Showing posts with label Rajarhat. Show all posts
Showing posts with label Rajarhat. Show all posts

Wednesday, August 27, 2014

Corrupt Mamata using goons and police to terrorise people and silent them

রাজনীতির জমি দখলেই সিন্ডিকেটের যুদ্ধ-সাজ

কুন্তক চট্টোপাধ্যায় ও আর্যভট্ট খান

২৬ অগস্ট, ২০১৪, ০২:৪৭:৪২
(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)

নিউ টাউনে সিন্ডিকেটের জমি দখলের ব্যবসার কথা তো প্রকাশ্যেই শোনা যায়। কিন্তু তার পিছনেই রয়ে যায় আর এক জমি দখলের গল্প। এ জমি রাজনীতির জমি!
নিউ টাউন-রাজারহাটের নির্মাণকাজ শুরু হতেই দানা বেঁধেছিল সিন্ডিকেট। অভিযোগ, তৎকালীন বাম নেতাদের একাংশের ছত্রচ্ছায়াতেই বেড়ে উঠেছে একের পর এক দল। অনুগত সৈনিক তৈরি করেছেন ‘দাদা’। তাদের আমলে সিন্ডিকেট তৈরির কথা স্বীকার করে সিপিএম-এর প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক রবীন মণ্ডল বলেন, “নিউ টাউন তৈরির সময়ে যাঁরা জমি হারিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে কো-অপারেটিভ তৈরি হয়। এমন ৪৮টি কো-অপারেটিভ মিলে বেশ কিছু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এই সিন্ডিকেটগুলোয় নজরদারি চালাতে কমিটিও হয়। সব রাজনৈতিক দলের ছেলেরাই এই সব সিন্ডিকেট সুষ্ঠু ভাবে চালাতে পারতেন। আজকের মতো সিন্ডিকেট নিয়ে গুন্ডামি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়নি।” অভিযোগ নস্যাৎ করে বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত বলছেন, “সে সময়ে সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসের বাতাবতরণ তৈরি করেছিল সিপিএম। রুইসের মতো গুন্ডাদের দিয়ে জমি দখল, ভেড়ি দখল থেকে নানা ধরনের দুষ্কর্ম চালিয়েছে তারা।” রবীনবাবু বলেন, “ভাল-মন্দ নানা ধরনের মানুষ আমাদের দলে মিশেছে। কিন্তু দল কাউকে অসামাজিক কাজ করতে নির্দেশ দেয়নি।”
এলাকাবাসীদের একাংশের মত, এক সময়ে সিপিএমের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা রুইস বা ভজাই ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলে ভিড়েছে। নিউ টাউনের তৃণমূলের অন্দরের খবর, ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের একাংশের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ভজাইয়ের। সে বারই প্রথম সিপিএমকে হারিয়ে ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটি তৃণমূল জেতে। দলের একাংশের মতে, ভজাইকে কাজে লাগিয়ে ভাল ফল করেছিল তৃণমূল। অভিযোগ, ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে দলের এক দাপুটে নেতার হাত ধরে তৃণমূলে ঢোকে ভজাই। তখন সব্যসাচীবাবু বলেছিলেন, “লোহা কাটতে লোহা দরকার। এলাকায় সিপিএম এর সন্ত্রাস রুখতে শক্ত লোক চাই।” এলাকার লোকেরাই বলেন, ভজাই ও তার সঙ্গীদের হাত ধরেই বামেদের ছায়ায় থাকা রুইসের মতো দাগি দুষ্কৃতীদের হটিয়ে নিউ টাউনের দখল নিয়েছিল শাসক দল।
দলের একাংশ অবশ্য ভজাইকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি করেছিলেন। ধোপে টেকেনি। বরং ভজাই ও তার বাহিনীর দাপটে পিছিয়ে পড়ে পুরনো তৃণমূলের অধীন সিন্ডিকেটগুলি। সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বলছেন, নিউ টাউনে জমি দখলে ভজাইয়ের পাল্টা গোষ্ঠী দলে টেনেছে একদা সিপিএম ঘনিষ্ঠ রুইসকে। তাতে বিরোধী গোষ্ঠীর জমিও কিছুটা পোক্ত হয়েছে। পাল্টা রাজনৈতিক জমি দখলে নেমেছেন রুইসের মদতদাতারাও। গোলমালও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। যদিও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক মুকুল রায় বলেন, “রাজারহাট-নিউ টাউনে তিন মাস আগে ভোট হয়েছে। ১৬ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল জিতেছে। সিন্ডিকেট বা কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এই এলাকার মানুষ যদি অস্বস্তিতে থাকতেন বা অখুশি থাকতেন, তা হলে তৃণমূল এখান থেকে এত বিপুল ভোটে জিতত না।”
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নিজেদের দলের অফিসও রেহাই পাচ্ছে না। পালাবদলের পরে নিউ টাউনে দলীয় অফিস খুলেছিল তৃণমূল। সম্প্রতি দলের একাংশই সেই অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আঁচ পেয়েছে তৃণমূল ভবনও। তাই বিধায়ক, সাংসদ-সহ স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সুরাহা করতে পারেননি তাঁরা।
দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটুক বা না-মিটুক, তা পরের কথা। কিন্তু সেই দ্বন্দ্ব এমন ভাবে সাধারণ জীবনে ছাপ ফেলবে, এটা ভেবে নেওয়া সত্যিই কঠিন। এই অবস্থায় নিউ টাউনের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, আদৌ কি সিন্ডিকেটের এই লড়াই থেকে মুক্তি পাবেন তাঁরা?
প্রশ্নটা সঙ্গত। উত্তরটা অবশ্য এখনও অজানা।

Bengal CM Mamata's corruption is unprecedented in India

কমছে জমি, ব্যবসা বাঁচাতে থাবা তাই অন্যের ‘ভাগে’

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

আর্যভট্ট খান, ২৫ অগস্ট, ২০১৪, ০২:২৩:২১ (সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)



নিউ টাউন যে ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসায়ীদের কাছে খনি, তা ওই এলাকায় ঘুরলেই স্পষ্ট হয়। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় গজিয়ে উঠেছে ছোটখাটো সিন্ডিকেট। এ যেন বিন্দুর সমাহারে সাগর গড়ে ওঠা! সেই সাগরের উথালপাথাল ঢেউয়েই নাজেহাল নিউ টাউন।
কোথাও সেই ‘সাগরের’ নাম ‘আপনজন’, কোথাও বা ‘লোকাল বয়েজ’। কোথাও আবার পাড়াসুদ্ধ লোকের নামেই গড়ে উঠেছে ‘গ্রামবাসী এন্টারপ্রাইজ’। রীতিমতো দাদাগিরির ঢঙেই নিউ টাউনকে কার্যত টাকার খনিতে পরিণত করেছেন এই সব সিন্ডিকেটের সদস্যেরা। বাড়ি করতে চাইলে ইমারতি দ্রব্য নিতে হবে এদের থেকেই।
অ্যাকশন এরিয়া ১-এর বিধাননগর পুলিশের এডিসিপি-র অফিস ছাড়িয়ে একটু এগোলেই বাঁ হাতে ‘আপনজন’-এর অফিস। তার পরেই বাঁ হাতে একের পর এক ইমারতি দ্রব্যের দোকান। রাস্তার ধারে কাঠ-টিনের ছ’ফুট বাই ছ’ফুটের দোকান। সেগুলির সাইনবোর্ডে শুধুই নাম আর ফোন নম্বর লেখা। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, ইট-বালি-পাথরের জন্য ওই নম্বরে শুধু একটা ফোন করলেই হবে। বাকিটা...।
কিন্তু কেন এমন রমরমা সিন্ডিকেটের?
নিউ টাউনের বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে উঠছে একের পর এক বহুতল। সেগুলিতে ইট-বালি-পাথর সরবরাহ করতে পারলেই আদায় হবে মোটা টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে ‘উপরি’ আয়। একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত এক যুবকের বক্তব্য, “৫০০ ঘনফুট বালির অর্ডার থাকে। কিন্তু পুরোটা তো দেওয়া হয় না।” একটি গাড়িতে ১০০ ঘনফুট কম দিলেই থোক হাজার তিনেক টাকা বেশি আয়। অভিযোগ, সিন্ডিকেটের দাদাগিরির ভয়ে বালি-পাথরের কম পরিমাণ নিয়ে কেউ সরব হতেও সাহস পান না।

এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া ২-এর একটি নির্মীয়মাণ আবাসনের একজন কর্মী। তাঁর কথায়, “প্রতিবাদ করলে সেই সাইটে লরি ঢোকাই বন্ধ করে দেবে ওরা। পুলিশকে জানিয়েও লাভ নেই।” শুধু পরিমাণেই কম নয়, নিম্ন মানের জিনিসও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় বলে অভিযোগ।
মহিষবাথানের থাকদাঁড়ি এলাকার এক সিন্ডিকেটের চাঁই শোনালেন এমন আরও একটি ঘটনা। ওই এলাকায় একটি সমবায় আবাসন তৈরি করছিলেন কয়েক জন সরকারি অফিসার। সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ইমারতি দ্রব্য কিনতে গিয়ে আঁতকে উঠেছিলেন তাঁরা। এত খারাপ জিনিস দিয়ে বাড়ি তৈরি করলে কী হাল হবে? শেষমেশ ওই সিন্ডিকেট চাঁইয়ের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তাঁরা। শেষে ওই চাঁইয়ের মধ্যস্থতাতেই নিজেরা মালপত্র কিনতে পারেন তাঁরা।
কিন্তু গোল বেধেছে অন্যত্র। নিউ টাউনে ক্রমশ বাড়ছে বহুতল, কমছে জমি। পালাবদলের পরে বেড়েছে সিন্ডিকেটের সংখ্যাও। ফলে ব্যবসার জমি দখল ঘিরে বাড়ছে সংঘর্ষ।
নিউ টাউনের পুরনো সিন্ডিকেটের লোকেরা বলছেন, এক সময়ে সিন্ডিকেটের এলাকা ভাগ করা ছিল। কিন্তু ক্রমশ জায়গা কমতে থাকায় সেই ভাগ মুছে গিয়েছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্তেরা বলছেন, “আমাদের এলাকায় হয়তো নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে না। অন্যের এলাকায় হচ্ছে। এমন হলে আমাদের ভাগ্যে তো বরাত-ই জুটবে না। ব্যবসাও লাটে উঠবে।” তাই এখন একে অন্যের এলাকায় ঢুকে ব্যবসা করতে চাইছে। বাড়ছে গোলমাল।
এই পরিস্থিতিতেই ছোটখাটো সিন্ডিকেটগুলি আশ্রয় নিচ্ছে ‘বড় ছাতা’র তলায়। ব্যবসা না বাড়লেও এতে দুর্দিনে টিঁকে থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়। বিনিময়ে কেবল দিতে হয় নজরানা। রামকৃষ্ণপুর এলাকার এক সিন্ডিকেটকর্মী বললেন, “একটা বড় সিন্ডিকেটকে টাকা দিলেই চলে না। এলাকার দুই ‘দাদা’কেই টাকা দিতে হয়।”
কারা এই ‘দাদা’?
এখানেও ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে ভজাই, রুইস ও আফতাবউদ্দিনের নাম। তৃণমূলের একাংশ জানান, ভজাই নিউ টাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ। এলাকার পুরনো তৃণমূল বলে পরিচিত আফতাব রয়েছেন বিরোধী সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের গোষ্ঠীতে। লোকসভা ভোটের আগে তাঁর সভাতেই রুইসকে দেখা গিয়েছিল। নিউ টাউনের এই দুই চাঁইয়ের লড়াইয়েই সিন্ডিকেট গোলমাল লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। কাকলিদেবী অবশ্য বারবারই দাবি করেছেন, রুইসের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন ভজাই ও আফতাব। ভজাইয়ের বক্তব্য, “আফতাব সিন্ডিকেটের নামে জোর করে তোলাবাজি চালাচ্ছে।” ভজাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিধায়কও। তিনি বলেন, “ভজাই কোনও দিন কাউকে একটা চড়ও মারেনি। ওঁর নামে কোনও অভিযোগ নেই।” অভিযোগ অস্বীকার করে আফতাব পাল্টা বলেন, “নিউ টাউনের পুরো সিন্ডিকেটের দখলদারি নিতে চাইছে ভজাই। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা মেনে নিতে চাইছেন না। তাই মাঝে মধ্যেই গণ্ডগোল হচ্ছে।”
নিউ টাউনের সাধারণ মানুষ অবশ্য বলছেন, সিন্ডিকেট আসলে রাজনৈতিক জমি দখলের লড়াইয়ের হাতিয়ার। তাই গোলমাল শুধু ভজাই-আফতাবের নয়। গোলমাল এখানে ‘দাদা’র সঙ্গে ‘দাদা’র।

Ruling party of Bengal TMC does all the illegal activities defying constitution of India

ভজাইয়ের ঘরে মুকুলের ‘আসন’, রুইসের বাড়িতে পুলিশের পাহারা

কুন্তক চট্টোপাধ্যায় ও আর্যভট্ট খান

২৪ অগস্ট, ২০১৪, ০১:৩০:৪৮ 
(সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা)
লোহা কাটতে লোহা লাগে, তা কে না জানে। কিন্তু সেই লোহার ঠোকাঠুকিতে যে রক্তারক্তি হতে পারে, সেটা অবশ্য অনেকেই বুঝতে পারেন না। যেমন বুঝতে পারেননি রাজারহাট-নিউ টাউনে শাসক দলের নেতারাও।
একের পর এক ইমারত গড়ে ওঠা রাজারহাট-নিউ টাউন কার্যত টাকার খনি। কয়েক গাড়ি বালি-পাথর সরবরাহ করলেই মুঠো মুঠো টাকার সংস্থান। সেই টাকা আয় করতেই দলে দলে সিন্ডিকেট গড়ে মাঠে নেমে পড়েছেন স্থানীয় যুবকেরা। আর সেই যুবকদের নিয়ন্ত্রণ করতেই রাজনৈতিক নেতারা নিয়ে এসেছেন এই সব ‘লোহা’দের। তাদের কারও নাম ভজাই, কারও বা রুইস। কারও নাম সইফুুল, কারও নাম আফতাবউদ্দিন। যদিও সইফুল বা আফতাবউদ্দিন দাবি করেছেন, তাঁরা কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন।
ওই এলাকায় কান পাতলে এখনও গৌর-রুইসের নাম শোনা যায়। বাম আমলে মহিষবাথানের থাকদাঁড়ি এলাকায় গৌরই ছিল পাণ্ডা। তার অধীনেই ভেড়ি, জমি দখল হত বলে অভিযোগ। লোকে বলে, গৌরের ছত্রচ্ছায়ায় তখন বেড়ে উঠেছিল রুইস-ভজাই। পরে রুইস আলাদা দল গড়ে। গৌরের সঙ্গে বিরোধিতায় ভাগ হয়ে যায় এলাকা। এলাকার সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায় বলছেন, “আমাদের সময়ে ওই রকম কিছু লোক যে ছিল না, তা বলব না। কিন্তু তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের নিয়েই তৃণমূল এখন দাপট দেখাচ্ছে।”
তৃণমূলের একাংশই বলছে, পালাবদলের আগেই তৃণমূলের দিকে ভিড়েছিল ভজাই। ২০১১ সালে নিউ টাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের কাছের লোক হয়ে ওঠে সে। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগও দেয় সে। আর সেই গোষ্ঠীর হাত ধরেই এখন সিন্ডিকেট-চক্রের কার্যত মাথা হয়ে উঠেছে ভজাই। তৃণমূলের একাংশই বলছে, ২০১১ সালে ভোটের আগে দলেরই একাংশের বক্তব্য ছিল, ভোটে জিততে ভজাইকেই দরকার। তার সেই দরকারের রূপটাই এখন ফুটে বেরোচ্ছে বলে তৃণমূলের একাংশের ক্ষোভ। যদিও নিউ টাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত ভজাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতেই নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “ভজাইয়ের নামে এফআইআর দেখান। তার পরে এ নিয়ে কথা বলব।”
এলাকাবাসী বলছেন, পালাবদলের পরে গৌর-রুইস দু’জনকেই জেলে পুরেছিল পুলিশ। তখন ফাঁকা মাঠে একাই গোল করেছিল ভজাই। লোকবলের অভাবে পুরনো তৃণমূলের লোকেরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। দিন যত গিয়েছে, নিউ টাউনের কোণঠাসা নেতারা বুঝেছেন ভজাইকে রুখতে পাল্টা দাওয়াই প্রয়োজন। সেই মতোই জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে দলে টেনে নেওয়া হয় রুইসকে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটের আগে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের এক সভায় তৃণমূলের মঞ্চেও দেখা গিয়েছিল রুইসকে। যদিও কাকলিদেবী বলছেন, “রুইস নামে কাউকে চিনি না। কে কী বলছে, আমি জানি না। আমার নামের সঙ্গে কেউ যদি নিজেকে জড়ায়, তার দায় আমার নয়। যদি কেউ কিছু বলে থাকে, তা নিজের দায়িত্বে বলছে।”
রুইস এলাকায় ফিরতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল তার দলবল। সক্রিয় হয়েছিল ভজাই-বিরোধী সিন্ডিকেটও। লোহার সঙ্গে লোহার মারামারিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিউ টাউন। গোলমালের বহরে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নিউ টাউনের বহুতলের বাসিন্দারাও। লাগাতার এমন ঘটনায় শাসক দলের শীর্ষ নেতারাও বুঝেছিলেন, পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে যাচ্ছে। এর পিছনে যে দলেরই দুই নেতা আছেন, তা-ও বুঝতে ভুল করেননি তাঁরা। গোলমাল মেটাতে দু’পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকও হয়। কিন্তু গোলমাল মেটেনি।
তৃণমূলের একাংশ বলছে, নিউ টাউনে ভজাইয়ের আধিপত্য থাকুক, এটা দলের অনেকেই চান। তাই রুইস গ্রেফতার হলেও ভজাইকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখে পুলিশ। নিউ টাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত বলছেন, “রুইসের মতো দুষ্কৃতীরাই সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করেছিল। সে তৃণমূল কি না, তা আমি জানি না। তবে কোনও নেতা-নেত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতেই পারে।”
নেতারা যে ভজাইকেও মদত দেন, এলাকায় ঘুরেফিরে পরিষ্কার হয়ে গেল সেটাও। নিউ টাউনের বলাকা আবাসনের পাশ দিয়ে একটি সরু গলি। ঢুকতেই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গায়ে সবুজ রঙের একতলা বাড়ি। বাড়ির সামনে দাঁড়াতেই পাশের একটি বেঞ্চ থেকে এগিয়ে এলেন দুই যুবক। নিজেদের নাম-পরিচয় দিলে তবেই মিলল ভিতরে যাওয়ার অনুমতি।
বাতানুকূল যন্ত্র লাগানো ঘর, ভিতরে সার সার চেয়ার পাতা। এক পাশে বড় টেবিল। ওপারে বিরাট রিভলভিং চেয়ার। পাশে একটু ছোট মাপের আর একটি। আছে ছোট ফ্রিজও! দেওয়ালে ঝুলছে লোকাল বয়েজ সিন্ডিকেটের ক্যালেন্ডার।
একটু পরেই হাজির ভজাই সর্দার। পরনে হাফ শার্ট-লুঙ্গি। ছোট রিভলভিং চেয়ারে বসার পরে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ উঠতেই ভজাইয়ের সাফ কথা, “আমি ও সবে নেই। পাড়ার লোকেরা করে। পাশের ঘরেই ওদের অফিস।” তবে গ্রামের লোকেরা সিন্ডিকেট ব্যবসা করে পয়সার মুখ দেখায় ভজাই খুশি। শাসক দলের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা জানাতে গিয়ে ভজাইয়ের বক্তব্য, ওই অফিসে বড় রিভলভিং চেয়ারটিতে বসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। ভজাই ঘনিষ্ঠেরাই বলেন, নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তার পর থেকে ওই বড় চেয়ারে আর বসেনি ভজাই।
রুইস জেলে। কিন্তু ভজাইয়ের আধিপত্য মেনে নিতে নারাজ ওই এলাকায় সিন্ডিকেট চালানোর আর এক নেতা তথা রাজারহাট-নিউ টাউন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি আফতাবউদ্দিন। সে রুইস শিবিরের লোক বলে পরিচিত। তৃণমূলের এক অংশের দাবি, দল বদলে আসা ভজাইয়ের এই দাপট মানতে পারছে না সে। “এক দল মাংস-ভাত খাবে, আর এক দল দেখবে এটা হয় নাকি! পাল্টা প্রতিরোধ করতেই নিউ টাউন এলাকায় যাবতীয় গোলমাল বাধছে,” বলছেন নিউ টাউন সংলগ্ন তারুলিয়ার এক তৃণমূল নেতা। আফতাবউদ্দিনের বক্তব্য, “ভজাই পুরো এলাকা দখল করতে চাইছে। এটা হতে দেব না।”
গণ্ডগোল যে সহজে থামবে না, তা আশঙ্কা করেছেন খোদ বিধায়কও। নিউ টাউনের এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরে সব্যসাচীবাবু বলেন, “শাসক দলের মদত না থাকলে বারবার এই গণ্ডগোল হয় না। এ রকম চললে এই গণ্ডগোল সহজে শেষ হবে না।” অন্য দিকে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, “একটা এলাকায় বারবার অশান্তি হোক, কেউ চায় না। পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে জানব কী নিয়ে এত গণ্ডগোল হচ্ছে। গণ্ডগোল কেন হচ্ছে, তা প্রশাসন বলবে। আমার পক্ষে সব খুটিনাটি জানা কি সম্ভব! ”
গোলমাল পাকানোর অন্যতম কুশীলব বলে অভিযুক্ত রুইসকে সাংসদ চেনেন না বলে দাবি করলেও তৃণমূলেরই একাংশ তার প্রতি সদয় বলে অভিযোগ। রুইস গ্রেফতারের পরে থানায় যান কাকলিও। তবে দলে কাকলি-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক নেত্রীর কথায়, “রুইসের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তার স্ত্রী-পরিবারের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করেছিল। তার প্রতিবাদেই কাকলিদি থানায় যান।” এর পর থেকে রুইসের বাড়ির সামনে পুলিশ পাহারা রয়েছে। তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, ভজাইয়ের দলবলের হামলা থেকে বাঁচাতেই এই পাহারা।