখানে সারদার ন্যায় সংস্থা কী ভাবে চার বৎসরে লগ্নি দ্বিগুণ করিয়া দিতে পারে, এই প্রশ্নটি না করিবার মধ্যে বিপুল দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আছে। যাঁহাদের টাকা মার গিয়াছে, তাঁহারা গরিব বলিয়াই এই লোভ মার্জনা করিতে হইবে?

সত্য, লোভ বস্তুটি গরিবের একচেটিয়া নহে। ২০০৭-০৮ সালের যে আর্থিক সংকট গোটা দুনিয়াকে নড়াইয়া দিয়াছিল, তাহারও মূলে ছিল লোভ। বিত্তশালীদের লোভ। লোভ ব্যতীত কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারিই সম্ভব নহে। জালিয়াতির মূলধন হইল প্রাপ্যের অধিক পাইবার বাসনা। সব লোভই যে বন্ধ্যা, তাহাও নহে। সারদায় বিনিয়োগ করিয়াও অনেকেই প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত পাইয়াছেন। তাঁহাদের প্রাপ্তি দেখিয়া আরও অনেকের লোভ বাড়িয়াছে। তাঁহারাও বিনিয়োগ করিয়াছেন। যে কোনও পনজি স্কিমেই শেষ দফার বহু লোকের টাকা মার যাওয়া প্রথম দিকের আমানতকারীদের লাভের শর্ত। সারদার ক্ষেত্রেও সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে নাই। নেতা-মন্ত্রীদের হাবভাব দেখিলে আশঙ্কা হয়, ভবিষ্যতেও এই গোত্রের প্রকল্প এবং তাহার প্রতারণার ধরন অব্যাহত ও অপরিবর্তিত থাকিবে।
এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল খুলিয়া ভবিষ্যতের বিপদের জমি প্রস্তুত করিতেছিলেন। সাধারণ মানুষ জানিবেন, এক বার যখন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দিয়াছেন, ভবিষ্যতেও দিবেন। অর্থাৎ, তাঁহার বর্তমান খয়রাতি ভবিষ্যৎ আমানতকারীদের জন্য একটি বিমা হইয়া থাকিল— আর্থিক সংস্থা ফেল করিলে সরকার বাঁচাইবে। এই বিনিয়োগে ঝুঁকি নাই, কারণ সরকার সেই ঝুঁকির দায়িত্ব লইতেছে। যে কোনও স্বেচ্ছা-বিনিময়ই লাভ-ঝুঁকির আপেক্ষিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। জালিয়াত সংস্থায় লাভের পরিমাণ যেমন বেশি, ঝুঁকিও তেমনই বেশি। সরকার সেই ঝুঁকির দায়িত্ব লইলে লাভের পাল্লা ঝুঁকিয়া পড়ে। ফলে, জালিয়াত সংস্থার বাড়বাড়ন্ত হইবে। জনপ্রিয়তা অর্জনের অদম্য তাড়নায় রাজ্য সরকার যাহা করিয়াছে, তাহা পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষকে আরও বেশি দায়িত্বজ্ঞানহীন, লোভী হইয়া উঠিতে উৎসাহ দিতে পারে। এবং, অন্যান্য দলের নেতারাও দৃশ্যত এই বিপজ্জনক খেলার আগ্রহী দর্শক। লোভ তাঁহাদেরও বড় কম নহে।

Ponzi scheme money in show biz?

লগ্নি সংস্থার টাকা কি টলিউডে, ফের প্রশ্ন

ইন্দ্রনীল রায়   (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতা, ২৯ অগস্ট, ২০১৪, ০৪:০০:৩৪


সারদায় সিবিআই হানা নিয়ে তোলপাড়ের মুহূর্তেই টলিউডে ফের মাথা চাড়া দিল বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার ভ্রূকুটি।
গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট টালিগঞ্জে একটি পরিচিত নাম। তাদের প্রযোজিত একটি ছবি মুক্তি পেতে চলেছে আজ, শুক্রবার। আরও বেশ কয়েকটি ছবির কাজও চলছে এই প্রযোজকের ব্যানারেই। নতুন ছবির পোস্টারে, আমন্ত্রণপত্রে ছবির নিবেদক হিসেবে নাম রয়েছে শ্যামসুন্দর দে-র। এই শ্যামসুন্দর দে গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড নামে সংস্থারও কর্ণধার। যার আর্থিক লেনদেনের উপরে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেবি।
চলতি মাসের ৭ তারিখ সেবি-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “এই সংস্থা (গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড) ১৯৫৬ সালের কোম্পানি আইন এবং ২০০৮ সালের সেবি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে ৪৯ জনের বেশি ব্যক্তির কাছ থেকে সিকিওরড রিডিমেব্ল ডিবেঞ্চারের (ফেরতযোগ্য ঝুঁকিহীন ঋণপত্র) মাধ্যমে টাকা তুলেছে।”
এই পরিস্থিতিতে গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর প্রতি সেবির নির্দেশ, “সেবি-র আগাম অনুমতি ছাড়া এই সংস্থা বা তার ডিরেক্টররা জনসাধারণের কাছ থেকে তোলা টাকায় কেনা সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। এই সূত্রে পাওয়া টাকা সংস্থার তহবিলে বা কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা থাকলে তা-ও খরচ বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।”
এই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের কাজকর্ম ঘিরেও আইনি জটিলতার একটা সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের মতে গোটা বিষয়টা নির্ভর করছে, গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের সঙ্গে গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর কী সম্পর্ক, তার উপরে। গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড যদি গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের মূল সংস্থা (মাদার কোম্পানি) হয়, তা হলে সেবি-র নিষেধাজ্ঞা প্রযোজক সংস্থার উপরেও বর্তাতে পারে। ওই আইনজীবীদের বক্তব্য, সে ক্ষেত্রে হয় প্রযোজকদের প্রমাণ দিতে হবে যে, অর্থলগ্নি সংস্থার মাধ্যমে তোলা টাকা ছবির প্রযোজনায় খাটেনি। নচেৎ সেবি-র কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। দু’টোর কোনওটাই করা না-হলে সেবি পদক্ষেপ করতে পারে।
গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড এবং গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট-এর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কী? শ্যামসুন্দরবাবু বলেন, “এই দু’টি সংস্থা আলাদা।” 
গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর যে চার জন কর্ণধারের নামে সেবি নির্দেশিকা জারি করেছে, তাঁরা হলেন শ্যামসুন্দর দে, স্নেহাশিস সরকার, সুজয় সাহা এবং সুমন সরকার। গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত সিনেমার পোস্টারে প্রযোজক হিসেবে শ্যামসুন্দর দে-র নামই থাকে। শুক্রবার মুক্তি পেতে চলা ছবির ক্ষেত্রেও তাই-ই রয়েছে। শ্যামসুন্দরবাবু এ দিন স্বীকার করেছেন, তিনি গ্রিনটাচ প্রোজেক্টস লিমিটেড-এর অন্যতম ডিরেক্টর। তাঁরই প্রযোজনায় তৈরি অভিজিৎ গুহ এবং সুদেষ্ণা রায় পরিচালিত এই ‘হারকিউলিস’ ছবিতে অভিনয় করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।
কী ভাবছেন শ্যামসুন্দরবাবু? তাঁর কথায়, “সেবি কী বলেছে, আমি ভাল করে জানি না।” কিন্তু সংস্থার এক জন কর্ণধার হিসেবে সেটা কী করে অজানা থাকল শ্যামসুন্দরবাবুর? “যদি জানতাম, তা হলে নিশ্চয়ই আপনাকে জানাতাম,” বলছেন তিনি। তাঁর প্রযোজনা সংস্থায় অর্থলগ্নির টাকা খাটে কি না, সে সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি শ্যামসুন্দরবাবুর কাছ থেকে।
টলিউডের বাজারে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার টাকা খাটার বিষয়টি অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। এই জাতীয় বহু সংস্থাই বাংলা ছবিতে টাকা ঢেলেছিল। ২০১১-১২তে টলিউডে ৬০-৭০ শতাংশ ছবিই প্রযোজনা করত এই সংস্থাগুলো। সারদা কেলেঙ্কারির পরে অবশ্য তারা বেশির ভাগই বিনোদন ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে।
প্রয়াগ গ্রুপ, অ্যালকেমিস্ট, রেম্যাক ফিল্ম, রুফার্স মিডিয়া, সিলিকন গ্রুপ অব কোম্পানিজ, আইকোর এন্টারটেনমেন্ট রাতারাতি নিজেদের সরিয়ে নেয়। ‘ভাল থেকো’, ‘একটি আষাঢ়ে গল্প’, ‘আমি সায়রা বানু’, ‘জলে-জঙ্গলে’, ‘কাঁচের দেওয়াল’-এর মতো বহু ছবি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এমনকী ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু কমিউনিকেশনস’-এর ব্যানারে ‘মনের মানুষ’, ‘ল্যাপটপ’ ও ‘শব্দ’ বা ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর মতো ছবি করা ‘রোজ ভ্যালি’-ও নিজেদের বিনোদন বিভাগ বন্ধ করে দেয়।
‘গ্রিনটাচ’-এর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইদানীং টালিগঞ্জের কার্যত নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত যুবকল্যাণ ও আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মন্তব্য করতে চাননি। প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা বলছেন, “ঘটনাটা দুর্ভাগ্যজনক। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার উপস্থিতি টালিগঞ্জের অনেক ক্ষতি করেছে।” তবে ইন্ডাস্ট্রির বেশির ভাগেরই একটাই প্রশ্ন, “কাউকে বাইরে থেকে দেখে কী করে বোঝা যাবে তার টাকার উৎস কী?”
তবে কি এখনও অনেক অর্থলগ্নি সংস্থা বকলমে টালিগঞ্জে টাকা ঢেলে চলেছে? প্রযোজক পীযূষ সাহার দাবি,  বেশ কিছু সংস্থা ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকে টাকা তুলে টালিগঞ্জে বিনিয়োগ করছে। প্রসঙ্গত, সেবি-র নির্দেশিকায় গ্রিনটাচ-এর টাকা তোলার ক্ষেত্র হিসেবেও বিহারের কথাই বলা হয়েছে।
শ্যামসুন্দরবাবুর সঙ্গে কাজ করা কলাকুশলীরা এ ব্যাপারে কিছু জানেন কি? পরমব্রত বলেন, “আমি এটুকুই জানি, শ্যামসুন্দরবাবু সৎ মানুষ। আমি মনে করি, উনি কখনওই আইনবিরোধী কাজ করবেন না।” রাজ চক্রবর্তীর মন্তব্য, “ব্যাপারটা ঠিক জানি না। শুধু চাইব, ওঁর যেন কোনও ক্ষতি না হয়।”

Madan Mitra to be interrogated by CBI

মদন মিত্রকে এ বার জেরা করতে চায় সিবিআই

নিজস্ব সংবাদদাতা   (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অগস্ট, ২০১৪, ২০:৪১:৪২




সারদা কেলেঙ্কারিতে এ বার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের এই বক্তব্যের সমর্থন মিলেছে সিবিআইয়ের অধিকর্তা রঞ্জিত সিন্হার কথাতেও। এ দিন দিল্লি থেকে ফোনে এই প্রসঙ্গেই অধিকর্তা বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মামলা গুটিয়ে আনছি। অফিসারদের পেশাদার মনোভাব নিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।”
ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে মদন মিত্র একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। যদিও শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পান। তবে কবে মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মদনবাবু একটু সুস্থ হলেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও এ দিন সারদা প্রসঙ্গে সিবিআইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। এ দিন বসিরহাটে মুকুলবাবু বলেছেন, “বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে সিবিআই চার্জশিট দিয়েছিল। কংগ্রেস আমলে নরেন্দ্র মোদীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ১৯ ঘণ্টা জেরা করেছিল সিবিআই। ফলে সিবিআই যে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, তা সকলের জানা।”
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা অবশ্য বলছেন, গত দু’দিনে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে সিবিআইয়ের হাতে যে তথ্যপ্রমাণ এসেছে তার ভিত্তিতেই এ বার পরিবহণ মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এসেছে। বৃহস্পতিবার মদনের ঘনিষ্ঠ রেজাউল ওরফে বাপি করিমের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। ওই দিন দুপুরে সল্টলেকে ডেকে জেরা করা হয় তাঁকে। শুক্রবার দুপুরেও বাপিকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে বাপি অবশ্য নিজেকে ও মন্ত্রীকে সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কহীন বলেই দাবি করেছেন।
এ দিন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতুকে আদালতে পেশ করা হয়। সিবিআই তাঁকে আর নিজেদের হেফাজতে রাখতে চায়নি। বিচারক তাঁকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সিবিআইয়ের বক্তব্য, সেবি এবং আরবিআই অফিসারদের সঙ্গে সুদীপ্তর তরফে মধ্যস্থতা করতেন নিতু। তাঁর কাছ থেকে আরবিআইয়ের একাধিক কর্তার নাম জানা গিয়েছে। সিবিআইয়ের হাতে ধৃত ব্যবসায়ী সন্ধির অগ্রবালের অফিস থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে যেখান থেকে বহু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে।
অসমে মনোরঞ্জনা সিংহকে সঙ্গে নিয়ে সিবিআই অফিসারেরা এ দিন তাঁর খারগুলি ও রুক্মিণীগাঁওয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালান। তল্লাশি চালানো হয় রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি জি এম শ্রীবাস্তবের বাড়িতেও। এ দিন মনোরঞ্জনাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। শুক্রবার অসমের ছাত্র সংগঠন আসুর সভাপতি শঙ্করপ্রসাদ রায় ও হিমন্তর স্ত্রীর মালিকানাধীন চ্যানেলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা তথা রাজীব বরার বাড়িতেও এ দিন তল্লাশি চালায় সিবিআই।

Letter of Sudipta Sen Sardha Group CMD to CBI

Sudipta Sen, CMD Sarada Group Letter to CBI





















(Pic Courtesy : http://www.scribd.com/doc/137809857/Sudipta-Sen-CMD-Sarada-Group-Letter-to-CBI)

Close Mamta aides interrogated by CBI on Saradah scam

সারদায় শুরু মাথার খোঁজ

সকালে হানা মদন-ঘনিষ্ঠের বাড়িতে, ডাক জেরাতেও

নিজস্ব প্রতিবেদন    (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

২৯ অগস্ট, ২০১৪, ০৪:১১:১৫










সিবিআই জালে এ বার প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতাশালী ঘনিষ্ঠরা।
তিন রাজ্য জুড়ে সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা এ দিন নিছক ২২ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাননি। তাঁরা হানা দিয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতেও। সেই তালিকায় এমন কয়েক জন রয়েছেন, যাঁরা আবার ক্ষমতাশালী নেতা বা মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার এতগুলি জায়গায় হানা দিয়ে সিবিআই অফিসারেরা যে তথ্য পেয়েছেন, মনে করা হচ্ছে, তার ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বড় ‘মাথা’দের নিজেদের জালে টেনে আনতে পারেন তাঁরা। 
সারদা কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের রায় দেওয়ার সময়েই সুপ্রিম কোর্ট সমাজের প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার কথা বলেছিল। দু’দিন আগে সিবিআই অধিকর্তা রঞ্জিত সিন্হাও বলেছিলেন, “ধৈর্য ধরুন। যাঁরা জড়িত, একে একে সবাইকে টেনে আনা হবে আমাদের জালে।” সেটা যে ফাঁকা আওয়াজ ছিল না, তার প্রমাণ পাওয়া গেল বৃহস্পতিবার।
রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রেজাউল করিমের বাড়ি ছিল এ দিন সিবিআইয়ের অভিযানের তালিকায়। তৃণমূলের আর এক নেতা আসিফ খানের পার্ক সার্কাসের বাড়িতেও এ দিন তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। বাদ যাননি প্রাক্তন পুলিশকর্তা দেবেন বিশ্বাসও। এক সময়ের সিপিএম বিধায়ক এই পুলিশকর্তা সারদা থেকে নিয়মিত বেতন নিতেন। এ ছাড়াও, সিবিআইয়ের হাতে ধৃত ব্যবসায়ী সন্ধির অগ্রবালের অফিস এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রয়াত কর্তা পল্টু দাসের বাড়ি, ব্যবসায়ী সজ্জন অগ্রবালের অফিস-সহ কলকাতার মোট সাত জায়গায় হানা দেয় সিবিআই।
অসমেও এ দিন অভিযান চালানো হয়েছে প্রভাবশালীদের বাড়িতে। সে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অঞ্জন দত্ত, প্রাক্তন পুলিশকর্তা শঙ্কর বরুয়া এবং গায়ক সদানন্দ গগৈয়ের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। গুয়াহাটিতে আরও ৯ জায়গায় হানা দিয়েছেন গোয়েন্দারা। অসমের ধুবুড়িতেও দু’টি জায়গায় হানা দিয়েছেন তাঁরা। তল্লাশি চলেছে মুম্বইয়েও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক শীর্ষ কর্তার ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এমন তল্লাশি আরও বাড়ানো হবে।
সিবিআই সূত্রের খবর, এ দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের সাতটি দল কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল আটটার সময় নিজেদের ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয় দিয়ে মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক রেজাউল ওরফে বাপির বাড়িতে হানা দেন সিবিআই অফিসারেরা। তল্লাশি চালিয়ে বাপির বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক বিনিয়োগের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাপিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। নির্দেশমতো বেলা আড়াইটে নাগাদ সল্টলেকে সিবিআই অফিসে হাজির হন বাপি। সিবিআই সূত্রের দাবি, এক সময় সারদার মিডল্যান্ড পার্কের অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন রেজাউল ওরফে বাপি। মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন ঘনঘন সারদার অফিসে যেতেন, তা নিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ দিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সিবিআই দফতর থেকে বেরোনোর সময় রেজাউল বলেন, “এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের হাতে আসা বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ আমাকে দিয়ে যাচাই করানো হয়েছে।”
সিবিআই সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে ইস্টবেঙ্গলের প্রয়াত কর্তা পল্টু দাসের বাড়িতে সকাল ন’টায় হানা দেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতুর আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে পল্টু দাসের বাড়ি থেকে। পল্টুবাবুর স্ত্রী রীনা দাসের কিছু আর্থিকবিনিয়োগের কাগজপত্রও গোয়েন্দারা আটক করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, পল্টুবাবুর পরিবারের সঙ্গে নিতুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে পালানোর আগে সিবিআইকে লেখা সুদীপ্তর চিঠিতেও আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি বাড়ির উল্লেখ ছিল। সেখানে টাকা লেনদেন হতো বলে সুদীপ্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, পল্টুবাবুর এই বাড়ির কথাই চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন সুদীপ্ত। বেলা দু’টো নাগাদ তল্লাশি শেষ হয়। পল্টুবাবুর পরিজনেরা জানান, রীনাদেবী অসুস্থ। কথা বলতে পারবেন না। কথা বলতে চাননি প্রাক্তন পুলিশকর্তা দেবেন বিশ্বাসও।
সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে গত কয়েক দিনে নিতু, সন্ধির, শান্তনু ঘোষ, প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রজত মজুমদার-সহ সারদার সঙ্গে জড়িত কয়েক জনকে জেরা করে এবং তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি করে কিছু সূত্র পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তার ভিত্তিতেই এ দিন তল্লাশি চলে।
শান্তনু ঘোষকে এ দিনও সিবিআই দফতরে ডেকে জেরা করা হয়েছে। গত সোমবারই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ এবং ‘কলম’ পত্রিকার শীর্ষকর্তা আহমেদ হাসান ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। গোয়েন্দারা বলছেন, তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার একদা সহচর আসিফ খানের সঙ্গে এক সময় ইমরানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তখন তিনি ‘কলম’ পত্রিকার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সারদার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। পরে ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় আসিফ ‘আজকের কলম’ নামে একটি আলাদা কাগজ তৈরি করেন। মাস কয়েক আগে সেই কাগজটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিজেকে তৃণমূল নেতা বলেও দাবি করেন আসিফ। এ দিন অবশ্য বারবার ফোন করলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল।
তদন্তে নেমে লাস ভেগাসে প্রবাসী বাঙালিদের একটি অনুষ্ঠান ও একটি বাংলা সিনেমার প্রিমিয়ার নিয়ে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে বলে সিবিআই সূত্রের খবর। সেই প্রসঙ্গে সারদার পর্যটন ব্যবসা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে সিবিআই। বিভিন্ন লোককে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছিলেন, সারদার পর্যটন সংস্থা নিজেরা টিকিটের ব্যবস্থা না করে অন্য কয়েকটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই সূত্রেই এ দিন হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর এলাকার নরসিংহ বসু লেনে একটি বহুতলে হানা দেয় চার সদস্যের সিবিআই দল। গোয়েন্দারা জানান, ওই বহুতলের তিন তলায় রাজেশ শরাফ নামে এক পর্যটন ব্যবসায়ী থাকেন। তাঁর সংস্থার সঙ্গে সারদার পর্যটন ব্যবসার যোগ ছিল বলেই তদন্তকারীদের দাবি।
অসমের প্রাক্তন মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও অঞ্জন দত্তের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেই সূত্র ধরেই এ দিন হিমন্তর দু’টি বাড়ি ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন বৈদ্যুতিন চ্যানেলে তল্লাশি চালায় সিবিআই। সম্প্রতি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করা হিমন্ত এখন দিল্লিতে। এ দিন তাঁর বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সিবিআই হিমন্তর বাড়ি থেকে কিছু নথিপত্র নিয়ে যায়। চ্যানেলের অফিসেও অভিযান চালিয়ে কিছু নথি ও সিডি বাজেয়াপ্ত করা হয়। হিমন্ত জানিয়েছেন, তিনি কোনও টাকা নেননি। উল্টে তিনি সুদীপ্তর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হিমন্তর বক্তব্য, সারদার বিস্কুট কারখানার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সারদা যে ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থা, তা তিনি জানতেন না। তিনি এক বারই সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সুদীপ্ত তাঁকে দু’টি সংবাদপত্র উদ্বোধনের প্রস্তাব দিলে তিনি আসার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছিলেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী অঞ্জন দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সুদীপ্তকে সংবাদপত্রের পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতি বিক্রি করে বাজারদরের চেয়ে বেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে অঞ্জনবাবু আনন্দবাজারকে জানান, সারদার তরফে তাঁকে যে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল, সব বাউন্স করে। তিনি সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে টাকা-গাড়ি বা অন্য কিছু নেননি। তাই, সিবিআই-এর বাজেয়াপ্ত করার মতো কিছু নেই। তিনি বলেন “সিবিআই যা জানতে চেয়েছে, আমি সব বলেছি। তদন্ত হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি বহু দিন আগেই সুদীপ্তর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছি।”
সিবিআই এ দিন হানা দিয়েছে অসম পুলিশের প্রাক্তন ডিজি শঙ্কর বরুয়ার বাড়িতে। স্টেট ব্যাঙ্কের চেনিকুঠি শাখায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে ব্যাঙ্কের তথ্য পরীক্ষা করা হয়। বরুয়া কোনও মন্তব্যে রাজি হননি। এ দিন তল্লাশি হয়েছে গায়ক এবং চিত্রনির্মাতা সদানন্দ গগৈয়ে সরুমটরিয়ার বাড়িতেও। অভিযোগ, সদানন্দ গগৈ গভীর রাতে হিমন্তকে নিয়ে সুদীপ্তর সঙ্গে বৈঠক করতেন। সদানন্দ অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি শুধু সারদার বিস্কুট কোম্পানির জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি করেছিলেন।
এ দিকে, ধুবুরিতে সারদার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবদুল কাদের শেখের বাড়িতেও সিবিআই হানা দেয়। অভিযোগ, তিনি সারদার একশো কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। নামনি অসমে এজেন্টরা সারদা বলতে কাদেরকেই চিনতেন। সুদীপ্ত সিবিআইকে জানিয়েছিলেন কাদের নামনি অসম থেকে সংগ্রহ করা অর্থের ৯০ শতাংশই আত্মসাৎ করে। এই বছর মে মাসে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।